মা ও মা… কি রে ডাক ছিস কেনো বাবা আমার ব্যাগটা একটু গুছিয়ে দেবে, কেনো কোথায় যাবি এই করোনার সময়? তুমি তো জানো মা এই সময় প্রত্যেক বার আমি দাদুর কাছে যাই। সে ঠিক য়াছে কিন্তু প্রত্যেকবার আর এইবার তো এক কথা নয়। ও মা মা গো তুমি তো অন্য সব মা’দের মতো নয় তুমি তো বোঝো মা আমাদের সবার তো এখন এই করোনা নিয়েই বাঁচতে হবে। তবে সাবধানে চলতে হবে। তুমি আর ব্যগরা দিওনাতো আমি কিন্তু কাল যাবোই। কি কথা হচ্ছে ঋষি কোথায় যাবে? বাবা আমি সখিপুর যাবো আর মা আমায় যেতে দিচ্ছে না। বলছে করোনার সময়…

মা তো ঠিকই বলেছে। বাবা আমি বাইক নিয়ে যাবো। আচ্ছা আচ্ছা যেও। কিব্যাপার তুমি অনুমতি দিয়ে দিলে। আরে তুমি তো জানো শরৎ এর টানে ও ছোট বেলা থেকে এইসময় গ্রামে যায়। বাবার হাতধরে ভোর বেলায় হাটতে যায়। শিউলি র গন্ধ ওকে টেনে নিয়ে যায় ওর শিকরের কাছে। বাবা ও অপেক্ষা করে থাকে। বাড়ির দোতলায় ঘরের দখিনের জানালা থেকে কিসুন্দর শেফালীর গন্ধ আসে আহ্ মনে পড়লে ইচ্ছে করে দৌড়ে ছুট্টে চলে যাই। হ্যা তা হলে আর আমি বাদ যাই কেন ?

ঋষি রেডি হয়ে বের হয়ে গেলো আর বাবাকে বলল, বাবা দাদুকে তুমি জানা বেনা যে আমি যাচ্ছি। কেনোরে… আমি দাদুকে চমকে দেবো। আচ্ছা ঠিক য়াছে।

টানা তিন ঘন্টা জার্নি করে অবশেষে এসে পৌঁছালো দাদুর কাছে। বাইকের শব্দে পিছন ফিরে তাকাতেই চমকে উঠে দাদু বলে কেডা আমার দাদুভাই আইচে। ঋষি দু’হাতে দাদুকে জড়িয়ে ধরে বলে কেমন আছো তুমি? ভালো কিন্তু কোন খবর দেওনায় কেন? তোমাকে চমকে দেবো বলে। ও তয় এই দুষ্টামি কিন্তু এহোন খাবা কি? তোমার ঠাম্মা তো বাতে সেদ্ধ বাত রানছে হের শরিলডা বালো না। আমি ওটাই খেয়ে নেবো। ঠাম্মার হাতের সিদ্ধ মাখা খেতে খুব ভালো। আচ্ছা ঠাম্মা কোথায়? ও এতসমায় পর বুজি ঠাম্মার কতা মনে পরচে ? না না ঠাম্মা তোমার কথা মনে না পড়ে পারে তুমি তো আমার ডার্লিং। হ বুজ্জি। রাগ করে না রাগুনি রাঙা মাথায় চিরনি। আচ্চা অইচে এহোন কও দেহি বাবায় মায় কেমন আছে? ভালো আছে। কতোদিন ওগো মুকখান দেহি না ওগোতো আর এই বুড়া বুড়ীর কতা মনে পরে না। ওকথা বল না ঠাম্মি তোমাদের কথা সবসময় বলে বাবা মা দুজনেই। কিছু ভালো রান্না হলে বাবা বলেন, ভালো হয়েছে কিন্তু মায়ের মতো হয়নি। তয় ওরা তো এট্টু বাড়ি আাইতে পারে। আসবে ঠাম্মা, এবার আমায় খেতে দাও তো বড্ড খিদে লেগেছে। আয় দাদা আমরা খাইয়া লই। হ্যা চল।

পরের দিন ভোর বেলা দাদু নাতি হাটতে রেড় হলো। ঋষি বলল দাদু ওই দেখ কাশফুলগুলো কিসুন্দর বাতাসে দুলছে কিসুন্দর ঢেউ খেলছে। বাতাসে শিউলির গন্ধ ম ম করছে। মায়ের আগমনী বার্তা জানাচ্ছে। কি যে ভালো লাগছে তোমায় কি বলবো দাদু। হ্যা এই টানেইতো প্রত্যেক বছর ফিরে ফিরে আসি। দাদু বলল, হ গ্রামের এমন সুন্দার দৃশ্য শহরে কোতায় পাবা।

ও ঋষি… কবে আইছো৷ কেমন আছো… বলতে বলতে ছুটে য়াসে মামুন রকি শুভ ময়না পাখি ঋতু। ভালো আছি তোরা কেমন আছিস? আমরা সবাই ভালো আছি। তোদের সবাইকে দেখে আমার খুব আনন্দ লাগছে। হ আমরাও খুব আনন্দ পাইছি। কতোদিন পরে দেখা হলো তোদের সাথে। আচ্ছা তোরা সব কোথায় গেছিলি? আমরা রোজ সকালে হাটতে বাইর হই একঘন্টার মতো হাডইয়া তারপর পাল পাড়ায় ঠাহুর বানানো দেখতে যাই। কেমন অইচে মায়ের মূর্তি আর তারপর রাস্তার পাশে চায়ের দোকান দিয়া সবাই চা খাই তারপরে বাড়ি যাই। এই আমি ও তোদের সাথে পালপাড়ায় যাবো। আচ্চা তয় তুমি অগো লগে ঘুরইয়া আয়ও আমি বাড়ি যাই। এহন আর আগের মত আটতে পারি না। চলো দাদু আমি তোমায় পৌঁছে দিয়ে য়াসি। না না আমি পারমু তুমি যাও। সবাই মিলে পালপাড়া য়াচ্ছে আনন্দ করে পাশেই কাশফুল দেখে দাড়িয়ে পড়লো ঋষি বাহ্ কিসুন্দর। নেবে তুমি ঋষিদা বলেই ঋতু দুটো ডগা ভেঙে ওর হাত তুলে দেয়। ঋষি অপলক চেয়ে থাকে ঋতুর দিকে কি সুন্দর লাগছে ওকে। কেমন ডাগর ডাগর চোখ মাথাভর্তি কালো মেঘের মতো ঘনো চুল।
ওদের ওই অবস্থা দেখে সবাই হা হা করে হেসে উঠলো আর বলল, কি ব্যাপার আমাগো ঋষি মহারাজার ঋতুকে দেইখ্যা। আরে না না ও খুব সুন্দর হয়েছে তাই দেখছিলাম। কেন মনে দরচে বুজি। দেখ মামুন কি সব বলিস।
বুল কি কইচি তোরা দেক ক্যামনে চাইয়া রইচে যানি চক্কু ফিরাইতে পারে না। হ টিকই কইচে মামুন। ঋতু বাদে সবাই বলল। ঋতু বলল, আমি কিন্তু তোগো লগে কতা কমুনা যদি এইরহম করো তোরা। আচ্ছা সবাই তো সুন্দরের পুজারি আমি ওকে দেখছি তোরা কি কেউ ওকে দেখিস না। দেখি তবে তোর মতো করে না। আচ্ছা আচ্ছা এই ব্যাপারটা এইহানেই শেষ আর এডা লইয়া কোন কতা অবে না।

বলল মামুন, এহোন আমরা বাড়ি যাই।

ঋষি বাড়ি এসে সকালের খাবার খেয়ে একটু শুয়ে পরল। দাদু বললেন ও দাদাবাই এট্টু গুমাও তারপর মোরা তিনজোনে একলগে খামুহানে বোজ্জো। আচ্ছা দাদু তাই হবে। ঋষির চোখে ঘুম নেই, চোখ বুঝলেই শুধু ঋতুর মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ও মনে মনে ভাবছে এআমার কি হলো? আমি কি ঋতুর প্রেমে পড়ে গেলাম নাকি? খানিক সময় ছটফট করে উঠে বসল ঋষি। নিচে নামতে নামতে ঋতুর গলা শুনতে পেলো, নিজের মাথায় নিজেই গাট্টা মেরে মনে মনে বলছে এই কি হচ্ছে রে তোকে কি ঋতুর ভুতে ধরেছে? যত্তসব এতোসময় তবু চোখ বুঝলে ওর চেহারা দেখছি লাম এখন ওর কথা ও শুনছি! নিচে নামার সাথে সাথে দাদুভাই বলল, কি অইচে গুম অয়নায়? না। কি রান্না হচ্ছে ঠাম্মা বিরিয়ানির গন্ধ পাচ্ছি। ঠাম্মা কি বিরিয়ানি রান্না শিখে গেছে? বলতে বলতে রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে গেলো ঋষি। রান্না ঘরে গিয়ে তো অবাক। কি অইচে দাদা রান্দুনিরে চেনতে আইচো বুজি? আরে ঋতু রান্না করছে বুঝি আমিওতো ভাবি ঋতুর গলা আসছে কোথা থেকে। হ দাদা মুইতো ও সমস্ত রানতে জানি না তোমার দাদু কয় কি ঋতুরে ডাক দেও ও আইজ কাইলের মাইয়া ও পারবে। খেয়ে বুজবো কেমন পারে। এই রহম বয় দেলে কিন্তু অবেনা। কেন ঋতু যে পারে তার আবার ভয় কি? আমি তো পাকা রান্ধুনি না ওই ইউ টিউব দেইখ্যা শিখছি। ও তাহলে তো দারুণ হবে। ঋতু তা কিয়ে ঋষিকে জিভ ভ্যাঙলো ঋষি অবাক হয়ে ওর সৌন্দর্য অবলোকন করছি লো আর হাসছিল। ঋতু বলল, হাসেন কেন? তোমায় দেখে। আমি কি জোকার? না তুমি তো সুন্দর কি যে বলেন? সত্যি ঋতু আমি মনে হয় তোমার প্রেমে পড়ে গেছি। লজ্জায় লাল হয়ে গেলো ঋতু আর বলল, এরহম করইয়া কবেননা আপনেতো দুইদিন পর চলইয়া যাবেন তহোন আমার কি অবে? কে বলেছে আমি আসবো না এখন তো বার বার আসতে হবে। আমি তো ভাবছি কি করে তোমায় রেখে চলে যাবো। আমার খুব কষ্ট হবে। আপনে তো বছরে এই একবার আয়েন এই শিউলির আর কাশ ফুলের টানে। আর এবার আসবো ঋতুর টানে। যা হ্ আমি গেলাম বলে ঋতু দৌড় দিলো ঋষি ডেকে বলল যদি ভালোবাস তবে কাশফুলের তোড়া নিয়ে সামনে এসে দাড়াইও…

ঋষি অপেক্ষা করতে থাকে কখন ঋতু আসবে। অপেক্ষার প্রহর আর শেষই হয় না দিন শেষ হয়ে রাত এলো, রাত ও ভোর হয়ে গেলো তবু ঋতু এলোনা তাই ঋষি ঠিক করলো চলে যাবে চটপট রেডি হয়ে বেরিয়ে পরলো। দাদু ঠাম্মা দুজনেই অবাক কিব্যাপার হঠাৎ চলে যাচ্ছ যে? ভালো লাগছে না দাদু চললাম তোমরা ভালো থাকো বলেই গাড়ি টান দিলো…

কিছু দুর গেলে ঋষি ঋতুর গলা শুনতে পেয়ে পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখতে পেলো ঋতু ছুটছে আর ওর হাতে একগোছা কাশফুল আর কাশফুলগুলো বাতাসে উরছে…