যে ভিলাটি পেয়েছে ওরা সেটি সমুদ্র থেকে খুব বেশি দূরে নয়। বাড়িতে পা রেখে মারবেলার প্রেমে পড়ে গেল ওরা চারজন। যেমন করে বহিরাগত “মাই ফ্যামেলি এ্যান্ড আদার এ্যানিমাল” পড়তে পড়তে ব্রিটনদের প্রেমে পড়ে। না হলে চার্লস ডিকেন্স।
পাশাপাশি দুটো শোবার ঘর। চমৎকার ব্যালকনি। সামনের পুষ্পবিতানে রূপের তুলনা নেই। চেয়ার পাতা। ফুলের ভেতর পাতার ভেতর ফুল আর পাতার মত চেয়ার। ক্রিস তার একটাতে বসে বলে- নাও এবার তোমার ঘর সংসার গুছোয়।
-ভেতরে দেখে এসেছি সব গোছানো। ঝক ঝক করছে।
-তাহলে আনপ্যাক কর।
-তুমি কি করবে?
-আনওয়াইন্ড। আজ রাতে বাইরে কোথায় গিয়ে কাজ নেই। সাতদিন আটরাত কিচেন থেকে ছুটি তোমার। আজ বাইরে খেয়ে নেব।
এমন সব সংবাদের পর মেরী খুশীতে ক্রিসকে চুম্বনে আলিঙ্গনে পুরস্কৃত করবে না এমন তো হতে পারে না। স্ত্রীর বাহু বন্ধনে বেশ কিছু সময় নিস্পন্দ ক্রিস। ফিরিয়ে দেয় আরো গভীরতায়। বলে মৃদু হেসে- সি ইউ মেরী এ্যাট
-সি ইউ। মেরী বলে দুষ্টুমির হাসি হেসে।

মারবেলাতে টোয়লাইট আছে। যাকে বিশুদ্ধ বাংলায় বলে বিকাল। দিন ও রাতের মাঝখানে এক ফিতে সুকুমার সময়। জড়ির পাড়ের মত ঐশ্বর্যময়ী। তেমনি ঐশ্বর্যময়ী বিকালে ক্রিস পরিবার ভূমধ্যসাগরের জলপাই আবহাওয়ায় পথ কেটে এক মনোরম রেস্তোরা অনুসন্ধানে বেরোয়। সব কিছুই নতুন। সব কিছুই অভিনব। ট্যাভেল এজেন্ট বলেছিল পাতলা শীত থাকতে পারে। সেই কথা মনে রেখে জামার রংএর মত এক পাতলা কার্ডিগান পরেছে মেরী। ক্রিসের সার্ট। ওফেলি ও ক্যামেলির তরমুজি টুকটুক কার্ডিগানে নানা ছন্দে, নানা গল্পে পথ ভাঙ্গছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ। এই সময় এমন অবাক কবোষ্ণ দেশে সময় কাটাবে বলে কখন ভেবেছিল?
স্বপ্নের মতই সবকিছু। অন্ততঃ মেরীর তো তাই ধারণা। এ কিছুতেই সত্য হতে পারে না। সব স্বপ্ন।
ক্যামেলি ও ওফি নিজ অভিযানে ব্যস্ত। বেশ এক সরু মত পথ ধরে ওরা আগে আগে শুনেছে। গাইছে-ডাইন ইন দ্য জাংগল হোয়ার নো বডি গোস/ এ গ্রেট বিগ এলিফান্ট ওয়াশেস ইটস টোজ।
-আর যদি কখনো এমন হলিডে করতে না আসা হয় মন খারাপ করবে তুমি? মেরীর হাত ক্রিসের হাতে। প্রশ্নটা ক্রিসের।
মেরী বলে- না।
-তাহলে নানা সব স্মৃতি হ্রদয়ে পিনআপ করে রাখো।
-সে তোমাকে বলতে হবে না। হ্রদয়, মস্তিস্ক, মনে পিনআপ হয়ে থাকবে। আমাদের কেসিক আছে, আছে নর্দান লেক, সাউদার্ন লেক, স্কিডো পাহার, কত শত লেক। কনিসটন ওয়াটার, ডারয়েন্ট ওয়াটার, ওয়েসডেল হেড আরো কতকি? মেরী হয়তো এই সব নাম উচ্চারণ করে ক্রিসকে বলতে এখানে এসেছে বলে ভেব না ওদের ভুলে যাব।
আর আসা হবে না। মেরীর ইতিবাচক জীবনদর্শন এমন কথায় মন খারাপ করবে? মোটেই নয়। ব্রকলি বিনসের সঙ্গে থাকে যদি এক গোছা কারনেশন সারা দিন গুন গুন গানে কেটে যায় ওর সময়। সুখ নামের সুখ পাখিটি বড় সহজেই পাখার কাঁপন তোলে ওর মনে। সে পাখি ধরতে মারবেলা আসবার প্রয়োজন ছিল না। স্বার্থপর শব্দটার কাছেই বিক্রি হয়ে গেল ক্রিস। মেরীর পোড়া পোড়া বাদামী শরীর। বেড়ার ওপারে দুহাত বাড়িয়ে, চুলের গুচ্ছ নাচিয়ে এবারে মেরী করবে মারবেলার গল্প। ম্যান ক্রিস ওয়াইফ মেরীকে অন্ততঃ একবার সেই সুখের মধ্যে নিয়ে যেতে চেয়েছে।
তবু কি এক ভাবনা দু একবার ক্রিসকে কি এক বিষাদ ও বিপন্নতায় মেরীর কাছে থেকেও একটু দূরে রেখেছে। যে বিষাদ ও বিপন্নতাকে হাওয়ায় ভাসিয়ে দিতে চায় ক্রিস। মেরীর আনন্দকে সন্মান করে। মেরী ক্রিসের হাতে হাত রেখে প্রজাপতির মত চঞ্চল এখন। কত সুর, কত সব সঙ্গীত এখন তার কণ্ঠে। কি অপরূপ শব্দাবলী সাজিয়ে কথা বলছে মেরী। উপভোগ্য, আকর্ষণীয় ব্যাক্য গঠন। আর এই সব দেখতে দেখতে বার বার জেগে উঠবার মত সচেতন হতে চায় ও। এতদিনের ঘরনীর পানে মুগ্ধ দৃষ্টিতে চোখ তুলে তাকায়। এই মেরীকে কি আমি জানি?
-তুমি কি ভাবছো ক্রিস? তোমার হ্রদের দেশ তোমার অবর্তমানে পাখা মেলে অন্য কোথায় চলে যাবে না। তুমি কি সেই প্রিয় প্রকৃতি বিরহে আছো?
নিজেকে জাগিয়ে তুলে উৎসাহ ভরা কণ্ঠে জানায়- প্রকৃতি বিরহে আছি? কে বললো তোমাকে?
-দুজনে দুজনকে পাঠ করতে পারি মনে নেই? ক্রিস মেরীর হাতে চাপ দিয়ে বলে- আছে।