শুভ্রতার কথা আসলেই আমাদের চিন্তায় ভেসে উঠে কাশফুলের শুভ্রতা। শাদা মেঘের উড়া উড়ি। যেনো সে বয়ে নিয়ে যায় জান্নাতী শুভ্রতা। যেখানে কেবলী পবিত্র এক অনুভূতি। পরিস্কার নীল আকাশে শুভ্র মেঘের ফুল ফুটে। জমিনেও সবুজ প্রকৃতির মাঝে কাশফুলের শুভ্রতা। এই জন্যই সৃজনশীল মানুষ এই ঋতুকে রাণী বলে। বাংলার আকাশে যখন এই বৃষ্টি এই মেঘ। এটা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি। তিনি বলেছে ‘আমি যদি বেঁচে থাকি তবে এরকম এক প্রকৃতিতে বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু আমার অনেক কাজ। সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিব্বত জয় করেই আমি আবার বাংলায় ফিরে আসবো। আর আল্লাহ যদি হায়াত দেন তবে বাংলাতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে চাই।’

শহৎকাল এমন এক ঋতু যার ভেতর বাহির সবই শুভ্র। তার আকাশ থাকে পরিস্কার, নীল নয়না আকাশে টুকরো টুকরো শাদা মেঘের ভেলা। মেঘকাটা প্রকৃতিতে থাকে সবুজ পাতার সজীবতা। কমতে থাকা বিলে ঝিলে শাদা শাদা শাপলা ফুল। যেনো স্বচ্ছ কাচের উপর বসে আছে সুন্দরী শাপলাফুল।

এমন দৃশ্য দেখে সৃজনশীল মানুষের হৃদয়ে দোল খায় শুভ্র চিন্তা। সে চিন্তায় মগ্ন হয় সৃজনে। লিখে কবিতা, গল্প, গীতিকবিতা আরো কতো কী! যেনো এই প্রকৃতি তাকে দিয়ে লিখেয়ে নেই শুভ্রপ্রেমের বয়ান। ‘মোলাকাত’ ডটকম শুভ্র শরৎ নামে শরৎ সংখ্যার আয়োজন করে। লেখক বন্ধুরা তাদের সৃজনক্রিয়া আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সেই সকল সৃজিত লেখা নিয়ে আমরা প্রকাশ করলাম শুভ্র শরৎ ১৪২৭ ১ম পর্ব। এ সংখ্যায় আছে কুড়ি জন লেখকের লেখা। আমরা আশা করি লেখক-পাঠক সকলেরই ভালো লাগবে এই সংখ্যাটি। সকলকে শরতের শুভ্র শুভেচ্ছা। আবার মোলাকাত হবে শুভ্র শরৎ ১৪২৭ এর ২য় পর্বে সেই পর্যন্ত ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
আফসার নিজাম, সম্পাদক-মোলাকাত ডটকম

সূচীপত্র

আজ শরতের আলোয় এই যে চেয়ে দেখি :: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
এখানে আকাশ নীল :: জীবনানন্দ দাশ
কাশফুলের কাব্য :: নির্মলেন্দু গুণ
শরতের কুহকে :: শিহাব সরকার
সরোদ :: মেঘ অদিতি
দূরবর্তী গ্রহলোকে নামহীন পাখি :: তমসুর হোসেন
হে ভাদ্র হে আশ্বিন :: মামুন মুস্তাফা
শারদ সংগীত :: ইলিয়াস বাবর
হাত ছানি দেয় :: ইদ্রিস মণ্ডল
শরৎ রাণীর রুপটা আহা! :: শিকদার বাসীর
আমার শরৎ :: বিশ্বজিৎ কর
শরৎ এলো :: শাহীন খান
শরৎ ভালোবেসে :: মাহমুদ সালিম
আনন্দ :: বিমল মণ্ডল
শরতের মেঘমালা :: রবি রায়হান
শরতের কথা :: শেখ একেএম জাকারিয়া
শরৎ কাঁড়ে মন :: সৈয়দ ময়নুল কবরী
কাশফুল :: সোহানুর রহমান সোহাগ
শুভ্র শরৎ :: কবিতা সুলতানা
শারদীয় :: সুয়েজ করিম

আজ শরতের আলোয় এই যে চেয়ে দেখি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজ শরতের আলোয় এই যে চেয়ে দেখি
মনে হয় এ যেন আমার প্রথম দেখা।
আমি দেখলেম নবীনকে,
প্রতিদিনের ক্লান্ত চোখ
যার দর্শন হারিয়েছে।
কল্পনা করছি,
অনাগত যুগ থেকে
তীর্থযাত্রী আমি
ভেসে এসেছি মন্ত্রবলে।
উজান স্বপ্নের স্রোতে
পৌঁছলেম এই মুহূর্তেই
বর্তমান শতাব্দীর ঘাটে।
কেবলি তাকিয়ে আছি উৎসুক চোখে।
আপনাকে দেখছি আপনার বাইরে,
অন্যযুগের অজানা আমি
অভ্যস্ত পরিচয়ের পরপারে।
তাই তাকে নিয়ে এত গভীর কৌতূহল।
যার দিকে তাকাই
চক্ষু তাকে আঁকড়িয়ে থাকে
পুষ্পলগ্ন ভ্রমরের মতো।
আমার নগ্নচিত্ত আজ মগ্ন হয়েছে
সমস্তের মাঝে।
জনশ্রুতির মলিন হাতের দাগ লেগে
যার রূপ হয়েছে অবলুপ্ত,
যা পরেছে তুচ্ছতার মলিন চীর
তার সে জীর্ণ উত্তরীয় আজ গেল খ’সে।
দেখা দিল সে অস্তিত্বের পূর্ণ মূল্যে।
দেখা দিল সে অনির্বচনীয়তায়।
যে বোবা আজ পর্যন্ত ভাষা পায়নি
জগতের সেই অতি প্রকাণ্ড উপেক্ষিত
আমার সামনে খুলেছে তার অচল মৌন,
ভোর-হয়ে-ওঠা বিপুল রাত্রির প্রান্তে
প্রথম চঞ্চল বাণী জাগল যেন।
আমার এতকালের কাছের জগতে
আমি ভ্রমণ করতে বেরিয়েছি দূরের পথিক।
তার আধুনিকের ছিন্নতার ফাঁকে ফাঁকে
দেখা দিয়েছে চিরকালের রহস্য।
সহমরণের বধূ
বুঝি এমনি ক’রেই দেখতে পায়
মৃত্যুর ছিন্নপর্দার ভিতর দিয়ে
নূতন চোখে
চিরজীবনের অম্লান স্বরূপ।
…………………………………………..

এখানে আকাশ নীল
জীবনানন্দ দাশ

এখানে আকাশ নীল- নীলাভ আকাশ জুড়ে সজিনার ফুল
ফুটে থাকে হিম শাদা- রং তার আশ্বিনের আলোর মতন;
আকন্দফুলের কালো ভীমরুল এইখানে করে গুঞ্জরণ
রৌদ্রের দুপুর ভ’রে- বারবার রোদ তার সুচিক্বণ চুল
কাঁঠাল জামের বুকে নিঙড়ায়ে- দহে বিলে চঞ্চল আঙুল
বুলায়ে বুলায়ে ফেরে এইখানে জাম লিচু কাঁঠালের বন,
ধনপতি, শ্রীমন্তের, বেহুলার, লহনার ছুঁয়েছে চরণ;
মেঠো পথে মিশে আছে কাক আর কোকিলের শরীরের ধূল,

কবেকার কোকিলের জানো কি তা? যখন মুকুন্দরাম, হায়,
লিখিতেছিলেন ব’সে দু’পহরে সাধের সে চন্ডিকামঙ্গল,
কোকিলের ডাক শুনে লেখা তাঁর বাধা পায়- থেমে থেমে যায়-
অথবা বেহুলা একা যখন চলেছে ভেঙে গাঙুড়ের জল
সন্ধ্যার অন্ধকারে, ধানক্ষেতে, আমবনে, অস্পষ্ট শাখায়
কোকিলের ডাক শুনে চোখে তার ফুটেছিল কুয়াশা কেবল।
…………………………………………..

কাশফুলের কাব্য
নির্মলেন্দু গুণ

ভেবেছিলাম প্রথম যেদিন ফুটবে তোমায় দেখব,
তোমার পুষ্প বনের গাঁথা মনের মত লেখব।

তখন কালো কাজল মেঘ তো ব্যস্ত ছিল ছুটতে,
ভেবেছিলাম আরো ক’দিন যাবে তোমার ফুটতে।

সবে তো এই বর্ষা গেল শরত এলো মাত্র,
এরই মধ্যে শুভ্র কাশে ভরলো তোমার গাত্র।

ক্ষেতের আলে নদীর কূলে পুকুরের ওই পাড়টায়,
হঠাৎ দেখি কাশ ফুটেছে বাঁশ বনের ওই ধারটায়।

আকাশ থাকে মুখ নামিয়ে মাটির দিকে নুয়ে,
দেখি ভোরের বাতাসে কাশ দুলছে মাটি ছুঁয়ে।

কিন্তু কখন ফুটেছে তা কেউ পারে না বলতে,
সবাই শুধু থমকে দাঁড়ায় গাঁয়ের পথে চলতে।

উচ্চ দোলা পাখির মত কাশ বনে এক কন্যে,
তুলছে কাশের ময়ূর চূড়া কালো খোঁপার জন্যে।

শরত রানী যেন কাশের বোরখা খানি খুলে,
কাশ বনের ওই আড়াল থেকে নাচছে দুলে দুলে।

প্রথম কবে ফুটেছে কাশ সেই শুধুরা জানে,
তাইতো সেটা সবার আগে খোঁপায় বেঁধে আনে।

ইচ্ছে করে ডেকে বলি, “ওগো কাশের মেয়ে―
আজকে আমার চোখ জুড়ালো তোমার দেখা পেয়ে
তোমার হাতে বন্দী আমার ভালোবাসার কাশ
তাইতো আমি এই শরতে তোমার কৃতদাস”

ভালোবাসা কাব্য শুনে কাশ ঝরেছে যেই
দেখি আমার শরত রানী কাশবনে আর নেই।
…………………………………………..

শরতের কুহকে
শিহাব সরকার

অরণ্যানি ছড়িয়ে যায় চাঁদের ধূলি
পরীরা পাহাড়ে নেমে পাশা খেলে মধ্যরাতে
আজ কোনো জাদুটোনা, ডাইনিরা নেই,
বাতাসে মাদল শিঙাবাঁশি আনন্দঘণ্টা

অজানা বনবিহারের এই তো সময়।
বনের ভিতরে বিজন যোগী-সন্ন্যাসীরা
শরতের জলসায় জমেছে জ্যোৎস্নাসম্ভোগ
রাত্রিভর মহুয়ার বন্যায় যৌবন মত্ত

যোগীরা যোগীর আসনে, ধ্যান ভাঙিবে না?
শরতের কুহকে আমার ফাঁস লেগেছে
শহর থেকে এসে ঝর্ণাজলে মুছেছি ঝুলকালি
ও মা, দুইদিকে টানিছে আনন্দপরমা!
…………………………………………..

সরোদ
মেঘ অদিতি

হয়তো এখন এক শালিক-দু শালিক সকাল। হয়তো আকাশটুকু তুলোর পুতুল। মনখারাপের দু’এক পশলায় আড়াল করছো তুমি কাচঘর। এই পরিবর্তনশীল আলো এই ঘুঙুর পাখির গান- এখন কে দেখে এসব?
বরং যতদূর দৃষ্টি বিনিময়
সাদা পাতায় থোকা থোকা অক্ষর ফুটুক
যতদূর দৃষ্টি বিনিময়
ফিকে নীলে ঘন হোক বনকাশ, তোমার আকাশ
অতল স্তব্ধতা ছেড়ে নীল চিরকুট, স্থিত হও তুমিও আবার। সরোদে শরৎ বাজুক।
…………………………………………..

দূরবর্তী গ্রহলোকে নামহীন পাখি
তমসুর হোসেন

জন্মেছি দুজনে ভাদ্রের নির্জন প্রশান্ত বিকেলে
কৈশরের দিনগুলো ছিল বড়োই স্বপ্নময়
যৌবনে দুটি অন্তরে জেগেছিল সহসা অভিন্ন ক্রন্দন
তারপর দেখা নেই, ব্রহ্মপুত্রের অপূর্ণাঙ্গ নালার মতো একদিন মরে গেল প্রেম
শুধু স্মৃতিটুকু থেকে গেল অনির্বাণ জন্ম জন্মান্তরে।

কী হত পৃথিবীতে না এলে, দূরবর্তী কোন গ্রহলোকে
জলশূন্য মেঘে কিংবা অন্য কোন রৌদ্রস্নাত নিবিড় আকাশে
নামহীন পাখি হয়ে গাঢ় সবুজ অরণ্য প্রান্তরে মুক্ত বাতাসে
উড়ে যাওয়া যেত।
এই দূর্বহ স্মৃতির চেয়ে অল্প আয়ুতে জন্ম হলে কী হত ক্ষতি?
কখনও ফুলেল বসন্তের চাঁদজাগা উৎফুল্ল রাতে
দূর হতে উড়ে এসে হৃদয়ের কাছে মেঘেরা বলে যেত কথা।

শরতের কোন এক শেফালিকা ঝরা শুভ্র সকালে
দুজনে একসাথে দুঃখময় পৃথিবীটা ছেড়ে যাই যেন।
…………………………………………..

হে ভাদ্র হে আশ্বিন
মামুন মুস্তাফা

শরতের আকাশ হাসানো কাশ কাশ শুভ্রতা নিয়ে কে
মেলে দিয়েছিলো জ্যোৎস্নাহত মেঘের শাড়ি?
অথচ শারদ সকালে চোখ খুলে দেখি তোমার
নিশিঘন কালো চুলে শরতের শিশির বিন্দু বিন্দু
জলে পরাহত পুরুষের তৃষ্ণা মেটায়।

        হে ভাদ্র হে আশ্বিন

শরতের শাদা মেঘ বাষ্পীভূত হয়ে যায় এই
ভাটি বাংলায়— গাঁদাফুলবনে রমণী ও রমণে
কেবলি ধূলি ও মেঘের মৃত্যু উদ্যাপিত হলো!
মানবীর কাঁচুলি খোলার রাত ঘন হলো না কিছুতেই।

এই ভাদ্রে শরতের আকাশ দেখি না কোনো
কেবল ভাদুরে দিবস…মাটির গহীন ক্রন্দন…
তবুও শরতের বিদায় পথে লক্ষ করি ঝরে
পড়া শিউলি ফুলে দয়িতার সজল মুখ।
…………………………………………..

শারদ সংগীত
ইলিয়াস বাবর

শরৎ তুমি দূর করে দাও মানবীয় কালো
গোপন ব্যথা আর যত সব ভন্ডামি-জমকালো।
শুভ্রতারই প্রলেপ এঁকে সাদায় মজি ঢের
মানুষেরা মানব হবে সংগীত হোক ফের।

শরত তুমি সামনে এসো বন্ধুতা হোক আজ
প্রেম সাগরের নাগর হয়ে আঁকছি কারুকাজ।
শরত শেখায় ক্ষমার কিমা কাশের বৃন্দদাবন
প্রেমিক সাজি, মানুষ ভজি শরত-আয়োজন!
…………………………………………..

হাত ছানি দেয়
ইদ্রিস মণ্ডল

শরৎ কালে
গাছর ডালে
সবুজ পাতা
টাঙ্গায় ছাতা

কাশের বনে
ক্ষণে ক্ষণে
বাতাস উড়ে
ফুলটা নড়ে

হাত ছানি দেয় নীল সাদা মেঘ
শিউলি ফুটে হাসে
মন ভরানো রূপ নিয়ে সে
উড়ে দেশে আসে

সাজে সোনার দেশ
রূপ করে সে পেশ।
…………………………………………..

শরৎ রাণীর রুপটা আহা!
শিকদার বাসীর

বর্ষা যখন নেয়’রে বিদায় শরৎ আসে হেসে
শান্ত-মায়াময় প্রকৃতি বিরাজ করে দেশে
ফুল কুড়োতে দৌড়ে আসে শানু, পরী, মিতা
শিউলী ফুলের মালাগাঁথার হয় প্রতিযোগিতা
সাদা মেঘের টুকরো ভাসে নীল আকাশে ডেলি
গন্ধে সদা আকুল করে হাসনাহেনা, বেলী
নদীর ধারে কাশফুলেরা খাচ্ছে হাওয়ায় দোলা
ক’দিন পরেই আমন ধানে ভরবে চাষী গোলা
পাকা তালের মিষ্টি রসে বানায় পিঠা বধূ
শরৎ রাণীর রুপটা আহা! দেখতে কী’যে মধু ।।
…………………………………………..

আমার শরৎ
বিশ্বজিৎ কর

শিশির ভেজা ঘাসে
শিউলি কুড়োনোর বেলা,
নীল সাদা মেঘের কোলে
শরৎরাণীর ভেলা!
কাশবনের শুভ্রতায়
অপু-দূর্গার দৌড়,
পথই জীবনের পাঁচালী
রক্তিম সূর্যের ভোর!
শাপলা তোলে রুকসানা
তালপুকুর পদ্মে ভরা,
শুভ্র শরৎ আজ-
কালো মেঘে ভরা!
…………………………………………..

শরৎ এলো
শাহীন খান

শরৎ এলো আমার দেশে ফুটছে নানান ফুল
ভ্রমর হৃদয় মাতোয়ারা করে সে যে ভুল।
রাতের বেলা জোনাক জ্বলে লাগে ভারী ভালো
চন্দ্র হাসে রাতাকাশে দিনে রবির আলো।
সাদা সাদা মেঘের সারি যায় হারিয়ে দূরে
বেলেহাঁস ও বক পাখিরা ঝিলের দিকে ওড়ে।
ডাহুক ডাকে থেকে থেকে দোলে ঘুঘুর ছানা
প্রজাপতি খুব সহসা মেলে রঙ্গিন ডানা।
নদীপাড়ে কাশের শোভা খিলখিলিয়ে হাসে
ঝিরিঝিরি ঠান্ডা হাওয়ায় ফুল সুরভি ভাসে।
…………………………………………..

শরৎ ভালোবেসে
মাহমুদ সালিম

নদীর ধারে কাশফুল এবং
গাছে পাখির দল
টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে
টুপটুপটুপ জল।

পাখিগুলো গান ধরেছে
রাখাল বাঁশির সুরে
শরৎ রানী রূপের ঝলক
হৃদয় রাজ্যপুরে।

সবুজ ঘাসে শেফালিরা
পড়ছে হেসে হেসে
ফুল পাখিরা গান ধরেছে
শরৎ ভালোবেসে।
…………………………………………..

আনন্দ
বিমল মণ্ডল

সমস্ত আনন্দ
বিকেলের ভাষা ছুঁয়ে যায়
অভ্যাসের সুখ
স্নান সারি আবারও স্নান
প্রতিটি মুহূর্ত তোমার নকল খেলা
রাস্তায় রাস্তায় সমস্ত আনন্দ
বিরল আগমনী গান

তোমার রঙের ঘরে
পাহাড় -পর্বত আশ্বাসের ছায়া
চিরকালীন এই সান্ধ্যকাল
দাখিল করে রেখেছো শব উৎসব
পলকে পলকে ইশারা
বয়ে যাওয়া প্রতিশ্রুতি

সমস্ত চেতনা তোমার কাছে
আলো- আঁধারি খেলা

যেখানে শাদা শরীর ঘিরে
সফেন আনন্দে মুখর।
…………………………………………..

শরতের মেঘমালা
রবি রায়হান

শরতের মেঘমালা উড়ে উড়ে চলে ধেয়ে
বর্ষার স্মৃতি ভুলে উঠে শরতের গান গেয়ে,
সাদা মেঘ জড়ো হয় উড়ে আকাশের গায়ে
এই বুঝি নামবে ঝরঝর বৃষ্টি ধরায় বেয়ে।

শরতের শুভ্রতায় মোড়ানো প্রকৃতির রূপ
কাশবনে সাদা ফুল অনুভূতি জাগে অপরূপ,
শেফালির সুগন্ধ ছড়ায় মৌ মৌ বাতাসে
সাদা মেঘের ভেলা ভাসে নীল ঐ আকাশে।

কুয়াশার শুভ্র শিশির কণা পড়ে দূর্বাঘাসে
সকালের সোনা রোদে ঝলমল করে হাসে,
কুল কুল ধনী তুলে নদী বয় মৃদু বাতাসে
ধানক্ষেতে সোনালী রঙ ধরে ভাদ্রে এসে।

কৃষকের ঘরে উঠে বাংলার সোনালী আঁশ
সকালে পুকুরে জলকেলিতে মাতে পাতি হাঁস,
শিউলির শুভ্র ফুলে প্রিয়ার প্রেমের পরশ
শরতের শুভ্রতায় মনে জাগে সুখের হরষ।

শরতের সকালে কুয়াশার শীতল অনুভূতি
দৃষ্টি মেলে আবছা আঁধারে জাগে সুখস্মৃতি,
মনে উঁকি দেয় প্রিয় মুখ অতি কোমলমতি
শান্তির পরশে পুলকিত মন অনুরণনে মাতি।

এমন শুভ্র সুন্দর বাংলার অপরূপ রূপে মজে
বুকের ভিতর মোর বাউলের একতারা বাজে,
কাজে মোর মন বসেনা ঘর ছাড়ি বাউল সাঁজে,
হরি শুভ্র শরতের রূপ দুচোখ মেলে বঙ্গ মাঝে।।
…………………………………………..

শরতের কথা
শেখ একেএম জাকারিয়া

শরৎ আসে বাংলাদেশে নতুন বেশে
ফুলপরীরা সেই খুশিতে যায় যে হেসে,
শিশিরকণা লেপ্টে থাকে সবুজ ঘাসে
রবির কিরণ নেচে ওঠে শুভ্র কাশে।

স্নিগ্ধ আকাশ হাতছানি দেয় এই শরতে
রক্তিম আভা সবাই মাখে মন পরতে,
চড়ুই দোয়েল শালিক শ্যামা গাছের ডালে
মনের সুখে যায় নেচে যায় ছন্দতালে।

রাখাল বালক চলছে হেঁটে গাঁয়ের মাঠে
গান গেয়ে যায় মধুর সুরে মনের হাটে,
শাপলা শালুক পদ্ম ফোটে দিঘির জলে
সুবাস ছড়ায় শিউলি বেলি বৃক্ষতলে।

হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি পড়ে একটু করে
এসব দেখে সকল প্রাণীর মনটা ভরে,
দখিন হাওয়া যায় বয়ে যায় হেসে খেলে
মিষ্টি ঘ্রাণে মনে ভরে যায় শরৎ এলে।
…………………………………………..

শরৎ কাঁড়ে মন
সৈয়দ ময়নুল কবরী

বর্ষা শেষে শরৎ এসে, আকাশ ঢাকে নীলে
পদ্ম ফোটে নদীর জলে, কাশফুল হাসে ঝিলে।
তালের রসের গন্ধ শুকে,ভোলায় ব্যথা দুঃখ
কূলও বধূর মনের সুখে হাসিতে ফোটায় মূখ।
নদীর তীরে বাগান জোরে, ফসলের চলে দুম
মাঝির ডিঙি নদীর ধারে, বাঁধিয়ে পারে ঘুম।
শরৎ হাসে মনোল্লাসে, শরৎ কাঁড়ে এই মন
শরৎ চোখে ছবি আঁকা শরতের আয়োজন।
…………………………………………..

কাশফুল
সোহানুর রহমান সোহাগ

সবুজ ঐ মাঠের একপাশে
দাড়িঁয়ে থাকা সাদা কাশফুল।
মাঠের ঐ পাশেই আকাশ
কাশফুলের সাথে মিশে হয়ে গেছে নীল।

সারাক্ষণ শরৎ কালের উষ্ণ হাওয়া
দুলছে কাশফুল কি দারুণ!
সন্ধ্যার পর আলতো আভায়
সাদা কাশফুল দেখতে নিদারুণ!

মধ্যরাত্রিতে সেই উড়ে আসা
ফুলের অসম্ভব সুন্দর সুভাস।
সাদা কাশ ফুল আমায় দিচ্ছে
শরতের আভাস।

আমি হারিয়ে যায় সাদা কাশফুলের সাথে
মিলিয়ে যাওয়া সাদা মেঘের ভেলায়।
সাদা কাশফুল নিয়ে খেলায় মেতে থাকি
সকাল বিকেল সন্ধ্যা বেলায়।

আমি ছুটে যায় আমি কাশফুলের কাছে
ঐ দিগন্তের চূড়ায়,
ইচ্ছে আমার কাশফুলের সাথে
মিশে যাওয়া আকাশ ছোয়ার।
…………………………………………..

শুভ্র শরৎ
কবিতা সুলতানা

হে শুভ্র শরৎ তোমার নব শশী,
অভিনব রুপে তাই, বাজাই মনোবাশি।
আকাশের নীলে,পাতালের ঝীলে
আনন্দঘনতায় আছে যেন মিশি।
কী রূপ তোমার ওগো প্রকৃতি প্রকাশে,
আমি যে লিখি কবিতা তোমার পরশে।
ছন্দ ছন্দে মোর পাখি গায় গান,
তৃণলতা শুনায় বারতা, ক্ষুদ্র তব প্রাণ।
কাশফুলে দুলে দুলে মেলে দেয় ডানা,
পেয়েছি পেয়েছি আজ সুখের পাখনা।
…………………………………………..

শারদীয়
সুয়েজ করিম

শারদপ্রাতে শিউলি ফুলে ছাওয়া,
ভোরের গায়ে বইছে হিমেল হাওয়া।
জলহারা ওই শুভ্র মেঘের ভেলা
নীল আকাশে স্বচ্ছ রূপের খেলা।

ফুল কুমারী পা ডুবায়ে জলে
দিঘল দীঘির শাপলা-শালুক তোলে।
ঋতুর মলাট খুলে ঋতুর রাণী
ফুলের গন্ধে ছড়ায় মুগ্ধ বাণী।

সবুজ ঘাসে স্নিগ্ধ শিশির ধোয়া
উচ্ছাসে তাই লাগল প্রাণে ছোঁয়া।
কাশফুলেতে ফুটছে চাঁদের জ্যোতি
সুজন মাঝি গাইছে পল্লিগীতি।

পানকৌড়িটা খলসে মাছের লোভে
ওত পেতে রয় কেমনে তাঁরে খাবে।
দিনের আলো নিভে গেলে রাতে
জ্যোৎস্না জ্বলে কাচের মতো তাতে।