চাই যে রঙিন পেখম মেলে

আম্মু বলে পড়তে আমায়
আব্বু বলে লিখতে
আপু বলে ভালো করে
প্রশ্নগুলো শিখতে।

দাদু বলে পাস করা চাই
ও ভাই দেলোয়ার !
ভাইয়া বলে ভূ-কাঁপাতে
হ’রে খেলোয়াড়।

কিন্তু আমার মন নাহি চায়
এসব কোন কিছুই
চাই যে রঙিন পেখম মেলে
মেঘ, নীলাম্বরী ছুঁই ।।
…………………………………………..

টেণ্ডাই মেণ্ডাই

টেণ্ডাই মেণ্ডাই
চুপিচুপি মানুষের
খায় রোজ জ্ঞানডাই

চালাক সে খুবই
তার হাতে গুণ সকল
হয় ভরাডুবি

বাঁধায় যে ঝগড়া
সম্পর্কগুলোর
গায় ফেলে দগড়া ।।
…………………………………………..

জয়ের সুগন্ধ

শোনো বলি আজ এক পতাকার গল্প
তার দাম খুবই বেশী নয় কভু অল্প
লেগেছিল কিনতে তা এক সাগর রক্ত
সাড়ে সাত কোটি আহ্! অকৃত্রিম ভক্ত
একে একে জড় হয় পাকসেনা ক্যাম্পে
চোখ ঠেকে গিয়ে শুনি আঁধারের ল্যাম্পে
লুন্ঠিতে আসে সব পঁচিশে মার্চ রাত্রে
নির্যাতন করে ওরা! বাঙালীর গাত্রে
বেঁধেছিল সেদিনই যে কালজয়ী যুদ্ধ
স্বাধীনতা রেখেছে ওরা অবরুদ্ধ
চারিদিক ভরেছিল কতশত লাশে
নরপশু রাজাকারও হাসছিলো পাশে
সেই হাসি দামালেরা করে দিল বন্ধ
লাখো প্রাণে ভেসে এলো জয়ের সুগন্ধ।।
…………………………………………..

সেই নেতাকেই অবশেষে

পনেরো-ই আগস্ট এলে
চোখে ঝরে অশ্রু
বলেছে এক মুক্তিযোদ্ধা
নাম হল তার খসরু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
দেশ করেছে স্বাধীন
বলতো শুধু চাই না কিছুই
একটা বাংলা মা দিন

যে মা’র বুকে মাথা রেখে
হেসে পারি মরতে
সেই মায়ের-ই জন্য পারি
অস্ত্র হাতে লড়তে

এমন কথার আবেগ জোরে
করলো শুরু লড়াই
নয়’টি মাসে পাকিস্তানের
ধ্বংস করে বড়াই

সেই নেতাকেই অবশেষে
খুন করে সব ঘাতক!
তাই’তো ওরা শাস্তি পাবে
যা করেছে পাতক ।।
…………………………………………..

ইড়িমিড়ি কিড়িমিড়ি

ঘরে গিয়ে দেখে একি!
খোলা কেন আলমারি ?
বেরুলো ঐ ফুরুত করে
ইয়া বড় ফাল মারি।

চেয়ে দেখে ভেজাবিড়াল
মাথা খেলো কাতলের
জেদি মেয়ে ঢিল ছুঁড়িলো
ভাঙিলো ডাঁট হাতলের।

দূরে গিয়ে লেজ ঘুরিয়ে
বিল্লি নাচে তিড়িবিড়ি
রাগে শানুর দাঁতেদাঁতে
ইড়িমিড়ি কিড়িমিড়ি !!
…………………………………………..

ধন্য মহা ধন্য

ঊনিশ’শ বায়ান্ন সালের ফেব্রুআরি মাসে
ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা আজও চোখে ভাসে
আন্দোলনে ছিলো হাজার কর্মী, ছাত্র-ছাত্রী
সাথে আরো যোগ দিয়েছে শ্রমিক, পথিক, যাত্রী
ঢালাও ভাবে কর্মসূচী দখল সড়ক চত্বর
রাষ্ট্রভাষা উর্দু ? দাবী উঠাও অতিসত্বর!
বাংলা হবে রাষ্ট্রভাষা মর্যাদা তার উর্ধ্বে
কোটি বাঙাল ঐক্য হয়ে আজকে সবে সুর দে
প্রয়োজনে ঐ পাকিস্তান ভাসাবো’রে রক্তে
“রাষ্ট্রভাষা বাংলা করো” চাই যে প্রতি অক্তে
মিছিল হলো শহীদ হলো সালাম, বরকত, রফিক
রিক্সাচালক আউয়াল, জব্বার এক কিশোর ও শফিক
জাতির ছেলে খাঁটি ওরা নয় যাযাবর বন্য
দেশের ইতিহাসে ওরা বরেণ্য ও গণ্য
তাই এসো ঐ ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ ভোরে
দু’হাত তুলে শ্রদ্ধা ভরে চোখ ভিজিয়ে লোরে
প্রভুর কাছে দোয়া করি সব শহীদের জন্য
আমরা তাদের ভাই হয়ে আজ ধন্য মহা ধন্য।।
…………………………………………..

বাঁচতে টানে একটি রেখায়

বাংলাভাষার মর্যাদাটা অল্প না!
ফেব্রুয়ারি এলে পরে
শহীদদেরকে মনে পড়ে
সত্য কথা! মিথ্যে কোন গল্প না।

বাংলা সাজায় মনের ভেতর কল্পনা
মুখে মায়ের মধুর বুলি
বক্ষে নেওয়া হেসে গুলি
“রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” সেই জল্পনা।

বাংলা আমায় গান, কবিতা, গদ্য লেখায়
চলতে যে পথ শক্তি যোগায়
হৃদয় ভরা ভক্তি যোগায়
প্রাণ দিয়ে এক ভাষার তরে লড়তে শেখায়।

বাংলা বুকে আশা চোখে স্বপ্ন দেখায়
উঁচু-নিচুর বিভেদ টুটে
ক্ষিপ্তবেগে! নিত্য ছুটে
সবাইকে রোজ বাঁচতে টানে একটি রেখায়।।
…………………………………………..

দেখ্ ইতিহাস বিশ্ববাসী

সবার প্রিয় সেরা তিনি
বাংলাদেশের জনক
লাল-সবুজের প্রতীক তিনি
বাঙালিদের কনক

একাত্তরের যোদ্ধা তিনি
৭ই মার্চের ঘোষক
স্বাধীনতার গোড়া তিনি
জাতির পৃষ্ঠপোষক

অধিকার আদায়ে তিনি
দুশমনের-ই শমন
বাঙাল নিয়ে করলো তিনি
পাকবাহিনী দমন

বঙ্গবন্ধু হলেন তিনি
একটি নব দেশের
দেখ্ ইতিহাস বিশ্ববাসী
কে বিড়াল আর কে শের!!
…………………………………………..

দামাল ছেলে সংগ্রামী

আমি হলাম বাংলা মায়ের
দামাল ছেলে সংগ্রামী!
তাই’তো আমার ভালো থাকা
সবুজ-শ্যামল রং গ্রাম-ই

এই গাঁয়ের-ই মাটির কণা
রক্ত, মাংস, শিরাতে
তার সুবাসে সুস্থ থাকি
দেহের সকল পীড়াতে

তাহার তরে সব সঁপেছি
নিশি, দুপুর, সকালে
হৃদয় হতে তার মায়াটা
তাই ঝরে না অকালে।।
…………………………………………..

নিজের ভাষায় মন দে

বায়ান্নর ঐ আন্দোলনটা
আজও আমায় টানে
“রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” রোজ
বাজে আমার কানে

বাংলা আমার মায়ের ভাষা
বাবা, বোন ও ভাইয়ের
শিল্পী, কবি, শ্রমিক, কৃষাণ
তাঁতি, জেলে, নাইয়ের

এই ভাষাতে মরেও সুখ
বেঁচেও সুখ বন্দে
সকল ভাষা পরে, আগে
নিজের ভাষায় মন দে।।