হেমন্তিকা

শিউলি, ছাতিম, গন্ধরাজের
ম ম করা গন্ধে
যায় কী থাকা পড়ার ঘরে
মন নাচে রে ছন্দে !

ইচ্ছে করে যাই হারিয়ে
ছুটি নিয়ে পাঠে
সোনা সোনা ফসল ভরা
পাকা ধানের মাঠে।

শিশিরভেজা ঘাসের ডগায়
ইচ্ছে ছুঁয়ে আসি
সূর্যিমামার আলতো চুমোয়
মুক্তা ঝরা হাসি।

দোয়েল পাখি শিস দিয়ে যায়
হিজল পাতার ফাঁকে
ইচ্ছে আমার ডানপিটে খুব
আকুল ব্যাকুল থাকে।

নবান্নসুখ খুশির আমেজ
সবার ঘরে ঘরে
হেমন্তিকার রূপের ডালি
মুগ্ধ, অবাক করে।
…………………………………………..

মা

মাগো তোমার স্নেহ মায়া
তপ্ত রোদে স্বর্গ ছায়া
আলতো সোহাগ চুম

কী যে আদর ভালোবাসা
তোমার কোলে ফিরে আসা
শান্তি সুখের ঘুম।
…………………………………………..

পথশিশু

এই তো সেদিন আমি
বাস থেকে যেই নামি
ছোট্ট পথশিশু
বললো কেঁদে কাছে এসে
এই পৃথিবী অবাক দেশে
আমি এতিম মিশু।

পেট পুরে ভাত পাই না খাবার
পাইনি আদর মা ও বাবার
ছোট্ট থেকেই এতিম
দেন না ভাইয়া দু’এক টাকা
এতেই আহার বেঁচে থাকা
কষ্ট বুকে অসীম।

ভালোবেসে যেই বাড়িয়ে দিলাম হাত
কী যে খুশি ভীষণ আহ্লাদ
উপচে পড়া হাসি
নয় ভেদাভেদ স্নেহের হাতটা বাড়াই
এসো সবাই ওদের পাশে দাঁড়াই
একটু ভালোবাসি।
…………………………………………..

অহনার সাজ

বাহারি কী সাজ সেজেছে
মিষ্টি মেয়ে অহনা
গায় পড়েছে বিয়ের শাড়ি
ইমিটেশন গহনা।

দু’হাত ভরা কাঁচের চুড়ি
কপালে লাল টিপ যে
রাঙিয়েছে রূপ-অপরূপ
আলপনাতে লিপ যে।

চুল বেঁধেছে রেশমি ফিতায়
খোপা গাঁদা ফুলে
নূপুর পায়ে তাধিন তাধিন
নাচছে হেলে দুলে।

কাঁচা হাতের এমন সাজন
চোখ ধাঁধানো যাদু
মুগ্ধ, অবাক বাড়ির সবাই
মুগ্ধ বুড়ো দাদু।
…………………………………………..

ঋতুর রাণী শরৎ

বর্ষা শেষে শরৎ এলো
কেমন পাগলপারা
শিউলি ফুলের সুবাস পেয়ে
সবাই মাতোয়ারা।

নদীর কূলে কাশের হাসি
শাপলা বিলে-খালে
হাসিরাশি যায় ছড়িয়ে
এইনা শরৎকালে।

তুলোর মতো মেঘ ভেসে যায়
আকাশ নীলে নীলে
ঋতুর রাণী শরৎ তুমি
রূপ ছড়িয়ে দিলে।
…………………………………………..

বৃদ্ধাশ্রম

তুমি বাবা বৃদ্ধ পাগল
অসুখ থাকে নিত্য
টাকা পয়সা জমি-জমা
হারিয়েছো বিত্ত।

নোংরা জামা কাপড় তোমার
কী বিশ্রী হাসো
তোমার বউমার ঘুম ভেঙ্গে যায়
মাঝ রাতে যেই কাশো।

থালাবাসন ঘর বিছানা
নোংরা হাতে ধরো
বাবা তুমি বাসা ছেড়ে
মুক্ত আমায় করো।

অরুচিতে ছেলে আমার
নেয় না খাবার মুখে
গন্ধ পঁচা শরীর তোমার
ছাড়ছে না অসুখে।

শ্বশুর বাড়ি বন্ধু স্বজন
আছি যে বেশ ভয়ে
আত্মসম্মান এই বুঝি যায়
তোমার পরিচয়ে।

তুমি অচল বাড়তি বোঝা
কষ্ট দমে দমে
একটু সুখে থাকতে যে চাই
যাওনা বৃদ্ধাশ্রমে।
…………………………………………..

তোমার ছবি

আজ তুমি নেই তোমার ছবি
কালের পাতায় হাসে
তোমার স্মৃতি অবিনাশী
হৃদয়পটে ভাসে।

যতই দেখি তোমার ছবি
মুগ্ধ হয়ে যাই
আপন মনে গুনগুনিয়ে
তোমারই গান গাই।

বলিষ্ঠ এক পুরুষ তুমি
মাথায় বাবরি চুল
মানবপ্রেমিক, সাম্যবাদী
বিদ্রোহী নজরুল।
…………………………………………..

ফাগুন এলে

ফাগুন এলে পাখনা মেলে
মন যে উড়ে
শহর হতে গাঁয়ের পথে
কিংবা দূরে।

যায় হারিয়ে কূল ছাড়িয়ে
পাখির গানে
ছবি আঁকে হৃদয় বাঁকে
তুলির টানে।

ফুলের ঘ্রাণে প্রাণে প্রাণে
গল্প বলে
যেথায় নদী নিরবধি
বয়ে চলে।

রবির আলো লাগে ভালো
সকাল বেলা
লুটোপুটি মুঠোমুঠি
রোদের খেলা।

হাওয়ায় ভেসে কল্পদেশে
ছেড়ে যে ঘর
পাগল এ মন সারাটাক্ষণ
স্বপ্নে বিভোর।
…………………………………………..

ঘুষের টাকায়

মন্টুর গায়ে হাত দিয়েছিস
কামড়ে দিছিস কান
এত্ত সাহস কোথায় পেলে
এই বুঝি যায় মান !

বেশ করেছি কামড়ে দিয়ে
মিথ্যা বলার সে কে ?
আমার বাবা ঘুষ নাকি খায়
ফাইল আটকে রেখে।

ঘুষের টাকায় বাড়ি গাড়ি
অসৎ পথে করা
বলছে আরো-রুমা রুমির
আমার লেখা পড়া।

অপমানে লজ্জায় মাগো
ক্যামনে থাকি চুপ
তাই তো আমি হাত তুলেছি
রাগ হয়েছে খুব।

আমার বাবা সৎ অফিসার
ঘুষ খেয়েছে কবে ?
বলো না মা কাঁদছো কেন
সত্য এসব তবে ?

ঘুষের টাকায় বড় হতে
চাই না যে মা আমি
নেই প্রয়োজন অট্টালিকা
পোশাক নামি দামী।
…………………………………………..

নন্দর ভাবনা

ভাবছে বসে অঙ্ক কষে
এমন যদি হতো
পুঁটি মাছের দামে কেবল
ইলিশ পাওয়া যেতো।

ছাগল দামে মহিষ আর
ভেড়ার দামে হাতি
তেলের দাম পানির মতো
কমতো রাতারাতি।

এক টাকাতে আট মণ চাল
কী আর হতো মন্দ
ভাবছে বসে অঙ্ক কষে
সকাল থেকে নন্দ।