সমগ্র পৃথিবী’র মানুষ যখন আদ ও সামুদ জাতি’র অভ্যাসে অভ্যাসিত হয়ে তাদের জীবনের যৌবনকে নষ্টামী’র কিম্ভুতকিমার পদীতে অবগাহনে বিভোর হয়ে পড়ছে ঠিক তখনই জীবনকে আল্লাহর রঙে রাঙাতে ও সেইভাবে সাজাতে প্রয়াত বীর লেখক শাহ্ আব্দুল হান্নান ধরেছেন লেখনি যার মধ্য দিয়েই তিনি আমৃত্যু নিজকে ও আমাদেরকে সাজাতে বদ্ধপরিকর হয়ে ঘর্মাপ্লুতে কাটিয়েছেন অত্যন্ত সাবলিল ভাবে।তাঁর শেলকো নেত্র সর্বদাই সত্য ও সুন্দরের ভূমি’র দিকে দেখে তারই সুনির্যাস সাঙ্গ করেই সৌন্দর্যের সুগন্ধী বর্তা আমাদের হৃদসাম্রাজ্যে বোপন করে গেছেন যার স্নিগ্ধ লোবান আমাদের সমগ্র জীবন ভূমিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং করে যেতে শুরু করেছে।তিনি তাঁর সত্যময়তা সমগ্র জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে আমাদেরকে করেছেন সমৃদ্ধ আর তিনি তাতে হয়েছেন শ্লাঘনীয়। সরকারী বিসি এস কর্মকর্তা তথা সচিব হয়েও তিনি ঐ মন্ত্রণালয়ের কাজ সঠিক ও সুচারুরুপে সম্পাদন করেছেন এবং জীবনে ঘুষ কাকে বলে তাও তিনি বুঝতেন না।তাঁর
কাছে ন্যাস্তকৃত মন্ত্রাণালয় সাবলিল গতি নিয়ে নব উদ্যমে জেগে ওঠতো।তিনি তাঁর প্রজ্ঞা ধারা অধীনস্থদের শিখাতেন সত্য ও সুন্দরের সুদিকগুলো যা গ্রহণ করে তাঁদের অনেকেই পরবর্তী জীবনে সুমানুষ হয়েছেন আর নিজকে বুঝেছেন ও বুঝিয়েছেন পরিবারকে।জাতি বিনির্মাণে এবং জাতির চরিত্র চিত্রণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছেন।সদাই সদালাপি শাহ্ আব্দুল হান্নান কখনই কারুর প্রতি বিরাগ ভাজন হননি এবং কোন মন্ত্রীও সম্ভবত তাঁর প্রতি অনাস্থা আনেননি।তিনি সবাইকে আল্লাহ রাসূলের কথাও শুনাতেন এবং মৃত্যু পরবর্তীকালে কি হবে কি করলে তাও তিনি তাঁর ক্ষুরধার মেধা দিয়ে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যদিও তাদের কেউ কেউ মোটেও তা মানেন নি আবার কেউ কেউ শ্রদ্ধাভরে গ্রহণ করেছেন।স্বাধীনতা উত্তর চাকরি জীবনে তিনি কখনও কারু রোষানলে পড়ে চাকরি জীবনে ওএসডি হননি বা হতে বাধ্যও হননি।জীবনকে দেখেছেন ক্ষনস্থায়ী অতিথি হিসেবে আর তাই তিনি বেতনের টাকায়ই সংসার চালাতেন।এতে তিনি খুশীই থাকতেন আর তাই নিয়ে মহান রবের নিকট শুকরিয়া আদায় করতেন তিনি।পরিবারকেও তিনি নির্লোভ হিসেবে গড়ে তুলেছেন যার কারণে তাঁদের মাঝ থেকে আসেনি বিত্ত বৈভব গড়ার মানসিকথা কখনো কোন সময়ে আমাদের মধ্যে
যাঁরা তাঁর বাসায় গিয়েছেন তারা সবাই অবাক হয়েছেন এই জন্য যে একজন সচিবের জীবন সংসার দেখে।অত্যন্ত সাদামাঠা জীবন যাপন করতেন শাহ্ আব্দূল হান্নান।বিশাল বিশাল আসবাবপত্র কিম্বা আলো খচিত কোন সৌনদর্য অন্যভাবে এনে ঘর সাজানোর মানসিকতা ছিলো না এই সচিবের।বেতনের টাকায় ছেলে মেয়ের পড়া লেখার খরচ চালিয়ে যেতেন তিনি।এই ছাড়াসআর জীবনে আর কিছুই করেতে পারেন নি এই সচিব মহোদয়। কোন রাষ্ট্রপ্রধানের বিরাগ ভাজন হতে দেখিনি তাঁকে কেননা তিনি ঐ সব কাজ কখনই করেন নি যাতে তাঁদের বিরাগ ভাজন হতে হয়।নির্লোভ এই সচিব বাংলাদেশে সৎ সচিব হিসেবে এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে।মন্ত্রণালয়ে লুভী ঘুষখোরদেরকে কুরআনের আলোকে বুঝিয়েছেন প্রকৃত জীবনের চিত্র কি বা কি হওয়া উচিৎ।তিনি মিনিমাইজ করতেন তাঁর প্রগাঢ় জ্ঞানের আলোক মালা দিয়ে যাতে কেউ কোনদিন না বলে ওঠতে পারেন নি যদিও স্বীকার করে পরে তাদের স্বভাবসুলভ জীবন আচরণের দিকেই হেঁটে গেছেন।দুর্নীতি কাকে বলে শাহ্ আব্দুল হান্নান কখনই তার সংস্পর্শে যাননি এবং যেতে বাধ্যও হননি আর তারই কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে সচিব হয়ে তিনি কোটি বিজয়ের মুকুটের মধ্যে একটি সর্বশ্রেষ্ঠ মুকুট মাথায় পরিধান করার সৌভাগ্য ধারণ করেছেন।
ঘুম নির্ঘুমে তিনি সর্দাই একজন সচেতন আদর্শবান সচিব ও সুমানুষ ছিলেন।দেশের মানূষের কথাই শুধু ভাবতেন না তিনি,ভাবতেন আল্লাহ রাসূলের কথা যা তাঁর সুলেখার মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে বারবার বহুবার।তিনি মানুষকে জাগাতেন তাঁর কথায় এবং তাঁর লেখায়।প্রবন্ধ নিবন্ধে তিনি পৃথিবীর আসল চিত্র উপস্থাপ করতেন কুরআন ও হাদীসের নানাহ উদাহরণ দিয়ে যা পড়ে পৃথিবীর মানুষ বিশেষ করে বাংলা ভাষাবাসিদের মধ্যে এক চমৎকার হৃদ্যতার সেতু বন্ধন গড়ে তোলার সূপ্রয়াসী হয়ে ওঠেছেন।তাঁর কলামে ওঠে এসেছে সমসাময়িক ঘটনার বর্ণনা যার সাথে মিশে রয়েছে বর্ণাঢ্য জীবনের কাহিনী।তিনি অতি নিপুণতার সাথে জটিলতাকে সহজ সরল করে তুলে এনে আমাদেরকে বুঝাতে পেরেছেন হুর গেলবানের মত পাওয়া না পাওয়ার কথা।সত্যি বড় প্রঞ্জলতায় পরিপূর্ণ ছিলো তাঁর লেখা,সমৃদ্ধ ছিলো প্রতিটা বুঝানোর কৌশলময় প্লট যা নির্মাণ করতেন রাতে আর তা দিনে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে আমাদের আঁধার ধারণাকে আলোয় উদ্ভাসিত করে দিতেন।তাঁর লেখায় ক্ষয়িষ্ণুতা বিধূরিত হয়ে কিশলয়ের আহ্বান জানাতো মনের গহিনে।তিনি উদ্বুদ্ধ করতেন সত্যের মাঝে ভালোবাসার সুখ এনে যা সত্যি অতুলনীয় –অনিন্দ সুন্দরের আভায় পরিপূর্ণ জীবনের জয়গানে।প্রগাঢ় জ্ঞানের অধিকারী শাহ্ আব্দুল হান্নান ছিলেন সত্য ও সুন্দরের একজন সফল নির্মাতাও যার উদাহরণ ভুরী ভুরী।তিনি একজন সফল নির্দেশকও যা সঠিকতার গ্রেট ফিল্মেও উদাহরণযোগ্য বৈকী।তাঁর সুনির্দেশনায় বির্মাণ হয়েছে এই দেশে আনেক বড় প্রতিষ্ঠানও যার মাধ্যমে দেশ এগিয়ে গেছে এক ধাপ উপরে।
ইসলামী অর্থনীতি ইসলামী ব্যাংকিং ও ইসলামী সংস্কৃতি’র নির্মাতাও তিনি যার সুনির্যাস গ্রহণ করে বর্তমান বাংলাদেশ সত্যি আলোকিত।তিনি কখনই নিজকে বড় মনে করতেন না আর তাই তাঁর অধীনে যারা কাজ করতেন তারা নির্ভয়ে কাজ করতো।ক্ষমতার দাপট কি তা তিনি একজন সচিব হয়েও কাওকে বুঝিয়ে দেন নি।বন্ধুবৎসল এই সুজ্ঞানী সর্বদাই মানুষের কথা ভাবতেন এবং আল্লাহর দেয়া জীবন বিধান নিয়ে ভাবতেন ও জনগণকেও তা নিয়ে ভাবতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতেন তিনি।নারীদেরকে জ্ঞানী করে গড়ে তুলতে এবং তাদের নেতৃত্বের কথাও তিনি ভাবতেন।নারীরা লেখা পড়ায় এগিয়ে যেতে তিনি খুবই উৎসাহী উৎস্যুক ছিলেন সর্বদাই।শাহ্ আব্দুল হান্নান আমৃত্যু লিখে গেছেন মানুষের কল্যাণের জন্য।
তিনিই সম্ভত একমাত্র সচিব যিনি অহংকারবোধকে কখনই প্রশ্রয় দিতেন না।মানুষে মানুষে ভালোবাসা ও হৃদ্যতা না থাকলে মানূষের মাঝে যে তফাৎ সৃষ্টি হয়,তা শাহ্ আব্দুল হান্নান শতভাগ বুঝতেন এবং তাঁর সুব্যবহারে তা প্রকাশ পেত শতধারে।শাহ্ আব্দুল হান্নান কয়েক ভাষা খুব ভালো ভাবেই জানতেন যা পৃথিবীর বহু মানুষই জানতো না।তিনি তাঁর লেখনিতে তা তুলে ধরতেন যা প্রতিটা পাঠক আত্বস্থ করতে সক্ষম হতো।অল্প কথায় অনেক বেশি বুঝাতেন আর অল্প লেখায়ও অনেক বেশি বুঝাতে সক্ষম হতেন তিনি।তিনি মানুষকে ভালোবেসেই মানুষের হৃদ জমিনে সদাই ফুটা ফুল হয়ে বেঁচে আছেন–বেঁচে থাকবেন সুকীর্তির দ্বারা ।ধার্মীকতাকে তিনি বিশাল কিছু মনে করতেন।ধর্মজ্ঞানহীন মানুষ কখনই যে সুমানুষ হয় না ইমানদার মোমিন হয় না তা কিন্তু শাহ্ আব্দুল হান্নান তাঁর অনুপম তুলির আঁচড়ে ও কথার মাধ্য দিয়েই বুঝিয়ে গেছেন আমাদেরকে।
আমরা তাঁর না ফেরার দেশে থাকা জীবনকে আল্লাহ যেন জান্নাতুল ফেরদৌস দানে সমৃদ্ধ করেন সেই কামনা করি রাব্বুল আলামিনের কাছে।