জীবনে চলার পথ

জীবনে চলার পথ কতই না আঁকা বাাঁকা।
কখনো সোজা কখনো বাঁকা,
আবার কখনো সরু, চওড়া, উঁচু নিচু।
এ চলার পথ কখনোই মসৃণ নয়।
শত বাঁধা বিপত্তি, দুঃখ হতাশাকে
জয় করে যে এগিয়ে যায়,
সেই তো সত্যিকারের মানুষ।
চলার পথে বাঁধা পেয়ে থেমে যেও না।
সামর্থের সবটুকু শক্তি সাহস
বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এগিয়ে যাও।
আলো আসবেই…
……………………………………………

করোনাকালীন ঈদ

পৃথিবী জুড়ে চলছে মহামারি করোনা ভাইরাসের তান্ডব।
প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষ।
যে পরিমাণে মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে
তাতে হাসপাতালে রুগী রাখার মত জায়গা নেই।
আই সি ইউ বেড আর
অক্সিজেনের অভাব দেখা দিয়েছে বহুগুণ।
আই সি ইউ বেড আর অক্সিজেন
এ রোগে আক্রান্ত গুরুতর রুগীদের জন্য খুবই প্রয়োজন।
আর তাই চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতালের সামনেই
মৃত্যু বরণ করছে হাজার হাজার মানুষ।
আবার করোনা আক্রান্ত অনেক রুগী সঠিক চিকিৎসা
পেয়েও মৃত্যু বরণ করছে।
মৃত্যুর মিছিলে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে
ভারি হয়ে উঠছে হাসপাতাল গুলো।
পৃথিবী জুড়ে করোনা ভাইরাসের তান্ডবে
মানুষ আজ বড় অসহায়।
এরই মাঝে বছর ঘুরে এলো ঈদ,
এবারের ঈদ যেন ঈদ মনে হচ্ছে না।
দেশে দেশে চলছে লক ডাউন,
সাধারণ মানুষের কাজ-কর্ম বন্ধ।
জীবন যাপন করার মত আর্থিক অবস্থা নেই এখন মানুষের।
এবার ঈদ বড়ই রঙহীন, বড়ই অনুজ্জ্বল।
……………………………………………

শীতের প্রকৃতি

পৌষ মাঘ দুই মাস শীতকাল,
শীত আর্বিভূত হয়
কুয়াশাচ্ছন্ন অনন্য রূপ নিয়ে।
কুয়াশায় ঘেরা প্রকৃতি, শিশিরসিক্ত পথ ঘাট
গাছপালা, হিমেল বাতাসে মিষ্টি মধুর আমেজ।
কুয়াশায় আচ্ছাদিত আকাশে সূর্যের
খোঁজ পাওয়া বড়ই কঠিন।
কুয়াশাকে বেদ করে সূর্য যখন
তাল গাছের উপর উঁকি দেয়,
তখন প্রকৃতি হয়ে ওঠে দারুণ উপভোগ্য।
শিশির ভেজা দূর্বাঘাস, গুন গুন শব্দে
ভ্রমরেরা ছুটে চলে হলুদ ফলে ভরা সর্ষেক্ষেতে।
বাড়িতে বাড়িতে আগুনের কুন্ডু জ্বালিয়ে
শীত নিবারণের চেষ্টা করে অনেকে।
যেখানে একটু রোদ দেখা যায়
সবাই সেখানে বসে গল্পে মেতে ওঠে।
শীতের পিঠা, খেজুরের রস, পাটালি গুড়
মানুষের আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুন।
অনেক কৃষক আবার সবজি বাগান
পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকে।
নদ নদী গুলোর কমে যায় পানি,
দরিদ্র জেলেদের নৌকাগুলো
নদীর ধোঁয়া উঠা বুকে ভেসে বেড়ায়।
শহরের লোকেরা বিচিত্র পোশাকে
বরণ করে নেয় শীতকে।
বিভিন্ন রঙের কোট, সোয়েটার, জ্যাকেট,
টুপি, মোজা, মাপলার, চাদর, পরিধান করে এ সময়।
শীতের প্রকোপে প্যান্ট ও জ্যাকেটের
পকেট থেকে হাত বের করতে চায় না অনেকে,
গরম চা পান করতে রাস্তার মোড়ের
দোকানগুলোতে ভিড় জমে।
রাস্তার পাশে ফুটপথ গুলোতে ভাপা পিঠা
বিক্রীর ধুম পড়ে যায়।
ফুটপথের পাশে চটের বস্তার ভেতরে
মানব শিশু আর কুকুরের জড়াজড়ি করে
ঘুমিয়ে থাকার দৃশ্যকে
শীতের নির্মম পরিহাস বলেই মনে হয়।
প্রচন্ড শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য
পশু পাখিরা প্রহর গুনতে থাকে।
শীতকালের আবেদন কারো কাছেই
নিতান্ত তুচ্ছ নয়।
শীত প্রকৃতিকে এক ভিন্নতর রূপ এনে দেয়।
……………………………………………

নুসরাতের চিঠি

কিছুদিন আগে নুসরাতের একটা চিঠি পেলাম।
চিঠিতে লেখা ছিল,-
কেমন আছেন সবাই, আশা করি ভাল আছেন।
আমিও ভাল আছি, জুলুমের দুনিয়ায় বেঁচে
থাকার চেয়ে পরপারে অনেক ভাল আছি।
কিন্তু… কিন্তু আমিতো বাঁচতে চেয়েছিলাম।
সেদিন জবানবন্দী দেয়ার সময় পুলিশদের মধ্যে
একজন পুরুষ পুলিশ আমাকে জিজ্ঞেস করলো,-
সে তোমার গায়ে হাত দিছে?
তার কথা শুনে মনে হল একবার বলেই ফেলি,-
ধর্ষণ আমি হইনি, ধর্ষণ হয়েছে তোদের মাথা।
আমি যে মাদ্রাসায় পড়তাম, সেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ
সিরাজুদৌলা আমাকে একদিন বললো,-
তোরে আমার খুব ভাললাগে।মুখটা খোল।
তুই আমার সাথে থাক।
আমার সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চেয়েছিলাম।
অনেকে আছে যারা তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া
অন্যায় গুলো চেপে যায়,
হজম করে ফেলে লোকলজ্জার ভয়ে।
অনেকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না ভয়ে।
আচ্ছা আমার সাথে ঘটে যাওয়া এমন অপরাধ যদি আপনার
বোনের সাথে ঘটতো; তখন আপনার কেমন লাগতো?
আচ্ছা আমিতো এমন কোনো পোশাক পড়তাম না,
যে পোশাক সমাজের চোখে খারাপ দৃষ্টিকটু বা অশ্লীল।
আমিতো এমন ভাবে চলাফেরা কোরতাম না
যে চলাফেরা এ সমাজের চোখে
বেহাল্লাপনা বেহায়াপনা বা বেলজ্জিত। তাহলে!
আমি অন্যায়ের বিচার চেয়েছিলাম।
যার জন্য আমাকে অপমানিত হতে হল, জীবন দিতে হল।
কিন্তু আমিতো বাঁচতে চেয়েছিলাম, আমার আলিম পরীক্ষা।
এক তারিখ থেকে আমার আলিম পরীক্ষা চলছিল,
আমার আর পরীক্ষা দেয়া হল না।
অন্যায়ের বিচার চাওয়ায় আমাকে আগুনে পুড়ে মরতে হল।
চিঠির উত্তরের প্রত্যাশায় থাকলাম।
ইতি … আপনাদের নুসরাত।

নুসরাতের চিঠির উত্তর আমি দিতে পারিনি।
কারণ …
এ চিঠির উত্তর আমার জানা ছিল না।
……………………………………………

কতটা পথ হাঁটলে শান্ত হবে

আর কত পথ হাঁটলে শান্ত হবে,
কতটা রক্ত ঝরলে স্থির হবে তোমাদের মন,
বলতে পারো!
রক্তের হোলি খেলা, ধ্বংস তোমাদের পরিচয়।
কিসের প্রতিষ্ঠা তোমাদের,
কি প্রতিষ্ঠার কথা বলো?
জানো, বোঝো, হাঁটো।
যে পথে সত্য হাঁটে।
তোমরা খুব বেশি হলে প্রতিষ্ঠা করতে পারো
হতাশা, ক্ষুধা, দারিদ্রতা, দুর্ভিক্ষ,
হত্যা, অনাথ শিশু, অশান্ত আর বিশৃঙ্খল পরিবেশ।
নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলাকারীর রাইফেলে
লেখা ছিল-
“To take revenge for Edda Akerlund”
শ্রীলঙ্কায় স্টার সানডে উদযাপনে বোমা হামলা।
তোমরা কিসের প্রতিষ্ঠাতা, তোমাদের ভিন্নতা কিসে?
চোখের ফোঁটা ফোঁটা অশ্রুতে ঝরে মানুষের দীর্ঘশ্বাস।
আর কত… আর কত… আর কত… ?
……………………………………………

শরতের রূপ

বর্ষা শেষে শরতের আগমন,
ভাদ্র-আশ্বিন জুড়ে বিচরন এদেশে।
স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের এ ঋতু।
শিশির ধোয়া উজ্জ্বল শারদীয় প্রভাতে ফোটে নানা রকম ফুল,
জুঁই টগর মালতীর শুভ্র সৌন্দর্যে বনভূমি হয়ে ওঠে সুশোভিত।
ধানের শীষগুলো দুলতে থাকে বাতাসে।
বর্ষার উদ্দমতা হারিয়ে নদ-নদী গুলোর রূপ শান্ত ¯িœগ্ধ।
হৈমন্তী ধানের বীজ বোনে, রোপন করে চারা,
বুকে বাঁধে সম্ভাবনার স্বপ্ন, কৃষকের মনে আনন্দ।
ঋতুরাজ বসন্ত শারদ প্রভাতের মনোমুগ্ধকর
অপরূপ শোভার কাছে হার মানে।
কচি ধানের ডগায় শিশির বিন্দু, কাননে ফুলের সৌন্দর্য,
দোয়েলের গান, শারদীয় প্রভাতে ঝরা শেফালীর সুবাস।
কখনো রোদ কখনো বৃষ্টি, কখনো মেঘ কখনো রদ্দুর।
এ যেন শরতের চির চেনা রূপ।
শরীরে শিহরণ জাগায় শরতের বাতাস।
দূর-দূরন্ত থেকে অতিথি পাখির আগমন ঘটে এ সময়।
বিচিত্র সৌন্দর্য মনকে দোলা দেয়।
শিউলি ফুলের সৌরভে ভরে ওঠে মন।
শরতের পরিপূর্ণ রূপ প্রকৃতির সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুন।
……………………………………………

বোলবো না ফিরে এসো

যদি যেতে চাও যেতে পারো,
বোলবো না ফিরে এসো।
যে যেতে চায় তার পথে
বাঁধা হয়ে দাঁড়াব না কখনো!
যত ব্যাথা পাই, নীরবে সইব।
তবু কেন এ অশ্রু ভেজা চোখ?
ভুলতে বোলো না আমায়,
শুধু শুধু ভাল থাকার মিথ্যে অভিনয়।
তোমাকে মনে পড়বে আনমনে কোনো ক্ষণে।
তোমাকে মনে পড়বে বিকেলে
কফির টেবিলে কোনো এক মুহূর্তে।
তোমাকে মনে পড়বে যখন
হাজারো তারার মাঝে উঁকি দেবে চাঁদ।
তোমাকে মনে পড়বে
নিঝুম রাতে জোনাকির আলো আঁধারির খেলাতে।
মিথ্যে মৌহে ভেসে যেতে পারিনি অস্তিত্বের প্রশ্নে,
হতাশার চাদর সঙ্গী হলেও।
যেতে চায়লে যেতে পারো বলবো না ফিরে এসো।
যে যেতে চায়, তার পথে
বাঁধা হয়ে দাঁড়াব না কখনো!
……………………………………………

করোনা কালে ঈদ

এবার করোনা কালে ঈদ বড়ই ফ্যাকাশে।
চারিদিকে অভাব অনটন, কাজ-কর্ম নেই মানুষের।
নেই ঈদ উৎযাপনে অর্থ।
চারিদিকে শুধুই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি,
মানুষ চিন্তাগ্রস্ত, কি হয়? কি হয়?
করোনা কালে ঈদ যেন ঈদ মনে হচ্ছে না!
……………………………………………

করোনা কাল

সম্পূর্ণ পৃথিবীর মানুষ আজ চিন্তাগ্রস্ত।
কি হয়? কি হয়? কি হয়?
আক্রান্ত হচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষ,
মৃত্যু বরণ করছে লক্ষ লক্ষ মানুষ করোনা ভাইরাসে।
এযেন আর একটি বিশ্বযুদ্ধ।
বাবা-মা দাদা-দাদী গুরুজনেরা বলেন,
-এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।
আর তাই থাকতে হবে সচেতন, থাকতে হবে ঘরে।
খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না।
হ্যান্ড ওয়াশ, সাবান বা ছাই দিয়ে
বার বার ধুতে হবে হাত কমপক্ষে বিশ সেকেন্ড।
ঘর থেকে বের হলে মুখে পড়তে হবে মাস্ক,
পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস।
করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে জয়ী হবার আশায়
সবাই চেয়ে আছি নতুন একটি দিনের অপেক্ষায়।
পূব আকাশে দেখা যাবে আলো,
নতুন সূর্য উদিত হবে আসবে নতুন দিন,
সকালে শিশু কিশোর কিশোরী দল বেঁধে স্কুলে যাবে,
কর্মজীবি মানুষেরা ব্যস্ত হয়ে উঠবে কাজে কর্মে।
প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে সড়কপথ রেলপথ নৌপথ
অফিস-আদালত হাট-বাজার।
আবারও ফিরে পাবো স্বাভাবিক জীবন,
এমনি এক দিনের প্রত্যাশায় তুমি আমি আমরা।