পম পম পম। সঙ্গীতের সঙ্গে পিংপং বলের মত ওঠা নামা সুরে যে নোটটি লিখেছিল আয়ারল্যান্ডের ভুড়ি মোটা “বিয়ার বেলি” হ্যারি সিকোম্ব সে উড়ে পড়েছিল ঘরের কোনে। ক্লিনারের ব্রুম তাকে ফেলে দিয়েছিল ডাস্টবিনে এবং সেখান থেকে কাউন্সিলের গাড়িতে। নোটটি ক্রিসের হাতে পড়েনি। বোধকরি সেই কারণেই কণা কণা সুকৃতির সোনার তরীতে এখন কিছু পচা খড়ের গন্ধ। হ্যারি সিকোম্বের নোটের ভাষা এমন- কোন ইমবেসিল বই এর পার্শ্বেলের ভেতর দুই হাজার পাউন্ড পাঠিয়েছে। সেলোটেপ খুলে গেছে। এক কাজ করতো ক্রিস ভাল করে পার্শ্বেলটাকে গুছিয়ে পোস্ট কর আবার। প্লিজ সর্ট আউট দ্যাট স্টুপিড ওম্যান। বুদ্ধ নারীকে ঠিকঠাক কর।
এমন নোট লিখে হ্যারি সিকোম্ব পড়লো ফ্লুর খপ্পরে। বেইজিং ফ্লু নামের মাও জে দং ধরাশায়ী করলো তাকে দশদিনের জন্য। ভিসাস ভাইরাস। রোগ ব্যধির কি সব গালভরা নাম। বেইজিং ফ্লু, জার্মান মিজলস।
এরপর? হ্যারি সিকোম্ব এবং কিছু কর্তা ব্যক্তি অপেক্ষা করছে ক্রিসের ফিরে আসার। এক রেকর্ডেড পার্শ্বেল হারিয়ে যাওয়ায় অভিযোগ করেছে প্রেরক। তাকে জবাব দিতে হবে।

বাড়িতে ফিরেই ক্রিস যার মুখ দর্শন করলো সে জেসি নামের বেড়াল। কেমন উসকো খুসকো মুখে বসেছিল জানালার উপর। ক্রিসদের আগমনে ছুটে আসে। অনেক সময় ধরে পায়ে পায়ে ঘুরলো। প্রচুর বরফ পড়েছে এবার। প্রচুর বরফ চারপাশে। সারা অঞ্চল শুভ্র, কঠিন। শুভ্র প্রকৃতির বৈরাগ্য। তূর্নী নদীতে খন্ড খন্ড বরফ ভাসবার সময়। যখন ওর ঈশ্বর শুভ্র। বরফের তলে চাপা পড়ে সফেদ মাছেরা- একবার বলেছিল ওফি- ড্যাডি মাছেদের শীত করে না? ওফেলীর এমন প্রশ্নে হেসেছিল গত জানুয়ারীতে।
ঘরে ঢুকেই নিজের প্রিয় চেয়ারটায় শান্ত হয়ে বসে। ফায়ারের গনগনে উত্তাপে ঘর ভরে উঠবে মিঠে নরম উষ্ণতায়। ওরাও এক এক করে এসে বসে। গোছানো পরে।
পাশের বাড়িতে জুড দ্য টেরিবলের সাড়া শব্দ নেই। কোথায় গেছে কে জানে। তার সেকেন্ডহ্যান্ড গাড়ির মনোকসাইডে চারপাশ দূষিত করে, গ্যাসের উদগীরণ সামলাতে সামলাতে। আজ রোববারের সন্ধ্যা। ওফি আর ক্যামেলির স্কুল খুলবে এক সপ্তাহ পরে। কেক বিন্যাস নামের পকেট মানির জবে মেরীকে ফেরতে যেতে হবে পরদিন। আর চিঠি বিলি করবার লাল গাড়িতে পেট ভর্তি প্রেট্রোল ভরে আবার ছুটবে ক্রিস। শুভ্র প্রকৃতিতে সে তখন ভাববে অন্য কিছু।

রাতের ডিনার। বিনস আর টোস্ট। বিনস অন টোস্ট নামের গরীবের খাওয়া। টিন কাটা পিচ ফল আর দোকানের ক্রিম। ডেসার্ট থাকেই মেরীর মেনুতে। নেসকাফে কফির সুরভি ঘরে। কফি মেরী ও ক্রিসের প্রিয় পানীয়। তবে ক্রিস এক মগ চাও পান করে যখন তখন। নিজের বাড়িতে এবার সেই বেড়াল আঁকা স্কারবারার মগ হাতে ক্যামেলি আর ওফি। দুধ আর কাডবেরির ড্রিংক। মগে লেখা “সুইট হোম।” স্কারবারার সমুদ্র সৈকতের ছাপ। একসময় ওরা চলে গেল নিজের ঘরে। মেরী এসে বসে পাশে বসে। বলে- কাল থেকে তোমার কাজ?
-কাল থেকে? মাথার পেছনে হাত রেখে গন গনে চুলোর দিকে তাকিয়ে কি ভাবছে ক্রিস।
-তোমারও তো কাজ?
-আমারও।
হলিডে ফেরত মেরীর হঠাৎ টমের মুখ মনে পড়ে যায়। সেদিনের লিফ্ট। চশমা চোখের টম মেরীর পঠিতব্য প্রিয় চরিত্র পিয়ের বেজুখভ। পিয়ের নামটাও ওর পছন্দ। ক্রিস আদ্রেঁ নয়। মেরী জানে ক্রিসের আর এক নাম- ক্রাইস্ট অব এভনলী। সে মাদার মেরী নয়। মেরী ম্যাগডালাও নয়। এই প্রথম জীবন পিপাসায় উচ্ছ্বল চেরী বসন্তের মেরীকে চিনেছে ক্রিস। ফাইভ ফুট নাথিং মেরী কখনো ডিকান্টার স্যাম্পেনের মত সুস্বাদু। কখনো সে প্রাচীন নাবিকের সুপেয় জল।
-এই আমার মেরী। হঠাৎ আবেগাপ্লুত ক্রিস মেরীকে খুব কাছে টেনে জানায়- চল। ঘুমোতে যাই।
আজ রাতে ক্রিস ইজেলে কোন ছবি আঁকবে না। মনে মনে লিখবে না কোন স্বরচিত কবিতা। উচ্চারণ করবে না কোন আবেগমন্দ্রিত পংক্তিমালা। বেকিনসিলের মত সহজ ভাষায়, সহজ সাবলীল গতিতে, সহজ সাবলীল গভীরতায় সে আবৃত্তি করবে- এ্যাট লাস্ট আই ব্রিদ/ দি ফ্রাগরান্স অব গ্রীণ টিউলিপ। এ কবিতা মেরীর জানা। তরুণ বেকেনসিলের অকাল প্রয়ানের পর ওর স্ত্রী পেয়েছিল এক মুঠো কবিতা। পেয়েছিল না আবিস্কার করেছিল। ওম উষ্ণতায় ওরা দুজন সেই কবিতা গুলো এক সঙ্গে পাঠ করেছিল। মারবেলার বৃষ্টির মত মেরী এবার ক্রিসের কানের কাছে মুখ রেখে বলে- এ্যাট লাস্ট! ও গড এ্যাট লাস্ট।