জীবনের রঙ

নদীর কাছে বলছি ও ভাই
এক জীবনের রঙ কত?
মিলছে না ঠিক হিসাবকিতাব
বড্ড কঠিন অঙ্ক তো!

মুচকি হেসে বলছে নদী
তুই কি ব্যাটা মস্তানা?
হিসেব করা সস্তা না,
জীবনটাতো নীল, খয়েরি,
হলুদ, সাদা, কস্তা না।
……………………………………………

মনমাঝি

চাঁদ দেখে তুই ভাবিসনে মন
চাঁদের গাঁয়ে রাত্তিরে,
শখ করে তোর নাও ভিড়াবি
ঠাঁই দিবি প্রেমবাত্তিরে।

ভাবিসনে মন পাল উড়াবি
জ্যোৎস্নাজলের বাঁক তালে,
রাতদুপুরে সুখ কুড়াবি
গান গেয়ে তার ফাঁকতালে।

মনমাঝি তুই দাঁড় টেনে যা
দেখিসনে ওই আকাশে,
রূপ ঢেলে কে হাতছানি দেয়
কোন ভঙ্গিমায় থাকা সে।

খুব দামি ওই চাঁদ-চাঁদোয়া
দে মাঝি তার আশা বাদ,
দীনদুঃখী তুই নদীর বুকে
কর পিরিতের চাষাবাদ।
……………………………………………

বিসর্জন

পারছি না আর বাইতে এমন
ঘুণধরা এই নৌকাটা,
খোল, পাটা, ছই নড়বড়ে যার
সামনে পিছে দ্বৌ কাটা।

সখ করে তাও পাল তুলেছি
কমজোরি এই মাস্তুলে,
মেঘ দেখে তাই দিচ্ছে কাশি
টিটকারিময় হাস তুলে!

পথ রুখেছে জলোচ্ছ্বাসে!
উন্মাদনায় ভুবনতো!
বাউরি ঝড়ে পানসি তরী
এই বুঝি প্রায় ডুবন্ত।

পাগলা মনের আগলানো সাধ
আর হলো না ইস্! অর্জন,
আছড়ে পড়া ঊর্মি জলে
সব দিলাম আজ বিসর্জন।
……………………………………………

ঠিকানা

ওই যে সালাম, আবুল কালাম
তপন কুমার, আশ্বিনদা,
আজকে তারা গোরস্থান আর
শ্মশানঘাটের বাসিন্দা!

তারাও তো নেই, যাদের কাছে
এই পৃথিবীর স্বাদ বড়!
পায়নি রেহাই বীরবলিয়ান
অহংকারী মাদবরও।

সুখের বড়াই করতো যারা
দুইদিনের এই খাঁচাতে!
সত্যই তারা কেউ পেরেছে
সুখ দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে?

একেরপর এক সবাই যাবে
এই কথা ভুল, ফিকা না!
মন তুমি কি আঁচ করেছো
কোথায় তোমার ঠিকানা?
……………………………………………

পাগল মন

মন তুমি কি পাগল হলে?
কী বলো সব যা-তা,
হঠাৎ কেন ভাবলে এমন?
বাদ রাখো এই পাতা।

সবকিছু কি ভাব-আবেগে
হয় কখনও বোকা?
বয়স তোমার বাড়ছে তবু
আজও তুমি খোকা।

হিসেব তোমার বড্ড বাজে
ঠিক কর এই মাথা,
স্বপ্নঘোরের ফুলমালাটি
ভুল ছিল তা গাঁথা।
……………………………………………

পাপিষ্ঠ নাইয়া

আকাশছোঁয়া পাপ করেছি
বাদ রাখিনি কিঞ্চিৎ,
বদদোয়া কয় আল্লা ওরে
ভাঙেন দাঁড়া, দিন চিত।

সঙ্গী যারা তারাও বলে
দূর হয়ে যা বেইমান,
এখন আমি নিঃস্ব-নীরব,
লোকসমাজে নেই মান।

দেশটা পুরাই তুলসীপাতা
ফেরেস্তাগো ভাইয়া,
একলা আমি পাপসাগরে
পাপিষ্ঠ এক নাইয়া।

জাহান্নামের ভয় হৃদয়ে
মনটা ভারি কান্দে,
আর-রহমান ডাক দিয়ে কয়
ঈমানটা ফের শাণ দে।
……………………………………………

বিদায়ের পালকি

সাদা-কালো মনটায়
প্রতিক্ষণ-ঘন্টায়
বারবার ডেকে বলে
এ তোমার হাল কী?

যমরশি হাতে আর
সজ্জিত কাঁধে তার
আধোআধো আবছায়
বিদায়ের পালকি।
……………………………………………

পথশিশুর কথা

আমরা নাকি সভ্যতাহীন
জাত-সমাজের বৎস না,
ঢং করে তাই টিটকারি দাও
অন্তরে দাও ভর্ৎসনা।

আমরা নাকি মূর্খ-নাদান
এই পৃথিবীর আগাছা,
বাপ না জানা নষ্ট মায়ের
ফুটপাতে রাত জাগা ছা।

আমরা নাকি পাতকুড়ানি,
পকেটমারি যার-তারই,
কোন গলি কোন চিপাই টাকা
খোঁজ রাখি সেই বার্তারই

আমরা যদি খিদের জ্বালায়
শখ করে কই দে-মা নান,
সভ্যতা কয় তুইতো বাজে
লোকসমাজে বেমানান।

আমরা নাকি মানুষ না তাই
দিচ্ছো ঘৃণা ধমকানি,
মান করি তাও স্বপ্নে দেখি
ঊষার আলো চমকানি।
……………………………………………

ভাবাবেগ

ফালিফালি মেঘ তোর
আধোআধো চুমোতে,
চাঁদভেজা ওই বুকে
মন চায় ঘুমোতে।

ব্যথাতুর জঞ্জাল
সেখানেও কি রবে?
জোছনায় মিশে যাবো
ভেসে যাবো নীরবে।
……………………………………………

চাঁদনি রাত

চাঁদনি রাতের পুবাল হাওয়া
দোল দিয়ে যায় অন্তরে,
জোছনাপরীর দল নেমেছে
সবুজঢাকা লন তরে।

শান্ত-কোমল-শুভ্রকেশে
আকাশগঙ্গা উঠছে ভেসে।

আজকে চাঁদের হীরক কণায়
সজ্জিত রাতদুপুরে,
পাতায় পাতা দুলছে যেন
তাল রেখে তার নূপুরে।

পুষ্পসুবাস নিচ্ছে কেড়ে
মনটাকে তাই, যাচ্ছি হেরে।

এক ফালি মেঘ-তারাও দেখি
এই হৃদয়ের রং কাড়ে,
একলা বসে গান ধরেছি
গুনগুন সুর ঝংকারে।