শৈশব

পিঠের উপর মস্ত বোঝা পড়ছে ছেলে পাততাড়ি
বর্ণমালা শিখছে এখন
তাতেই শিশুর ব্যাগ ভারী!

বুট জুতো আর ড্রেসের সাথে ঝুলছে গলায় টাই
দুপুর বেলার জন্য আবার টিফিন বাক্স চাই!

সঙ্গে যাবে ব্যাজ-রুমাল আর জলের বডো জার
ছোট্ট শিশুর শৈশবটা হচ্ছে যে জেরবার!

চু-কিত কিত গোল্লাছুটের সময় এখন কই ?
সকাল থেকে রাত অবধি পড়তে থাকুক বই!

সব বাবা-মা’র স্বপ্ন এখন তাদের ছেলেই পয়লা
সারাটা দিন ছেলের জন্য হোকনা জীবন কয়লা!

‘ছেলে আমার মানুষ হবে’ চাইছে সবাই বারবার
ছোট্ট শিশুর শৈশবটা হচ্ছে যে ছারকার…
…………………………………………..

ভূবন ডাঙার মাঠে

ভূবন ডাঙার ঐ যে মাঠে তাল-সুপুরী বনে
চু-কিত-কিত খেলে বেড়ায় রাখাল আপন মনে।

সেথায় আছে মস্ত বাগান বিশাল বড়ো ঝিল
হরেক রকম পাখির মেলা করছে যে কিলবিল।

নিঝুম রাতে ভূবন ডাঙায় জ্যোৎস্না এসে থামে
রাখাল ছেলের চোখে তখন শুধুই স্বপ্ন নামে।

স্বপ্নগুলো ইচ্ছে মতো এধার-ওধার ছোটে
আলোয় ভুবন ভরিয়ে দিয়ে তখন সূর্য ওঠে।

রাখাল ছেলে নতুন দিনে আনন্দেতে মাতে
বন্ধুরা সব একসঙ্গে হাত রাখবে হাতে।

ভূবন ডাঙার ঐ মাঠেতে খেলবে লুটোপুটি
সারাটা দিন কাটবে মজায় রবিবারের ছুটি।
…………………………………………..

একমুঠো রোদ

সূর্য যখন মাঝ গগনে
ছড়ায় খুশির আলো
একমুঠো রোদ গায়ে মেখে
আমরা থাকি ভালো !

চাঁদের কিরণ জ্যোৎস্না হয়ে
যখন এসে পড়ে
আলোয় ভূবন ভরে ওঠে
সবার ঘরে ঘরে !

আকাশ যখন মাথার উপর
একফালি নীল আঁকে
আলোর শিশু মায়ের কোলে
আদর মেখে থাকে !

বাতাস যখন কাঁপন ধরায় আবেগ ভরা প্রাণে
মন খুশিতে ভাসাই তরী
অপূর্ব এক টানে !
…………………………………………..

ইচ্ছে করে

ইচ্ছে করে ঘুড়ির মতো
নীল আকাশে ভাসি
ইচ্ছে করে চাঁদের দেশে
একটু ঘুরে আসি !

ইচ্ছে করে সবুজ ঘাসে
গঙ্গা ফড়িং খুঁজি
ইচ্ছে করে মন খুশিতে
আনন্দে চোখ বুজি !

ইচ্ছে করে পাহাড় চূড়োয়
সূর্য ধরে আনি
ইচ্ছে করে নিজের ভুলে
কানটা ধরে টানি !

ইচ্ছে গুলো ডানা মেলে
যেই খুলেছে দোর
তাকিয়ে দেখি আসছে সকাল
একটা নতুন ভোর !
…………………………………………..

তোমার জন্য

তোমার জন্য একটা আকাশ
ভালোবাসায় ভরাই যদি
তোমার জন্য চোখের জলে
ভাসাই যদি একটা নদী !

তোমার জন্য একমুঠো রোদ
ভালোবেসে কুড়িয়ে আনি
তোমার জন্য হৃদয় ভরে
ভালো আমি বাসতে জানি !

তোমার জন্য এক পৃথিবী
ভালোবাসার কাঙাল আমি
তুমি আমার হীরে-মানিক
সোনার চেয়েও অনেক দামি !

তোমার জন্য হৃদয় আমার
আনমনা হয় দিনে-রাতে
জীবন পথে এগিয়ে যাবো
রাখবো যে হাত তোমার হাতে !
…………………………………………..

ভালোবাসি

ভালোবাসি শিশুর হাসি
সদ্য ফোটা ফুল
দু’টি মনের মিলন হলে
আনন্দ বিলকুল !

ভালোবাসি চাঁপার বনে
সুপ্রভাতের আলো
ফুলের সোহাগ গায়ে মেখে
আমরা থাকি ভালো !

ভালোবাসি চাঁদের কিরণ
আকাশ ভরা তারা
আনন্দে আজ ভাসবো দু’জন
হবো আত্মহারা !

ভালোবাসি আকাশ-বাতাস
পাখির কলতান
ভালোবাসায় উঠবে ভরে
আজকে দু’টি প্রাণ !
…………………………………………..

বন্ধু হতে জানে

আকাশ বাতাস ফুল পাখিদের
বন্ধু হবো সাথে
থাকবে তুমি আমার পাশে
হাত রাখবে হাতে !

বলবে আকাশ দিলাম আমি
ছড়িয়ে খুশির আলো
একমুঠো রোদ গায়ে মেখে
তোমরা থাকো ভালো !

হিমেল বাতাস যখন এসে
ভরিয়ে দেবে বুক
তোমার-আমার জীবন জুড়ে
অনন্য এক সুখ !

ফুলগুলো সব উঠবে হেসে
হাস্নুহানার বনে
আনন্দেতে প্রাণ জুড়াবে
তোমার-আমার মনে !

সকালবেলা উঠবো জেগে
পাখির কলতানে
আকাশ বাতাস ফুল পাখিরা
বন্ধু হতে জানে !
…………………………………………..

শিশুর মনে

ঐ যে আকাশ মাথার উপর
একফালি রোদ্দুর
ছড়িয়ে আছে এধার-ওধার
জানি না কদ্দুর !

ঐ যে নদী কলকলিয়ে
সাপের মতো চলে
চোখের দিশা পায়না খুঁজে
রজত শুভ্র জলে !

ঐ যে পাহাড় চাঁদের কাছে
হাতটি তুলে ধরে
কেমন করে হচ্ছে এ সব
জানতে ইচ্ছে করে !

শিশুর মনে হরেক রকম
প্রশ্ন এসে থামে
মেঘ গুলো সব ঝম ঝমিয়ে
বৃষ্টি হয়ে নামে !
…………………………………………..

সম্প্রীতি

রাম আর রহিমের মিল আজ খাঁটি
নিন্দুক যারা আছে তারা চোষে আঁটি !

তপনের মিল দেখি ফাতেমার সাথে
তাই তারা হাত রাখে দু’জনের হাতে !

করিমের বান্ধবী আছে প্রীতিলতা
দু’জনেই এক হবে দিয়েছিল কথা !

জাত আর পাত নিয়ে যারা
করে দ্বন্দ্ব
ভালোবাসা গড়ে দেয় স্নেহময়ী ছন্দ !

ঘটি বাটি জাত-পাত গোঁড়ামির কর্ম
মিলেমিশে বেঁচে থাকা মানুষের ধর্ম !
…………………………………………..

ইচ্ছে গুলো

ইচ্ছে করে ঘুড়ির মতো
নীল আকাশে ভাসি
ইচ্ছে করে চাঁদের দেশে
একটু ঘুরে আসি!

ইচ্ছে করে সবুজ ঘাসে
গঙ্গা ফড়িং খুঁজি
ইচ্ছে করে মন খুশিতে
আনন্দে চোখ বুজি!

ইচ্ছে করে পাহাড় চূড়োয়
সূর্য ধরে আনি
ইচ্ছে করে সব মানুষের
হৃদয় ধরে টানি!

ইচ্ছে গুলো ডানা মেলে
যেই খুলেছে দোর
তাকিয়ে দেখি আসছে সকাল
নতুন একটা ভোর!