ইষ্টিকুটুম মিষ্টিকুটুম

ইষ্টিকুটুম মিষ্টিকুটুম
দৃষ্টিটাকে ভাসিয়ে দিলুম
একমুঠো রোদ্দুরে…

তারপর কী ? কাটুম-কুটুম
মেঘ পাঠালো বৃষ্টিকুটুম
আকাশ-বাতাস জুড়ে ৷

হাত-ঝুমঝুম পা-ঝুমঝুম
সঙ্গী পেলে ঘুম বেমালুম
উধাও, নয়নপুরে…

ইষ্টিকুটুম মিষ্টিকুটুম
ঘন হয়ে আসছে নিঝুম
সৃষ্টি কি খুব দূরে ?
……………………………………………

অন্যরকম

রকম-সকম
অন্যরকম
একটু যেন আহ্লাদী !

প্রবল ঝড়ে
কেমন করে
তার সাথে যে পাল্লা দি ?

ইচ্ছেগুলো
নরম তুলো
এ-সব রাত, দিন জানে !

সন্ধ্যাতারা
মন-দোতারা
কী আনন্দ ! হীনযানে ৷
……………………………………………

একটা কিছুর জন্য

একটা কিছুর জন্য
অবুঝ-প্রতিপন্ন
সেই থেকে তো দুঃখে আমার
দুচোখ মেঘাচ্ছন্ন ৷

একটা কিছুর জন্য
ওই অভয়ারণ্য
হাতের মুঠোয় পেতাম যদি
হতাম খুবই ধন্য ৷

একটা কিছুর জন্য
ইরা এবং অন্ন
আর কী লাগে ? ভালোবাসা
দৃষ্টিতে লাবণ্য ৷
……………………………………………

আধার

কইনে কথা স্পষ্ট তাকে,
বুকের ভিতর কষ্টটাকে
লুকিয়ে রেখে— সত্যি বলি :
পথ ভুলেছি কাঁদার !

ওই যে দেখি দিগন্তকে
তাকিয়ে আছে চিকন-চোখে
একটু পরেই ছড়িয়ে দেবে
টুকরো যত আঁধার ৷

সন্ধে-ছায়া, মন-একেলা
কত যে রং… রঙ্গ-খেলা
রাশি রাশি জোনাকদীপে
ভরে উঠেছে মাদার ৷

কী নিঃসীম, দুরপনেয়
শূন্যতাকে সুর মনে হয়
কানায়-কানায় পূর্ণ তবু
আকাশের ওই আধার ৷
……………………………………………

আসলে মন

ভুলতে গিয়ে ভাবছি বেশি
ভাবতে গিয়ে আনমনা
দুঃখ পেয়েও সত্যি বলি—
হাসব কিন্তু কাঁদব না ৷

এই তো কাছে সামনে এসে
কইছি কথা মন ভরে
রাগ করে ‘ভাগ’ বললে হবে
দিল রাখো নীল-অম্বরে ৷

তবেই না মিল, মিলবে সাঁকো
বিস্তৃত নীল-পারাবার…
জয় করে ঢেউ আজও ভাবি :
ভয় নেই তা হারাবার ৷

আসলে মন হারায় না তো
কাঁদে সে খুব, আবডালে…
যেমন করে শূন্যে ঘুড়ি—
আটকে থাকে চাঁদ, ডালে ৷
……………………………………………

এই ছড়া আর ওই ছড়া

এই ছড়াটি রাতের শেষে
সদ্য ফোটা ভোরের,
ওই ছড়াটি চাঁদকে নিয়ে
পালানো মেঘচোরের ৷

এই ছড়াটি হলুদবাড়ির
ময়ূর-আঁকা দোরের,
ওই ছড়াটি এগিয়ে যাওয়া
স্পর্ধা এবং জোরের ৷

এই ছড়াটি দিদিমণির
পাঠ্য বিষয় ফোরের,
ওই ছড়াটি কেমন যেন
এক্কেবারে ঘোরের ৷
……………………………………………

শ্রাবণ এসেছে বলে

শ্রাবণ এসেছে বলে বনে-বনে
জাগে পার্বণ,
সারাটা আকাশ যেন হয়ে ওঠে
ঘোর কারবন ৷
বাতাসের হুটোপাটি, মেঘে-মেঘে
বাজ গরজায়,
দাঁড়াতে ভীষণ ভয়, জানালার
কাছে, দরজায় ৷
ডালপালা নুয়ে পড়ে, উড়ে যায়
খোড়ো-আটচালা,
আজ আর বইটই… সবছুট,
ছুটি পাঠশালা !
শ্রাবণ এসেছে বলে বনে-বনে
জাগে পার্বণ,
সজল-হাওয়ায় আজ ভেসে যায়
তনিমার মন ৷
……………………………………………

যে-যেমন

এই ছড়া ছোটদের
হয়ত-বা বড়দের
যে-যেমন ভাবে, সুর
বেহালা কী সরোদের…

এই ছড়া ছোটদের
হয়ত-বা বড়দের
যে-যেমন চায়, ভাব
আরতি কী দরদের…

এই ছড়া ছোটদের
হয়ত-বা বড়দের
যে-যেমন ভাবে, বেশ
শিফন কী গরদের…

এই ছড়া ছোটদের
হয়ত-বা বড়দের
দুঃখ একটাই —
তোমরা তো পড় ঢের !
……………………………………………

অনবদ্য

আষাঢ় জানে তো আশা-ভরসা
চারপাশ জুড়ে খাসা বরষা ৷

চুপচাপ বসে রই দাওয়াতে…
কী যে এত হইচই হাওয়াতে !

থেকে-থেকে মেঘে বাজ-বিজলি…
না-হয় আবেগে আজ ভিজলি ৷

কখনও করিনি কার্পণ্য
মন দিয়ে শুধু তোর জন্য

লিখেছি সজলঘন পদ্য…
পড়ে কি বলবি— অনবদ্য !
……………………………………………

পিদিম

কী রাত ! কী দিন !
মনের পিদিম
জ্বালিয়ে রাখে পৃথিবী ৷

জানি না, ছার !
বিচার-আচার…
আমাকে তুই কী দিবি !

জুঁই না টগর
কেবল রগড়
তুই কি ভালো সখী না ?

বন্ধু পাতাস
পারলে পাঠাস
হাওয়াটি ওই দখিনা ৷