পুণ্যভূমি

এ দেশের রূপ এ দেশের রং, এ-
দেশের ভালোবাসা
দুঃখ মুছে দেয় স্বপ্ন দেখায়
জাগায় বাঁচার আশা।

মাঠে পাকা ধান মাঝি গায় গান
সোনার আলো ঝরে
নায়ে তোলে পাল রূপালী স্রোতে
নদীর দু’কূল ভরে।

দখিনা বাতাস দোল খেয়ে যায়
নতুন কুঁড়ি আসে
ঝরে কতো ফুল বনবাঁদাড়ে
হাওয়ায় সুবাস ভাসে।

রাতের শিশির বনে ঝরে যায়
জ্যোৎস্না জুড়ায় আঁখি
বাউলের সুর কতো যে মধুর
গান গেয়ে যায় পাখি।

দাও অকাতরে সবটুকু প্রেম
দুখ্টুকু নাও তুমি
তাই তোমাকে ভালোবেসে যাই
প্রিয় পুন্যভূমি।
……………………………………………

বৃষ্টির ছবি

বর্ষায় ভিজা ঘাস নদী খাল বিল
কোলাব্যাঙ সাঁতরায় উড়ে যায় চিল
গাছ ভিজে মাছ ভিজে বৃষ্টির ঝাপটায়
ব্যাঙ দেখে ফণা তুলে ইয়া বড় সাপটায়।

আকাশের বুক আজ মেঘে মেঘে কালো
বৃষ্টির টুপটাপ তবু লাগে ভালো
বিজলীর আলো এসে যেই লাগে মুখে
খোকা সেই ছবি আঁকে নিজ খোলা বুকে।
……………………………………………

খাঁচা ভাঙা পাখি

ভাঙা খাঁচাটা বুকে নিয়ে আজ
করছি বিলাপ শুধু
মুখে হাসি নেই চোখ ভরা জল
দিগন্তটা ধুধু

না, আসে না, সেই সোনা পাখি
রেশম পালক ভরা
প্রিয়তম ঠোঁট টুকটুকে পায়ে
সোনার নূপুর পড়া।

স্মৃতি ভরা মন স্মৃতি বিভ্রমে
দিচ্ছে আমাকে ফাঁকি
পাখিটা তবু মনে রয়ে যায়
নির্জনে ওঠে ডাকি।

মন ভরা দুঃখ পুষে রাখি মনে
কষ্টে তাকাই দূরে
তবু ভাবি মনে ভাঙা খাঁচা কোণে
আসবে পাখি উড়ে।
……………………………………………

সোনার বাংলাদেশ

আমার মায়ের আঁচল ভরা
কতো সোহাগ আদর
পাঁয়ের নিচে সবুজ শ্যামল
নরম ঘাসের চাদর।

দু’হাত ভরা সোনার ফসল
দু’চোখ ভরা পানি
হৃদয় ভরা প্রশান্তিতে
সোনার অঙ্গখানি।

অঙ্গে মায়ের রূপের ঝলক
নেইতো রূপের শেষ
রূপ কুমারী মা-ই আমার
সোনার বাংলাদেশ।
……………………………………………

ভাবনায় শরৎ প্রকৃতি

এই শরতে বৃষ্টি ঝরা সবুজ ধানের ক্ষেতে
পুঁটি মাছের অবাক নেশা’য় বকরা থাকে মেতে
আবছা আলো আবছা আঁধার হাওয়ায় মেলে ডানা
চুনোপুঁটির ঘর বাড়ীতে বক দিয়ে যায় হানা।

বাড়তে থাকে আলোর রেখা চুঁনোপুটির গাঁয়ে
তাও মেলে না পুঁটির দেখা ক্লান্তি আসে পায়ে
চুনোপুঁটি দুষ্ট ভারি যায় লুকিয়ে দূরে-
পায় না তো বক পুঁটির দেখা যায় নীরবে উড়ে।