আফির স্বামী ইতালিতে এক ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছে। খবরটা অনেকের কাছে আচমকাই। তারও একটা কারণ ছিল, এতদিন সবাই লোকটাকে ভুল বুঝেছিল। আফির সাথে বিয়ে হবার পর বাড়িতে কাউকে না-জানিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে। চোরাই পথে ইতালিতে ঢোকার সময় ইতালিয়ান পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এর কিছুদিন আগেই সেখানে বড় ধরনের এক জঙ্গি হামলা হয়। ফলে ইতালিজুড়ে বহিরাগতদের উপর ছিল রেড এলার্ট। জঙ্গি সন্দেহে সে পুলিশের হাতে আটক হয়। দশটি বছর কাটে কারাগারে। অবশেষে যখন নিরপরাধী প্রমাণিত হয়ে বেরোলো তখন এ দুর্ঘটনা।
যার সাথে ইদানীং আফির একটা ভালো সম্পর্ক তার মাধ্যমেই খবরটা আাফির কানে আসে। আফিকে নিয়ে তার অগোচরে বাপ-মেয়ের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। রাফি বিষয়টি বুঝেও বড় বোনকে ধরা দেয় না। অন্যদিকে আফি নিজেও বাবাকে কিছু বলে না।
একদিন আফি বাবাকে লক্ষ করে বলল, বাবা, অকারণে আমাকে ভুল বোঝ না। তোমাদের ভালোবাসা আর বিশ^াস নিয়েই বেঁচে আছি। ওইটুকু হারালে আর যে কিছু থাকবে না। ভরসা রেখো, তোমার মেয়ে এমন কিছু করবে না, যাতে সমাজের কাছে তোমার মুখটা ছোট হয়ে যাবে। আর সে কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয়ও দেবে না।
বাবা মেয়ের এই উদ্দেশ্য মাখানো কথাগুলো ভালো করে বুঝতে না পারলেও মেয়ে যে তাকে অনেক বড় একটা ইঙ্গিত দিয়েছে সেকথা বুঝতে তার বাকি রইল না।
আফি বাবাকে বলল, তোমার জন্য একটা দারুণ খবর আছে।
আমার জন্য প্রতিটি খবরই তো আজকাল দারুণ। এর চেয়েও দারুণ আরো কিছু হয়নাকি !
বাবা, তুমি অমন করে বোলো না। তোমার জন্য আজ বড় আনন্দের দিন। তোমার ঘরের মানুষ তোমাকে বুঝতে পেরেছে। তার ভুলের জন্য নিজেই আজ অনুতপ্ত।
তুই কী বলছিস ? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।
পারবে। বাবা পারবে। একটুখানি ধৈর্য ধরো।
এ আবার কেমন কথা ?
আমার অফিসে একজন তোমার খোঁজে এসেছিল। আর তা তোমারই জন্য।
ওহ! সুমা! আমি ওর ঘরসংসার চাই না। সুখ চাই না। বাকিটা জীবন তোদের নিয়ে এভাবেই কাটিয়ে দিতে চাই। তোরাই আমার পরম সুখ। তোদের নিয়েই আমার নতুন পৃথিবী।
বাবা, ভুল তো মানুষে করে। আর ক্ষমাও করে মানুষ। বুড়ো বয়সে আমরা কি আমাদের বাবাকে একটু অন্যরকম ভাবতে পারি না ?যার মধ্যে রয়েছে ক্ষমা। মানুষের প্রতি সহানুভূতি। হোক না সে আপনজন।