শাহ আবদুল হান্নান এদেশে রাজনৈতিক ইসলামের যে আন্দোলন তার একজন বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠক ছিলেন। তিনি মূলত একজন ক্বরিতকর্মা কর্মবীর ছিলেন। শিক্ষা, জ্ঞান, ব্যাংকিং, চিকিৎসা ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি সমাজসেবামূলক বিভিন্ন উদ্যোগের একজন প্রধান সংগঠক ছিলেন। এছাড়া তিনি নিজেও ইসলামের জ্ঞানচর্চায় নিবেদিত ছিলেন। তার কিছু প্রকাশনাও আছে।

উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা হিশেবে যে প্রভাব তিনি অর্জন করেছিলেন তা তিনি তার রাজনৈতিক বিশ্বাসের প্রচার ও প্রসারে কাজে লাগাতে সচেষ্ট ছিলেন। ইসলামকেন্দ্রিক শিক্ষা ও জ্ঞানের একটি বাতাবরণ ও আন্দোলন তৈরি করার জন্য তিনি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। অসংখ্য তরুণ এসব প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষণায় উপকৃত হয়েছে।

প্রতিকূলতা ও বৈরী পরিবেশ তার কাজের অগ্রগতিকে ব্যাহত করতে পারলেও একেবারে স্তিমিত করতে পারেনি। এক্ষেত্রে আমরা তার সমবয়সী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সঙ্গে তার তুলনা করতে পারি। তাহলে আমরা দেখব যে ইন্দো ও ইউরো কেন্দ্রিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আন্দোলনের বার্তাবাহক হিশেবে সায়ীদ যতটা অনুকূল পরিবেশ ও বাতাবরণ পেয়ে যাচ্ছেন ইসলাম কেন্দ্রিক শিক্ষা ও জ্ঞান আন্দোলনের প্রবক্তা ও দিকনির্দেশক হিশেবে শাহ আবদুল হান্নান তা পান নি। এখানেই রয়েছে এই দুই আন্দোলনের ভিন্নতা ও স্বাতন্ত্র্য।

সবশেষে বলব শাহ আবদুল হান্নান স্রোতের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। এ লড়াই সহজ নয়। কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ। সময়ই বলে দেবে এ লড়াই কতদূর পৌঁছাতে পারবে।
আমরা তার জন্য দুয়া করি আল্লাহ যেন তাঁকে উত্তম বিনিময় দেন।