(ছড়াক্কা কেমনঃ ৬ লাইনের পদ্য যার ১ম লাইনের সঙ্গে শেষ লাইনের অন্ত্যমিল থাকে আর মাঝের ৪-লাইন হয় সমিল এবং অপেক্ষাকৃত ছোট।)

নির্ভীক

বাঁচাতে চাইছ বলেই কি প্রভু,মারতে চাইছ বারবার
নির্ভীকভাবে লড়তে শেখাও,
ঠিক হাতিয়ার ধরতে শেখাও।
পারি যেন দুশমনকে হারাতে,
দুর্বলদের পেছনে দাঁড়াতে।
কোন দুর্যোগে শিখতে চাই না ভীরুর মন্ত্র হারবার।
…………………………………………..

বাঁচামরা

আমাদের এই বাঁচামরা শুধু তোমার হাতে।
আমাদের হাতে কিচ্ছুটি নেই।
তোমার কথায় কাজ হয় শুরু
তুমি যদি এসে সামনে দাঁড়াও,
অমনি বুকটা করে দুরু দুরু।
সারা দিন খেটে, কোদাল থামাই,সাঁঝ বেলাতে।
…………………………………………..

আনন্দ

কখন হৃদয়ে পাই অমল আনন্দ ?
অতলান্ত এ জগতে
যখন সঠিক পথে,
দেখা দেয় আলোরেখা।
থাকি না তো আর একা।
তখনই জীবনে এসে ধরা দেয় ছন্দ।
…………………………………………..

উদযাপন

কাজ করাটাই আসল কথা হে, মূল্যবিহীন উদযাপন।
চায় যদি কাজ করতেই মন,
গোপন থাকাটা খুব প্রয়োজন।
নেই দরকার লোক দেখানোর।
খ্যাতির আঁধারে আসে না তো ভোর।
আগে বুঝে নাও-কাজ- না প্রচার? কে বেশি আপন?
…………………………………………..

ভাগ্য

কেউ চায় ধনী হতে, চায় সেই ভাগ্য।
বানিজ্য ব্যাবসায়,
লাভ, শুধু লাভ চায়।
চায় আরো সম্পদ,
মাৎসর্য ও মদ।
কেউ বলে, ‘হে ঠাকুর,দাও বৈরাগ্য।’
…………………………………………..

পাঞ্জা

মৃত্যুর সাথে লড়ে পাঞ্জা,
ওরা প্রতিদিন।
প্রাণী, প্রাণহীন।
তবু মানে সততা।
জানে কবি সে কথা?
ভোগে গ্যাছে সব সম্মান যার।
…………………………………………..

খামখেয়াল

নষ্ট হল সাধের জীবন গুন্ডারাজের খামখেয়ালে।
আর কতদিন থাকবি চুপ?
দেখা এবার রুদ্ররূপ।
সইবি কেন অত্যাচার?
আর কতদিন হজম মার?
পিছোস না আর;এবার তোরা আগুনচোখে থাম দেয়ালে।
…………………………………………..

পূর্বাভাস

পড়তে জানলে দূর আকাশ,
আলোর রঙ,
মেঘের ঢঙ,
বায়ুর চাপ,
রোদের তাপ,
মেলে ঝড়ের পূর্বাভাষ।
…………………………………………..

অভিযোগ

তোমার নামে কত যে অভিযোগ।
জানো কি তুমি তাহা?
শুধুই ‘বাহা’ ‘বাহা’
শুনতে ভালোবাসো।
স্তুতি-র রসে ভাসো।
যেটাকে যোগ ভাবছ, তা বিয়োগ।
…………………………………………..

কারচুপি

রক্তে যার মিশে আছে কারচুপি
তার কাছে সোজা পথ-
বোকাদের বাঁধা গৎ।
কী রূপে, ভাবে উপায়-
মানুষ ঠকানো যায়
তাই তাকে হতে হয় বহুরীপী।