এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ। ঠিক দুই বছর পর আর এক দৃশ্য স্তব্ধ করেছে মেরীকে। ক্রিসের বস্ত্রহীন শরীর। একি শরীর না জীবিত মানুষের শরীর খাঁচা? মেরী উঠে বসেছে বিছানায়। আতংকিত, ভীত।
-একি একি হয়েছো তুমি?
ক্রিস তেমনি হাসছে। -কেন আমি আবার কবে সুস্বাস্থ্যে ভরপুর ছিলাম?
মেরী কথা বলে না। দুহাঁটুতে মুখ রেখে অনঢ়। ক্রিস ওর পিঠে হাত রাখতেই কেঁপে ওঠে মেরী। কান্না চাপানোর দুর্দমনীয় চেষ্টায় কেঁপে ওঠে সারা পিঠ। যে কান্না শুকিয়ে গেছে, ফুরিয়ে গেছে বলে তার ধারণা তাই তাকে যখন তখন নদীর মত ভাসায়। জলপাই রান্নাঘরের তুচ্ছ বস্তুতে হাত রেখে সে কাঁদে। কিন্তু সে সবের সঙ্গে আজকের কান্নার কোন মিল নেই। ক্রিস খুব ধীরে ওর পিঠে হাত রাখে- ঠিক হয়ে যাব। দেখ না। কত তাড়াতাড়ি আবার গোলগাল হয়ে যাই। মেরী নিরুত্তাপ।
-তোমার আপেল পাই, হটপট, বাবল আর স্কুইক, ফেয়ারি কেক ভাল না হয়ে উপায় আছে মেরী? মেরী তেমনি দু হাঁটুতে মুখ রেখে বাকহীন।

এ ঘটনার এক মাস দশদিন পরেও অপরিবর্তনীয় ক্রিস মেরীর সমস্থ রন্ধন বিদ্যা মিথ্যে করে এক আউন্সও ওজন বাড়িয়ে মেরীকে খুশী করতে পারে না।
ক্রিস কখনো এসে বসে বাইরের বাগানে, গ্রীন হাউজের পাশে, কখনো জানালার পাশে, ঘরে। জুন মাসের মাঝামাঝি আবার সে কাজ শুরু করতে পারবে। এমন সুসংবাদেও খুব বেশি পরিবর্তন হয়েছে বোঝা যায় না। শুয়ে, বসে, ভেবে, গান বাজনা শুনে, মেরীর সঙ্গে বিবিধ খূনসুটিতে ব্যস্ত হয়ে না হলে ক্যামেলি আর ওফির সঙ্গে গল্প করে সময় কাটায়। আবার দু একদিন কাকচোখ নদীতে ছিপ ফেলে চুপচাপ বসে। আবার কখনো ছাতলা পরা মস আর ফার্নের পাথরে একাকি এসে কি সব দেখে আর ভাবে। যখন চারপাশে সামারের সমারোহ ক্রিস বিছানা ভালবেসে উঠে বসতে আপত্তি করে।
-আজ আমি কাজে যাব না। মেরী এসে বসেছে পাশে।
-কেন কাজে যাবে না? মুখ তুলে জানায় ক্রিস। কি এক গ্রন্থ নিয়ে মেতে আছে ও গতকাল থেকে। এখন বুক মার্ক পড়ে আছে মাটিতে। মেরী উঠিয়ে রাখে প্রজাপতির মত বুক মার্ক। বইটি উল্টেপাল্টে দেখে। বলে -কবিতা পড়ছো? কাল অনেক রাতে জেগে এই বই পড়ছিলে?
-জানো কি লেখা আছে এখানে?
-কি লেখা আছে? ক্রিসের ঘাড়ে থুতনি রেখে প্রশ্ন করে মেরী।
-দি স্কাই ইজ ব্লু, দি ওস্যান ইজ ডিপ, দি মাউন্টেন ইজ লফটি, সো ব্লেস দেম। হঠাৎ কবিতা থামিয়ে চিৎকার করে ওঠে ক্রিস- তাহলে চটপট এক কাপ চা বানাও। চা খেয়ে দুজনে হাঁটতে বেরোবো।
-হাঁটতে বেরোবে? বিস্মিত মেরী।
-হ্যাঁ। হাঁটতে যাব।
-তুমি তো আজকাল বাইরের বাগানেও বসতে চাও না। কি হয়েছে তোমার ক্রিস?
-কি হবে আমার? সোজা বিছানায় উঠে বসে। না আমার কিছু হয়নি। চা আনতে যাবার আগেই দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে ক্যামেলি। ওফেলি তার পরে। স্কুলে যাবে ওরা।
-এদিকে আয়তো? আদর মাখা গলায় ডাকে ক্রিস। একটু লম্বা হয়েছে ওরা দুজন। ক্যামেলি মাকে ছাড়িয়ে গেছে। ওফেলি এখন মায়ের সমান। ওরা কেউ পাঁচ ফুট নাথিং হবে বলে মনে হয় না।
বলে- অনেকদিন তোদের ছবি টবি তোলা হয়নি। আজ স্কুল থেকে এলেই ফটো সেসন। বলে ক্রিস মিষ্টি করে হেসে।
-মা কাজে যাবে না?
-না। আজ ও কাজে যাবে না। বলে ক্রিস।
মেয়েরা যেতে যেতে বলে Ñ হ্যাভ এ লাভলি টাইম দেন। পরিবর্তিত ক্রিসকে এমন একটু উইশ করে। আবার ফিরে এসে বাবার গালে চুমু খায় দুই বোন। ক্রিস মুখ তোলে না। চোখ দুটো কেমন শির শির করছে।
তারপর ওদের যাত্রার দিকে অনিমেষে তাকিয়ে থাকে। কোন কার্য কারণ ব্যতিরেকে ক্রিস কেমন সজল এখন। মেরী পিঠ ফিরিয়ে বসে আছে তাই দেখতে পায় না।
জানালার ওপারের পৃথিবী মে মাসের মতই অপরূপ। আসন্ন গ্রীষ্ণে উষ্ণতা চারপাশে। বৃষ্টির ছায়াও নেই। ঝল মল করছে সুর্যের অবারিত আলোয় একখানা বর্নিল দিন। মেরী ওঠে। জলপাই ও সাদা রংএর রান্নাঘর থেকে দু কাপ চা বানিয়ে ঘরে আসে। রুটিতে মার্মালেড লাগায়। ফুল আঁকা সুদৃশ্য ট্রেতে চা বানিয়ে ঘরে ফেরে। প্রজাপতির মত দুখানা ফেয়ারি কেক একটা টি প্লেটে। আসবার পথে জিনজার আর পিকলকে দেখে বলেছে জেসির কানে কানে- এত ঘন ঘন বাচ্চা হলে তোর অবস্থা শেষ হবে রে জেসি। দেখি খুব তাড়াতাড়ি একটা ব্যবস্থা করতে হবে। জেসি কি বুজেছে কে জানে মিউ বলে আবার ঘাড় গুঁজে ঘুমিয়ে গেছে।

রাস্তার লোকজন কম। জনমানব যে যার কাজে ব্যস্ত। দু একজন ভ্রমণবিলাসী হ্রদের দেশে বেড়াতে এসে মুগ্ধ হয়ে ঘুরছে এখান থেকে ওখানে। ক্রিস ও মেরী এসে বসে সেই সাঁকোর উপর। এক স্বচ্ছ তির তির নদী নীল পাড়ের মত বয়ে চলেছে। এখানে ভিড় নেই। এ জায়গা ওদের দুজনের নিজেদের ভাললাগা স্পট। এইখানে বসে নুড়ি ছুঁড়বার ঘোরতর প্রতিযোগিতা চলতো ওদের। কার পাথর কতদূর যাবে তারই সিরিয়াস প্রতিযোগিতা। আজ ক্লান্ত ক্রিস মাথা রেখেছে মেরীর কাঁধের উপর। একটা হেঁটে পা কেমন ধরে গেছে। যে হাঁটতো মাইলের পর মাইল আজ সে একটুতেই ক্লান্ত। চেরি ফুলের মত গাছটা ফুলে ফুলে সমৃদ্ধ। সেখানে কি এক পাখি এসে বসে কিচ কিচ করে উড়ে যায়। কাঁধে মাথা রেখে তাই দেখতে দেখতে মুখ তোলে ক্রিস। তার খানিক পরেই এক ধাবমান বাসে ওরা দুজন। ক্রিস বসেছে জানালার ধারে। মেরী ওর পাশে। নিঃশব্দ ক্রিস চলন্ত বাসের দু একজন যাত্রীর পানে তাকায়। তারা যে যার গন্তব্য পথে নেমে পড়ে। সবুজ বাসে ক্রিস কথা খুঁজে পায় না। প্রথম প্রথম এই করতো ওরা। এক চলন্ত বাস থামিয়ে বাসে উঠে পড়তো তারপর কোন এক পছন্দমত জায়গায় নেমে পড়তো। তারপর আর এক ধাবমান বাস। ক্রিস একবার মুখ ঘুরিয়ে মেরীকে লক্ষ্য করে। মেরী কি ভাবছে চুপচাপ। সে হাত বাড়িয়ে মেরীকে স্পর্শ করে। বলে- অ মেরী কি এত ভাবো তুমি? এত চমৎকার সোনালি দিন, এত রোদ আর আলো চারপাশে, এত পাখি, এতসব কবিতার মত দেওদার গাছেরা, তুমি তবু কেন ভেবে সারা গো মেরী?
মেরী ক্রিসের হাতের উপর হাত রাখে। জানায়- আজকাল তুমি আমাকে বড় বেশি ভাবাও ক্রিস। ক্রিস কোন উত্তর করে না। বলে মেরী- জুন মাসে কাজে জয়েন করবে তুমি ভাবতে ভাল লাগে না তোমার?
-ভাল? তা লাগে।
-কিন্তু কাজ করবে কি করে? শরীর সারছে না তোমার।
-সারবে গো মেরী সারবে। এক্কেবারে গোল হয়ে যাবো জুন আসতে না আসতে। এক কাজ কর তো কাল থেকে তুমি আমাকে মস্ত বড় এক রাইস পুডিং বানিয়ে দেবে, আর বাবল আর স্কুইক একেবারে প্লেটের এ কানা থেকে ও কানা। দেখি আমি কেমন করে গোলগাল ডাবলু কুমার হয়ে যাই।
-তুমি তো কিছুই খাওনা। কি হয়েছে তোমার আপেটাইটের?
-সুস। আ কেন ঝগড়া কর মেরী। এমন দিনে কেউ ঝগড়া করে। দেখ দেখ ওই নিট বিস্ট্রো ঠিক তেমনি আছে। তুমি আর আমি এখানে কতবার এসেছি মনে নেই? নামবে?
-চল।
বেল টিপে দুজনে নেমে পড়ে। নেমে প্রায় পাঁচ মিনিট পথ হেঁটে ওরা পৌঁছে যায় সেই বিস্ট্রোতে। ডিম্পল যার নাম সে প্রকৃতির গালের টোলের মত অপরূপ। যেখানে সেই গ্রান্ডমাদার ওয়েট্রেস এক গাল হাসিতে ওদের অভ্যর্থনা করে। যেমন সে আগে জানাতো। বলে- কি ব্যাপার কতদিন আসো না এখানে তোমরা?
জানালার পাশের টেবিল দখল করে মুখোমুখি বসে দুজনে। ধূমল পর্বতের পাইন বনে দুপুর নামছে খুশীর হাওয়ায়। হঠাৎ ক্রিস মেরীর হাত ধরে শোনায় কয়েক পংক্তি কবিতা- ডু নট গো জেন্টল ইনটু দ্যাট গুড নাইট/ ওল্ড এজ সুড বার্ন এ্যান্ড রেভ এ্যাট ক্লোজ অফ ডে/ রেজ রেজ এগেনস্ট দ্য ডাইং অব দ্য লাইট।
তারপর নিঃশব্দ ক্রিস। মাথা নেমে আসে বুকের উপর।
-চা ছাড়া অন্য কিছু নেবে? মেরী পার্সের পয়সা গোনে।
-না চাই ভাল। একটু আগেই তো প্রজাপতি কেক খেলাম। এবার ক্রিস একটু হাসে। -তুমি কিছু নিতে চাইলে নাও।
মেরী চুমুকে চুমুকে চা পান করে। বলে- না। আমার আর কিছু খেতে হবে না।
দুজন চোখে চোখ রেখে চুপচাপ বসে থাকে। বাইরের দেওদার বন কিছু উষ্ণ হাওয়া এনে মাখায় ওদের মুখে। দুই শূন্য কাপ ফোরমাইকা টেবিলের মাঝখানে রেখে উঠে দাঁড়ায় ক্রিস ও মেরী। দুপুরের পর্যাপ্ত আলোতে মে মাসের দীর্ঘ দিনে আবার কিছু সময় হেঁটে দুজনে আবার বাসে ওঠে। ফিরে পায় পরিচিত জনপদ।

ক্লান্ত ক্রিস ফেরার পথে মেরীর কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। মেরী তার নিঃশ্বাসের শব্দ শোনে। শিরা ওঠা হাতের পানে তাকায়। ব্যান্ডের দুই ফুটো আগে আজকাল ঘড়ির পরে ক্রিস। মেরী সেই ঘড়ির ব্যান্ডের দিকে তাকিয়ে থাকে। ঘড়িটা খুলে আবার দুই ফুটো আগে পরিয়ে দেয়। ক্রিসকে সুস্বাস্থ্যে ও সুখে ভরিয়ে তুলবে এ সাধ্য কি তার আছে? কি করে উজ্জীবিত করবে সেই ডুবন্ত মনকে? কোন যাদূর কাঠির স্পর্শে ক্রিস হবে ঠিক আগের মত?
-ওঠো নামতে হবে।
ক্রিস মুখ তোলে। তারপর মেরীর হাত ধরে বাস থেকে নেমে পড়ে।
মে মাসের বেলা তিনটায় আজ বিকালের ছিটেফোঁটা নেই। শেষ দুপুরে পরিচিত পথ ঘাট পার হয়ে ওরা পৌঁছায় হানিপট কটেজের সিঁথির মত রাস্তায়। গ্রীনহাউসের নানা সব ফসল কাচঘরে বড় হয়ে উঠছে। কেয়ারি করা ফুলেরা হাসছে ভাসছে সারে তিনটার আলোতে। লাল হলুদ গোলাপি সাদা গোলাপেরা ওদের দেখছে। ক্রিস এই সব দেখতে দেখতে বাড়িতে প্রবেশ করে। পথে একটু বসতে হয়েছিল। তারপর নিজের ঘরে। এত সব হাঁটাহাঁটির পর সত্যিই বড় ক্লান্ত এখন। কিন্তু সে কথা মেরীকে জানাতে রাজি নয় সে। এও জানাতে চায় না দু দইবার বুক ব্যথায় কেমন করে সে পথের মধ্যে বসতে চেয়েছিল। একবার মেরীর চোখের আড়ালে খাবি খাওয়া মাছের মত নীল হয়ে উঠেছিল। সব কিছু সুনিপুন ভাবে সামলে নিয়ে এখন সে নিজের ঘরে। মনে হয়েছিল পৃথিবীতে এত সব পথ কেন? এত বাঁক আর এত উঁচু নিচু কেন সবকিছু।

ঘরের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে মেরী। মন দিয়ে কি সব রাঁধে। রাতের জন্য। কিছু কাপড় মেসিনে ঘুরে ঘুরে পরিশুদ্ধ হতে শুরু করেছে। মেরী একবার কাচা টমাটো আনতে সবুজ ঘরে যায়। বসবার ঘরের কাচ বসানো কুশন কভার গুলো হাত দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে আজ নয়। এ গুলো মেসিনে ধোওয়া যায় না। টেবিলে পেটমোটা ফুলদানিতে কিছু সতেজ ফুল। উঁকি দেয় শোবার ঘরে। বিভোর ঘুমে অচেতন ক্রিস।

বিকালে ছবি তোলা হয় না। কন্যাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্রিস জানায় আগামী কাল কেমন? ওরা কতক্ষণ গল্প করে। স্কুলের বিশেষ সব বন্ধুদের গল্প। ঋতু রংএ সমৃদ্ধ গল্প। তারপর জেসির কথা। ওর মেয়েরা এখন বেশ বড় হয়ে উঠছে। গল্পকার দুজনেই ছেঁকে ছেঁকে পরিবেশন করে কণা কণা আনন্দ সুবাসিত কাহিনী। দুঃখ বা ম্লানিমার স্পর্শ নেই ওদের গল্পে। ছেকে নেওয়া সুখের কথা। ক্রিসকে উজ্জীবিত করবার সুগভীর বাসনা বর্নালী কথামালায়। কন্যাদের গল্প বলবার ধরণ লক্ষ্য করে। ওফির বাচন ভঙ্গি অনেকটা মায়ের মত। ক্যামেলি বোধকরি অনেক বেশি ক্রিসের মত। সে অনেকক্ষণ চেয়ে দেখে। তারপর কখন যেন কথার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ে।

রাত নেমেছে এভনলীতে। গোল থালার মত মস্ত চাঁদ চুপ চুপ নিরীক্ষণ করছে পৃথিবী। “কুইন মুন অন হার থ্রোন।” মনে মনে বলে ক্রিস। সুম সাম চারিদিকে। শুক্রবারের রাত। এখন সারে এগারোটা। ক্রিস ঘর থেকে বাইরে বেরোয়। কেউ নেই সঙ্গে। ও একা।
এই আশ্চর্য প্রকৃতি তাকে বরাবর হাতছানিতে ডেকেছে। অনুজ্জ্বল চন্দ্রালোকিত থির রূপসী ধরিত্রী প্রেমে আর একবার আকণ্ঠ ডুবে যায় ক্রিস। খুব বেশি দূর যাবে এমন সাধ্য আছে কি তার? তুর্নী নদীর কোলের কাছে মসৃন সাদা পাথরের একটিতে চুপ করে এসে বসে চুপচাপ। তারায় তারায় আবার সেই পুরণো অলীক কাহিনী আবার ঘিরে ফেলে ক্রিসকে। থোলো থোলো বৈভবী সাদা গোলাপি চেরি গাছ, গুলমোহরের মত আরো সব গাছেরা, লাল ফুলের সারিবদ্ধ ছন্দয়াতি গাছেরা ম’নের ছবির মত বড় অপরূপ এখন, সর সর মর মর ধ্বনিতে কি বলতে চায় এরা সব? সেই নিঃশিম, স্তব্ধ, উদাস, অপরিবর্তনীয়, নক্ষত্র মালা, অর্নিবচনীয় পৃথিবীতে সমাহিত ক্রিস দু চোখ মেলে আজ রাতে কি খোঁজে কে জানে। রাত্রির আবছায় আঁধারে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ চমকে ওঠে ক্রিস। মনে হয় নক্ষত্রে নক্ষত্রে, বৃক্ষে বৃক্ষে, ফুলে ফুলে, নদীতে, পর্বতে, ঝর্নায়, দিগন্তে, উপত্যকায় আগুন লেগেছে। এক আশ্চর্য ওম উজ্জ্বল আলো মুহূর্তের জন্য এক সঙ্গে জ্বলে ওঠে। ওদের বুকের ভেতরে জেগে ওঠে একটি দীপান্বিত পথ। অত্যন্ত স্পষ্ট শব্দে ক্রিসকে বলে- এসো ক্রিস। সেকি জেনে যায় এই মুহূর্তে উদাসিন পৃথিবী সত্যিই উদাসিন নয়। নিঃশব্দ উদাসিনতার আর এক নাম শুধু। মুহূর্তের এক ভাগ মুহূর্তে আর এক উপলব্ধি এই নিঃশব্দ প্রতি মূহূর্তে তাকে চেনে, তাকে বোঝে। দূর্লভ অপাঠ্য গ্রন্থের একটি পাতা ফর ফর বাতাসে নিজেকে উন্মোচিত করেছে ক্রিসের ঝাপসা দৃষ্টির সামনে। উদ্ধাসিত আলো দেয়ালিতে দু হাত বাড়িয়ে বলে- এসো তুমি আমাদের মধ্যে ক্রিস। ওর ঝাপসা দৃষ্টি লুপ্ত, শ্রবন এক সময় সেই ধ্বনি প্রতিধ্বনিকে হারায়। ধীরে, ধীরে, ধীরে।