বিশ্বমানবতার মুক্তির জন্য পৃথিবীতে যে কজন মানুষ মহান রবের নিকট থেকে দূত হিশেবে প্রেরিত হয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হযরত মুহাম্মদ সা.। তার দাওয়াতের কৌশল, ধর্য, বিশ্ব মানবতার জন্য দরদ ছিলো এক দৃষ্টান্তমূলক নিদর্শন। প্রায় চৌদ্দশত বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তার দেখানো পথই এখন পর্যন্ত পৃথিবী শ্রেষ্ঠ পথ হিশেবে সমাদৃত। এই মহান রসূলের জন্ম ও মৃত্যু ‍দিবস একই দিনে। তাই পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষ তার জন্ম ও মৃত্যু দিবস একই সাথে উদযাপন করে। এই উদযাপন কোনো আনন্দেঘন উদযাপন নয়। তার দেখানো পথে কিভাবে পৃথিবীতে কিভাবে শান্তি বিরাজ করে তারই অন্যেশা হতে থাকে। মুক্তিকামী মানুষ তাদের অনুসন্ধানি মন নিয়ে তার জীবনকে পাঠ করে। তার দেখানো পথ অনুসরণ করে। তিনি যে রবের নিটক থেকে বার্তাবহক হিশেবে প্রেরিত হয়েছেন সেই রবের বাণী মোতাকে চলার চেষ্টা করেন। পৃথিবীর সৃজনশীল মানুষ তাই তার দেখানো পথকে অনুসরণ করে তাদের সাহিত্য রচনা করেন। এখানে মুক্তিকামী কবি সাহিত্যেকদের কিছু কবিতা সংকলিত হলো। আমরা আশা করি এর মাধ্যমে প্রিয় মানুষ, প্রিয় রসূলকে উত্তম পন্থায় স্মরণ করা যবে। মোলাকাত পরিবার প্রতি বছর রসূল সা. এর জন্মমৃত্যু দিবসে একটি সংখ্যা করে। এবারও আমরা একটি সংখ্যা করলাম যার নাম দিয়েছি ‘রাসূল’। আশা কবি আপনাদের সংখ্যাটি ভালো লাগবে। আজ প্রকাশ করা হলো আফসার নিজাম-এর সম্পাদনায় ‘রাসূল_নবী সা. সংখ্যা-২০২০ : পর্ব-১’।

সূ চী প ত্র

বাইজিজান :: সম্রাট হংউও
আমার রসুল :: আবিদ আজাদ
প্রিয়তম, হে রাসূল :: হাসান আলীম
প্রথম রুকুর দিকে :: তৈমুর খান
আমার নবী :: শাহীন খান
মরু ফুল :: রবিউল মাশরাফি
দরুদ ও সালাম :: তাজ ইসলাম
আমার খুব খারাপ লাগে :: তমসুর হোসেন
নবী আমার দ্বীনের ছবি :: রানা জামান
শ্রেষ্ঠ মানব :: মুহিব্বুল্লাহ কাফি
সালাম জানাই তোমার রওজাতে :: মিনহাজুল ইসলাম মাসুম
তোমাকেই ভালোবাসি :: মুস্তাফা ইসলাহী
মহা মানব রাসুলুল্লাহ্ :: মুহম্মদ ইবতে রুদ্রাক্ষ
ভালোবাসার আলো :: আলমগীর কবির
রাসুল সা. এর মু’জেজা :: মুন্সি আব্দুল কাদির
তৌহিদের শিরাজ :: নেহাল মাহমুদ
রাসুল প্রিয় নাম :: তানজারীন ইফফাত স্বাতী
হে রাসুল :: কবিতা সুলতানা
মদিনার ফুল :: সৈয়দ ময়নুল কবরী
প্রিয় রাসুল :: ইমরান খান রাজ
…………………………………………..

বাইজিজান
সম্রাট হংউও

জগৎ সৃষ্টির সূচনা থেকে
সৃষ্টিকর্তা নিযুক্ত করে রেখেছেন
তাঁর মহান বাণী-বিশ্বাসের প্রচারক,
সুদূর পশ্চিমে তাঁর জন্ম,

এবং তিনি গ্রহণ করেন ৩০ পারায় বিভক্ত পবিত্র কিতাব

সমগ্র সৃষ্টিকে পথ দেখাতে,
সব শাসকের অধিপতি
সব পুণ্যাত্মার নেতা,
আসমান থেকে সাহায্য নিয়ে
নিজ জাতিকে রক্ষা করেন।

দৈনিক পাঁচ ইবাদত-প্রার্থনায়
নীরবে-নিভৃতে শান্তির কামনা করেন,
তাঁর হৃদয়-আত্মা আল্লাহর কাছে আবদ্ধ-নিবেদিত।

দরিদ্রের দুর্দশা-দুর্বিপাক দূর করে
তাদের মনে দেন শক্তি,
পাপীর অদৃশ্যকে পরখ করে
তাকে মুক্তি দেন দুরাত্মা থেকে,

বিশ্বের জন্য ক্ষমা-মার্জনা নিয়ে
সুদূর অতীত থেকে পথ চলছেন
সব রকমের মন্দ দূর করার মহাসড়কে,

তাঁর ধর্ম পরিশুদ্ধ ও সর্ব সত্য
মুহাম্মদ, মহান পবিত্র।
…………………………………………..

আমার রসুল
আবিদ আজাদ

আমাকে গুঁড়ো-গুঁড়ো করে মিশিয়ে দিলে না কেন
আমার রসুলের রোজার খেজুরে?
কেন দাঁড় করিয়ে রাখলে না আমাকে
সেই কিশোর রাখালের ক্লান্তি ও স্বপ্নের পাশে
মরুদ্যানের দিক থেকে ছুটে আসা হাওয়ার মতো?
তাঁর উদয় ও অস্তের সকল মেষ ও ভেড়ার ভিতর দিয়ে বয়ে যেতাম
আমি উট ও কাফেলার ঘণ্টাধ্বনি হয়ে তাঁবুর বিয়াবানে।
আরবের বুকের তাপ, জ্বর ও যন্ত্রণা শুষে নেওয়ার জন্য
আমাকেই পাঠালে না কেন ভোর ও মেঘের হাওয়ায়?

হে আল্লাহ সেই ভোরগুলো কি তোমারই পোষ্য ছিলো না?
সেই মেঘগুলো কি তোমারই আজ্ঞাবহ ছিলো না প্রভু?

আমার রসুল আঁজলায় তুলে নিলেন বিষাক্ত মরীচিকা
পান করলেন দুশমনের পাঠানো ঝড়, যুদ্ধ ও ক্ষয়ক্ষতি।

তুমি আমার রক্ত ছেঁকে পাঠালে না কেন
তাঁর অজুর জন্য একগণ্ডুষ পানি?
তাঁর হিজরতের আগেই আমি হতাম যদি
মদিনার আকাশের বাঁকা চাঁদ!
তাঁর পা কাঁটায় ব্যথিত হবার আগেই আমি কেন তোমার দয়ায়
ছোট ছোট ফুল হয়ে ফুটে উঠলাম না তাঁর ব্যথার চারায়?
তিক্ত মরুভূমির তৃষ্ণার্ত কাঁটাগাছে?

হে আল্লাহ তোমার ধু ধু বালি ও দুঃখের সঙ্গে মিশিয়ে
আমার আত্মাকে কেন প্রবাহিত করে দিলে না আপেলে-আঙুরে,
শুকনো রুটি ও উষ্ট্রীর দুধে?
আমার আয়ু কেন হলো না
তাঁর কপালের ঘাম-মোছার ছিন্ন টুকরা বস্ত্র?
আর আমার কবিতা স্পর্শ করতে পারত যদি
হেরা-পর্বতের ব্যক্তিগত গুহার একাকিত্ব ও আর্তনাদ!

হে আল্লাহ তুমিই মাবুদ, আর আমের বউল হয়ে আমার বুকে আছেন আমার দুঃখের রসুল।
…………………………………………..

প্রিয়তম, হে রাসূল
হাসান আলীম

হে নবী আপনিতো ভালো করেই জানেন, আমি একটা পাগল, আমি আপনার নামে উতলা দেওয়ানা।
আমার পক্ষে আপনি ছাড়া আর কাউকে এত ভালোবাসা সম্ভব নয়। আমি যুক্তি প্রযুক্তি বুঝি না, যদিও আমি বিজ্ঞানী কিন্তু আমি তোমাকে যুক্তিহীন ভাবে, শর্তহীন ভাবে আপাদমস্তক ভালোবাসি।
এ আমার সত্য জ্ঞান, এ আমার অন্ধ ভালোবাসা
আমি বেহেশত দোজখ বুঝি না, আমি তোমাকে বুঝি।
আমার এক হাতে প্রাণ তুলে ধরে তোমার সবুজ গম্বুজে
লটকে দিয়েছি।
সেই যে কবে তোমাকে দেখেছি। তোমার রওজা শরীফে
গিয়েছি, তাতে কি প্রাণ ভরে?
তুমি বুঝো না, আমি তোমার প্রমিক পাগল প্রেমিক
না, আমি কোন যুক্তি তর্ক মানিনা,
তুমি তোমার প্রভুকে বল, এই পাগলের কথা,
আমিতো দূর্বল, মাঝে মধ্যে ভুলচুক হতে পারে,
তাতে যেন তিনি রেগে না যান।
আর রেগে কি করবেন? আমিতো তারই সৃষ্টি
সন্তানের চেয়েও কোটি কোটি ভালোবাসার সৃষ্টি,
আমাকে কোন শাস্তি দেওয়া চলবেনা।
আমার সোজাসাপটা কথা, আমি তোমার মাধ্যমে
আমার পরম প্রভুকে চিনেছি।
প্রতি ওয়াক্ত সালাতে তোমাকে আর তোমার বংশধরদের
ওপর দরুদ পড়ি,
দরুদ আমার ভালোবাসা, আমি দরুদ পড়তে
শেষ নিঃশ্বাস ফেলবো।আমার জিহ্বার পাতা
তবুও তোমার জন্য ভালোবাসা জানাবে, লক্ষ কোটি বার দরুদ পড়বে।
তোমার কি হল প্রিয় নবীজি, তুমিকি রাগ করেছো?
নাহ্, তুমি রাগ করতেই পারোনা, তা হলে তো তায়েফ বাসীদের তোমার রাগের কারণে পিষে মারা হতো
দুই পাহাড়ের চাপায়,
তাহলে আমার সাথে তোমার দেখা সাক্ষাৎ হয়না কেন
দীর্ঘ বরষ দীর্ঘ রজনী!
আমি কিচ্ছু বুঝিনা, আমি তোমার প্রেমে পাগল।
তুমি যতই আমাকে অপছন্দ করনা কেন, আমি
নিঃশ্বার্থ ভাবে, এক তরফা তোমাকে ভালোবেসে যাবো।
পৃথিবী গোল্লায় যাক, পৃথিবীর কেউ কেউ তোমাকে কষ্ট দিলে আমার অভিসম্পাত পরমাণুবোমায় তারা জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
তুমি শুদ্ধ, তুমি অনন্য প্রেমের, তোমার জন্য ই
মহান প্রভু এ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন।
তুমিকি শুধুই প্রভুর প্রেমিক?
প্রভু মুখাপেক্ষীহীন, অভাবশূন্য, তার৷ প্রেমিক না হলেও চলে কিন্তু আমার চলেনা।আমি তোমাকে চাই -ই চাই।
অতসব বুঝিনা, তুমি কেবল আমার,
তুমি শুধু আমার, আমার, আমার…
…………………………………………..

প্রথম রুকুর দিকে
তৈমুর খান

ঈমানবৃক্ষের ফুল ফুটছে একে একে
আমি তার ছায়া তলে আসি
সব রাস্তা দেখতে পাই তোমার আলোকে
রুকুর সম্মোহন দূর থেকে ডাকছে আমাকে

সুন্নাহ্ জাগিয়ে তোলে আজানের ধ্বনি
এই ভোর অস্তিত্বে আঁকে আত্মসম্পর্পণ
যেমন আঁধারের কুঞ্জে ডাকে আলোপাখি
সমূহ পার্থিব দুঃখ করে দেয় মোচন

কোথায় লুকোনো আছে আবেজমজম
সাফামারুয়ার দৌড় শেষ হয়ে এলে
আমিও পৌঁছে যাব নিমেষে সেখানে
সমস্ত সান্নিধ্য জুড়ে পিপাসার গান

আজ দিন রঙিন হয়ে উঠছে এমন
আজ মানুষের দিল্ উজ্জ্বল নৌসীন
নীরবে নীরবে সেই মহিমায় ভিজে যাই
আজ সব পাঠ করে ফাবিইয়্যাআলাইহি রাব্বিকুমা তুকাজ্জীবান্……
…………………………………………..

আমার নবী
শাহীন খান

আমার নবী ধ্যানের ছবি
বিশ্বজোড়া নাম
তাহার তরে এই অধমের
হাজারো সালাম।
সে আমাদের পথের দিশা
আলোয় ভরা দিন
বুকের ভেতর সত্য ন্যায়ের
মধুময় এক বীণ।
তাকে ছাড়া একটি প্রহর
আমার চলে না
তাকে ছাড়া নামটি কারোর
হৃদয় বলে না।
সে যে আমার আশার তরী
তারায় ভরা রাত
সে যে সকল আঁধার ক্ষণের
আনেন সুপ্রভাত।
…………………………………………..

মরু ফুল
রবিউল মাশরাফি

সুদূর মরুর বুকে ফুটেছিলো ফুল
যে ফুল কখনো তার হারাবেনা ঘ্রাণ
যে ফুলের খুশবু আজো বিশ্বময় ভাসে
যে ফুল পরশে কত মোশরেক, জালিম
লুটেরাও হয়ে গেল আল্লার সেবক
যে ফুল সবচেয়ে দামী জগতের সেরা
যে ফুলের বাণী শুধু বিশুদ্ধ হবার
যে ফুলের বাণী শুধু আল্লাকে পাবার

সেই ফুল বলেছিলো এতিমের কথা
সেই ফুল চেয়েছিলো সকলের হাসি
সে ফুলের গন্ধ মেখে আমিও আমার
মনের কালিমা মুছে সুবাসিতো হবো
যে ফুলের পাঁপড়ি জুড়ে নূরের ঝলক
মধুমাখা সেই ফুল, আমার রাসূল সা.
…………………………………………..

দরুদ ও সালাম
তাজ ইসলাম

রাসুলের নামে পড় দরুদ সবাই
হৃদয়ের প্রেম মেখে পাঠাও সালাম
আদর্শে হতে তার উজ্জীবিত
বারবার পাঠ কর
প্রভূর কালাম।
দরুদ সালাম পড়ে
ফেরেস্তা কুল
জপে প্রেমময় নাম
রাসুল রাসুল।
ইয়া নাবী ইয়া রাসুল
দরুদ ও সালাম
তোমাকে পাঠাই এক আশেকে রাসুল।
সালাম আলাইকা
নবী প্রিয়তম
সালাম আলাইকা
হে প্রিয় রাসুল
সালাম দিলাম যত
আসহাবিহি
সাল্লু আলাইহি ওয়া আলিহি।
সকলে দরুদ পড়
নবীর নামে
সালাম পাঠাও তাকে মেঘের খামে
সালাম আলাইকা হে প্রিয় নবী
সালাম আলাইকা হে প্রিয় রাসুল
সালাম আলাইকা
ওয়া আসহাবিহি
সাল্লু আলাইহি ওয়াআলিহি।
…………………………………………..

আমার খুব খারাপ লাগে
তমসুর হোসেন

আমার খুব খারাপ লাগে যখন মৃতকে কবরে রাখতে লোকেরা বলে
‘রাসুলের মিল্লাতে দাখিল করা হল’,
অথচ সে জীবদ্দশায় কখনই ছিল না রাসুলের অনুসারি
প্রগতির জিগির তুলে সুনাম গেয়েছে পথভ্রষ্ট নেতার,
মানব রচিত অসার মতবাদে খুঁজেছে ইহলৌকিক মুক্তি ।

আমার হৃদয় তখন বেদনা ভারাক্রান্ত না হয়ে পারে না
যখন আলখেল্লা পরা করা কাউকে আরাম চেয়ারে বসে
পরিতৃপ্ত ভোজনের সুখে দন্তখিলাল করতে দেখি,
অগাধ অর্থ খরচ করে পশ্চিম থেকে ঘুরে এসেছেন বলে
সবাই গদগদ ভক্তিতে ভিজিয়ে রাখে তাকে
তার সন্তানেরা উচ্চশিক্ষার অহংকারে রাসুলের আদর্শে হানে বিষাক্ত ছোবল
অথচ তিনি চোখ বন্ধ করে কবর মোরাকাবায় থাকেন নিমগ্ন ।

আমার অন্তর ভেংগে খ-িত হয়ে যায় যখন শুনি জনসভা সেমিনারে
রাসুলকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা বলা হয় না
তাঁর আলোকিত পথ সীমাহীন তাচ্ছিল্যে উপেক্ষা করে মুসলমান খোঁজে
বিধর্মীর অসভ্য কালচারে শান্তির ঠিকানা
আমার দুচোখ অশ্রুসজল হয় যখন দেখি
পার্থিব স্বার্থের মোহে আলেমরা পা চাটে বর্জভোজি আমলাদের
সত্যপন্থী মোমিনরা ধর্মান্ধ বলে তিরস্কৃত হয় সবখানে ।

আমার মন বেদনার কালো মেঘে ছেয়ে যায় যখন দেখি
অন্যায়কে কেউ আর অন্যায় বলে না
আপন পিঠ বাঁচানোর জন্য সৎ লোকেরা সমাজ থেকে
অপরাধীর মতো গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে বেড়ায়
সব দায়িত্ব বাতিলের হাতে তুলে দিয়ে ওরা মসজিদের ভেতর নেয় স্বস্তির শ্বাস ।

ঘুষখোর, বেধর্মাদের ডেকে এনে মুসলøিরা যখন তাজিম করে তুলে দেয়
পবিত্র মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণের চাবি
তখন আমার বুক ফেটে করুণ চিৎকার বেরিয়ে আসে, এসব কী হচ্ছে, কী হচ্ছে এসব!
আমার রাসুল কি এমন করতে বলেছেন ?
হক কথা বলার জন্য সবাই আমাকে সমাজ থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়
যে সমাজে রাসুলের মর্যাদা নেই সেখানে তো বাস করা যায় না ।
…………………………………………..

নবী আমার দ্বীনের ছবি
রানা জামান

পরকালের শান্তি পেতে
নবীর পথে চলি
নবী আমার দ্বীনের ছবি
বেহেশ্ত পাবার গলি

অরাজক কাল ছিলো যখন
নবী হলেন আলো
নবীর চলায় নবীর বলায়
কেটে গেলো কালো

দ্বীনের বিকাশ করার জন্য
পথ ছিলো না সোজা
চলার পথে অনেক সময়
থাকতো কাঁটা গুজা

কুরান এলো নামাজ এলো
এলো রোজা সাথে
নবীর পথে বেহেশ্তে যাওয়া
এখন বান্দার হাতে

নবী আমার কষ্ট সয়ে
দ্বীনটা করেন পুরা
নবীর পথটা বুঝতে হলে
পড়ুন সুন্নাহ সূরা।
…………………………………………..

শ্রেষ্ঠ মানব
মুহিব্বুল্লাহ কাফি

ছোট্ট থেকে শুনেছি
এক মানবের নাম
সেই সুন্দর নামে না-কি
অনেক-ই সম্মান!

তার নামে এভুবন
হলো যে সৃষ্টি
সেই নাম রহমত হয়ে
নামলো শান্তির বৃষ্টি!

এই ভুবন সৃষ্টি হলো
সেই মানবের জন্য
তার নামের আগমনে
বিশ্ব হলো ধন্য!

মধুর সেই শ্রেষ্ঠ মানব
নাম তার মুহাম্মদ
ধন্য হলো এ জাতি
হয়ে তার উম্মত!
…………………………………………..

সালাম জানাই তোমার রওজাতে
মিনহাজুল ইসলাম মাসুম

সবুজ-শ্যামল সোনার বাংলার
হৃদয়তন্ত্রী হতে
সালাম জানাই প্রিয় নবিজির
সোনার মদিনাতে।

শৈশব থেকে তুমি ছিলে
সবার আল্ আমিন,
তোমায় দেখে সালাম দিতো
বনের যে হরিন

বুড়ি পথে কাঁটা দিতো
প্রতিদিন সকালে।
গরীব-দুঃখী অসহায়ের
পাশে তুমি ছিলে

জাহেলেরা মেতেছিলো
তোমার প্রাণনাশে
মদিনাতে হিজরত করলে
আল্লাহর নির্দেশে।

ছড়িয়ে দিলে শান্তির বানী
সারা পৃথিবীতে
সালাম জানাই নিত্য মোরা
তোমার রওজাতে।
…………………………………………..

তোমাকেই ভালোবাসি
মুস্তাফা ইসলাহী

তোমাকেই ভালোবাসি
ওগো নবী, বন্ধু প্রিয়তম,
কোনোদিন আসে নাই
কোনো মানব তোমার সম।

আকাশের চেয়ে মন
তোমার বিশাল, সীমাহীন
তোমার মতো মানব-
দরদী দেখে নি কোনোদিন।

পৃথিবীর যতো গান
কবিতার কথা, সুর, বাণী
তারচে তোমার প্রাঞ্জল
যাদুকথা ঝড় তুলে জানি।

পৃথিবীর যতো গুণ
তোমাতে প্রিয় গিয়েছে মিশে
তোমার কাছে পেয়েছে
দেশ জাতি জীবনের দিশে।

দুজাহানের সর্দার,
গোটা বিশ্বের রহমত তুমি
সৃষ্টির সব মাখলুক
ধন্য তোমার পরশ চুমি।

তুমি সকলের নেতা
তোমার অনুসরণে জয়,
তোমাকে ভালো না বাসলে
আসে বিফলতা পরাজয়।

তোমার নামে দুরূদ
পড়ে, সকলে করে তাজিম
সত্যই, ” ওয়া ইন্নাকা-
লাআ’লা খুলুকিন আজীম। ‘
…………………………………………..

মহা মানব রাসুলুল্লাহ্
মুহম্মদ ইবতে রুদ্রাক্ষ

ঐ দেখ আজ ফুল ফুটে রাশি রাশি বাগানে
রহমানের হাবীব তিনি মায়ার নবী ভুবনে
সপ্নরাঙ্গা প্রভাতে ছড়িয়ে দীন ইসলামের আলো
মানুষের মাঝে আলা-আমিন তিনি পরম বিশ্বস্ত!!

ভূপিত জালিম বাদশা যতো করেছে অত্যাচার
তাদের জন্যেও মায়ার নবী খুলেছিল দ্বার,
হাসি কান্না দুঃখ বেদনা কি অভিনয়?
অবিরাম এক নিরব বেদনায় ব্যথাতুর সে হৃদয়।

সুবহি-সাদিক এল যখন; বহিল নূরের ধারা,
মদিনা আলোকিত, কেটে গেছে জাহিলিয়া,
ওয়াদা-নীতিতে তুমি রেখেছ বিশ্বাসের মান
তুমি দিনের পথে আমরণ করেছ আহবান!

তুমি ধৈর্যে মহিমাগুনি, ক্ষমায় দরদী ত্যাগী
উম্মাতের কল্যাণে এসেছ ধরায় হয়ে বিবাগী
তোমার অমৃত সুধাবাণী বিদায় হজ্বের সে ভাষন
ভালোবাসতে শিখিয়েছ মোদের ইসলামে করেছ অটল!!

তুমি অন্ধকারে নূরের জ্যোতি মানবতায় শ্রেষ্ঠ মহিয়ান!
সত্যের সম্মুখে সর্বদা করেছ মিথ্যের বলিদান,
তুমি নিয়ে এসেছ সাম্যের পয়গাম চিরশান্তির মেহমান।
পূণাঙ্গ করেছ দীনি ইসলাম, রেখে গেছ মুক্তির বিধান!!

সালাম নিও ওগো প্রাণের নবী
সালাম নিও ওগো বিশ্বনবী!!!
সালাম নিও রহমানের হাবীব
হে মহামানব উম্মাতের কান্ডারী!!
…………………………………………..

ভালোবাসার আলো
আলমগীর কবির

আঁধার ছিল আলো নিয়ে
কে এলো কে এলো,

জীবন যে তার বদলে গেল
সেই আলো যে পেলো।

সেই আলোতে যায় কেটে যায়
মনের আঁধার যতো,

সেই আলোতে ফুল ফুটে রোজ
মনের বনে শত।

সেই আলোতে খুঁজে নিতে
পথ করি না ভুল,

যে আলোতে হয় পৃথিবী
খুশিতে মশগুল;

ভালোবাসার সেই সে আলো
মুহাম্মদ রাসূল।
…………………………………………..

রাসুল সা. এর মু’জেজা
মুন্সি আব্দুল কাদির

তোমার লালায় বিষ মিটে যায়
হাত ইশারায় চাঁদ কাঁটে
একটু পানিয় ঝার ভরে যায়
সব পিয়াসে যায় পাটে।

গাছের ডালায় হয় তলোয়ার
মরা কান্ডে মুখ ফোটে
কম খাবারে পেট ভরে হায়
শত্রু দানব ভয় ছুটে।

ঘামের ঘ্রাণে মেশক ছড়ায়
নূর ছড়ালো তোমার দাঁত
পায়ের নীচের পাথর কোমল
বরকত ভরা তোমার হাত।

গাছ এগিয়ে সালাম জানায়
যায় পিছিয়ে তার স্থানে
কুলির পানি কুপ ভরে যায়
হুদায়বিয়ার মাঠ পানে।

কোদাল আঘাত পাথর ধুলা
এক সা গমে হাজার খায়
এক ছাগলের গোস্ত সাথে
সকলের পেট ভরে যায়।

গুহার মুখে বাসায় কপোত
মাকড় এসে জাল বুনে
শত্রু সকল পিছন ভাগে
ক্লান্তি এসে প্রমাদ গুনে।

তুমি এমন রাসুল মোদের
খোদ পাথরে সালাম দেয়
বাচ্চা দেয়নি যেই ছাগলে
সেই ছাগলেও দুগ্ধ দেয়।

তোমার হাতের ইশারাতে
পাথর নড়া যায় থেমে
পাথর থেকেও পানির ধারা
তোমার কথায় আয় নেমে।

তোমার দোয়ায় ঐ সুরাকার
ঘোড়ার পায়া খায় মাটি
মাফ চাহিলে তোমার কাছে
সে যে ফিরে পায় ঘাটি।

তোমার কাছে ক্ষুধার্ত উট
মালিক প্রতি দেয় নালিশ
আনসারী লোক তোমার কথায়
নেক কাজেতে নয় আলিস ।

তোমার হাজত পুরন করতে
গাছ দুখানি হয় ছায়া
সারা জাহার রহমত তুমি
তাইতো সবায় দেয় মায়া।
…………………………………………..

তৌহিদের শিরাজ
নেহাল মাহমুদ

যখনই ছেঁয়ে যায় ধরায় হিংসা, অন্যায়, সন্ত্রাস
স্রষ্টার মেহমান যুগে যুগে আনে শান্তির অনুপ্রাস।
এমনই ঘুপসিতে ঢাকা উৎপথে দাড়ালেন মহামানব
অনুদ্ধত জ্যোতির নূরে উজ্জীবিত হলো ধরনীর কলরব।

কূল খোঁজে পেলো আদম, পাপের সমুদ্রের মেঘে
মরুতে জমেছে শান্তির জল, সমস্ত উৎত্রাস, উদ্বেগে।
অবসান হয়েছে সমস্ত জুলুমাত, রদ হয়েছে শোষণ,
তিনি শেখালেন, ভেদাভেদ নয়, সমতাই হলো শাষণ।

পথে পথে কত আঘাতে জর্জরিত করেছিলো ঘাতক
অভিশাপের বদলে হেদায়াতের দোয়া করলেন মহাসাধক।
তৌহিদেরই শিরাজী নিয়ে গিয়েছিলেন জালিমের দ্বারে,
ছুটে এলো মানবজাহান, এক কালেমার সুরে।

ন্যায় স্থাপন করলেন তিনি, উচ্ছেদ করে সন্ত্রাস
ভাইয়ের মতো অধিকার পেলো সকল ক্রীতদাস
নারীকে দিলেন ফিরিয়ে তাঁর যথাযোগ্য সম্মান
সাম্য প্রতিষ্ঠা করে গাইলেন মানবতার জয়গান।

হে রাসূল, তোমার পথের সোনালী রেখা ধরে
ধরাতল জুড়ে শুধু মুক্তির সুঘ্রাণ উড়ে।
তুমি যে অশান্ত সাহারার অন্তরে অম্লান তূর্য,
যুগ হতে যুগান্তরে তুমিই নিকষ আঁধারের সূর্য।
…………………………………………..

রাসুল প্রিয় নাম
তানজারীন ইফফাত স্বাতী

মহানের সৃষ্টির সেরা সৃষ্টি
সে আমার রাসুল,
আমি ইসলামকে করেছি কবুল
সে আমার রাসুল।

তুমি এসেছিলে এই পৃথিবীতে মা আমিনার কোলে,
তোমার কচি মুখের হাসিতে আকাশে বাতাসে উঠেছিল আনন্দের হিল্লোল,
মানুষ এবং পশুপাখি সহ প্রতিটি প্রাণীকুলে লেগেছিল সুখের দোল।
ইয়া রাসুল তুমি আমায় মুক্তির পথ বলেছ
আমার জীবনের পুঞ্জীভূত দুঃখ কষ্টকে সরিয়ে দিয়েছ,
তুমি আমাদের জন্য প্রেরিত হয়েছো,
মহান আল্লাহ্ র অশেষ রহমত হয়ে আমাদের কাছে এসেছো।
তুমি আমায় শিখিয়েছ আয়াতুলকুরছি
আমার জীবনে এনে দিয়েছ প্রাণ,
তোমার জন্য আমার ভালবাসা চিরদিন থাকবে অম্লান।
তুমি আমার আঁধারের সাথী
তোমার শেখানো দূরূদ পড়েই কাটে আমার রাতি,
যখন রাতে হঠাৎ ভাঙে ঘুম বলে উঠি,
হে আল্লাহ্! তুমি ছাড়া কোন মা’বুদ নেই
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্,
তোমার কোন শরীক নেই
ওয়াহ্দাহু লা শারিকালাহ্।
আমার প্রভু এক আল্লাহ্
আমার ঈমান হলো এই,
তুমি আমার প্রিয় নবী, হে মুহাম্মদ (সঃ)
তুমিই এনেছো পবিত্র, পাক কালাম।

তুমি না এলে এই ধরায়
বিশ্ব জাহান থাকত মৃতপ্রায়,
তুমি আমার সুপারিশকারী জানি
রোজ হাসরের ময়দানে,
তুমি বিনা চোখের আলো ক্ষীণ ধরাধামে।
মহান আল্লাহ্ র ইচ্ছায়
মৃত্যুর পরেও তুমি জেগে আছো আমাদের কল্যান কামনায়,
মহান প্রভুর কাছে জানাই আরতি
তোমার দেখানো আলোয় যেন আমার
কাটে দিবা রাতি।
আমি শিখেছি,
আমার জীবন মরণ এক আল্লাহ্ র হাতে
নামাজে দাঁড়াই আমি সকাল সন্ধ্যা রাতে।

তুমি আমার স্বপনে রাসুল
তোমায় জানাই সালাম,
আমার মুখে রাখি আমি প্রথম আল্লাহ্ র নাম।
তোমার হাত ধরে না এলে ইসলাম
না এলে খোদার কালাম,
মাজলুম রক্ষা পেত না কভু
বেঁচে যেত ঐ শয়তান আর জালেমের সন্তান,
আরো সালাম নবীগন মুসলিমে
তুমিই ধরে আছো তোমার সকল উম্মতের নাম।।
…………………………………………..

হে রাসুল
কবিতা সুলতানা

হে রাসুল! হে রাসুল!
তোমার দেখানো পথ,
শেখায় শপথ,
অন্যায়ে নয় পথ চলা,
মিথ্যার সুরে নয় কথা বলা,
তোমার জীবন সত্যে গড়া,
নীতি ছিলো তোমার নির্ভুল।
হে রাসুল! হে রাসুল!
মরুর স্বপ্ন তরু তুমি,
মক্কা মাথা লুকায় তোমার ছায়ায়,
মদিনা তোমার প্রেমে পাগোল,
দিশেহারা তোমার মায়ায়,
তুমি আছ মুমিনের হৃদয় জুড়ে,
থাকবে চিরটাকাল জুড়ে পৃথিবীর কোল।
হে রাসুল! হে রাসুল!
আলোর দিশারী তুমি ঘোর আধাঁরে,
মক্কায় এলে তুমি আলো করে।
ভুল পথের সব যাত্রীরা,
হলো সঠিক পথের অভিযাত্রী,
দুর্বাসা, দুরাশা, পেলো সুন্দর আশা,
আল-কোরানের আলোর ভাষা,
দিলো বিশ্ব জাহানে ভরসা,
প্রতি হরফে, প্রেমের দরিয়ায়,
মিশে খোদার সাথে রাসুল।
তোমার মহব্বতে পার করো মোর
ইহ জীবনের হাল,
সুখের করো তোমার অসিলায়
মোর পরকাল।
…………………………………………..

মদিনার ফুল
সৈয়দ ময়নুল কবরী

মরুর বুকে ইসলাম জ্যোতি
আসলে ধরায় মুহাম্মদ (স.)
আঁধার কেটে উজালা দ্যোতি
পেলো সাহারা প্রেমাস্পদ।

পুলকিত আজ আকাশ বাতাস
দুলোক ভেদিয়া ঝরছে সুখ,
আমেনার কুলে জ্বলিছে মশাল
পুড়িয়াছে বেদুঈন ও বিমুখ।

ধরিয়াছে ধামে সাম্যেরও বাণী
উড়িয়াছে সত্যেরও নিশান,
কুল-কায়েনাত পেয়েছে শান্তি
গাহিয়াছে তাঁরই নামে শ্বাণ।

আরবের আঁধার পেয়েছে আলো
রাসুলের স. কিরণ মেখে,
অপূর্ণ ধরায় আজ পেয়েছে পূর্ণতা
তাঁর আদর্শ বুকেতে রেখে।
…………………………………………..

প্রিয় রাসুল
ইমরান খান রাজ

রাসুল আমার নয়নমণি
নূর-এ মোহাম্মদ,
আল-কোরানের বাহক তুমি
দুনিয়াবি সম্পদ !

তোমার মাঝেই খুঁজে ফিরি
সত্যের পথচলা,
তুমি আমার প্রিয় নবী
হয়নি কভু বলা !

মক্কাবাসীর আদর্শ তুমি
জান্নাতের সর্দার,
তোমার নামে মুক্তি পায়
হাজারো বদকার !

রাসুল তুমি শ্রেষ্ঠ মানব
এই দুনিয়ার তরে,
তুমিই প্রথম তুমিই শেষ
আসবেনা কেউ পরে !