ফ্যান খাস

যথাতথা রোজ রোজ উড়াধুড়া ক্যান খাস?
মোটা যদি হতে চাস বেশি করে ফ্যান খাস।
ফ্যানে আছে শক্তি ও দরকারী পুষ্টি;
বেহুদাই কোক-টোক, পেপ্সিতে তুষ্টি!
শর্করা ভরপুর গলে যাওয়া চাল;
হজমেতে একটুও নাই গোলমাল।
ফ্যান হলো গরীবের ফুড অতি সাচ্চা;
নিয়মিত খেলে হবি ব্যাঘ্রের বাচ্চা।
ভাত খেতে চাল যদি নাই থাকে ঘরে;
ধার করে ফ্যান খেয়ে দিয়ে দিস পরে।
জগ ভরে নুন দিয়ে ফ্যান খেয়ে রাতদিন;
সবাইকে বলে দিস- হাবিযাবি বাদ দিন।
অজ্ঞতা দূর করে আজ মনে আলো আন;
হয়ে যাবি বাংলার বিগফাইট পালোয়ান।
……………………………………………

ঢাকাইয়া মছার গিরিঙ্গি

কাউল্কা রাইতে হাতের কাছে
কাগজ কলম আইনা;
ভাবতাছিলাম জবর ছড়া
লেকমু পোলাপাইনা।
এমন ছময় গুন্গুনাইয়া
মছায় দিলো চিল্লানি;
ভাবছি তহন গোবাজ মছায়
খাইবো আবার গিল্লা নি?
গুন্গুনানি হুইনা আমার
ভাবগুলি ছব পালায়;
কয়ডা মছা কামড়ায়া কয়-
করতাছ কী হালায়?
কামড় খাওয়া জায়গাগুলি
মলম দিয়া ডলতাছি;
মনে হইল গোখরা ছাপের
ঠোকর খাইয়া জ্বলতাছি।
হোমরা-চোমড়া মছা আয়া
ধরলো ঠ্যাঙে প্যাচায়া;
‘মাগো’ কইয়া কাইন্দা দিয়া
উঠলাম আমি চ্যাচায়া।

রাগের মাথায় মছাগোরে
যহন গ্যালাম থাবড়াইতে;
ক্যাডার মছা আইলো তহন
অধমরে বি দাবড়াইতে।
জান বাঁচানো ফরজ ভাইবা
ছুরু করলাম কিলাইতে;
এমন ছময় ডাক দিলো বি
রাইতের খানা খিলাইতে।
খানা খাল্লাছ অইবার পরে
শুইবার ছপ্ন আইক্কা;
কাইন্দা কাইন্দা দেগবার লাগছি
মছার কয়েল নাইক্কা।
অক্খন আমি করমুডা কী
ব্যাক্কেল অইয়া ভাবতাছি;
ভিজা বিলাইর লাহান তহন
ঠক্ঠকাইয়া কাঁপতাছি।
আত্কা মাথায় আক্কল আইলো
যাম্গা হালায় ফুটপাতে;
বাড়িত্ থাকন যাইবো না বি
গিরিঙ্গিবাজের উৎপাতে।
বাইরে হালায় আয়া দেহি
এইহানে নাই মাপ;
লৌড়ায়া বি রাইত কাটামু
অর মায়রে বাপ।
……………………………………………

ক্রেতা

দিনে আনি দিনে খাই,
কম করে কিনে খাই,
স্বচ্ছল হালও নাই,
মনটাও ভালো নাই।

এক কেজি চাল দেন,
আধা-পোয়া ডাল দেন,
এক শিশি তেল দেন,
মিনিপ্যাক জেল দেন।

এক তোলা জিরা দেন,
দুইশত চিড়া দেন,
আড়াই’শ আদা দেন,
মিনি-সোপ সাদা দেন।

আধা কেজি নুন দেন,
এতোটুকু চুন দেন,
এক হালি পান দেন,
সব কিছু বান্ধেন।

এতো বেশি দাম ক্যান?
দাম শুনে ঘাম ক্যান?
মাথাটায় জল দেন,
ডাক্তারে কল দেন।
……………………………………………

পীরের বাচ্চা
এলেম ছাড়া পীর- মিডাই ছাড়া ক্ষির

অনেক আগে পূর্বপুরুষ
সাচ কলবের পীর ছিলো;
সুদ্ধি লাভের সেই তরিকায়
মুরীদগণের ভীড় ছিলো।
সেই পুঁজি ও সুরত নিয়ে
নিজেই জবর অলি আজ;
লক্ষ-কোটি তুলছে টাকা
ভরছে নিজের থলি আজ।
কেউ যদি চাও মুরীদ হতে
তার দরোজার খিল খোলা;
মুরীদগণের পাত্তি নিতে
তার মোবারক দিল খোলা।
তার পায়ে সব সেজদা ঠুকে
করছে ঈমান খুন আজ;
ভন্ডা শালায় এই জামানার
নব্য ফেরাউনবাজ।
নিজ কেরামত নাইবা থাকুক
পায় সেলামী কুল শানে;
বাপের বাড়ি চট্টগ্রামে
নিজের দালান গুলশানে।
……………………………………………

পানীয় কালচার

গ্যাস মিশানো নানান স্বাদের রঙের পানি;
বাংলাদেশে চলছে ভূয়া ঢঙের পানি।
কেউবা বলে কোমল স্বাদের কোলা পানি;
আসল কথা রঙ মেশানো ঘোলা পানি।
আবার নাকি লেবুর রসে লেমন পানি;
লেমন ছাড়া এইটা আবার কেমন পানি?
প্যাকেট ভরে দেখছি কতো ফলের পানি;
এরচে’ ভালো গাঁও-গ্যারামের কলের পানি।
বিজ্ঞাপনে যতোই বলুক জুতের পানি;
আমি বলি ভূত-পেত্নির মুতের পানি।
সাইন্সে বলে কিডনি-লিভার রোগের পানি;
মূর্খ ভাবে হাই ফ্যাশনের ভোগের পানি।
এনার্জিতে ভরা নাকি শক্তি পানি,
তাই তরুণের কাছে ভীষণ ভক্তি পানি।

খাওয়ার মতো একটা আছে ভাবের পানি;
এইটা হলো বাংলাদেশের ডাবের পানি।