ক্লান্ত পরিশ্রান্ত দেহ নিয়ে আবিদ বাসায় ফিরল। মেয়েরা বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। হাসিখুশি মনের মানুষটা গোমরামুখো হয়ে আছে কেন ? তাহলে কি মনজু খারাপ ব্যবহার করেছে ?এ হতে পারে! যে মানুষটা তাকে ছেলের মতো আদর দিয়েছে, ভালোবাসা দিয়েছে, ভুল যদি কিছু হয়ে থাকে তা মায়ের। সেজন্য বাবা দায়ী নয়।
মেয়েদের অস্থিরতা দেখে আবিদ বলল, কিছু হয়নি মাগো। জানি না তোমরা অকারণে কী ভাবছ।
তাহলে তুমি এমন করছো কেন ?
শুনবা কী হয়েছে ? সহ্য করার ক্ষমতা হবে তোমাদের ?
পারতে তো হবে। এ পর্যন্ত অনেক কিছু সয়েছি। কখনো কি ভেবেছিলে আমাদের জীবনে এমন হতে পারে ? তবু হয়েছে। মেনেও নিয়েছি। চোখের সামনে কতকিছু হারাতে দেখেছি। আজ আর ভয় নেই বাবা।
শোনো তাহলে, এতদিন যাকে বিশ^াস করে ভালোবেসে এসেছে, সে আসলে তোমার কেউ নয়। ক্ষণিকের রং মেখে সে নিজেকে বদলে নিয়েছে। গিরগিটি দেখেছিস কখনো, যে মানুষের রক্ত চুষে খায়, আবার মায়াবী ভঙ্গিতে মানুষের দিকে তাকায়। বড় অদ্ভুত এক প্রাণী।
বাবার মুখ থেকে যখন কথাগুলো বের হচ্ছিল, খুব তন্ময় হয়ে রাফি শুনছিল প্রতিটি কথা, প্রতিটি শব্দ। সে এমনভাবে বাবার দিকে তাকিয়েছিল যেন, এ মানুষটিকে এর আগে কখনো দেখেনি। আসলে সে বেদনার অতলে হারিয়ে ক্ষণিকের জন্য হলেও অতীতকে ভুলে থাকার চেষ্টা করছে। বাবার কথাগুলো তাকে এমনভাবে মর্মাহত করল যেন, একটি পাথুরে মূর্তি তার উপর ভর করেছে। তার কষ্টের তীব্রতা পাথুরে মূর্তির চোখেও যেন জল এনে দিয়েছে। তাই চোখের পাশ গড়িয়ে বিন্দু বিন্দু অশ্রুকণা ঝরে পড়ছে।
মেয়ের ব্যথায় আবিদের বুকটা ভারি হয়ে আসছে। কাছে টেনে নিয়ে মেয়েকে বলল, মা, সময়টা আজ আমাদের নয়, অযথা দুঃখ করিস না। সুখ কপালে থাকতে হয় মা। নাহলে মনজুর মতো ছেলে এমন হবে কে ভেবেছিল।
বেশ কদিন হলো। রাফির কোনো কাজে মন নেই। পড়াশোনা ঠিকমতো করছে না। আবিদ মেয়েকে নিয়ে খুব চিন্তিত হয়ে পড়ল। এতদিন সে কত ভালো ভালো সম্মন্দ হাতছাড়া করেছে মেয়ের পছন্দেরপাত্র মনজুর হাতে মেয়েকে তুলে দেবে বলে। আর সে আশায় জল ঢেলে দিয়েছে মনজু।
মেয়েকে সান্ত¡না দেয়ার জন্য বলল, চিন্তা করিস না মা, আমি তোর জন্য অনেক ভালো পাত্র এনে দেব, দেখিস, আল্লাহ তোর ভালো করবেন।
বাবার কথায় রেগে রাফি বলল, আমি কি বিয়ের জন্য পাগল হয়েছি ?তুমি আমায় নিয়ে একটুও টেনশন কোরো না। লেখাপড়াটা আমি মন দিয়ে করব। আমি দেখতে চাই, অর্থসম্পদ আর টাকাকড়ির মোহে মানুষ কীভাবে বদলে যায় ?
এসব তুই কী বলছিস ?
এটাই আমার মনের কথা।