হানিপট কটেজে মেরি এখন নিজের ঘরে। ক্যামেলি আর ওফি ওদের ঘরে। টি এস এলিয়ট নামের এক আধুনিক কবি ক্রিসের হ্রদয়ে গুঞ্জরণ তোলে। স্কুল লিভার ক্রিস আশ্চর্য হলেও সত্য কখনো সে বসবাস করে কবিতার সঙ্গে। কখনো সারারাত সহবাস কবিতায়। যখন মেরী ওকে ছুঁতে পারে না। পারে না ওর বিন্দুবিসর্গ বুঝতে। সময় সময় আলোছায়ায় ছবির জগতে নানা সব রূপরেখায় প্রকৃতিকে বন্দি করতে চায় আপন ইজেলে। আজো কবিতাই তাকে মেরীর কুইলডেট বেডকভারের শয্যা থেকে দূরে রেখেছে। ওম ওম আগুনের মত স্নিগ্ধতায় আপন কানকে উচ্চারিত ধ্বনি প্রতিধ্বনিতে প্রশান্ত করছে ক্রিস। এক ধরনের নিচু স্বরে আপনমনে কবিতা পাঠ। সেই শব্দাবলী ঘুরছে ওর মাথায়- ”I am moved by fancies that are curled/ Around these images and cling/ The notion of some infinitely gentle/ Infinitely suffering thing”. ওর মনের গভীর ভাবনাকে যে এমন করে ব্যক্ত করতে পারে তার নামই কি কবি? ওয়ার্ডস ওয়ার্থ পাঠ করে রূপকথার গল্পের মত। এখন কৌতুহলী পাঠক পাঠ করছে টি এস এলিযট। কিছু বোঝা আর কিছু না বোঝার বেদনা নিয়ে। কবিতাতে হারায় ক্রিস। অর্ন্তধ্যান প্রকৃতিতে।

অনুভবই যদি কবিতার একমাত্র শর্ত হয় এক পংক্তি কবিতা কাগজে কলমে না লিখেও ক্রিস মস্ত কবি। সে কবিতা আঁকে মনে মনে। উপত্যকার নিস্তব্ধতা কবিতার কারণে কত সব উপমা খুঁজে পায়। উপমা, উৎপ্রেক্ষার ভাবনা সতত ক্রিয়াশীল তার মনে। চঞ্চল মাছের সফেদ পুচ্ছবিলাসী গতিশীল মন। এমনি হাজারো উপমাকেই সে ইজেলে ফোটাতে চায়। বৃক্ষেরা এক সার ভৃত্য, স্যালুট করছে প্রকৃতি যুবরাজকে। এই সব ভাবতে ভাবতে পথ চলে ক্রিস। কেন যে খাতা কলম খুলে শব্দ চয়ন করে না, পংক্তি মেলায় না সে এক মহাবিস্ময়। -দূর ওসব আমার দ্বারা হবে না। তবু চেষ্টা, তবু নিজেকে ভোলানো। কোন কোন গভীর রাতে, কখনো একান্ত দুপুরে, কখনো প্রভাত নামের ঘোরলাগা বৈভবী সময় প্রধান সুর বা মহান থিম হয়ে ছবিতে ফুটতে চায়। পছন্দ হয় না বেশিরভাগ। দুটো ছবি কুড়িয়ে ফ্রেম করেছে মেরী। একটি মেরীর মুখ। এক গুচ্ছ চুলের অনুশাসনে গোল মুখে বিস্ময়ের টোল। কিছু কালো চুল উড়ছে খেলছে সারা মুখে। অন্যটি জেসির। জেসি আর ওফি। ক্যামেলি আর ওফির একটি ছবি আছে। নিচে লেখা ওরা দুই বোন। অনেক গুলো ডাঁই করা ঘরের কোনে। নিজ শয্যা থেকে উঠে এসে মেরী দাঁড়ায় পাশে। স্বপ্নের মত নীল রাত্রিবাসে মেরী হাসছে স্বপ্নের ভেতর। সেই হাসিকে বন্দি করতে গিয়ে মেরীকে বন্দি করতে হয়েছে ফ্রেমে। আর মেরী বলেছে- আর কোন কথা নয়। এই মুহূর্তে তোমাকে আমার চাই।
-চল। হাত বাড়ায় ক্রিস।
-এসো। মেরী দুহাত বাড়িয়ে পাগল ক্রিসকে ঘুম পাড়াবে বলে মনে মনে প্রস্তুত।
ক্রিস ওই সব দুর্বোধ্য অনুভূতির তন্তুজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পেরে বেঁচে যায়। মেরীর হঠাৎ করে মনে পড়ে অধিকারের কথা। ও আমার। এমনি কোন দাবী নিয়ে হাজির ও গভীর রাতে। ক্রিস সে দাবীতে কখনো প্রতিবাদ করে না। যখন বলে- কিচ্ছু শুনবো না। এক্ষুনি আসতে হবে তোমাকে।
মাথায় উপর দু হাত তুলে ক্রিস বলবে- সারেন্ডার মেরী।