আদরের ডাক

এখানে তপ্ত দুপুরে দেখা মেলে
মাছরাঙার চৌকশ চোখ,
একই ফুলে বসে ভ্রমর
মৌমাছি আর ফড়িংয়ের মুখ।

রোদ পোড়া চৈত্রে পথের ধারে
জ্বলে উঠে সারি সারি ভাঁটফুল,
হিজল, অশথের পাতায় পাতায়
লেগে থাকে শিশিরের দুল।

এখানে কদমের হলুদ বুকে
ঝরে বৃষ্টি আষাঢ়ের দিন
শুভ্র মেঘের মতো শরতের কাশফুল
মাতাল হাওয়ার রেখে যায় ঋন।

বৃক্ষ বটের ছায়তলে জমে
ক্লান্ত দেহের শান্তির রেশ
এখানে মাটির গন্ধে উল্লাসে মাতে
ডানপিটে দস্যিরা বেশ।

এখানে নীল আকাশের তলে
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সবুজের গান
এখানে কিষাণ-কিষাণীর ভালোবাসায়
বাঁচে ফসলের প্রাণ।

তুমি যাও পৃথিবীর আর সব দেশে
পাবেনা এমন সবুজ আঁচলের বাঁক
এমন বাংলা মায়ের মতো করে
পাবেনা বাংলার আদরের ডাক।
……………………………………………

বৃষ্টি কাব্য

বৃষ্টি নামে সকাল দুপুর
বৃষ্টি নামে মেঘে
বরফগলা হৃদয় যেন
জাগে প্রবল বেগে।

বৃষ্টি পড়ে কদম কেয়ায়
সবুজ বৃক্ষ পাড়ায়
বৃষ্টি জলে মন ভেজাতে
প্রিয় দু’হাত বাড়ায়।

বৃষ্টি পড়ে বুকের নদীতে
বাঁক খুজে না পাই
বৃষ্টি পড়ে কচু পাতায়
জল পেলনা ঠাঁই !

বৃষ্টি নামে চোখের কোণে
স্মৃতির কপাট খুলি
দু’টি মানুষ একটা ছাতায়
কেমন করে ভুলি?
……………………………………………

মনুষ্যত্ব

ভাবছো কি যে?
তুমি নিজে
মানুষ হলে নাকি,
মানুষ নামের মনুষ হতে
অনেকটা পথ বাকি।

রং বাহারে
অহংকারে
বিবেক তোমার অন্ধ,
সামনে লোকে বলবে ভালো
পিছনে অপছন্দ।

পরের দুঃখে
কিংবা সুখে
থাকলে আশেপাশে
দেখবে নিজের বিবেক দ্বারে
মনুষ্যত্ব আসে।
……………………………………………

বৃষ্টি মেয়ে

মেঘের কলস উপুড় হওয়া
বৃষ্টি যখন ঝরছিলো,
মিষ্টি মেয়ে জল ছুঁয়ে যায়
মনটা মাতাল করছিলো।

মিষ্টি মেয়ে মন ভেজালো
শরীর ছোঁয়া বৃষ্টিতে,
দুরুদুরু উঠলো কাঁপন
আমার বুকের হিস্ট্রিতে।

মিষ্টি মেয়ের সিক্ত গায়ে
বৃষ্টি তুলে কাঁপন,
রক্ত ঠোঁটের অগোচরে
আমায় করো আপন।

মিষ্টি মেয়ে তোমার মনে
মেঘ অভিমান জমে,
বৃষ্টিভেজা তোমার চুলে
আমার অয়ু কমে !
……………………………………………

মা

মা তোমার খোকা
তিন বেলাতেই
পেটপুরে যায়
খেয়ে ভীষন ধোঁকা !

এই পৃথিবীর
কিছু মানুষ
ভীষন-ই একরোখা,
লেনদেন কর্মকাজে
জবান আঁকাবাকা !

তারা-ও তো মানুষ মা’গো
রক্ত মাংসে গড়া
তবে কেন স্বার্থলোভি
অহংকারে ভরা।

ভাবছো,
আমি বড় হলাম
দেশ বিদেশ চষে এলাম !
তবুও কেন বোকা ?
ভেবোনা মা,
বেশতো আছি তোমার
জঠর পোকা।
……………………………………………

বিবর্ন ঈদ

ঈদ গুলো হয়ে গেল করোনা’র বিষে নীল,
বিবর্ন ঈদ তাই দরজায় আঁটে খিল।
ঈদ আসে হাসিমুখে কোলাকুলি সম্প্রীতি,
করোনা’র আতঙ্কে আজ দূরত্ব ভীতি।

চাঁদের হাসির বাঁধ ভাঙে হাসে নর-নারী,
দূরহোক প্রেম জোয়ারের টানে বিষাক্ত মহামারী।
রেসারেসি, হিংসা বিভেদ হোক চুরমার,
গরীব, অনাহারী পথশিশুর হোক অধিকার।

ঈদ নিয়ে আসুক সাম্য ন্যায় নীতি,
পৃথিবীতে আনন্দ ফিরুক কাটুক ভয় ভীতি।
শাওয়ালের এই চাঁদে চাইনে কিছু আর,
সুবাসিত ঈদ আসুক হে পরওয়ারদিগার।
……………………………………………

টনি মামা

আমাদের টনি মামা হ্যান্ডসাম বটে
এপাড়ায় তাকে নিয়ে কত কথা রটে !

রংচটা শার্ট পরে জিন্স প্যান্ট ফাটা
ছ’ফুট লম্বা সে কাঠবডি গা’টা।

মাঘমাসে আইসক্রিম মামা খুব খায়
গ্রীষ্মের দাবদাহে হটকফি চায় !

এ কেমন খাওয়া তার ভাত দিয়ে ‘চা’
মামা বলে- এতে পাবি ভিটামিনটা’ !

ভুঁড়ি ভরে ভাত খেয়ে নাক ডাকা ঘুম
চিৎকারে গান গায় যেন ফাটে রুম !

যদি বলি- মামা কেন কর বককক?
বলে মামা রেগে গিয়ে–‘গান শুনি রক’।

ভাবে শুধু নিজেকেই মহাজ্ঞানী আর
ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে বাড়ায় ফলোয়ার।
……………………………………………

জলময়ূরী

জলময়ূরী কন্যা তোমার
মেঘের দেশে বাড়ি,
জলের শাড়ি জড়িয়ে নামো
নইলে আমার আড়ি।

আভিমানের মেঘ জমিয়ে
হঠাৎ হারাও কই ?
বুকের জমিন রোদ পুষেছে
আর কতকাল সই !!

জলময়ূরী নামবে কখন
লাজুক লাজুক দৃষ্টিতে,
প্রেমের জ্বরে হোক কাঁপুনি
ভেজাও তোমার বৃষ্টিতে।

জলময়ূরী একটু এসো
সেই গিয়েছো কবে !
তোমার ছোঁয়ায় সিক্ত হবো
বৃষ্টি অনুভবে।
……………………………………………

ঈদ

ঈদ মানে হলো খুশির বার্তা খোদার আরশ থেকে,
তাইতো সবাই হৃদয়ে নিয়েছে ঈদের চাঁদকেএঁকে।

জমিনে আজ লুটিয়ে পড়ে আসমানী খুশির ধারা,
তাই কিরে আজ চাঁদ হাসে সাথে হাসে তারা ।

একটি মাসের সিয়াম ছিলোসেতো খোদারি রাহে,
তাইতো খোদার বার্তা খুশির মোরা যাবো ঈদগাহে।

চাঁদের হাসি বলছে উঠে আজকে খুশির ঈদ,
তাই কিরে গাইছে সবাই শুধু শান্তির গীত।

দুর আকাশের বাঁকা চাঁদে মুক্তা যেন ফুটে,
ঈদের চাঁদে ঝরছে তব খুশি নাও গো সবাই লুটে।

ঈদ সেতো ছড়িয়ে দেয় সুখ শান্তির বানী,
ধনী-গরিব হয় একাকার ভুলে দুঃখ গ্লানি।

ছড়িয়ে পড়ুক খুশির জোয়ার ঈদের বাঁকা চাঁদে,
রাখতে হবে সবার খেয়াল কেউনা যেন কাঁদে।

বিথা এই ঈদ নাবুঝিলে ঈদের মর্ম বানী,
যদি গরিব দুখি ভোকে মরে ঝরে চোখের পানি ।

ভেবোনা ঈদ এসেছে কারো একার লাগি কভু,
সাম্য মৈত্রী ছড়িয়ে দিতে ঈদ দিয়েছেন প্রভু ।

ঈদের মুল বানী খুশী ছড়িয়ে পড়ুক সবার দারে,
কে আছে কষ্টে নাওগো খবর দুঃখ ভুলাও তারে।

বিলিয়ে দাও চড়িয়ে খুশি যত পাড়া প্রতিবেশী,
সকলের তরে সকিলে মোরা ভুলে সব রেশারেশি।

কে বা শত্রু কেভা মিত্রু ভুলে গেলে আজ সবে,
ঈদের আমেজ সকলের তরে পূর্ণতা পাবে তবে।

ধনী গরিব করে ভেদাভেদ কেউ পাবেনা ঈদের সাধ,
এককার হয়ে এসো করি সবাই মোরা ঈদের মুলাকাত।
……………………………………………

লকডাউন

ভিখারি তো হাত পাতে রোজ
লকডাউনে তার কী ক্ষতি
ভুক্তভোগীর দুঃখ বাড়ে
উৎসাহ কি পায় অতি?

যাদের আছে দূর্নীতি আর
কোটিটাকায় ব্যাংকভরা;
তারাই তো এই লকডাউন চায়
অভাবীরা হয় মরা!

পেটের ক্ষুধায় পাবে কোথায়
খাবার, যদি লক আসে,
খাবার জোগান দিতেই মরি
মরবো না হায় ভাইরাসে!!
……………………………………………

হ্যাটমোডা ১
লক্ষীপুর জেলার আঞ্চলিক ভাষায়

ঘন ঘন কিল্লাই
খাচ্ এত হানি,
দুই নেলা ভাত খাই
কয় আঁর নানী।

আঁর বাপের আঁই খাই
কিল্লাই কয় হেতী,
‘খাক হিগা বেশি করি’
নানা কয় চেতি।

রাইত দিন হ্যাডভরি
খানা খাই গিলি,
এয়াল্লাই আঁরে হেডুয়া
কয় বেকে মিলি !

হ্যাটমোডা শইল্যো
মাথামোডা মগা,
দেখলেই কয় আঁরে
জামসেদ কাগা।

কাম কাইজ করি না
খালি হুতি থাই,
রাঁধাবাড়া খানা হাইলে
হাগল ওই খাই !

শব্দটিকা
হ্যাটমোডা =পেটুক, কিল্লাই=কেন,
খাচ=খাওয়া, হানি=পানি, নেলা=লোকমা, আঁর=আমার, আঁই= আমি, বেকে=সবাই, কয়=বলে, হেতী=তিনি (মহিলা), হিগা=সে, রাঁধাবাড়া=রান্নাকরা, হ্যাডভরি = ভরাপেটে, হেডুয়া =পেটুক, শইল্যো =শরীর, মাতামোডা=ঘাড়ত্যাড়া, মগা=বোকা, কাগা= চাচা, হুতি=শোয়া, হাইলে=পেলে, হাগল= পাগল।
……………………………………………

হ্যাটমোডা ২
লক্ষীপুর জেলার আঞ্চলিক ভাষায় রচিত

হানদি সুয়ারী চাবাই
জদ্দা হাকিমপুরী
মুরকার গোস্তো ভাল্লাগেনা
টোগাই লতি হুরি।

দাবাত হাইলে কোনোআনো
ব্যাকের আগে ছুডি
হ্যাডের উরফে গন্জি হাডে
দেখলে আঁসে বেডি।

হলাউ আর গরুর গোস্ত
খাই বেগ্গিন ল্যাডাই
রসগোল্লা মিষ্টি হাইলে
জিব্লার হানি ট্যাবাই।

হ্যাটমোডা কইলে আঁরে
মেজাজ উৎরাই উডে
ক’দিন আর বাঁইচ্চুম খাইলই
দুঃখে কইলজা হাডে।

শব্দটীকা
হানদি=পান দিয়ে, সুয়ারী=সুপারী, মুরকা=মুরগী, টোগাই=খোঁজা, লতি=কচুর লতি, হুরি=শুটকী, দাবাত=দাওয়াত, ব্যাকে=সবাই, হাডে=ফাটে, আঁসে=হাসে, বেডি=মহিলা, হলাউ=পোলাও, বেগ্গিন=সব, ল্যাডাই=আরামসে, জিব্লা=জিহ্বা, হানি=পানি, ট্যাবাই=ঝরে পড়া, হ্যাটমোডা=পেটুক, আঁরে=আমাকে,
উৎরাই=উপছে পড়া, বাঁইচ্চুম=বাঁচবো, খইলই=খেয়ে নিই।