৪৭’ শে দেশ ভাগ হওয়ার পর পাকিস্তানের শাসক প্রধান মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ যখন ঢাকায় এই পূর্ব বঙ্গের রাষ্ট্র ভাষা উর্দু হিসেবে ঘোষণা করে তখনই এ অংশের মানুষ প্রতিবাদ করে উঠে। ১৪৪ ধারা জারী, তা ভঙ্গ করে মিছিল, মিছিলে গুলি, তাজা রক্তের স্রোত বেয়ে বাংলার রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি, এসব আজ কোন বাঙালির অজানা নয়। এমনকি সারা পৃথিবীর মানুষ আজ জানে বাঙালি তার মায়ের ভাষার মান বাঁচাতে মরতেও পারে। মায়ের সামান্য মুখের ভাষার জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়ার সাহস এ বাঙালি কোথা থেকে পেল? এ সাহস, ভালোবাসা কি বাঙালির মনে একদিনে এসেছে? এমন প্রশ্নের উত্তর যদি দিই তবে বলবো, না! তা একদিনে আসেনি। তা বাঙালির হৃদয়ে হাজার বছর ধরে বাস করছে। বাঙালির রক্তে মিশে আছে এ সাহস, ভালোবাসা।
বাংলা ভাষার উপর এমন আঘাত শুধু পাকিস্থান সরকারই করেনি, এমন আঘাত যুগ যুগ ধরে হয়ে এসেছে। এমন চড়াই উতরাই পেরিয়ে আজ বাংলা এক মধুর ভাষা। ষোড়শ শতকের মুসলিম কবি আবদুল হাকিম ‘নুরনামা’ কাব্যগ্রন্থের ‘বঙ্গবাণী’ কবিতায় লিখেছিলেন-
‘যেসব বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী,
সেসব কাহার নির্ণয় ন জানি।’
এটা শুধু কবিতার লাইন নয়। এটা ছিল প্রতিবাদের ভাষা। মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর ‘বঙ্গভাষা’ সনেটে লিখেছিলেন-
‘যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে।’
মণিজালে পূর্ণ এই যে মাতৃভাষার খণি তা যে বাঙালি কেবলই আবিষ্কার করে যাচ্ছে। বারে বারে বাংলা ভাষার উপর আঘাত এসেছে, বারে বারে, কালে কালে একেকজন মনীষী এসে বাংলার রূপসুধা বাঙালির মনে, প্রাণে সঞ্চারিত করেছেন। তেমনি একজন মনীষী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১৮৭১-১৯৫৩)।
সৌন্দর্যে ঘেরা চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামের এক মুসলিম পরিবারে জন্ম আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের। পারিবারিকভাবে তিনি পুথির প্রেমে আকৃষ্ট হয়ে কাটিয়েছেন সারাজীবন। বাংলা সাহিত্যের আকাশে তিনি হয়ে আছেন সবচেয়ে আলোকময় নক্ষত্ররাজীর একটি। তিনি পুথির কঙ্কাল থেকে তুলে এনেছেন কত সাহিত্যিক, সাহিত্য ও ইতিহাসকে। তা আজ কারো অজানা নয়। তাঁর ধ্যানে ছিল পুথি কিন্তু তিনি কেবল এ ঘোরেই জীবন কাটাননি। ছিলেন সমাজ, কাল সচেতন লেখকও। তাই তো তিনি সাহিত্যের পুথি আবিষ্কারের পাশাপাশি এসব নিয়ে প্রবন্ধও লিখেছেন। আর এসব প্রবন্ধ উঠে এসেছে সমাজ, সংস্কৃতি, দেশ, ভাষা ইত্যকার নানা বিষয়াবলি।
সাহিত্যবিশারদ বিবিধ বিষয়ে প্রায় পাঁচশ প্রবন্ধ রচনা করেন। এসব প্রবন্ধ সমাজ, সাহিত্যের প্রামাণ্য দলিল। বিশেষ করে বাংলার তৎকালীন মুসলমানরা যখন বাংলা ভাষাকে ত্যাগ করে উর্দু, ফারসি ভাষা আমদানি করতে চাইছিল তখনই সাহিত্যবিশারদ তাঁর জ্ঞান, মেধা, প্রজ্ঞা দিয়ে মুসলমানদের বুঝাতে চাইলেন এ বাংলা মুসলমানদের মাতৃভাষা। এমন বিষয়ে তিনি অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেন। কয়েকটা প্রবন্ধের নাম উল্লেখ যদি লিখি- বঙ্গভাষায় মুসলমানী সাহিত্য (নবনূর,১৩১০), বঙ্গভাষা ও সাহিত্যে মুসলমানী প্রভাব ( নবনূর, ১৩১১), বঙ্গভবাষার আদিম গদ্য (অঙ্কুর, ১৩১৩), বঙ্গভাষার মুসলমান লেখক ও মুসলমান সাহিত্য (কোহিনূর, ১৩১২), বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বনাম বঙ্গীয় মুসলমান (আল এসলাম আশ্বিন-১৩২৫), আরবী অক্ষরে বাঙ্গালা লিখা (সত্যবার্তা, ১৩৪৩), পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা (দৈনিক পূর্ব পাকিস্তান, ১৩৫৪) ইত্যাদি।
শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে যখন মুসলমানরা বাংলা ও ইংরেজিকে ত্যাগ করছিল তখন এসব প্রবন্ধ ও বিভিন্ন সভায় সাহিত্যবিশারদ অভিভাষণ প্রদান করে বাংলার মুসলমানদের বুঝাতে চাইলেন মুসলমানদের উন্নতি একমাত্র বাংলা ভাষাতেই সম্ভাব। তিনি বারবার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে ছিলেন। অবস্থা এমন ছিল যে বাংলার মুসলমানরা একেক জায়গায় একেক ভাষায় কথা বলত। এই ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ব্যবহারের ফলে বাংলার মুসলমানদের মধ্যে কোন একতা সৃষ্টি হয়নি। তারা নিজেদের মধ্যেই ভাষাগত একতা তৈরি করতে না পেরে নিজ দেশেই তারা যেন পরবাসী। এই একতাহীনতাকে সাহিত্যবিশারদ জাতীয় উন্নতির একমাত্র অন্তরায় বলে মনে করতেন। এবং এই অস্বাভাবিক অসুবিধা দূর করার কোন অবলম্বন বের করা কর্তব্য বলে মনে করেন।
১৯০৩ সালের এক অভিভাষণে সাহিত্যবিশারদ বলেন, ‘ সুসময়ে উর্বর ক্ষেত্রে বীজ বপন করিতে পারিলে ফল লাভে বঞ্চিত হইতে হয় না। রাজা রামমোহন, ভূদেব, বঙ্কিম, বিদ্যাসাগর প্রভৃতি স্বনামধন্য মহাত্মাগণের ঐকান্তিক সাধনা ফলপ্রসূ না হইয়া যাইবে কেন? তাঁহাদের উদ্দীপনায় মোহনিদ্রা টুটিবে না ত কি? হিন্দু জাতির এই অভ্যুত্থানে বঙ্গভাষার কার্যকারিতা কে অস্বীকার করিবে? জাতিবিশেষ স্বকর্তব্যে প্রণোদিত করিবার পক্ষে জাতীয় সাহিত্য এক প্রধান উপায়। বস্তুত কোন জাতিকে মন্ত্র বিশেষের দীক্ষিত করিতে হইলে জাতীয় ভাষা দ্বারাই সেই মন্ত্র দিতে হয়।’ মূলত সাহিত্যবিশারদের এমন আক্ষেপের কারণ ছিল বাংলার মুসলমানদের বাংলা ভাষা তাদের নয় ভেবে ত্যাগ করার চেষ্টা। তিনি বলেন মাটিতে আছাড় খেয়ে পড়লে সেই মাটি ধরেই আবার উঠে দাঁড়াতে হয়। আর মুসলমানরা বাঙালা ভাষা ত্যাগ করে সেই সনাতন নিয়মকে ব্যতিক্রম করছে। এতে তো দুর্দশা হবেই। তিনি নানান পুথি আবিষ্কার করে এটা প্রমাণ করেন শত শত বছর ধরে বাংলার মুসলমানরাও বাংলা ভাষায় কথা বলে আসছে। এটাই তাদের মাতৃভাষা। ‘বলিতে কি বাঙ্গালা ভাষা ত্যাগ করলে বঙ্গীয় মুসলমানের কোন মঙ্গল আছে বলিয়া আমার বিশ্বাস নাই। যদি কখনো অধঃপতিত বাঙালির উদ্বোধন হয়, তবে বাঙালার অমৃতনিষ্যন্দিনী বাণী ও অনলগর্ভা উদ্দীপনাতেই হইবে।’
মুসলমান সমাজপতিরা যখন বাংলা ভাষাকে ত্যাগ করে নতুন ভাষা আনার চেষ্টা করছিল তখন সাহিত্যবিশারদ ১৯১৮ সালে ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বনাম বঙ্গীয় মুসলমান’ শীর্ষক অভিভাষণে বলেন, ‘দেশ প্রচলিত মাতৃভাষা পরিহার করিয়া সম্পূর্ণ বিদেশী ভাষার আমদানি করিবার চেষ্টা যে কখনও ফলবতী হইবে না, একথা দৃঢ়রূপেই বলা যাইতে পারে। বাঙ্গালা ভাষা ভিন্ন অন্য কোন ভাষা বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা ও জাতীয় ভাষা হইতেই পারেনা। চিরকাল মাতৃভাষা ও জাতীয় ভাষা বলিয়ে স্বীকৃত ও গৃহীত দেশভাষার স্থলে নূতন ভাষার আমদানী হইলে তাহা পরিণামে সমাজের পক্ষে কেবল মারাত্মক হইবে মাত্র। তাহাতে সমাজের উন্নতি হওয়া দূরে থাকুক, জীবনীশক্তি হারাইয়া উহা বরং একেবারে অচল ও পঙ্গু হইয়া পড়িবে। এখন আমার প্রিয় ভ্রাতৃগণের কেহ কেহ নিজের আঘাতে নিজের মাথা ভাঙিয়া পরের দ্বারে কান্দিতে যাওয়ার মত কার্য আরম্ভ করিয়াছেন, দেখিলে হাসিও পায়, দুঃখও হয়।’
তাঁর মধ্যে এক অসাম্প্রদায়িক বোধ কাজ করত। আর তিনি তা তাঁর সব কাজে সমানভাবে ধরে রেখেছিলেন। তাঁর আগে অনেকেই পুথি সংগ্রহ করেছিল। কোন এক অজ্ঞাত কারণে তাঁরা মুসলমানদের পুথি সংগ্রহ করেনি। কিন্তু সাহিত্যবিশারদ হিন্দু মুসলিম সবার পুথি সংগ্রহ করে বাংলা সাহিত্যের অসম্প্রদায়িক ইতিহাস চর্চাকে ত্বরান্বিত করেছিলেন। তিনি ধর্মীয় বিভেদকে যেমন ঘৃণা করতেন তেমনি ভাষার ক্ষেত্রেও এই বিভাজন তাঁকে পীড়া দিত। এমন ভাষা বিরোধ সামাজিক বৈরতাকে বাড়াবে বলে তিনি মনে করতেন, ‘ধর্ম্মের পার্থক্যে দেশে এখন এত অশান্তি, তার উপর ভাষারও যদি পার্থক্য ঘটে তবে আমাদের পরিণাম বড়ই ভয়াবহ হইয়া উঠিবে বলিয়াই মনে হয়।’ হিন্দু মুসলমানের মধ্যে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চলছিল তা সমাজ ও দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হচ্ছিল, এটা সবাই বুঝতে পারছিল। বাংলার এই দুই সম্প্রদায়কে এক জায়গায় আনতে সাহিত্যবিশারদ সবসময় চেষ্টা করছেন। আর এই একতা সৃষ্টির একমাত্র উপায় হিসেবে সাহিত্যবিশারদ মাতৃভাষা বাংলাকেই মনে করতেন। ভাষার ঐক্যের মাধ্যমে বাঙালি জাতির একতা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি মনে করতেন। ‘বঙ্গদেশ হিন্দু ও মুসলমানের দেশ, এবং হিন্দু ও মুসলমান লইয়াই বাঙালি জাতি গঠিত। এর দুই জাতির মধ্যে একটি সাধারণ ভাষা প্রচলিত থাকলে তাহাতে জাতীয়তা গঠনে যেরূপ সহায়তা হইবে, তাহা আর কিছুতেই হইতে পারে না। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রয়োজন কি, তাহা বোধহয় এখন আর কাহাকেও বুঝাইয়া বলিতে হইবে না। একমাত্র বঙ্গভাষাই বঙ্গের দুইটি সহোদর সমাজকে পরস্পরের প্রতি প্রীতিশীল ও অনুরাগ সম্পন্ন করিতে পারে।’
কিছু কিছু মুসলমান বাংলা ভাষাকে তাদের পূর্বপুরুষের ভাষা নয় বলে মনে করত। আর আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ তাঁর পুথি আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিলেন প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের পূর্বপুরুষগণের ভাষা বাংলা। তিনি বলেন, ‘প্রাচীনকালে আমাদের পূর্বপুরুষগণ বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্যকে আপনাদের মাতৃভাষা ও জাতীয় ভাষা রূপে বরণ করিয়া লইয়াছিলেন। বাঙ্গালার বিরাট প্রাচীন মুসলমান সাহিত্যের যে অংশ আবিষ্কৃত হইয়াছে তাহা হইতে সহজেই প্রমাণিত হইতে পারে যে বাঙালী মুসলমানের বাংলা ভাষাই আবহমান কাল মাতৃভাষা ও জাতীয় ভাষা ছিল। এখনো তাহাই আছে এবং ভবিষ্যতেও তাহাই থাকা উচিত এবং আবশ্যক।’ সাহিত্যবিশারদ বারবার বলেছেন একটি জাতির উন্নতি তার মাতৃভাষা এবং রাষ্ট্রভাষা এক হওয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। তৎকালীন সময়ে হিন্দুরা সমাজের উচ্চস্থানে অবস্থান করছিল আর মুসলমানরা সমাজের একদম নিন্ম স্থানে এসে দাঁড়িয়েছিল। তার কারণ হিসেবে বাংলার মুসলমানদের বাংলাভাষা ত্যাগের মনোভাবকেই একমাত্র কারন বলে তিনি মনে করতেন। আর আরবী ফার্সী উর্দুকে জাতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার চেষ্টা জাতির জন্য শুভকর নয় বলে তিনি বারবার বলেছেন। দু চারজন শিক্ষিত লোক উর্দুকে জাতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণ করলেও বাংলার সাধারন মানুষের রক্তে রক্তে শিরায় শিরায় মর্মে মর্মে বাংলা ভাষায় বিবৃত আছে। ১৯১৪ সালের এক অভিভাষণে সাহিত্যবিশারদ বলেন, ‘ উর্দু ভাষা যতই সুন্দর শ্রেষ্ঠ ও প্রয়োজনীয় হউক না কেন, বঙ্গদেশে মুসলমান সমাজে তাহা কখনোই বাংলা ভাষার স্থান অধিকার করিতে পারিবে না। আমাদের মধ্যে অনেকেই উচ্চশিক্ষা প্রাপ্ত হইয়া মাতৃভাষাকে অবহেলা বা অবজ্ঞা করিয়া অনেক সময় কথোপকথনে উর্দ্দু ব্যবহার করিয়া থাকেন। তাঁহাদের এইরূপ কার্য্যের ফল কিরূপ বিষময় হইয়া দাঁড়াইয়াছে, তাঁহারা কেহ একবারও তাহা চিন্তা করিয়া দেখেন না।’
পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরপরই দৈনিক পূর্ব পাকিস্তান পত্রিকায় সাহিত্যবিশারদ একটি প্রবন্ধ লিখেন ‘পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ শিরোনামে। যেখানে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষাকে এ অঞ্চলের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। তাছাড়া একই বছর নভেম্বরে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, কবি জসীমউদদীন, দৈনিক আজাদ সম্পাদক সাহিত্যিক সাংবাদিক আবুল কালাম শামসুদ্দীন, ডঃ মুহম্মদ এনামুল হকসহ ২০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানিয়ে এক স্মারকলিপি স্বাক্ষরিত হয়। যা পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের কাছে পাঠানো হয়। তার পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের সেই রক্তঝরা আন্দোলন আজ অজানা নয়। বাঙালির এই ভাষা সংগ্রামের অনেকগুলো উপাদানের মধ্যে একটি হিসেবে সাহিত্যবিশারদের কথা বলা যায়।
সাহিত্যবিশারদ সারা জীবন কেবল পুথি সংগ্রহ করেই যাননি, তিনি যেন সংগ্রহ করেছে বাঙালির ভাষাকে, ভাষাপ্রেমকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সমাজের স্থরে স্থরে। তাঁর ধ্যানে, জ্ঞানে কেবল ছিল বাংলা, বাঙালি ও মাতৃভাষা। এ তিন অভিন্ন জিনিস তিনি ধারণ করেছেন মনে প্রাণে। বাংলা ভাষাকে আপন করে নিয়ে বাঙালির উন্নতি ছিল তাঁর স্বপ্ন। তাঁর এমন ভাষা প্রীতির কাছে ম্লান হয়েছিল শত লাঞ্ছনা, অপমাণ। তাই তো আজ বাংলা ভাষায় তিনি বেঁচে আছেন, থাকবেন অনন্তকাল। তাঁর মত করে বলতে ইচ্ছে করে, ‘আমার এ বাংলা ভাষার কোন মৃত্যু নাই, তেমনি মৃত্যু নাই সাহিত্যবিশারদের।’