তুমি, শুধু তুমি

১.
দারুণ কবিতাসক্তি জাপটে ধরেছে আমায়।
অনেক দিন পর গান হলাম। বিরহও নেচে উঠল।
গঙ্গা পদ্মার বানে ডুবি আমি!
আকাশ, সমুদ্র, বাতাস, অরণ্য হয়ে উঠল ‘তুমি’।

দীর্ঘ বিরহ ধারায় ভিজে ভিজে সঙ্গম-বীজ
অঙ্কুর হয়ে; আলো, বাতাস, আকাশ, সমুদ্র
হজম করে চুম্বন-ফুল ফোটায়।

তোমার রেণুতে আমায় মিশিয়ে দিতে!

২.
তোমার হাসির মধ্যে কত প্রেম!
যতবার দেখি,
আমাকে চান করিয়ে দেয়।
দুঃখ-মালিন্য দূর করিয়ে
স্বচ্ছ পবিত্র করে আমাকে।
আবার নূতন জন্ম নিই।
যৌবন-রঙে রেঙে উঠি
প্রথম যৌবনের মতো!
তোমার হাসি, শুধু তোমার হাসিই

জীবন্ত করে আমায় প্রতিদিন!

৩.
প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি বাইরে।ভেতরেও!
আমি তো একেবারে লণ্ডভণ্ড!
তুমি? লণ্ডভণ্ড তোমাকে ধরেছে!

আমি তো বেশ ভাবতে পারি,
তোমাকে, শুধু তোমাকে লণ্ডভণ্ডে পেয়েছে!
চুল তোমার মুনওয়াকে মেতেছে!
শাড়ীর আঁচল পতাকা হয়ে উড়ছে!
অন্তর্জাতিক পতাকা। গোলাপ আঁকা!
ব্লাউজের পেছনে নানান রংবেরংয়ের ভালোবাসা-ঠোঁটের ছবি!
ছবিগুলো পতাকাকে চুম্বন করতে চাইছে।
তোমার শরীর মনও!

তোমার সেকি অবস্থা!
লণ্ডভণ্ডকে তুমি আঁকড়ে ধরতে চাইছো!
দুটি দীঘিতে সুনামীর তাণ্ডব।
পর্বত কেঁপে কেঁপে উঠছে
গোলাপ পাপড়ির ভূকম্পনে!
যে গোলাপ পাপড়ি থেকে ভালোবাসা উচ্চারিত হয়!
সমস্ত নদীগুলো বিপদসীমা
অতিক্রম করে ভাসিয়ে
নিয়ে যাচ্ছে তোমায় অমরাবতীতে!
সেখানেই রয়েছে চির-প্রেম-কুঞ্জ!

লণ্ডভণ্ড অনেক আগেই আমাকে
এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে
তোমার অপেক্ষায়!

এখানে আমরা হবো লক্ষ্মী-নারায়ণ!

৪.
আমার মনের কথাটা লিখছি।

তোমাকে, শুধু তোমাকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি।
ঝড়ে তোলপার তুলছে প্রতিটি পারে!
ভেঙেচুরে যেতে চাইছে সব কিছু।
আমি ভাঙতে পারছি না!
কেউ যেন কংক্রিটে আটক করেছে!

ভেঙেচুরে যেতে পারলেই
ঝরণা হতে পারতাম,
নদী হতে পারতাম,
আকাশ-গঙ্গায় তোমার,
শুধু তোমার সঙ্গে যাপন-সুখে!

কংক্রিটের ভীষণ জমাটে
ঝড় আমাকে ভাঙতে চাইলেও
আমি পারি না।

ব্যর্থতায়, নদী মরু হয়ে যায় অশ্রু শুকিয়ে!

৫.
তোমাকে প্রেমিকা ভাবতে পারি।
তোমাকে মনে মনে বউ ভাবতে পারি।
এইটুকুই শুধু আমার সুখ।
এর বেশী তো আর কিছু নয়।

তুমি তো আমার হবে না কখনো।
তাই ভুলে যাও আমায় কখনো কখনো।
নির্লজ্জের মতো আমি ভুলতে দিই না!
তোমাকে পাবো না কোনো দিন
ভেবে যতই বৃষ্টি ঝরুক আমার দীঘিতে,
তা কোনো দাম পাবে না কোনো দিন।

তবু তোমাকে ভালোবাসি
ভালোবাসি তোমাকে,
খুব ভালোবাসি।
তোমাকে, শুধু তোমাকে!

তোমার অন্তিম ঘরে থাকতে দিও আমায় প্লিজ।

৬.
গোধূলিতে গেরুয়া আকাশে লাল সূর্য মায়াময়।
গোধুলিতে গেরুয়া আকাশে পূর্ণিমা মোহময়।
এত মোহ, সকাল দুপুর বিকেলের সূর্য
আগে কখনো দেখেনি। হয়তো মোহও আসেনি।

মরুময় রুখাশুকা জীবন রেঙে ওঠে পলাশে!
হৃদ-ঝরণায় ফোটে গোলাপ, রূপ রস গন্ধে!
গোধূলির পূর্ণিমায় তা পৌঁছয়!
পূর্ণিমাও মোহগ্রস্থ হয়। নব যুবতীর মতো!
জোছনা নিয়ে লাজ-পদে এগিয়ে যায়।

এই বসন্তটা আসার কথা ছিল সকালে কিম্বা দুপুরে।
লেট, বেটার দ্যান নেভার। এলো তো!
আমার সমস্ত অবসন্তগুলো লহমায় ঘন বসন্ত হলো!
শিউলী-সকালগুলোর সমস্ত প্রেম-তৃষা নদীর উচ্চগতি হয়ে,
তোমায় ছুঁয়ে জোছনা মেখে যুবক হলো প্রথমবার!

ঘন অন্ধকারে ঢাকা পড়ার আগে তুমি, শুধু তুমি
জোছনা-আলিঙ্গন, জোছনা-চুম্বন, জোছনা-মিলন
উপহার দিয়ে গম্ভীর থরকে চেরাপুঞ্জি বানালে!
তোমার “তন্বী শ্যামা শিখর দশনা”, মোহ থেকে
আমায় নিয়ে যায় প্রেম-সাধনায়।

আমি চণ্ডিদাস হয়ে যাই, তুমি হয়ে যাও রামি ধোপানী!

৭.
ভালোবাসায় তোমার বিশ্বাস নেই!
ভালোবাসাই তো বিশ্বাস।
ওতে কি অবিশ্বাস থাকতে পারে?
ভালোবাসা কি “আপনা মাংসে হরিণা বৈরী”?

ভালোবাসা ফাঁদ, যৌবন শিকারের!
প্রেম শিকারী আর প্রেমিক একাকার তোমায়!
প্রেম অন্ধ মোহ হলে শিকারীরা
এগিয়ে আসে মদনবাণ নিয়ে উল্লাসে।

প্রেমিক এক আকাশ আকুলতায়,
তোমায় ছেয়ে থাকে নিরঙ্কুশ ভাবে।
তুমি মিশে যাও পলাশে ফাগুনে!
রামধনু ঝরণা প্রজাপতি হয়ে ওঠে তুমি।

যৌবন-রঙের উল্লাস ঘিরে থাকে প্রেমিককে!
সেই উল্লাসেই রাঙাতে চায় তোমায়।
তোমার হরিণ চাহনিতে বসত করবে,
নানা রঙের আস্ত এক গোলাপ বাগান!

আমি একটা একটা করে সমস্ত গোলাপের
সুঘ্রাণে, চলে যাবো প্রেম-গাঁয়ে!
আঁকা বাঁকা নদীর তীরে কদম্ব-তলে দাঁড়াবো।
তুমি আসবে কলসী কাঁখে।

কিম্বা “ভুল স্বর্গে”-এর সেই ছেলেটার মতো
ভালোবাসার আলপনা এঁকে দেবো তোমা-কলসে!
তোমা-চুলে বেঁধে দেবো নানা রঙের প্রেম-ফিতে!
ভালোবাসা-হাওয়া, আবহাওয়া খবরকে তোয়াক্কা

না করে ঝড় হবে ব্রম্ভাণ্ডে! রাধা-কৃষ্ণ হয়ে যাবো তুমি-আমি!

৮.
আজ আরেকটা ভ্যালেণ্টাইনস দিন!
আরেকটা সরস্বতী পুজোর দিন!
ভালোবাসায় মেখে, মাখিয়ে রঙিন হওয়ার দিন!
রঙিন করার দিন!
আমি অপেক্ষায়, তুমি কখন আসবে!
মিষ্টি অপেক্ষায় তোমার জন্য!
আমার সমস্ত ভালোবাসাকে আবিরে জমিয়ে।

আসবে না তুমি জানি।
তুমিও তো অপেক্ষায় কারুর জন্য।
যে তোমাকে কথা দিয়েছিল ফিরে আসবে।
পলাশ-ফাগুনে তোমাকে রাঙাবে।
তোমার মাথায় পড়িয়ে দেবে,
কৃষ্ণ-রাধার মুকুট, নিয়ে যাবে বৃন্দাবন-কুঞ্জে!
কথা রাখেনি। সাগর-পাড়-কুঞ্জে অন্যের সঙ্গে!

তোমার মন শুধু তাকেই স্বীকার করে, শুধু!
অন্ধ প্রীয়া তুমি। প্রীয়ার আদর্শে অবিচল তুমি।
তুমি আদর্শ প্রেমিকা হতে চাও
মহৎ প্রেমিকা হতে চাও। প্রেম-ইতিহাসে।
আজ এমন রঙিন দিনে
অরঙিন থেকে যাবো
আমি আর তুমি, শুধু তুমি।

তুমি বলো ভালোবাসা নিষ্ঠুর একটা শব্দ।
ভালোবাসা মিছা একটা শব্দ।
ভালোবাসা স্বার্থময় একটা শব্দ।
ভালোবাসা ঘৃণ্য একটা শব্দ।
সাগর-পারে তোমার মন পড়ে থাকে আদর্শ-মোহে।
আমাকে ভালোবাসা-আবিরে মাখালে,
কিম্বা আমি তোমাকে মাখালে,

তুমি অপ্রেমিকা হয়ে যাবে অসতীর মতো!

৯.
তোমার শব্দ-রঙ আঁকবে ঝরণা!
নেয়ে নেয়ে আমি ছোঁব রামধনু,
ছোঁব আকাশ-মাটির প্রেমক্ষণ,
ছোঁব প্রজাপতির রাঙানো ডানা,
ছোঁব জোছনা মাখানো সূর্য-রঙ,
ছুঁতে ছুঁতে পৌঁছে যাবো তোমার কাছে।
অপেক্ষায় রয়েছো তুমি, শুধু তুমি।
তোমার সমস্ত রঙটুকু অগস্তমুনির
মতো নিঃশেষে পান করে,

কৃষ্ণ হয়ে উঠবো, অনন্ত প্রেমিক।

১০.
আমিও রোজা রেখেছি।
তোমার, শুধু তোমার জন্য।
পূর্ণিমার চাঁদ ঈদের চাঁদ
আর তোমার মুখ-চাঁদ
সব একাকার হয়ে গেছে।
ভালোবাসায় সব এক হয়ে যায়।

তুমি যখন ইফতার বানাতে বানাতে
আমার কথা ভাবো,
কিম্বা হাত ধরে ইফতারে বসাও
আমায়, তোমার মুখোমুখি,
তখন নিশ্চয়ই খুশি হয়ে যান
ঈদের চাঁদ, পূর্ণিমার চাঁদ।
আর খুশি ঝলক মারে মুখ-চাঁদে।
এ সবের ছায়া পরে আমার
কাকচক্ষু দুই দীঘিতে।
দীঘিতে ধ্রুবতারা স্থির হয়ে জ্বলে,
তার নির্দেশনায় ঈদের চাঁদ, পূর্ণিমার চাঁদ
একসঙ্গে নেচে ওঠে হাত ধরে
আজান হরিধ্বনির তালে তালে
আমার মধ্যে তোমার মধ্যে।

আমার রোজা কবুল করেন আল্লাহ।
নজরুলের শ্যামাসঙ্গীত তোমার
মনে প্রদীপ হয়ে জ্বলে।
ভালোবাসো তুমি, শুধু তুমি আমায়,
পূর্ণিমার চাঁদকে ঈদের চাঁদ যেমন।

মহব্বৎ পেয়ারের কস্তুরি-গন্ধ
আমাদের মতো ছুঁয়ে যাক
সমস্ত দিলকে। সারা পৃথিবীকে।