অনুভবে

কীরূপ শব্দে তোমায় লেখি
কোন্ রূপেতে তোমায় দেখি
ভাবছি বসে আনমনে
কেমনে তোমায় এই মনে নিই
কেমনে তোমায় বর্ণনা দিই
তোমায় ছাড়া এই ক্ষণে?

শব্দঘরে শব্দ তো নেই
হারিয়েছি কথারই খেই
সখি তোমার রূপ দেখে
বৃষ্টি দেখি বৃষ্টি মাখি
কী অপরূপ তোমার আঁখি
মনের ভেতর যাই এঁকে!

বৃষ্টি জলে তোমায় দেখি
যা লিখেছি নয়তো মেকি
হলফ করে বলছি যে
কে বানালো এমন করে
হাসলে ঠোঁটে মুক্তা ঝরে
সঙ্গে নিয়ে চলছি যে।

তোমায় নিয়ে যতই লেখি
যতোবারই তোমায় দেখি
সুখে আমার মন হাসে
কী আছে ওই মুখে প্রিয়
পদ্য পড়ে জবাব দিও
মনে কীসের ঘ্রাণভাসে?

কী অপরূপ মায়ায় ভরা
মুখটি তোমার যত্নে গড়া
মন ক্যানভাসে আঁকি যে
মুগ্ধ হয়ে তাকাই আমি
স্বপ্নবুনে দিবসযামী
চোখের কোণে রাখি যে।

বলছি না তা যেমনতেমন
হাওর ঝিনুক দেখতে যেমন
তেমনি তোমার কানদুটি
সখি আমার এমনখানা
ছুঁইতে তোমায় হয় যে ফানা
প্রেমের দেশে যায় ছুটি।

শোনেই তোমার মিষ্টি হাসি
এই অন্তরে প্রেমের বাঁশি
করো না তারে চূর্ণ যে
মহৎ তোমার হৃদয়খানা
গ্রহণ করো পত্রখানা
ভালোবাসায় পূর্ণ যে।

তোমার ছবি সদাই আঁকি
মনের ভেতর তোমায় রাখি
মিষ্টি তোমার ঠোঁট দুটি
যতই লিখি তোমায় নিয়ে
শেষ হবে না বলছি প্রিয়ে
ছড়ায় নিলাম আজ ছুটি!
……………………………………………

কৃষ্ণকলি

কৃষ্ণকলি তোমায় বলি
তোমার রূপের বিবৃতি
তুমিই হলে রূপের রানি
দিলাম তোমায় স্বীকৃতি,
কী অপরূপ মায়ায় ভরা
মিঠা তোমার মুখখানি
দেখলে আমার মনছুঁয়ে যায়
নেচে ওঠে বুকখানি।

ভাবি যখন তোমার কথা
অন্তরেতে পাই যে সুখ
মুচকি হাসি পরান কাড়ে
জুড়িয়ে যায় আমার বুক,
কী মায়ময় চোখের পলক
দুর্গাদেবী হার মানে
কত আপন তোমার দুচোখ
শুধু আমার মন জানে।

কেমনে করি বন্দনা গো
পাই না খুঁজে ছন্দ তাল
চোখের কোণে হেঁটে বেড়ায়
তোমার দুটি ভরাট গাল,
তাকাও যখন মায়ার চোখে
হাসতে থাকে আমার প্রাণ
তোমায় ছোঁয়ায় সুহাসিনী
ভাসতে থাকে মিষ্টি ঘ্রাণ।

তোমার কেশে তাকাই যখন
ছুঁইতে সখি এ মন চায়
ছুঁইতে গেলেই মিষ্টি হাসো
সুখে আমার প্রাণ হারায়,
চিত্র দেখে পদ্য লিখি
টোলপড়া গাল খুব ভাবায়
ওষ্ঠ তোমার রক্তগোলাপ
কবির মনে প্রেম জাগায়।

নীল ব্লাউজ আর নীল দুলেতে
করলে বিভোর আমার মন
চোখ ফেরানো যায় না সখি
চেয়েই থাকি সারাক্ষণ,
সাদা তোমার হাতের চুড়ি
সাদা তোমার গলার হার
লাল শাড়িতে রঙিন তুমি
লাগছে প্রিয়া চমৎকার।

দীর্ঘদেহী কন্যা তুমি
সুরের পাখি খঞ্জনা
এমন শরীর কজনা পায়
বলতে পারো অঞ্জনা?
মনমাতানো তোমার ছবি
হাতে রাখা ছোট্ট ব্যাগ
লিখেই ছড়া ফেবুর বুকে
তোমায় সখি করব ট্যাগ!

এই ছবিতে অনেক যাদু
শেষ হবে না শিখলে ও
ভরবে না মন তোমায় নিয়ে
হাজার কথা লিখলেও,
ম্যাচিং করা বসন ভূষণ
দেখেই বিভোর কারুকাজ
সব মিলিয়ে শ্রেষ্ঠ তুমি
সুসংগত তোমার সাজ।
……………………………………………

বিজয় হলো

বিজয় হলো রংতুলিতে দেশের ছবি আঁকা,
বিজয় হলো সবুজ নিশান উড়ছে আঁকাবাঁকা।
বিজয় হলো মায়ের কোলে শিশুর মুখে হাসি,
বিজয় হলো সবুজ মাঠে রাখাল বাজায় বাঁশি।

বিজয় হলো যখন তখন মিষ্টি সুরে গাওয়া
বিজয় হলো মুক্ত হয়ে স্বাধীন প্রতীক পাওয়া।
বিজয় হলো সুখের জীবন অবাধ চলাফেরা,
বিজয় হলো দেশটা আমার স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা।
……………………………………………

পরিবর্তন

এইখানে এক গাঁ যে ছিল, ছিল শতেক ঘর
মানুষগুলো সরল ছিল, ছিল না কেউ পর।
গ্রামের পাশে নদী ছিল, ছিল কচম গাছ
সেই নদীতে বঁড়শি ফেলে, ধরত সবাই মাছ।
দখিন কোণায় বিল যে ছিল, পূর্ব কোণায় খাল
পশ্চিম কোণায় জেলে ছিল, সঙ্গে রাখত জাল।
এইখানে এক নিয়ম ছিল, বলত সবাই বেশ
নারী পুরুষ সবাই সমান, নাম যে ভাটির দেশ।
বর্ষা এলে জমত আসর, ভাসত সুখে প্রাণ
যাত্রাপালা-কিচ্ছা হতো, হতো ধামাইল গান।
কেউ না খেলে এবাড়িতে, ওবাড়িতে রাঁধত
কেউ ছিল না শত্রু কারও, সবার তরেই কাঁদত।

এইখানে এক বৃক্ষ ছিল, পড়ত অনেক ছায়া
সেই ছায়াতে শীতল হতো , সব মানুষের কায়া।
বৃক্ষতলে উঠত বেজে, বাঁশির মিষ্টি সুর
ধরত যে গান রাখাল বালক, আহা কী মধুর!
শুনত সকল গ্রামের মানুষ, উজাড় করে মন
শুনতে শুনতে হারিয়ে যেত, ভাবের বৃন্দাবন।
এই খানেতে শান্তি ছিল, ছিল সবিতা
এসব দেখে কবির মনে, জাগত কবিতা।
সকালকালে ঝগড়া হতো, বিকেল কালে শেষ
ননদ ভাবী ঠাট্টাছলে, বাঁধত মাথার কেশ।
মান ভাঙানোর মানুষ ছিল, ছিল মায়ার বাঁধ
সবাই সবার আপন ছিল, পূর্ণ ছিল সাধ।

এইখানে এক ঢেঁকি ছিল, ভানত ধান আর গম
চমৎকার এক শব্দ হতো, শুনতে মনোরম।
নতুন চালে তৈরি সন্দেশ, নানান রকম পিঠা
মজা করে সবাই খেত, লাগত অনেক মিঠা।
দারুণ ছিল সেদিনগুলি, দারুণ ছিল স্মৃতি
মনের ভেতর দরদ ছিল, ছিল অনেক প্রীতি।
এইখানে এক পুকুর ছিল, ছিল সবুজ বন
দৌড়ে যেত শিশু-কিশোর, উঠত ভরে মন।
সবুজবনে মায়া ছিল, ছিলে পাখির বোল
সকাল বিকাল শোনে এসব, ফুটত নানান ফুল ।
এমন সময় অনেক বাড়ি, পড়ত বিয়ের ধুম,
পালকি চড়ে নতুন বঁধু, হুন হুনা হুন হুন।

এইখানে তে মাঝি ছিল, ছিল পঙ্খি নায়
সেই নায়েতে বিছ্না ছিল, ছিল পাখার বায়।
চড়ত নায়ে গ্রামের মানুষ, দেখত হাওর নদী
গাইত সবাই মনখুলে গান, হাসত নিরবধি
মারত খাসি নায়ের মাঝে, খেলত চড়াই-ভাতি
হিংসা বিদ্বেষ ছিল না যে, জ্বলত প্রেমের বাতি।
এইখানে এক ডোবা ছিল, ছিল করচ গাছ
মেঘলা দিনে উঠত উজান, নানান রকম মাছ
ডোবার পাশে বাড়ি ছিল, ছিল শস্যমাঠ
শিশু-কিশোর খেলত খেলা, চুকিয়ে সব পাঠ।
মাঠের পাশে পুকুর ছিল, ছিল চারটি ঘাট
করত গোসল গাঁয়ের সবাই, যেন জলজ হাট।

আগের সময় নেই যে এখন, দুঃখ ভরা অঙ্গে
খুনাখুনি রাহাজানি, নিত্য যে হয় বঙ্গে।
কোথায় গেল পল্লিস্মৃতি, কেঁদে এ মন বলল্
ধীরে ধীরে গ্রামটা কেমন, শহর হয়ে উঠল।
সুদিন মোদের কই গেল রে, এলো যে দুর্দিন
মেশিন করে সকলকিছু, মানুষ যে প্রেমহীন।
……………………………………………

ভোর

ঘুমটা রেখে আযান মেখে হোক না শুরু দিনের
কী সে তোমায় রাখল ধাঁধায় অপেক্ষাটা কিসের?
কবে যে কার হবে বেকার জীবন – অবসান
দু চোখ খোলো ছড়াক আলো পবিত্র কোরআন!
……………………………………………

বিজয়

বিজয় হলো মায়ের কোলে
মুক্তমনা শিশুর হাসি,রঙিন পাখি
সাঁঝের বেলা গাছের শাখায়
হরেক পাখির মিষ্টি সুরে,ডাকাডাকি।

বিজয় হলো সাতপ্রভাতে
ফোটে ওঠা কদম-কেয়া,শিউলি-বকুল
নতুন সাজে গাঁয়ের পাশে
বর্ষাকালে হেসে ওঠা,নদীর দুকূল।

বিজয় হলো সব কৃষকের
বছর শেষে সবুজ মাঠে,সোনালি ধান
সকাল বিকাল ধানের ঘ্রাণে
হেসে ওঠে ছন্দতালে,সবারই প্রাণ।

বিজয় হলো রক্তে কেনা
সবুজ বনে বাঁশের মাথায়,লাল পতাকা
খোলা হাওয়ায় সেই পতাকা
নিজের মতো উড়ছে জবর,আঁকাবাঁকা।

বিজয় হলো বসন্ত মাস
শরৎকালের শুভ্র আকাশ,স্বাধীন স্বদেশ
গ্রীষ্ম-বর্ষা,শীত-হেমন্ত
বাংলাদেশের ছয়টি ঋতু, দারুণ আবেশ।