শূন্যশব্দভার ও দশমহাবিদ্যা

১|
সংহারে ঢেলে দাও আত্মমরিয়া।
হত্যার রং নীল।
নরমুণ্ডমালায় ঘোর শেখাচ্ছে প্রশস্তপথ…

আদিকারণ ছেড়ে মানুষ চেখে দেখছে দ্যুতিমেঘ।

ছড়ায় আগুন… দেব ধারণ করে কালীমহাভার।

২|
ঈশ্বরীর অনাদিঘুম ভাঙাতে,
এইবেলা মানুষ গেয়ে যায় গান।
সহজশূন্যে প্রলয়নাচন শুরু হবার অপেক্ষা…

ঘনিয়ে আসে ছারখার! সামান্যছায়া…

দেবীপরাগপক্ষে, তারা ফুটে ওঠে বিস্ফার মায়ায়…

৩|
অচিনকুহক। সংযম কিছুমাত্র আলগা হলে
ভ্রমভক্ষণ ছুঁয়ে যায়…
ভুলে যায় প্রহারের কোনো ইশারা নেই।

আঙুল খসে পড়ে। চিদাগ্নির পাশে স্থির ললিতা…

প্রলয় গিলে দাঁড়িয়ে থাকে আদিপরাশক্তি।

৪|
কাটিয়ে উঠেছে শীতঘুম।
পৃথিবীর খোঁড়া মুখ সারিয়ে তোলা কোল জানে
সমস্ত ক্ষতগ্রহ… স্নেহপরাগ…

শয্যায় লেপে দিও অনায়াস ঋণ। ভুবনেশ্বরী…

দেহেরকূলে জেগে থাকুক নিসর্গস্রোত।

৫|
ত্রিভুজের গার্হস্থ্যে ফেলে রাখো নিদ্রা।
সক্রিয় স্বপ্ন জুড়ে শান্তিছন্দে
দাগিয়ে যাক মৃত্যু। ভৈরবী…

তলিয়ে যাও। আদিশক্তি ফুটে উঠুক…

প্রলোভন ছুঁড়ে ফেলো। আত্মার ছায়ায় কাল লেগেছে…

৬|
অস্তিত্ববাদ নির্মাণে ভুল করেছে যারা
তাদের এই সর্বান্ধমাথা থেকে
খুবলে তুলে নাও আস্ফালন।

জঠরে ঠাসা আপেল… আত্মধ্বংস…

ফেটে বেড়িয়ে আসছে কাটাজিভ…
হুহুঙ্কারে দুলছে ছিন্নমস্তা…

৭|
প্রলোভনে এসে দাঁড়িয়েছে মৃত্যু।
আটকানোর মতো হাত নিজেই খসে যাচ্ছে।
শুরু হয়েছে আগুনের সাথে খেলা আর… ধূমাবতী…

বিধবার চোখে সূর্য গড়িয়ে পড়ে। কুৎসিত স্তব্ধহলুদ…

যন্ত্রণা বেড়ে উঠছে… হাতজোড় করো মানুষ।

৮|
ভিড় ছেড়ে আসো।
বাঁকা প্রেতনদী বিভাজিকা চোখে
লেপ্টে দিচ্ছে তন্ত্রবনানী… বগলামুখী…

সোনালিভ্রমর… বুনে নিচ্ছে নিয়ন্ত্রণ।

নিস্তব্ধতায় সৌম্যমূর্তি। পেরিয়ে যাচ্ছে সংযোগ…

৯|
শরীরের হিমস্রোত
জেনে ফেলেছে সমস্ত আঁধার। মাতঙ্গী…
এই ছায়ায় আশ্রয় নয়। কর্তৃত্ব স্থাপন করো।

ডাক নেই। শ্রীকুলে লাগুক দিগন্ত ভাঙাঢেউ…

জন্মমৃত্যু দুলছে। মেপে তোলো আঙুল।

১০|
বৈকুন্ঠে আলো এসে পড়ে। দেবীমুখে থাক তৃপ্তি।
চাঁদ লাগে টলটল ভাগ্যরেখায়…
স্রিয়মাণ দেহপল্লব… কমলাকামিনী…

এভাবে ছুঁতে নেই জীবন,

আরোগ্যধারণে থাক সমস্ত নারী…