বিদায়

বয়ে চলেছে সময়,পড়ে রয়ে শুধু স্মৃতি
যান্ত্রিক জীবনের জন্য সন্ধি করিনি
না কোনোদিন বোঝাপড়া হয়নি,
কেবল লাঞ্ছনা আর বঞ্চনা
সইতে হয় জীবনের তরে,
আজও বার্ধক্যগ্রস্ত দিনগুলো
আমাকে কুরে কুরে খায়।
তোমার দেওয়া কাঠের পুতুলটি
ঘুণ ধরেছে— খাচ্ছে উইপোকা
নয়নে আসে না আর চয়ন
হ্রাস পাচ্ছে আহ্লাদীর শরীরের অঙ্গ
দেখে অশ্রু ঝরে দু’নয়নে,
বিদায় লগ্নে সূর্য অস্তে
নেমে আসবে শোকের ছায়া।
…………………………………………..

অগ্নিহোত্রী

হাতে তুলে ধরবো কলম
থাকবে দোয়াত কালি ও সাদা কাগজ,
সঙ্গী হবে শব্দ আর দৃঢ় সংকল্প
লিখবো এক নতুন রূপ কথা,
অগ্ৰদূত দেবে মিথ্যা ভাষণ
আমরা করবো মৌন মিছিল,
দিকে দিকে হবে শুধু
রণকৌশল আর প্রতিবাদী মুখ
নেতৃত্ব দেবো কেবল আমি,
দেহে ঝরবে রক্ত হবে ক্ষত-বিক্ষত
থাকবে পথে লাশের কফিন
পিছু হাঁটতে নারাজ পায়ের গতি।
…………………………………………..

অমর একুশে

আন্দোলন, আন্দোলন
তোমার আমার আন্দোলন
ঝরবে রক্ত, পড়বো ফাঁসি
পিছু হাঁটতে নারাজ বঙ্গবাসী,
কণ্ঠে মোদের স্বাধীনভাষা
আ-মরি বাংলাভাষা।
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি তোমার
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আমার
শহীদ সৈনিকদের শ্রদ্ধাঞ্জলি
রক্তে রাঙানো মাতৃভাষার লহ প্রণাম,
শহীদদের স্মরণে নির্মিত করিলাম
নত আমার শির
বীরযোদ্ধাদের স্মৃতি চরণে।
…………………………………………..

উন্মুক্ত চাঁদ

উন্মুক্ত চাঁদের আলো আজ
চারি দিগন্তে উন্মোচিত হচ্ছে,
গাঁয়ের মেঠো পথের দু’প্রান্ত
পাকা ধানের সোনালী আভা
মন যেন আনন্দে উল্লাস,
জ্যোৎস্নার অপূর্ব কিরণ
দূরের ওই ছোট্ট গ্রামটি কে!
মনোরম চিত্রের সৌন্দর্য আঁকছে,
কৃষকেরা মাঠ থেকে দলবেঁধে
পাড়ি দিচ্ছে কুটিরের দিকে।
…………………………………………..

তুমি নারী

তুমি নারী সইতে হয় লাঞ্ছনা
মুখ বুঝে পরিবারের তরে,
তুমি নারী বুকে ব্যথা লয়ে
অশ্রু ঝরে দুই নয়নে,
তুমি নারী বেদনার অনুভব
তোমার আপন সঙ্গী,
নারী তোমার এই সমাজ!
করছে শুধুমাত্র দ্বিচারিতা,
গর্জে ওঠা নেই তোমার মস্তিষ্কে
প্রতিবাদের মুখ্য আন্দোলনে,
যে সমাজ! তোমার সাথে
খেলা করছে হিংস্র পিশাচেরা
একটিবার রুখে দাঁড়াতে হবে
নারী তুমি তোমার নিজের মান বাঁচাতে।