অনন্য

প্রকৃতির তান্ডব সবাই দেখে
হৃদ তান্ডব কে বোঝে!!
বৃষ্টির জলধারায় পুলকিত হয়, প্রেমিক মন
হদয়ের জলধারায় সিক্ত আঁখিযুগল।
হৃদ বলাকা ওড়ে চলে হৃদ আকাশে
অজানার পথে, সাজে সাত রঙে
হৃদ রাজ্যে তার স্বপ্নীল আবাস।

বিষন্নতা!!দোলা দিয়ে যায়, চৈতালী হাওয়ায়
শুকনো পাতার মড়মড় শব্দে
ভাবুক মগ্ন নিজ ভাবনায়
ওই বুঝি হলো শেষ, অপেক্ষার রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার।

রক্তিম রক্তে রাঙা কৃষ্ণচূড়া
কতোটা রক্ত ঝরে তার বুকে -রয়ে যায় অজানা
অপার সৌন্দর্য দানে-সুখ খুঁজে পায়, জীবনের স্বার্থকতা।
বুকের ভেতর অঝরে ঝরে পড়ে নিরব কান্না
বাস্তবতায় উপচে পড়ে হাসির ফোয়ারা-মিছে খেলায়
অনন্য! আমার অপার শক্তি ভালবাসার
যার বাস কল্পনায় আমার স্বপ্নাস্থায়!!
…………………………………………..

সোনা বউ

সারাদিন কেটে যায় ব্যস্ততার মাঝে
রাতের এই নিস্তব্ধতায়, ফিরে আস
এ-কি শূন্যতা বলো তো? আর কত অপেক্ষা?
অপেক্ষায় আজ যে বড্ড ক্লান্ত হয়ে পরেছি
বিদ্রোহ বেজে ওঠে হৃদয় গহীনে
আর কত? আর কত? আর কত অপেক্ষা!!!
কোন এক ক্ষণে দেখেছিলাম তোমাকে
কোন এক অনুষ্ঠানে,
হঠাৎ কাছে এলে, গুরু গম্ভীর ভরাট কন্ঠে বললে
কেমন আছ বনলতা সেন?

আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে তোমার প্রতি
হেসেছিলে তুমি, তোমার ঐ হাসি যেন
আমাকে ছুঁয়ে দিল, স্মৃতির এক পশলা বৃষ্টি
মনে পড়ে গেল, মনে পড়ে গেল!
বিশ্ববিদ্যালয়ের হারিয়ে যাওয়া সেই বনলতা সেন কে।

কিছু বলতে পারিনি, শূন্য দৃষ্টিতে কেবল চেয়েছি তোমার পানে
ঠোঁট দু’টো কেঁপেছিল মাত্র,
যেন কিছু বলতে চায়
পারিনি সেদিন ও বলতে,
আজ ও আছি তোমারি অপেক্ষায়।

অপেক্ষার সকল অবসানে, কাছে এসে চুপি চুপি
বললে, চলবে পথ এক সাথে?
আজ ও রয়েছি তোমার অপেক্ষায়!!
সেদিনের সেই ক্ষণে, চার চোখের মিলনে
ডুবে রইলাম, তোমার ভালবাসার স্পর্শে।

বিদায় ক্ষণে, কেবল বলেছিলে মাত্র তো আর ক’টা দিন
আবার আসব ফিরে তোমার হয়ে, চিরতরে
রইবে বুকে “সোনা বউ” হয়ে
তোমার আর ফেরা হলো না, আমার তরে
একলা করে আমায়, চলে গেলে বহুদূরে, না-ফেরার দেশে।

তবু ও থাকি অপেক্ষায়, শুধু তোমার লাগি
ভালবাসার সুখ ভরিয়ে দিবে, আমার হৃদয় খানি
শূন্য আমি পূর্ণ হবো তোমার ছোঁয়া পেলে
সিক্ত আঁখি হাসবে আবার, তোমায় কাছে পেলে
আমার পৃথিবী পূর্ণ রবে, হাসির ফোয়ারায়
স্বপ্নেই কেবল আস তুমি, স্বপ্নের দুনিয়ায়।

চোখ মেলে তাকাই যখন আমার চারপাশ
সবই ছিল স্বপ্ন আমার, স্বপ্নীল আবাস।
জানি তুমি আসবে না, ফিরবে না আর
হারিয়ে গেছ তুমি, দূর অজানায়, না ফেরার মোহনায়
তবু ও কেটে যায় বেলা, মিছে অপেক্ষায়
এ-কি শূন্যতা বলো তো? আর কত অপেক্ষা?
…………………………………………..

বাংলার ফাগুন

ফাগুন মনে আগুন ঝরায়
শিউলী পলাশ হাসে
দোয়েল কোয়েল ময়না নাচে
বাবুই বাসা গাছে ঝোলে।

প্রেম দোলে প্রিয়’র মনে
শিহরন জাগে প্রেয়সীর
লাল, কমলা, নীল হলুদ রঙে
সাজে বুক ধরনীর।

ফাগুন এলে জাগে মনে
মাতৃভাষায় শ্রদ্ধার উন্মেষ
সারা বছর কাঁদে বাংলা
অবহেলার নেই যে শেষ।

নিজ প্রয়োজনে স্বার্থের খেলায়
মেতে ওঠে বিবেকহীন মূল্যবোধ
ধিক্কার জানাই তোদের নরাধম
লোক দেখানো শ্রদ্ধা বোধ।

বাংলা আমার মায়ের ভাষা
শান্তির পেলব ছোঁয়া
মাটির সোঁদা গন্ধ যেন
হদয় হরন করা।

মাটির বুকে সোনা ফলে
আউস, আমন, ইরি, বোরো
দেশের উন্নতি করার লক্ষ্যে
কৃষির উন্নতি করো।
…………………………………………..

জীবন সৈনিক

হীমশীতের বায় ঘন কুয়াশায়
জীবনের তরে নেই অবসর,
জীবনের প্রয়োজনে চলছে জীবন
প্রতি ক্ষণে ক্ষণে ঘড়ির কাঁটায়।

শীতের প্রকোপে কেটে যায় রাত
এপাস ওপাস মিছে ওমের আসায়,
রাত্রি আঁধার শেষে মুয়াযযিনের স্বরে
ফজরের ধ্বনি ভেসে বেড়ায়।

আলস্য করে আর হয়না থাকা
ঘুম সুখে, নিদ্রাদেবীর বিছানায়
কাঁধে কুড়াল হাতে ঝুড়ি লয়ে,
জীবন যুদ্ধে বাঁচার তাগিদে
দল বেঁধে নেমে পড়ে পথে আঁধার কুয়াশায়।

জীবন যুদ্ধে বারবার হেরে যাওয়া জীবন সৈনিক
পরাজয়ে মানেনা পরাজয়,
জয়ের আশায় তবুও পথ চলে
জীবন স্বপ্নে বিভোর নতুন আশায়।

অভাব অভিযোগের দুঃখ ভারে
কেটে যায় বেলা কখনোবা মলিনতায়
শেষ বিকেলের সূর্য হাসে নতুন ভোরের অপেক্ষায়।
…………………………………………..

অপেক্ষার প্রহর

এলোমেলো ভেজা চুলে
অপেক্ষায় বসে সে
ফিরবে প্রিয়জন ঘরে
বসবে এক সাথে আহারে।

বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো
প্রিয়’র দেখা নেই
একবেলা আজ উপোস হলো
তবু যেন বিরক্তি নেই।

কল্পনায় চলে প্রেম বিনিময়
কল্পনার সংসার
ভেসে চলে স্বপ্নের ভেলা
কল্পনায় অভিসার।

ষোড়শী এক তরুণী বেশে
যায় হারিয়ে কল্প দেশে
অনন্য যেন ফিরে আসে
বন্ধ চোখে ভাবনা বিলাসে

ভালোবাসার কাঠগড়ায়
যুক্তি তর্ক শূন্যের গোড়ায়
নয় হেয়ালি, রয়েছে অনুভবে
যেখানেই থাকুক, কাছে-দূরে।

লাভ ক্ষতির হিসেব না কোষে
যাও ভালোবেসে শুদ্ধ মনে
পরাজয়ের বাঁধ মানে না সে জন
যার অনুভবে বাস করে এক প্রিয়জন।
…………………………………………..

মানবতাই সমতা

চির চেনা সকাল এলো ফিরে
প্রকৃতির নিয়ম মেনে
নারী আজও কাঁদে বিশ্বে
অধিকার আদায়ে বিশ্ব দরবারে।

আধুনিক এই বিশ্বে আধুনিক শিক্ষা
অনুভবের আধুনিকায়নে নেই কোন দীক্ষা
চিন্তা চেতনায় বন্দী সেকেলের কারাগারে
কবিতার শব্দে করো চিৎকার নারী অধিকারের।

আমি উড়তে চাই নীলাকাশ নীলাচলে
আমি রেখে যেতে চাই আমার পদচিহ্ন
সমুদ্র তটে
বাতাসের কানে গাইবো মুক্তির গান
কবুলের অধিকারে রাখছো বন্দী করে।

বুকের চাপা কষ্ট যখন গর্জে ওঠে
তোমরা বলো তাকে প্রতিবাদ
ভালোবাসে বুকে কান পেতে
শোনো একবার! ভালোবাসার নিরব শব্দ!
যখনি এসেছো নারীর বুকে, স্বামীত্বের অধিকারে!

ওহে পুরুষ, পৌরষত্ব নয় কেবল
স্বামীত্বের অধিকারে নারীকে কাছে নেবার
ভালোবাসার দুয়ার করে দাও উন্মুক্ত
সুখের বলয়ে সাজুক প্রতিটি ঘর

কন্যা জায়া জননী নানান রূপে নারী আসে অবনীর পরে
তবু কেন নারী নির্যাতিতা প্রতি পদে পদে
পুরুষ ও নারী জন্ম যদি হয় মানুষ রূপে
তবে কেন ভেদাভেদ সমাজপতিদের নিয়মে
হও আগুয়ান মানবতার শিক্ষায়
নারী ও পুরুষ চলুক এক সমতায়।

মানব ধর্ম প্রকৃত ধর্ম গুনীজনে কয়
মানবতাই ভালোবাসা, সম্মান, বিশ্বাসের রূপ হয়
…………………………………………..

বিজয়িনী

নিপাট ভাঁজে সন্ধ্যা নামে বিষন্নতা ঘিরে
সুখের সাথে হয়নি মিতালি কোনো কালে
মরীচিকার মতো দেয় সে দেখা
মিছে মায়া, মিছে কায়া
মিছে মিছেই ভাবনার সাগরে, ভাসাই সুখের ভেলা
চাতকের ন্যায় তাকিয়ে থাকি, আকাশ পানে
সুখের বৃষ্টি ছোঁব বলে!!
আকাশ ও মনে হয় মুখ লুকিয়ে
মিটি মিটি হাসে অবজ্ঞার ছলে!!
পানসি ঘাটে যেয়ে দেখি
শূন্য ঘাটে আমার তরী
ঢেউয়ের তালে নেচে নেচে
মাঝ দরিয়ায় ভাসে।
কি করে হবো নদী পারাপার!
ফিরবো আপন নীড়ে।
সহসা এলো ঝড়, রাত্রির আলাপনে
নিজ নিজ আলয় শান্তির বাস
কে ভাবে কাহারে!!
অভাগিনী! একাই যুদ্ধ করে বাঁচার তরে।
শুরু হয় নতুন প্রভাত, পাখির কলতানে
তরী আবার এসেছে ফিরে, পানশী ঘাটে।।
…………………………………………..

কল্প খেলা

ভাবছি হারাবো দূর গগনে নীল সমুদ্রে গাঙচিলের বেশে
নীলে নিমজ্জিত নীল ধোঁয়াশায় নীল স্বপনে নীল কাব্য বেশে
হারাবো দূরের ঐ বন বিথিকায় সবুজের মেলায় লাল সূর্য রূপে
বিন্দু বিন্দু স্বপ্ন গুলো সাজিয়ে স্বপ্ন বাক্সে
হারিয়ে যাবো দূরো কোথাও স্বপ্ন পূরণ রাজ্যে
আছে নাকি এমন রাজ্য! জানো কেহো ভাই?
যেথায় শুধু হয় স্বপ্ন পূরণ খুন-ধর্ষণ নাই।
নারী পুরুষ যে দেশেতে নাই কো ভেদাভেদ
পুরুষ করে নারী কে সম্মান বিশেষ।
হারাবো একদিন, ইট পাথরের দালান ছেড়ে দূরের কোন গাঁয়
হৈমন্তী রূপে রইবো জড়িয়ে কৃষাণীর মুগ্ধতায়
দূর্বাঘাসে উঠবো হেসে শিশির ভেজা প্রাতে
কুমার নদীর বালুর তীরে রাঙা চরণ খেলে।

ঝিঙে দোলে, ফিঙে নাচে, ময়না গান গায়
তাই না দেখে খুকুমণি আনন্দে লাফায়।
ছোট্ট একটি কুঁড়ে ঘরে থাকবে বড়ো উঠোন,
জোছনা স্নান করবো সেথায়, থাকবে প্রিয়জন।
জীবন যেন নদীর কুলু কুলু ধ্বনি ছন্দে বহমান
ভালোবাসা যায় হারিয়ে নিরব অভিমানে।
…………………………………………..

তোমার প্রেমে

চমকে চয়ন্তিকা চমকিত ক্ষণে
পলকে পুলকিত পলকে বিমর্ষিত
সুখ যেথায় যায় হারিয়ে দুঃখের প্রবেশ দ্বারে
কান্না যেন খেলা করে হাসির অন্তরালে

নীলপরী নীলেশ্বরী নীল নদের তীরে
জলকেলিতে মন হারায় জল তরঙ্গে
মরুপথে মরুঝরে পথিক হারায় পথ
জীবন পথে আসে জয় ঘাত প্রতিঘাতে।

দুচোখে স্বপ্ন সাজে পৃথিবী রঙীন
অনুভবে সুখ সুখ দুখ মলিন
অল্পে তুষ্টি মনে সুখ বৃষ্টি
অশ্রু যেন মুচকি হাসে হতে দূরদৃষ্টি।

সবুজে শ্যামলিয়া পুকুরে পদ্ম
সুখ দুখ জীবনের নিত্য ছন্দ
উত্তরের হাওয়া জাগায় শীতেরও কাঁপন

ভালোবাসার মরন, যেথায় কঠোর শাসন
তবু কি মরে ভালোবাসা, যাতনায় যাপন!
…………………………………………..

বটগাছ
(উৎসর্গ খান আখতার হোসেন দাদুকে
যে আমাদের গাঙচিলের বটগাছ)

মৃত্যুর পর কেন জলোচ্ছ্বাস
জীবনে কেন নির্বিকার
করে যারা অবহেলা জীবদ্দশায়
মৃত্যুর পর তারাই করে হায় হায়।

রৌদ্রের তাপদাহে শীতলতা প্রাণে
বটগাছ আশ্রয় মিষ্টি ছায়া দানে
অবহেলায় ডাল ভেঙে
অবিরত আঘাতে করছি জর্জরিত।

কাটা পড়লো বটগাছ কোন এক কারণে
রৌদ্রর তাপদাহে দেহ পোড়ে অনলে
ক্লান্ত পথিক একটু শান্তির খোঁজে
খুঁজে ফিরে বটগাছ, রাস্তার পাড়ে
দেহখানি জুড়ায় যদি শীতলতার ছাঁয়ে।

বিবেক দংশনে হৃদয় কাননে বার বার
ফের যদি পাই ফিরে তোমায় আবার
করিব লালন ভালবাসার যতনে
কবিবো না আঘাত আর দেহ খানে।

জীবন থেকে যা হারিয়ে যায় একবার
আসেনা ফিরে কাঁদলেও শতবার।