সমান্তরাল সমুদ্র

সাগরের সমান্তরালে অন্তর মম নিরন্তর
গ্রাফিক্স ইলোস্ট্রেশন
বালিয়াড়ি বিচে নিরুপম সবুজ প্রান্তর
মরুদ্যান কিনা কনফিউশন ॥

শুকতারা ছুঁয়ে যায় গোলাপি ডলফিনের নৃত্য
পদচুমে সটান গগণ আমারি মর্ত্য
দোদুল চিত্ত অপসরী বসুধা ভৃত্য
হাভাত পিত্ত এরাবিয়ান খাদক নিত্য ॥

নীলাম্বরে গড়িয়েছে প্রেম বহতা স্রোতধর ছেড়ে
ওগো লওয়াও আমার দিঠি এ দিনমান পাথারে।
ফ্রেমের পাহারাদার পালিয়েছে প্রেমের প্রেশারে
অম্বুরাশির রুপে উর্মি আনে প্রণয় হৃদয় মাঝারে ॥
……………………………………………

মিছিল

দিন-দুপুরে নিদ্রার কোলে
ঝাউবনে
চেতনে-অবচেতনে আড়মোড়া লাগে
লকডাউনে
নয়নে- মননে ঢেউ তোলে
ডলফিনে
সায়রে-আসমানে নীলাম্বরি হয়ে
আলিঙ্গনে ॥

উড়াল প্রাণ খাঁচার মাঝে
ক্লান্ত এখন প্রভাত সাঁঝে
শ্যামল পল্লবে সানাই বাজে
মিছিল চলে হৃদয়-খাঁজে ॥
……………………………………………

আমার কক্সবাজার

নীলাম্বরি মায়াভরে জড়িয়েছে অম্বুরাশি
সবুজ চাদরে অবুঝ দ্বাদশী
অভিসারে হাতছানি দেয় দিবানিশি
উর্মিমালায় পবন বাজায় বাঁশি
আমার কক্সবাজার নিসর্গের ভালোবাসাবাসি ॥

ভেষজ মননে সফেদ চাষী
দরাজ দীলে রেখেছে অভিবাসী
পর্যটন পুত্রের নিটোল হাসি
দেখেছে কি কভু বিশ্ববাসী ?

আশার দিগন্তে জেগে উঠে উদাস শশী
প্রান্তিক জোনে পূরবী ভোরে হলুদিয়া শামসি
সৈকতে সবিতা বরখোর আড়ালে দেয় হাসি
বসুধার মাঝে যত আছে রূপসী-সন্ন্যাসী
স্বপ্নের সাগরশাঁসে আসে নিসর্গ-পিয়াসী ॥
……………………………………………

গ্রামের ঠিকানা

সবুজের সকালে রুপোলি রোদে
মেঘের আড়ালে অরুণ প্রভাতে
দাঁড়কাক আর ডাহুকীর ডাকে
দ্বিতীয়ার্ধ নিদ্রার শ্মশানে ঘুঘু চরে
চারিদিকে আশিনের শির শির বাতাসে
শ্যামলিমা চাদরে নাচিয়ে কিশোরীর শিসে
বিড় বিড় কবিতা ॥

নারিকেল বাগানে কাঠবিড়ালির লাফালাফি
জাম গাছে ঠক ঠক কাঠঠোকরা
দীঘির ধারে হলদে সুপারি আর
আর ছাদে টুপ পড়ে পাকা পেয়ারা
সাহানে থোকায় থোকায় জামির
বাতায়নে ঢুকে পড়ে পুদিনার ঘ্রাণ
আমার মাসকান যেন একটি উদ্যান ॥

মহাষ্টমীর দিনে দশমীর প্রত্যাশায়
এগিয়ে যায় প্রেমের বিভোর
আমার আঙ্গিনায় সবুজ ললনার কেশরী
চাঙে চাঙে বাঁধে ভাঁজ করা বেনুনি
পুকুর নুপুর নাচে ভাসান খেলায়
নিয়ত নিকাবীর ঊঁকি
এখানে প্রেম নেই আর মেকি ॥

অদূরে নাজেরার কোলাহলে
সিপারার রিদম শোনে
জেগে উঠে প্রাণস্পন্দন
নিবিড় হেমন্তে আমার গ্রামের ঠিকানা
জীবনানন্দ দাশের রূপসী বাংলার মতন ॥