আবারো বর্ষা আসুক

আবারো বর্ষা আসুক-
আকাশে মেঘ করুক, তুমুল মেঘ।
বৃষ্টি হউক-
বাতাসে ভেসে আসুক তোমার ভেজা চুলের গন্ধ,
মাতাল হউক আমার আবেগীমন।
তোমার বাড়ির পাশের কদমের শাখায় ফোটুক-
তোমার এলো চুলের মতো তুলতুলে কদম,
গন্ধ ছড়াক,
পাগল করুক তার ইচ্ছে মতো।
তুমি এসো কদমতলে-
ভালোবেসে একটা কদম গুঁজে দেবো তোমার চুলের খোঁপায়,
অধিক ভালোবেসে।
……………………………………………

তবুও-তুমি হাত বাড়াও

তুমি হাত বাড়াও-
এক আকাশ ভালোবাসা দিবো।
তুমি হাত বাড়াও –
আমি শুধু তোমারি ই হবো।
কপালে কালো টিপ এঁকে দেবো-
শুধু একবার মুচকি হেসে দেখো।
আবারো বর্ষা আসুক।
……………………………………………

আগ বাড়িয়ে

তুমি বড্ড একরোখা
আর জেদি-
নিজে নিজে পুড়ো একবার নয় বারবার-
তবুও মুখ ফোটে না।
বরং আগ বাড়িয়ে আমি ই বলি –
তোমাকে অসম্ভব ভালো লাগে
আর ভালোবাসি।

তুমি ভিষণ রাগি
আর হিংসুটে –
কথায় কথায় আমার সাথে রেগে যাও।
হিংসায় জ্বলে যাও-
কারো সাথে হেসে কথা বললে।
রাগে আর অভিমানে চুপ করে থাকো একাকি।
সকল দেয়াল ভেঙ্গে –
আগ বাড়িয়ে আমি ই তোমার রাগ ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করি।

আর এটাই-
ভালোবাসা।
……………………………………………

হয় তো কেউ আসবে

শরৎতের শেষে-
কাশফুলের বেশে,
প্রেমের আবেশে,
আমায় ভালবেসে,
হয় তো কেউ আসবে।

প্রেমের পিদিম জ্বেলে,
প্রজাপতির পাখা মেলে,
বরষার অথৈ জলে,
চৈত্রের দুপুরের কোকিলের মতো-
আমায় কেউ ডাকবে।

তাই তো রোজ রোজ,
চারিদিকে করি খোঁজ,
মনটা ভিষণ অবুঝ অবুঝ,
মানে না আমার মানা-
যেথায় খুশি দেয় হানা,
অসীম ভরসায় বুক বেঁধে বলে-
কেউ তো আসবেই।
……………………………………………

যে বসন্তে ফুল ফোটে

হে প্রিয়তমা-
এসো,
হারিয়ে যাই,
হলুদ সরষে ফুলের ক্ষেতে,
শিশিরভেজা দুর্বাঘাসে,
বর্ষার কদমের শাখায় শাখায়।
এসো-
হারিয়ে যাই,
চাঁদনী রাতের সরল ভালোয়,
রংধনুর রঙের মিছিলে,
দিনের শেষে আকাশের রক্তিম আভায়।
হে প্রিয়তমা,
এসো-
হারিয়ে যাই,
কোকিল ডাকা দুপুরবেলায়,
ঝিঁঝি পোকার বনে বনে,
আর
যে বসন্তে ফোল ফোটে।
……………………………………………

এবং তুমি

কোথায় এখন –
আষাঢ়ের কদম,
কৃষ্ণচূড়ার ফুল,
স্বর্ণলতার মালা আর
শ্রাবণের জলে মাতামাতি,
সন্ধ্যাকালের কুপিবাতির নিভো নিভো আলো।
কোথায় আছো তুমি?
তোমার লাল, নীল আর সরষে হলুদ মাখা স্বপ্ন।
খুনসুটির প্রণয়,
এবং
তুমি।
……………………………………………

এই শরতে

ঐ আকাশে সাদা মেঘ,
মেঘের পাশেই মিষ্টি রোদের খেলা-
তুমি আর আমি সেথায় ভাসাবো প্রণয়ের ভেলা।
এসো প্রিয়-
শুভ্রসাদা শাড়ি পড়ে,
কাশফুলের বনে যাবো-
মিশে যাবো তুমি আমি কাশফুলের নরম আবেশে।
তুমি আসতে তো?
এই শরতে,
বিকেলে বৃষ্টি হলে তুমি আর আমি বৃষ্টিস্নান করবো।
ভিজে যাবো –
বৃষ্টির জলে।
……………………………………………

কতোদিন

কতোদিন দেখিনা তোমায়-
লাল শাড়িতে,
রেশমি চুরিতে,
দেখিনা কতোদিন-
তোমার কপালে কালো টিপ,
আর খোঁপায় দেখিনা লাল টকটকে রক্তজবা।
কতোদিন দেখিনা-
কদমের তলায়,
কদম ফুল হাতে,
বৃষ্টির জলে ভেজার ছলে দেখা হতো দুজনার।
……………………………………………

শুধু তোমাকে ভালোবেসে

তোমাকে ভালোবেসে-
আকাশ সাজাবো রঙিন তাঁরার আবেশে,
জোৎস্নার সাথে কথা হবে নিশীথ রাতে,
হাতে হাত রেখে।
তোমাকে ভালোবেসে-
হারিয়ে যাবো একান্ত নিরবে হিজলের বনে,
পাখিদের সাথে আমার কন্ঠ মিলাবো,
গাইবো গভীর প্রণয়ের গান-
শুধু তোমায় ভালোবেসে।
……………………………………………

ভালো থাকুক বাংলাদেশ

ভালো থাকুক বাংলাদেশ –
কারণে আর অকারণে,
সন্ধ্যাকালের ঝলমলে আলোয়,
মধ্য রাতের নিস্তব্ধতায় আর
ভোরের শিশিরের পরম স্পর্শে,
ভালো থাকুক বাংলাদেশ।

ভালো থাকুক বাংলাদেশ –
সোনালু ফুলের আবেশে,
কৃষ্ণচূড়ার লালে লালে,
কদমের বিমোহিত ঘ্রাণে আর
অসীম ফুলের সুবাস নিয়ে,
তবুও
ভালো থাকুক বাংলাদেশ।