হিং টিং ছট

ইকিড় মিকিড় ফন্দী
মোঘল পাঠান বন্দী।

পণ কোরেছে বাবরে
হনুলুলু যাব রে।

বন্দরে লোক গিজগিজ
ডাচ ফরাসী পর্তুগীজ।

শ্লেষ উপমা অনুপ্রাস
হুগলী ঘাটে কলম্বাস।

সাঁতরে পার কোপাই গাঙ
চায়না থেকে হিয়েন সাঙ।

হরপ্পাতে রেঙুন বাঁশ
অলবিরুনি রাখাল দাস।

ফজলি বনে গুপ্তচর
আলিবর্দি মীরজাফর।

ছয়ে ছড়া কেমন টি?
লেড়ো বিস্কুট লেমন টি!
……………………………………………

একুশের পদ্য

থাক কাঁটাতার ভাগের ক্ষত
বন্ধু বই তো অন্য না,
এক ভাষাতে এপার ওপার
দু:খ সুখের বর্ণনা।

মেঘনার কুলে লাগলে দোলা
তিস্তার জল ছলকায়,
পোষ পাবনের খুশির আলো
ঈদের চোখে ঝলকায়!

রফিক সালাম অমর একুশ
বুকের ভিতর ঝড় তুলে
বিশ্ব জয়ের নিশান ওড়ে
রবীন্দ্রনাথ নজরুলে।

ঝঞ্ঝা ঝড়ে পা মেলানো
দু:খ সুখের বন্ধুটি
এক সে ভাষা মায়ের ভাষা
গঙ্গা পদ্মা বোন দুটি!
……………………………………………

শিশির

শিশির শিশির শিশির
টুপুস টাপুস অশ্রুকণা
মন ভালো নেই নিশির।

শিশির শিশির শিশির
রোদ ছড়ালো হীরে মাণিক
রাগভাঙা মুখ খুশির!

দুব্বোঘাসে নাকছাবিটি
তোতার ছোট পিসির!
……………………………………………

ভোম্বল

আয় কম ব্যায় কম
খায় কম ভোম্বল,
ডাল ভাত ছ্যাঁচড়া
তার সাথে অম্বল।

রাগ নেই মনটায়
রোজ আধ ঘন্টা
সাঁতরায় পুকুরে
ভালবাসে কুকুরে।

হাসিমুখ সম্বল
ও পাড়ার ভোম্বল
শীত কিবা গ্রীষ্মে
করেনাকো মিস্ সে
ছাতা লাঠি কম্বল।
……………………………………………

তিনটে শালিক

ইলিক ঝিলিক
তিনটে শালিক
ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ উড়ে
বিকেল বেলার কনে বউ রোদ্দুরে।

সর্ষে খুঁটে খায়
কাকতাড়ুয়া ধ্যাবড়া চোখে
ফ্যালফ্যালিয়ে চায়।

হাত পা নুলো
গড়ন কালো
করবেটা সে কি?
নেইকো মাথায় ঘি!

মেজাজ মালিক
তিনটে শালিক
ভয় করবে কাকে?
ইলিক ঝিলিক নাচছে তারা
কাকতাড়ুয়ার টাকে।
……………………………………………

গুরুর বিধান

গণেশ গিরির গুরুদেব আসেন মাসের পয়লাতে
কাঁসার থালায় পা ধুইয়ে মোছান নতুন তয়লাতে।
পা ধোয়ানো জলটুকুকে রাখেন মাটির পাত্রে
ভোর সকালে শুদ্ধভাবে খান ও ছিটান গাত্রে।
কোঁকড়ানো চুল ফর্সা গড়ন দুধ আলতা মিশ্রিত
গুরুদেবের জ্ঞান গরিমায় গণেশ গিরি বিস্মিত!
শান্ত অতি ভোজনমতি ওজন নেহাত মন্দ কি
ভাতের সাথে ঠিক দেওয়া চাই একসের দুধ গব্য ঘি!
পিঠেপুলি রাবড়ি দধি মিষ্টি শুধু ক্ষীরকদম
গন্ডা কুড়ি ফুলকো লুচি বেগুন ভাজা আলুর দম।
দুইবেলা চাই লিকার চা আর বিকেলবেলা টাটকা ফল
ঘুমান যখন নাকের আওয়াজ হুগলী জেলার চটের কল।
খান না আমিষ কিন্তু যদি দেখেন জিয়ল মাছের ঝোল
পাপ এড়াতে খাওয়ার আগে বলেন তিনি হরিবোল!
……………………………………………

ট্যুর

ইলিশ বলে রুই
হুগলী সেতু দেখব বলে
সাঁতরে পাখা এলাম চলে
পদ্মাপারের মুই।

রুই বল্লে ইলিশে
ধরল না জলপুলিশে?

ইলিশ হেসে কয়
ধরা সহজ নয়।

যেই বলেছি পুলিশে
চিঙড়ি পিসির ভাইপো আমি
গলদা হলেন তার সোয়ামি
আমার ছোটো পিসা।

শুনেই পুলিশ দেখলোনাকো
পাসপোর্ট আর ভিসা।
……………………………………………

মেয়ে-ছেলে

মেয়েরা মিষ্টি ছেলেরা মন্দ
ছেলেরা মিষ্টি মেয়েরা মন্দ
মেয়ে ছেলে দুয়ে মিলে
ছড়ায় সুগন্ধ!ধরায় সুগন্ধ!

ছেলেরা দুষ্টু মেয়েরা শান্ত
মেয়েরা দুষ্টু ছেলেরা শান্ত
মেয়ে ছেলে দুয়ে মিলে
রাঙায় দিগন্ত!

ছেলেরা গদ্য মেয়েরা পদ্য
মেয়েরা গদ্য ছেলেরা পদ্য
মেয়ে ছেলে দুয়ে মিলে
ধরা অনবদ্য! ছড়া অনবদ্য!
……………………………………………

টাপুরটুপুর

মায়ের ইচ্ছে নাচটা শিখি
বাবার ইচ্ছে গান,
দাদুর মতে
ডাক্তারিকে করুক প্রফেশন।

কাকুর ইচ্ছে নাচ গান নয়
টিভির সাংবাদিক,
পিসির মতে এদেশ নয়
ফরেন যাওয়াই ঠিক।

আমায় ঘিরে স্বপ্ন হাজার
আমার স্বপ্ন চাপা
ড্রয়িং খাতায় একলা দুপুর
টাপুর টুপুর ছাপা!
……………………………………………

শীতের ছড়া

উত্তুরে হাওয়া
ধুত্তুরে শীত
সোয়েটার মোজা
লাল নীল পীত!

হনুমান টুপি
শাল ও চাদর
রোদ্দুরে ছাদে
মিঠেল আদর!

বিস্কুটে চায়ে
মন প্রাণ তাজা
আমতেল মাখা
মুড়ি তেলে ভাজা!

ক্ষেতের আনাজ
বাগানের ফুল
বড়দিনে ট্যুর
ছুটি ইস্কুল!

কম্বল লেপে
রাতে ঘুম ঘোর
চড়ুইভাতির
মহা তোড়জোড়!