মধুমন্তীর বিকেল ও নাইটল্যাম্প-নয়

আয়ু পুড়িয়ে নেয়ার আগে একবার
শান্ত ছাদটিকে দেখা উচিৎ

#

যারা যাচ্ছেন যাক, মনে করো, ওঁদের
এখনই যাওয়ার ছিল, এটাই সত্যি
দু-হাত বিস্তৃত করে ওঁদের পথরুদ্ধ করো না

#

চাঁদের পার্থিব আলোর নিচে একান্তে এসো
খেলতে খেলতে
একটি বল গড়িয়ে যাচ্ছে…
গড়াচ্ছে, কারণ তার গড়ানোর দরকার ছিল

#

যে যাচ্ছে, অথবা যাওয়ার জন্যে
খুলে ফেলেছে শেকল ও পোশাক
পুণর্জন্মের কাছে, বায়ু এবং অগ্নির কাছে
তাঁকে চন্দনের টিপে সাজিয়ে দাও

#

প্রেমের জন্যে ত্যাগ, ত্যাগের জন্যে প্রেম
মুহূর্তের জন্যে কখনও কেন যে ভুলে যাও, মধুমন্তী
……………………………………………

মধুমন্তীর বিকেল ও নাইটল্যাম্প / দশ

শোক একটি সৌখিন পোশাক
সাজিয়ে রেখ না, বরং যাঁরা দীর্ঘ প্রস্তুতি
সেরে নিচ্ছেন, আরেকটিবারের জন্যে
ওঁদের দেখে নাও হলুদ না মেরুন
সবুজ না গোলাপি…

#

প্রতিটি দেহের প্রতিটি তিল ও লোমকূপে
কতটা দীর্ঘতর নদী ঘুমিয়ে আছে
আর ঘুমের ভেতর কথোপকথন
সেরে নিচ্ছে নিজের-ই ছায়াটির সঙ্গে

#

পৃথিবীর প্রতিটি জীব নদী ও ছায়ার কাছে
অন্তত একবার খুব শান্তভাবে বসে
এবং আত্ম-আলাপি হয়…

#

চিলেকোঠার সামনে এসে দ্যাখো
স্ট্রিট লাইটের আবছায়ায় পোশাকহীন
একটি মনুষ অনেকগুলি মানুষের আত্মা হাতে
খুব ধীর, মৌন, আরেকটি রাস্তার দিকে
চলে যাচ্ছে
……………………………………………

মধুমন্তীর বিকেল ও নাইটল্যাম্প / এগারো

এই রাতকে থামিয়ে দিতে পারো না
এই রাত ব্রহ্মস্তব থেকে উঠে আসা

#

পাখিটি গাইবে এবার
পাখিটি মগ্ন, পৃথিবীকে সুর দেবে
একটি পাখি
একটি রাতের জন্যে জেগে আছে
একটি রাত একটি পাখির জন্যে ছটফট করছে

#

কে ছুঁয়ে দেবে মন্ত্রসিদ্ধ জল
যা চোখ গড়িয়ে ভিজিয়ে দিল বুকের খাঁজ

#

জল তো প্রাণের আহ্বায়ক
জন্মের কাছে জল ও জীবাশ্মের পার্থক্য নেই

#

যাঁরা জানে এইসব, যাঁরা জানে,
তাঁদের কাছে আহুতির বিষাদ আসলে
একটা মুদ্রা, মাত্র কিছুক্ষণের জন্যে
……………………………………………

মধুমন্তীর বিকেল ও নাইটল্যাম্প / বারো

মধুমন্তী এই শূন্য চক্রের কাছে কিছু চেয়ো না

#

এখানে শুধু তাপ এখানে ভ্রমণ নেই
চিত্রকর্ম নেই

#

টালিগঞ্জ ট্রামডিপো ফাঁকা পড়ে আছে

#

এখন সেই মুহূর্ত, হলুদ সেই আলোটির
নৃত্যের সময়

#

তুমি ভৈরবী গাও আরেকটিবার, তছনছ হোক
ঘুমন্ত মানুষের ঘোর, মায়া, সঙ্গমরত সাপ

#

অমরত্বের আগে ওঁর আরও একবার
পোড়া দরকার
……………………………………………

মধুমন্তির বিকেল ও নাইটল্যাম্প / তেরো

এই জন্মান্তরের জন্যে এত অভিমান জমেছিল

#

কতগুলি জন্ম সমুদ্রের দিকে চেয়ে
ও গালে হাত রেখে অতিবাহিত হয়ে গেল

#

এখন গান বাজবে এখন মুখোমুখি বসবে
একজোড়া পাখি এবং বাসা সাজাবে

#

ওদের একা থাকতে দাও, পরদা টেনে দাও
‘উত্তরের জানলায়’

#

এখন অন্ধকার হল এখন শীত নামল
তোমার গান মনে পড়ছে, তেমনি
মনে পড়ছে সন্ধের লাইটল্যাম্প…

#

ড্রয়ার থেকে আমাকে একটি সিগারেট এনে দাও, মধুমন্তি
আমি তোমার কোলের ওপর শান্ত শিশুর মতো ঘুমব এবার