আগে কখনো ডিসেম্বরে হলিডেতে আসেনি ক্রিস পরিবার। হলিডের মাস বরাবরই অগাস্ট ছিল এত কাল। হঠাৎ সারা পরিবার সচকিত করে ক্রিস যখন চারখানা রিটার্ন টিকিট পতাকার মত উড়িয়ে সারা বাড়ি সচকিত করে তখনও মেরী জানে না এ হলিডের কারণ। ওপারের দেয়ালে গলা তুলে জুড জানায়- দ্যাটস বেটার। হ্যাভ এ স্মাশিং টাইম দেন।
হলিডের এই সব কোথা থেকে সংগ্রহ হলো এমন প্রশ্নের উত্তরে ক্রিস মৃদু ভাবে জানায় শুধু- সে তোমাকে ভাবতে হবে না। বাক্সপত্র গুছোয়। একটা ভিলাও ভাড়া হয়ে গেছে। এবারের ক্রিসমাস ওখানেই সারা হবে। সুর্য়ের আলোয় ক্রিসমাস। নতুন একটা ব্যাপার হবে।
টপ হ্যাটে পাঁচটি জায়গার নাম ছিল। মারবেলা, গ্রানাডা, ভালেনচিয়া, মেয়ের্কা ও মেনোর্কা। সেই লটারি থেকে যে নাম উঠলো তার নাম মারবেলা। দক্ষিণ পূর্ব সমুদ্র উকুলবর্তী ছোট শহর। সমুদ্র আছে, ভূমধ্যসাগরীয় জলপাই আবহাওয়া আছে। আফ্রিকা মহাদেশের সন্নিকটে। বনভূমি অরন্যানীর স্নিগ্ধতা ও নিবিড়তাও আছে। মারবেলা ও আফ্রিকার মাঝখানে এক চিলতে জিব্রালটার স্রোত। সবকিছু জানা হয়েছে ভুগোল বই থেকে। -মারবেলা নয় ডাডি ওরা বলে মারবেয়া। বলেছিল ওফি। -তাতে কি আমরা মারবেলাই বলবো। শুনতে ভাল।
পোস্ট অফিসের পাশ বই খুলে কিছু টাকা তুলেছে মেরী। দুটো নতুন ফ্রক নিজের জন্য, ক্যামেলি আর ওফির বেড়ালের মোটিফ আঁকা গোলাপি সাদা হলিডের পিনাফোর ড্রেস। পাশের বাড়ি থেকে জুড এসে আর একবার জীবনবাদীতার বলিষ্ঠ বানী শুনিয়ে গেল। -উই অনলি লিভ ওয়ান্স। মেক দ্য-। পূর্বজন্মে বিশ্বাস করলেও আমরা একবারই বাঁচি। কারণ জাতিস্মর আমরা কেউ নই।

সারারাত খুশীতে ঘুমালো না মেরী। ওদের ঘরে কখনো কথা, কখনো সঙ্গীত, কখনো তর্ক, জানা গেল ওরাও জেগে আছে। -চা খাবে? এমন এক আহ্বানে ক্রিসকে ঘুম থেকে ডেকে তুললো মেরী। স্ত্রীকে খুব কাছে টেনে প্রশ্ন করে ক্রিস -কি ঘুম পাচ্ছে না তোমার? মাথা নেড়ে মেরী জানায়- না। ডিসেম্বরের শীত শীত রাত বাইরে। জানালার ওপারে সব গুলো গাছপালা আজ কেমন নিস্তব্ধ। ঝুপ ঝুপ বরফ পড়তে শুরু করেছে সেই কখন থেকে। ভাবতে ভাল লাগছে মারবেলায় বরফ বৃষ্টি নেই। সারা আকাশ আতিপাতি করে সুর্য়কে খুঁজতে হবে না। সে নিজের প্রচন্ডতায় স্যান ট্যান লোশন ছাড়াই পুরো পরিবারকে ব্রোঞ্চ স্টাচুর মত আকর্ষণীয় করবে। -এখন মাইল্ড শীত। পাতলা কার্ডিগানেই হয়ে যায় এমন কথা বলেছিল ট্রাভেল এজেন্ট। জেসিকে জুড আর টিসা দেখাশোনা করবে এমন এক অভয়বানী পাওয়া গেছে। হাসতে হাসতে জুডকে বলেছিল যদিও- দেখ ওকে আবার ট্যাক্সিডার্মির সামগ্রী করবে না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে মেরীরা শংকিত। তবে টিসা আছে সেটাই খবর।
-প্লিজ জুড। ওকে তোমার আর্টের সামগ্রী করবে না। ক্রিসের কথায় হেসে বলেছে জুড
-না ওর চাইতেও ইন্টারেস্টিং ব্যাপার আপাতত হাতে।
-অর্থাত? মেরীর প্রশ্ন।
-অর্থাত? টিসা। কি যে সাম্পচুয়াস সেটা আগে ভাবিনি। মেরী একটু লাল হয় অর্থাত প্রশ্ন করাতে। বলে জুড- খুবই ইন্টারেস্টিং মেয়ে।
ছয় ফুট তিন ইঞ্চি জুডের পাশে মেরীকে নেহায়েতই ছোট দেখায়। বেচারি কেবল পাঁট ফুট নাথিং। সারা মুখে কিশোরীর লাবন্য। মেরীর এক কিশোরীমুখ, তার নাইভিটিও ইন্টারেস্টিং হতে পারে। জুড মনে মনে ভেবেছে। রমনী বিশেষজ্ঞ জুড আড় চোখে দেখেছে। তবে এর বেশি কিছু সে করবে না। বলে সে- জেসির জন্য ভাবনা করো না। ওকে ট্যাক্সি টার্মি করবো না কারণ মেসি জব আমার পছন্দ নয়। পাখি এত মেসি নয়। যাক না করবার একটা কারণ পাওয়া গেল।

বরফ রাস্তা ভেঙ্গে সেকেন্ড হ্যান্ড ওদের এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেয়। আজ তেইশে ডিসেম্বর। ক্যানারি দ্বীপে গেলেও পারতে। বলেছিল জুড। হঠাৎ ক্রিস গাড়ির এক কোনে কেমন ছটফটিয়ে বড় শান্ত এখন।
বলে জুড আবার- এরপর যেয়ো।
-এরপর? এরপর বলবার পর আর কি বলবে ভেবে পায় না ক্রিস। পরিবারের সদস্যদের দিকে তাকায় সে শান্ত চোখে। নতুন ফ্রকে, নতুন স্কার্ফে মেরীকে কি অপরূপ লাগছে। পাখির মত চঞ্চল আজ ও। প্রজাপতির মত বর্নীল ক্যামেলি ও ওফি।
প্লেনে দুই গ্লাশ স্যাম্পেন অর্ডার করে মেরী। ড্রিংক ফ্রি এমন খবরের পর। টিকিট কেনার পর থেকে বাড়িতেই হলিডে চলছিল। সেই আশ্চর্য মুখর আনন্দময় সময় এখন প্লেনের ভেতরে।
গতরাতে যেমন এক ঘন্টা ঘুমোয় নি আজও প্লেনের ভেতরে দু চোখের পাতা এক করলো না মেরী। বক বক কথা। বক বক গল্প। হঠাৎ অন্যমনস্ক ক্রিসকে সচকিত করে নানা প্রশ্ন। -এ্যাই তুমি ঝিমোচ্ছো? এ তোমার লেকপাড়ের প্রকৃতি নয়। ছাতলা পরা, ফার্নের ভেতরে তোমার বিশেষ আসন নয়, এ প্লেনের সিট। মনে রেখ। যেখানে কথা হারায় তোমার। এখানে কথা হারালে আমি কিছুতেই তা মানবো না। তুমি এখন কিছুতেই বাকরুদ্ধ থাকতে পার না।
খলবল ছল ছল মেরীর হাত ছুঁয়ে বলে- ঝিমোলাম কোথায় বল তো মেরী। এই তোমার সিটে আমার মাথা। কি কথা বলবো বল?
পেছনের সিট থেকে ক্যামেলি ও ওফি বলে- ভীষন কিউট লাগছে তোমাদের, মাদার ও ফাদার।
মেরী আর ক্রিস পিছু ফেরে। হলিডে খুশীর বর্নালী প্রজাপতিকে নিরীক্ষণ করে।
-বলে তোমরা কিউটেস্ট। তারপর চারজনের অবারিত হাসি। হেয়ার হোস্টেস হাসতে হাসতে পাশ দিয়ে চলে যায়।