আলমাস সাহেব আভাস দিয়েছিলেন খুব শিগগিরই আমরা সিকিম ও দার্জিলিং যাচ্ছি। ৭ অক্টোবর ২০১৯ শুরু হলো আমাদের সিকিম যাত্রা। ঢাকা থেকে রাতেই এস আর পরিবহনের বাসে রওয়ানা করে বাংলাদেশের বুড়িমারী চেকপোস্ট দিয়ে ইন্ডিয়া ইন করেছি। ইন্ডিয়ার এই চেকপোস্টের নাম চেংরাবান্ধা। বাস ছুটে চললো ময়নামুড়ি বাজার রোড ধরে। ময়নামুড়ি জলপাইগুড়ি জেলার একটি এলাকা। একে একে মোহিত নগর, বেলকোবা,ফুলবাড়ি, উত্তরবঙ্গ হয়ে শিলিগুড়ির সিকিম বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে গেলাম। সিকিম ভ্রমণের জন্য গ্রুপ করে যেতে পারলে খুব ভালো হয়। কারণ, আপনি সিকিমের যেখানেই যাবেন, গাড়ি রিজার্ভ করে যাওয়া লাগে। আমরা সৌভাগ্যবশত সীমান্তেই ছয়জনের একটি গ্রুপ পেয়ে গিয়েছিলাম। জিপ রিজার্ভ করে আমরা সিকিমের উদ্দেশ্যে ছুট। শিলিগুড়ি থেকেই শুরু হলো পাহাড়ি পথ। পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখার জন্যই আমাদের এই যাত্রা। অতএব আমাদের দুচোখ ভরে রাজ্যের বিস্ময়! কোথাও সবুজ, কোথাও কালচে আবার কোথাও ধূসর পাহাড়ের সারি। মাঝখানে পরিষ্কার নীলাকাশ। পাহাড়ের উপর দিয়ে কী যেন তুলোর মতো সাদা সাদা দেখা যাচ্ছে। আমি মেঘ ভেবে অবাক হলাম! এমন সাদা মেঘ তো আমি জীবনেও দেখি নাই! আল্লাহ নিশ্চয়ই একেক দেশে একেক রকম মেঘ দিয়েছেন ভেবে বেশ পুলকিত হলাম! কিন্তু আমার জানার আরো অনেক কিছুই বাকি ছিল তখনও।জীপ ছুটে চলছে পাহাড়ি পথ বেয়ে। একপাশে পাহাড়, একপাশে তিস্তা নদী, যে নদীতে বাঁধ দিয়ে ভারত আমাদের পানি বঞ্চিত করছে। কালো কালো পাহাড়গুলো যতই কাছে আসে ততই সেগুলো গাঢ়ো সবুজে রূপান্তরিত হচ্ছে। আমার দু’চোখ বিস্ময়াভিভূত! যেসব দৃশ্য এতোদিন খাতায় এঁকেছি, রঙ করেছি আর দেখার আকুলতায় মরেছি, সবকিছু একের পর এক আমার চামড়ার চোখে ধরা দিচ্ছে! আর পাহাড়ি পথ যে এতো মসৃণ হয় আমি ভাবতেই পারিনি! তবে ভিষণ আঁকাবাঁকা যদিও ভয়ের কিছু নেই। প্রতিটা বাঁকেই গিরি সাইডে পাথর অথবা রড দিয়ে রেলিং দেয়া। মাঝে গাড়ি থামিয়ে লাঞ্চ সেরে নিলাম। গন্তব্য বরফের রাজ্য সিকিম। (খরচ বিবেচনায় সিকিম ঘোরার জন্য আটজনের দল হচ্ছে ‘উৎকৃষ্ট’)। একসময় দলেবলে বুনো ফুল ফোটা পাহাড়ি রাস্তা পেরিয়ে ঢুকলাম বরফ দেশের সীমান্তে। ছয় ঘণ্টার যাত্রা শেষে সামনে হাতছানি দিল রূপকথার রাজ্য-গ্যাংটক।
কিন্তু বিপত্তি হলো বৃষ্টি। বেশ ভালো বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টিতেই নামতে হলো। এখানে একটি কথা পরিষ্কার বলে নেই, পুরো সিকিমটাই কিন্তু চিটিংবাজদের আড্ডাখানা। একটু ভুল করলেন তো নির্ঘাত প্রতারিত হবেন। প্রথম ড্রাইভারের কাছেই আমরা প্রতারিত হলাম। মূল জায়গায় না নামিয়ে ভুল জায়গায় নামিয়ে দিলো। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই আমরা হোটেলে আশ্রয় নিলাম। সিদ্ধান্ত হলো আল্লাহ চাইলে আগামীকালই লাচুং এর পথে বেরিয়ে যাবো।