বর্ষা এলে

রিনিঝিনি ছন্দ তুলে
বর্ষা এলে ওই,
কদম ফুলের মিষ্টি মধুর
গন্ধে আকুল হই।

আষাঢ় এলে খালে- বিলে
উপচে পড়া জল,
ঝিলের জলে ট্যাংরা পুটি
করে কোলাহল।

টাপুরটুপুর মধুর সুরে
বৃষ্টি যখন পড়ে,
খোকাখুকি ভীষণ খুশি
রয় না যে আর ঘরে।

ক্ষণেক্ষণে বৃষ্টি ঝরে
আষার মাসে নিত্য,
স্নিগ্ধ শীতল মিষ্টিহাওয়া
জুড়ায় সবার চিত্ত।

দূরের বনে কেয়া, বেলি,
হরেক ফুলের মেলা,
কী যে দারুণ গন্ধ ছড়ায়
জুড়ে আষাঢ় বেলা।
…………………………………………..

মুক্তি

চারিদিকে কত্ত আলো!
আলোয় ভুবন ভরা,
হাত বাড়ালে কোথায় আলো?
অন্ধকার এ ধরা।

দিনের শেষে রাত্রি এলে
চাঁদমামা যেই হাসে,
আমরা অবুঝ স্বপ্নে ভাসি
থাকি তারই আশে।

ফুলের বাগে যে-ফুল ফোটে
সে তো রাজার জন্য,
আমরা শুধু খেটেই মরি
হয়ে তাদের পণ্য।

আমরা চাষি ফসল ফলাই
অন্ন বিনে মরি,
নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে
ওদের ভুবন গড়ি।

এমনি ভাবে যায় চলে দিন
রাত পোহাবে কবে?
আঁধার ভেঙে আমরা যদি
জাগতে পারি, তবে।
…………………………………………..

শিউলী ফুলের কন্যা

হঠাৎ রোদে করুণবোধে
শিউলী ফুলের কন্যা,
মায়ের শোকে ভাইয়ের শোকে
বইছে চোখে বন্যা।

দূরের গাঁয়ে গেছে মায়ে
যেথায় তারায় ভরা,
তাই তো খুকি ভীষণ দুখি
মন যেন তাই মরা।

ভাই যে ছিলো, নিখোঁজ হলো
মাকে খেলো কাকে,
একলা একা ফুলখুকিটা
কেমন করে থাকে?

মাথার ছাতা ছিলো পিতা
রাজার ঘরে বন্দি;
কালোর সাথে দিন কি রাতে
হয়নি বলে সন্ধি।

দিনের শেষে ফুলটি এসে
পড়লো ভীষণ জ্বরে,
মায়ের শোকে ভাইয়ের শোকে
ধুলায় নুয়ে পড়ে!
…………………………………………..

আমরা যদি জাগতে পারি

যাচ্ছে কোথায়সমাজটা আজ!
হচ্ছে কীসব রোজ!
রাতপোহালেই যায় না পাওয়া
ফুলপাখিদের খোঁজ।

মেঘেমেঘে নীলাম্বর ওই
হয়েগেছে কালো
নেই তো কোথাও মিষ্টিরোদের
একটুখানি আলো!

সবুজবনে ভূত-দানবে
খাচ্ছে গিলে সব
শ্রেষ্ঠজাতি মানুষগুলোর
নেই যে তবু রব।

দানব! দানব! বলেই যদি
আমরা থাকি ভয়ে,
দানবগুলো এই সমাজে
যাবেই তবে রয়ে।

আমরা যদি জাগতে পারি
বীরসেনাদের মতো,
রুখে দেবো এই সমাজের
দানব আছে যতো।
…………………………………………..

লাল সবুজের বাংলাদেশ

সকাল হলেই সূয্যিমামা
দেয় পরিয়ে আলোর জামা।
সবুজ ঘাসে ফড়িং ছানা
দেয় মেলে সে রঙিন ডানা।

ডালিম গাছে পাতার ফাঁকে
গুনগুনিয়ে কে রে ডাকে?
ছোট্ট পাখি টুনটুনি ওই
গাছের ডালে নাচে তা থৈ।

ভীষণ কালো বনের ভালুক
ঝিলে ফোটে শাপলা-শালুক।
শরৎ এলে নদীর কূলে
ভরে ওঠে শাদা ফুলে।

শীতের ভোরে দূর্বাঘাসে
মিটিমিটি শিশির হাসে।
মায়ের হাতে শীতের পিঠা
খেতে লাগে কী যে মিঠা!

দিনের শেষে রাত্রি এলে
চাঁদের আলো দেয় যে ঢেলে।
মিষ্টি কোমল তারার আলো
দেখতে লাগে ভীষণ ভালো!

সবুজ-শ্যামল শীতল ছায়া
বাড়ায় মনে কী যে মায়া!
রূপে গুণের নেই যে শেষ
লাল সবুজের বাংলাদেশ।
…………………………………………..

এসো বই পড়ি

এসো সবাই বই পড়ি
আলোকিত জীবন গড়ি!

জগত্টাকে জানতে হলে
পড়তে হবে বই,
বিশ্ব মাঝে আমরা যদি
ভালো মানুষ হই।

নিয়মিত পড়লে যে বই
ঘুচবে মনের কালো,
জীবন সবার বদলে যাবে
সমাজ হবে আলো।

এসো সবাই চলার পথে
সঙ্গী করি বই,
অন্ধকারে বন্ধঘরে
আর না-যেন রই

বই হোক তোমার আমার
ভালোবাসার ছবি,
বই পড়াটা হোক না সবার
সব চে প্রিয় হবি।