সর্টিং অফিসার কাজে ব্যস্ত। সর্টিং অফিসার ওর আর এক নাম। কাজে ব্যস্ত ক্রিস চিঠি বাছতে বাছতে আপন নামাঙ্কিত চিঠিতে খানিক বিস্ময় বোধ করে। যে দেশের ছাপ মেখে এ চিঠি এখন তার সামনে সে দেশের বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয় স্বজন কাউকে সে মনে করতে পারে না। থাক এখন খুলবো না। কাজ শেষ করি আগে। সে ইচ্ছায় চিঠিটা পড়ে থাকে হাতের কাজ শেষ হবার প্রতিক্ষায়। অর্ধ এ ফোর সাইজের দুধ সাদা চিঠির খামটা খোলে না। আসতে আসতে এমনিতেই লেট আজ। এই ষড়যন্ত্রকারী বিশ্বপ্রকৃতিকে উপেক্ষা না করতে পারার সেই পুরণো কাহিনী। চেনা বৃক্ষ, চেনা প্রকৃতি, চেনা নদী, চেনা প্রস্তরখন্ড, চেনা ঝর্না, তবু প্রতিদিন নতুন করে দেখার এবং জানবার সেই ছেলে বেলার অভ্যাস অব্যহত। প্রথম প্রথম মেরীকে সঙ্গে করে ঝর্না খুঁজবার সেইসব দিন? মেরী এক ডাকে সঙ্গ দেবার জন্য প্রস্তুত। এখন নিঃসঙ্গ ক্রিস চুপি চুপি এসে এই সব ছুঁয়ে যায়, ভালবেসে যায়। স্বামীর ভেতর যে পাগলামি মিষ্টি হেসে মেরী তাকে মেনে নেয়। যেমন সে মেনে নেয় ক্যামেলি ও ওফির সহস্র আবদার। ক্রাইস্ট অব এলনলী এবং মেরি মাগডালার অজস্র কলহাস্য মুখরিত সময় পর্বত উপত্যকা ফিরিয়ে দেয় সময়ে সময়ে। যখন দুজনে দুজনের হ্রদয়ের ভেতরে, নিঃশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে আসে।

লাল গাড়িতে উঠবার আগে সেই অজানা কাজিনের সারমর্ম বুঝতে পারে ক্রিস। -আমি আসছি দীর্ঘ ছুটি কাটাতে। আংকল পিটারের মৃত্যুর পর তোমাকে আর দেখিনি আমি। আমি জুড। মনে আছে আমার কথা?
মনে পড়ছে এবার ওর।
এই অঞ্চল থেকে আটলান্টিক পাড়ি দেওয়া এক আংকল এবং তার কিশোর পুত্র জুড। মনে আছে দুষ্ট বেড়ালের পায়ে দড়ি বেঁধে টেনে হিচড়ে নিয়ে যাওয়া জুডকে। ক্ষত বিক্ষত সেই রক্তাক্ত বেড়াল। লাল গাড়িতে হেলান দিয়ে সেই অর্ধ এ ফোর সাইজের চিঠিটা আবার পাঠ করে জুড। চিঠিটা লেখা একটা কার্ডে।
জুড দ্য অবসকিউর নয়, জুড দ্য টেরিবল।
সামনের খোলা মাঠের পানে তাকিয়ে কিশোর জুডের দীর্ঘ লম্বাটে মুখ এবং ক্রুড় উল্লসিত চেহারা মনে পড়ে যায়। কার্যকারণ ব্যাতিরেকে মন খারাপ এখন।