প্রিয় বাংলাদেশ

দোয়েল ডাকে
ভোর বেলাতে,
শিস দিয়ে যায় দারুণ।
রাত্রি শেষে
পুব আকাশে,
হাসে আলোর অরুণ।

জুই, চামেলি,
শিউলি, বকুল,
ফোটে ডালে ডালে।
হলুদ আভায়
সূর্য মুখী,
কৃষ্ণচূড়া লালে লালে।

সাঁঝের বেলায়
পিদিম জ্বলে,
পল্লী বালার নীড়ে।
ঝাঁক বেঁধে
সব বিহঙ্গরা,
আপন ঘরে ফিরে।
সরষে ফুলের
মাতাল গন্ধে,
মন যে জুড়ায় বেশ।
চোখ ভোলানো
মন ভোলানো,
সে যে আমার প্রিয় বাংলাদেশ।
……………………………………………

ভালবাসি

ভালবাসি মাঠ
বাংলার ফল,
বাংলার নদী
বাংলার জ্বল।

ভালবাসি নীল
বাংলার আকাশ,
বাংলার আলো
বাংলার বাতাস।

ভালবাসি বাউল
বাংলার গীতি,
বাংলার বর্ণে
বাংলার রীতি।

ভালবাসি পাখি
বাংলার কোয়েল,
বাংলার ফিঙে
বাংলার দোয়েল।
……………………………………………

আয় ছুটে যাই

আয় ছুটে যাই
বিলের ধারে,
তুলে জানি শাপলা ফুল।
আয় ছুটে যাই
মাঠের ধারে,
গাছ থেকে খাই পাঁকাকুল।

আয় ছুটে যাই
নদীর ধারে,
সাঁতরে বেড়াই নদীর জলে।
আয় ছুটে যাই
হিজল বনে,
গন্ধ বিলাই দলে দলে।

আয় ছুটে যাই
ঝড়ের দিনে,
আমার কুড়ানোর দারুণ নেশায়।
আয় ছুটে যাই
সকাল বেলায়,
ঘুম ভাঙ্গানীর পাড়ায় পাড়ায়।
……………………………………………

অহল্যা

মাথার চুলে
ভ্রমর আসে,
মুখের হাসিতে
ফুলেরা হাসে।

শুনলে কথা
কোকিল পালায়,
মিষ্টি সুর
চিকন গলায়।

কাঁদলে চোখে
বান আসে,
নাকের কোণে
নৌকা ভাসে।

হাঁটলে পরে
মাটির বুকে,
মাটি হাসে
অধিক সুখে।
……………………………………………

ভাদ্র মাসে

ভাদ্র মাসে
তাল পাকে,
গন্ধে করে মৌ মৌ।
নদীর জলে
কলসি ভরে,
পল্লী গায়ের রাঙা বৌ।
ভাদ্র মাসে
সাদা রঙের,
কাশফুলের সব মেলা।
এই রোদ
এই বৃষ্টি,
যেন রোদ বৃষ্টির খেলা।
……………………………………………

কালো মেয়ে

কালো মেয়ের
কালো চুল,
কালো তাহার আঁখি।
কালো মেয়ের
বচন ভালো,
কোকিল বলে ডাকি।
কালো মেয়ের
চলন ভালো,
নাক যে বাঁশের বাঁশি,
কালো মেয়ের
চিড়ল দাঁতে,
পাগল করা হাসি।
কালো মেয়ের
কালো গালে,
হাসলে পড়ে টোল।
কালো মেয়ের
কালো কেশে,
পড়িয়ে দেবো কদমফুল।
……………………………………………

একুশ তুমি

একুশ তুমি
পলাশ, শিমুল কিংবা পাখির গান,
একুশ তুমি
রক্তজবা, ভাইয়ের রক্তের দান।
একুশ তুমি
বর্ণমালার প্রথম ফোটা ফুল,
একুশ তুমি
হৃদয় মাঝে নিরবে দাও দোল।
একুশ তুমি
খোকার মুখে প্রথম শেখা কথা,
একুশ তুমি
রফিক, শফিক নিস্তব্ধ নিরবতা।
একুশ তুমি
পাখির কন্ঠে মিষ্টি মধুর সুর,
একুশ তুমি
স্লোগান মুখর শিশিরস্নাত ভোর।
একুশ তুমি
পুর্বাকাশে প্রথম আলোর রবি,
একুশ তুমি
চোখের সামনে জলন্ত এক ছবি।
……………………………………………

আমি যেথায় যেমন

মানুষ যেথায়
ক্ষুধায় কাতর,
বাতাসে শুনি ক্রন্দনরোল।
আমি সেথায়
সাম্যবাদী লোক,
বিদ্রোহী কবি নজরুল।
ধরণীর যেথায়
অন্যায়, অবিচার,
বিভীষিকাময় আর অশান্ত।
আমি সেথায়
প্রতিবাদী লোক,
কিশোর কবি সুকান্ত।
যেথায় আছে
সুখ আর সুখ,
নাই রে কোনো দ্বন্দ্ব।
আমি সেথায়
প্রেমের কবি,
রূপসী বাংলার জীবনানন্দ।
দেখি যেথায়
পল্লী বালা,
সুখে কাটায় দিন।
আমি সেথায়
সহজ মানুষ,
পল্লী কবি জসীমউদ্দিন।
……………………………………………

খোদার পরিচয়

কে দিল রে ফুল বাগিচায়
সুবাস ভরা ফুল,
কে ভাঙ্গিল নদীর এ কুল
গড়িল কে ঐ কুল।
কে দিল রে পাখির কন্ঠে
মিষ্টি মধুর গান,
কে দিল রে রাতের বুকে
জোৎস্না ভরা চাঁন।
……………………………………………

খুকি হাসে

খুকি হাসে
খুকি কাঁদে,
করে খুকি খেলা রে।
আধো কথায়
ফুকলা দাঁতে,
ভাসায় খুশির ভেলা রে।
এক পা করে
দু পা করে,
এই পড়ে এই উঠে রে।
পরম মায়ায়
আস্তে করে,
এদিক ওদিক ছুটে রে।
নরম গালে
ঢেউ তুলে
খুশির হাসি হাসে রে।
নরম ছোঁয়ায়
স্নেহের কথায়,
শুধু আলো আসে রে।