চিৎকারের অন্নপ্রাশন হোক

আজকাল অনুভূতিরা
আমলিনভাবে শব্দহীন,
গ্রন্থ-অভিধানে মূক হয়ে থাকে
শহীদ কিছু শব্দ।
টর্চের আলো ফেলেও
ওদের পাওয়া যায় না।
যদিওবা দু’চারটে
ফেরারি হয়ে কাছে আসে,
ঠোঁট নিভিয়ে, চোখ নিমিয়ে,
গো ধরে বসে থাকে চুপচাপ।
এক্স্বরে, সমস্বরে উচ্চারিত হয় না।
আজ চিৎকারের অন্নপ্রাশন হোক,
মুখে ভাত দিয়ে জখমে, জঙগমে হোক প্রতিবাদ।
উঠে দাঁড়াতে শিখুক
নুয়ে পরা শিড়,
আজ বেদনাদের শ্রাদ্ধ হোক।
কফিনে কফিনে জ্বলে উঠুক
বুকের বারুদে বিধে থাকা তকসির।
……………………………………………

ধূপ চাওয়া

ভালোবাসার ঘ্রাণটা মেখে
অল্প আঁচে জাগিয়ে রেখো
হলুদ রঙের লেজ-ঘুড়িটা,
উড়বে বলে হয় নি উড়া,
শূন্য পেয়ে একটা আকাশ
রাঙিয়ে তোলে নীল বাড়িটা।
এইতো দিলাম সবকটা মেঘ,
সব জানালা হোক সে তোমার।
আমি না হয় ছায়ায় রবো,
মলিন খাতায় পত্র দিবো।
ভালোবাসার ভুল ছড়াটা,
ভুলতে গিয়ে গাইবো আবার।
এক বিকেলের সন্ধ্যা হয়ে,
ভিজবো না হয় টিনের চালে।
এক জীবনের ধূপ চাওয়াটা
সাঁতরে বেড়াক স্নানের ঘরে।
……………………………………………

ও আজনবী হাওয়া

ও আজনবী হাওয়া
শিহরিত চুম্বনে ছুঁয়েছ
কেশ, কণ্ঠ, কাধের নিরবতা।
শীতল, কোমল, তরল হেমে
ভাটির গীতি গাওয়া।
নাই-নাই করেও
কোথাও আবার
একটুকরো হয়ে থাকা।
ও আজনবী হাওয়া
তাকে দেখে রেখো
সকাল-সন্ধ্যা,
হয়েও বহু দূরগতা
ও আজনবী হাওয়া
তোমার কাছে দিলেম সপে
রেখে যাওয়া আকুলতা।
……………………………………………

আনুভূমিক অনুভূতি

যাপিত জীবন
বন্ধ দরজার মতোন
ওতে দরকার হয় বুদবুদ।
স্বপ্ন অন্ধ,
ওকে দেখিয়ে নিতে হয় পথ।
……………………………………………

জীবনের পায়ে চুমু কেটে কেটে

সকলেরে ভালোবাসতে চাওয়ার চেয়ে
পূন্যি করি নি কোনো,
বেঁচে থাকার সহগ সংসারে
খুঁজেছি পুষ্পজ ভালোবাসা।
নিভু নিঃশ্বাসের প্লাটফর্মে
হুইশেল বাজিয়ে যায়,
অজানা ব্যথার কুঞ্জন।
ডাহুকের মতো ডাকে ওরা।
ভাটির পারে দাঁড়িয়ে ঘুমায়
স্বপ্নঘুমকুমুদ।
এক ঘোর বিরোধিতা নিয়ে
তোমাদের রেখে যাই
জলঝুমুরের কাছে।
পদ্মপাতায় জেগে থাকে
মনকথকের ঘুংগুর।
উপলক্ষ বা উদ্দেশ্য ছাড়া
কেবল রয়ে যায়
ভালোবাসার ক্ষত।
জীবনের পায়ে চুমু কেটে কেটে
তবুও সাঁতরে যাই
মসলিন কুয়াশার কাছে।
……………………………………………

যে নির্জনতায় তুমি থাকো

যে নির্জনতায় তুমি থাকো,
তার সবটাই অপ্রেম নয়।
মৌনতার মতো দুলে বেড়ানো
বিকেলের সবুজাভ ঘাসগুলোতে,
ফেলে আসা নিঃশ্বাসের
ঘাম জড়িয়ে থাকে।
ঘুমিয়ে পরা পাখির চোখের মতো,
জেগে থাকে,
ভোর হবার মতো আকুলতা।
যে নির্জনতায় তুমি থাকো,
তার সবটাই অপ্রেম নয়।
নওবাহারে থাকা
হৃদয়টার দাঁড়ি কমাও
দিনকে দিন বড় হয়।
চারদিকে মসৃণ ভাঙগনের শব্দ,
তবুও
জেগে থাকে স্বপ্নসৌধের ঋণ।
……………………………………………

রোদপকেটে কয়েক টুকরো আকাশ

তুমি ভেবে নিয়েছিলে
আমাকে অল্প আঘাতে
ভেঙে ফেলা যায়,
চোখের কার্নিশে লেপটে
দেয়া যায়
আলকাতরার মলাট।
কিন্তু আমাকে চোখের কাজল করা যায় না,
কলমের কালি করা যায়।
তোমার প্রতিটি শব্দের ভেতর
জমা রেখেছিলাম রোদপকেটের স্বপ্ন।
তুমি অনেকটা পথ হেটেও
তা বোঝো নি।
কতোটা মুক্ত আড়াল হয়েছিল ঝিনুকের প্রদাহের ভেতর,
তার খোঁজ ও তুমি রাখো নি।
আমাকে তোমার বারান্দা করতে চেয়েছিলে,
কিন্তু একটা টগবগে ঝুলন্ত ব্রিজকে কখনো ব্যালকনি করা যায় না।
বারান্দায় পাখিরা আসে, কিন্তু ঝর্ণার মতো হাসে না।
ওরা হয়তো একটু বসে,
কিন্তু পুরো আকাশ দেখে না।
ভেবো না ব্যালকনি না হতে পারলেও আমি তোমার ঝুলন্ত সেতু হয়েই থাকবো।
তুমি তার উপর দিয়ে উড়ে যেতে পারবে,
ডানা ঝাপটাতে পারবে।
দু’দণ্ড জিরিয়ে নিতে পারবে।
কিন্তু ঘর বাঁধতে পারবে না।
বৃষ্টির উপর ঘোড়া চাপিয়ে
কখনো তুমি দেখবে আমাকে,
আমি দেখবো মেঘ হতে
নেমে আসতে চাওয়া
কয়েকটুকরো আকাশ।
……………………………………………

কমলা রঙের সকাল

আজ প্রতিক্ষার জামা খুলে
দিব্যি ভালো আছে মন,
তোমার দেয়া কমলা রঙের সকালগুলো
এখন আর বিরক্ত করে না।
ড্র্যয়ারে পরে থাকা মোবাইলটা,
হাত-পা মেলে বরফ ঘুম দেয়।
দুটো কানের অপেক্ষা
তাও যেনো শেষ হয় না,
এই বুঝি ফোনটা এলো
তবে অনেকগুলো আড়ি পেতে থাকা দিনগুলোর মাঝে,
ফোনটা প্রভাতবেলায় কেঁদে ওঠে নি,
উষ্ণতায় জন্মানো নিরাবেগগুলো
উবে গিয়ে মেঘ হয়ে মিশেছে গারো পাহাড়ের দেশে।
তোমার শব্দমালিকারা
বেঘোর বিলাসে হেঁটে বেড়িয়েছে আমার চারপাশে।
জীর্ণ দেয়ালের শৈবাল হয়ে,
চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকেছি,
যদি কখনো ভুল করা রিং টোনটা চেঁচিয়ে কাঁদে,
আমি কেমন আছি!
তখন আমি জানিয়ে দেবো,
তোমার না ছোঁয়া সকালটাতেও
মনকুমারী ভালোই আছে।
……………………………………………

অবশলতায় নির্জনতা মাখি

আমাকে যতোটা চেয়ে না পেয়েছ তুমি,
তার চেয়ে অধিক হারিয়ে পাবে।
তোমার কাছে থাকবো বলে বাষ্প হয়ে ভাসি,
একলা জনম আলতো করে মাটির কুপিতে রাখি।
যখন আমি নেই বলে ভেবে চলো আনমন…
তখন আরো বেশি করে জরিয়ে রাখো ক্ষণ।
আমার অপূর্ণতা তোমাকে পূর্ণ করে রাখে।
ঘোর লাগা ওই ঘরটাতে একা একাই থাকি,
আবেশের মতো অবশলতায় নির্জনতা মাখি।
……………………………………………

কুমারী বর্ষার মতোন

ভাতের মারের মতো
থকথকে দুঃখ নিয়ে,
আলাদা হয়ে যাচ্ছে
কামার্ত যৌথ সংসার।
তবু আমরা একত্রিত
হবো বলে,
যৌথ প্রোযোজনায়
সাজতে বসেছে দুটো বালিশ।
পলেস্তারা পড়া
কুয়াশার ভেতরে,
পিছমোড়া করে
বেঁধে রাখা ছায়াকে,
নিত্য ভালোবেসেছি
ভুবনেশ্বরের পাড়ায়।
পুনকি সবুজের মতো,
সাজিয়ে রাখা সমস্ত আয়োজন,
ফুলে ফেঁপে উঠছে
কুমারী বর্ষার মতোন।