উড়াল সারস

কেবল দুটো চোখের গহন ডাক
কোথাও কবে বলেছিল
উড়াল সারস
অপেক্ষাতে থাক।
কেবল দুটো চোখের তারায় ঘর
পুড়িয়ে দিয়ে শান্ত দুপুর
পুকুর পাড়ে
নিখাদ ডুবে মর
কেবল দু’টো জমজ মরুভূমি
তৃষ্ণাকাঙাল কলরবের
কণ্ঠ সাধক
অফুরন্ত তুমি
বিষাদ কেবল নিষিন্দা ফুল তোলে
খাদের আলাপ ভৈরবীতে
কোমল স্বরের
বিস্তারিত ভোলে
তানপুরাতেই মজেছে তানসেন
মিয়াকি মলহারের খোঁজে
পরমব্রত
কি মিথ্যে লেনদেন
কেবল একটা পরান প্রিয় বাঁশি
দমের খেলায় নিস্তরঙ্গ
বলত যদি
তোমায় ভালোবাসি।
…………………………………………..

নখ

আর কিছু নয়
সমগ্র জীবনের ফাঁকে
গোপনে গোছানো থাকে
দশ আঙুল নখ
সর্ষে দানার মত সামান্য
শখ।
এইটুকু আবদার গুনে
নিভৃত গুঞ্জরণে
মিয়াকি মলহার
অপেক্ষার এলাচি দানা
পুড়ে যেতে আছে মানা
আনখবিলম্বিত বিরহ
বাহার
টিস্যু কাগজের বুকে
সাদা নখ আরও ফিকে
সিন্দুকে তোলা
জগতের আয়োজনে
এসবের কী যে মানে
আকর জঞ্জালটুকু
যদি যেত ভোলা…
…………………………………………..

ঘুম

তুমি কি ঘুমিয়ে পড়েছ
ঘুমিয়ে পড়েছ
কাদা মেখে
পারলে মুছিয়ে দিতাম
পা দু’খানা
আঙুলের ফিসফাস
চোখেমুখে।
নির্ঘুম রাতের
ঝঞ্জাট
ঝামেলা
নিমফুল তেতো,
অবিশ্বাসী স্মৃতি গণ্ডগোল
থেমে যেতো।
তার চেয়ে
বেশি কিছু পাওয়া যেত
এই ভেবে
রোজ রোজ
না ঘুমিয়ে থাক,
আমার গোছানো টেবিল
ছাদ বারান্দায়
ডেকে চলেছে
আজাইরা কাক।
এইভাবে থাকিস নে জেগে
রাত্রিজাগরন
শরীর টিকবে না
বুনো
বেঁকে বসবে
অহেতুক মন।
কথা শোনো-
একটু ঘুমাও
তুমি পাখি
এই নাও হাত পাখা
ঘাম উড়ছে
সঙ্গে জোনাকি।
তোমাতে দিয়েছি
ঢেলে
মগ্নতম
উপাসনা থালা
যতদূরে থাক তুমি
এবার ভাঙতো দেখি
বিরহ পেয়ালা।
…………………………………………..

এমনি এমনি

হঠাৎ সে নয়
আসার কথা ছিল
আকাশ ভেঙেচুরে
কথা ছিল
নতুন কোনো সুরে
উঠোন থেকে পুকুর অব্দি
অল্প কিছু দূরে
কথা ছিল
শব্দে বাজাবে না
ছন্দে নাচাবে না
হৃদয় কাঁপাবে না
কোন্ কথাটা রাখলি
বল্ তো শুনি
মধ্য রাতে স্নানের হিসেব
আদ্যপান্ত খুনি
জানালাটার দোষ
ছিটকিনিতে ভুল
মরাকে আর মারবি কেন
পাগল
বৃষ্টিফুল…

উৎসর্গ- মাঝরাতের বৃষ্টিকে
…………………………………………..

হৃদপৈথানে নিও

স্বরবৃত্তের সুরে
অক্ষরে আর মাত্রাবৃত্ত জুড়ে
মাগধি প্রাকৃত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
হীরালাল সেন মুখ ও মুখোশে শ্যামের বৃন্দাবন
কেঁদে ওঠে একতারা
সুয়াচান পাখি লীলুয়া বাতাসে উকিলের মনকাড়া
একুশ লক্ষ তারা
চোখে চোখ রাখে গল্প কবিতা ফাল্গুন দিশেহারা
আলতা রাঙানো পা
জহির রায়হান, আবদুল গাফফার, কাঙালিনী সুফিয়া
আরজ চরিত ধুলো
খোলপেটুয়ার বুকে উন্মাদ হরিণ শাবকগুলো
কি তার মায়াবি চোখ
বৈরাগি হাওয়া খাম্বাজে ভোলে ভেজানো চিঠির শোক
একুশের অক্ষরে
কোটি বাঙালির কুমার পাড়ায় রূপালি লাটিম ঘোরে
ঘৃণা জাত পাত খুলে
সাঁইজি আছেন অমিত সাগর একুশ লক্ষ ফুলে
আত্মার আত্নীয়
চরকা বুড়ির সুতো ছেড়াচাঁদ হৃদপৈথানে নিও
জাফর মুনীর প্রতুল
সুমধুর সুরে ধ্বনিত আযান নামকীর্তণে জারুল
ঠাম্মার বাট পানে
আগরদানিতে নামপরিচয় সরল সূত্র মানে
অ-পরাজিত মন
লাল গামছায় আদম সুরাত সবুজের ব্যঞ্জন
উদাসী একুশ জানে
বিষাদসিন্ধু মেঘনাধবধ সোমেশ্বরীর মানে
বৈভবে হাঁটে কবি
সরিষাফুলের সুঘ্রাণে মাতানো রবি ঠাকুরের ছবি
কাঁদে সুখ সারি মন
একুশ আমার তোমারও একুশ পরম হৃদ কাঁপন।
…………………………………………..

একটা পান খাইয়া যান

খুঁজে পাচ্ছি না পান
বাটার ভেতরে গোছানো রয়েছে
বরজের আনচান
ভোঁতা ধারে যাতি পাড়া
কুচিকুচি কাঁচা সুপারি কথনে
ঝিনুক ছন্নছাড়া
জোতি চিহ্নটা কই
চমন বাহারে বিরহ আহারে
লবঙ্গ থৈ থৈ
কোথায় তোমাকে পাব
কস্তুরি ঘ্রাণ হাকিমপুরিতে
আগুন লাগাতে যাব
ঠোঁটে ঠোঁটে সাদা চুন
তোকে খুঁজে পেতে চরকা ঘোরাব
প্রিয়তম প্রিয় খুন।
…………………………………………..

তুমি

কবিতা বুকের মধ্যে থাকে আর থাকো তুমি
কতটা সুখের পত্র-কাব্য লিখেছ বনভূমি
বে-নামী হৃদয় খুঁজে পেতে শঙ্খবাবুর হাতে ফুল
ধুরন্ধর প্রজাপতি নিশ্বাসে বসেছে নির্ভুল।
শ্যামের নগরে জেগে আছে মিস্ত্রি করাতের ধারে
শহরটা ক্ষত হচ্ছে দেখ নিশ্চিত প্রহরে প্রহরে।
ঈশ্বরে ডাকি একমনে, আনমনে অবাধ্য তুমি
কবিতা বুকের মধ্যে থাকে, প্রকারান্তরে তুমি।
…………………………………………..

প্রলয়

কিছু অকারণ জিনিস জমেছিল হাত ব্যাগে
সোমবার সন্ধ্যায় সেইসব অকারণ গুলোকে বেছে তুললাম
দেখি চিরুনির দাঁতে বিধে আছে মস্তিষ্কের মৃত শ্বাস
আশের মতন তারাও বেকসুর খালাস পেতে চায়
দুটো ব্যবহৃত টিস্যু উপুড় পড়ে আছে
যেখানে জমানো ছিল গোপন চুম্বন
আর একটা সেপ্টিপিনে
আটকে আছে অসমাপ্ত প্রলয়
…………………………………………..

নিকটের বিপরীতে নতজানু

নিকটের বিপরীতে নতজানু
পাহাড়ের সিঁড়ি
শামুকে চাবুক চিল চড়ে বসে
হাতের করাত
কাটে অন্তহীন সাঁকো
গলি নৈঃশব্দ্য
আকাশের সব ঘুড়ি হাতের নাগালে
রাতের চোখের জল মুছে দেয় নিস্তব্ধ চাঁদ
টুকরো আকাশ এসে জমা হয়
নীল ক্রুশকাঠে।
ঘাসেরা ফড়িং খোঁজে
পাখিদের পরমায়ু কম
দূর বলে দ্বিধাহীন
অদৃশ্য নিকটের অথৈ পুরাণ
…………………………………………..

ঢং ঢং ঢং

কুঁড়ি এসেছিল ঢেউয়ে
ফেনায়িত পথে
লাঠিয়াল পাহারা দিত রোজ
দিনের অমতে
ক’টা দিন পরেই
হুলস্থুল
ফোটবার কথা নিমফুল
সবুজ, হলুদাভ, খয়েরি, কালো পাতার উৎসব
ঢং ঢং ঢং ভুল…
তার ক’দিন দিন পরই দোল
দোলাচল মন
চড়কের শুলে গেঁথে নেবে বিধ্বস্ত নিদেন কাল
হিংস্র সংগোপন