ফুলের উদ্দেশ্যে যাই, ফুল তুমি কিছুক্ষণ থাকো।
সোনালি হরিণ তুমি, ফুটে থাকো সবুজের শেলফে দেরাজে,
একটি সুদূর তারা, যেন বিপুল সুদূরে রয়েছে-
ফুল তুমি কিছুক্ষণ থাকো।
হুমায়ুন কবির

বুনো ঝাউ গাছে তা তা থৈ থৈ ভূত
ভূতের নৃত্য তা তা থৈ থৈ ভূত
হাজার দুয়ারী চাঁদ দেখে শেষ রাতে
ঝাউ গাছ ওড়ে চাঁদ নেমে আসে চরে
চাঁদে ভূত থৈ থৈ
লোরকার মতো ওখানে কে পড়ে আছে
লোকটার বুকে একলা সূর্য বহুবিধ নীরবতা
স্বপ্নের সব মশকপূর্ণ চন্দ্রিমা ঝলোমলো
ডালিমের দানা গলে গলে তার লেবাসের কারুকাজ
পঙ্খীরাজের পাখার আওয়াজ শুনবার ছিলো তারই
চোখ দুটো ছিলো বন্ধ
-অন্তর ছিলো হাজার দুয়ারে খোলা

মাথার উপরে ডানা ঝাপটায় শকুনের মতো মেঘ
মেঘের আড়ালে চাঁদ নয় উমিচাঁদ
চাঁদ নেমে আসে বনে বাস করে ভূত
ভূতের দুপাটি জগৎ শেঠের দাঁত
ড্রাকুলার মতো হিসহিসে দাঁত প্রান্তরে তোলপাড়

ভগবানগোলা খুব চাঁছাছোলা
স্বপ্নের মানে বোঝে না হরিণ ফড়িং
ভন্ড ফকির ইকড়ি মিকড়ি
মিরনের ভাই মেঘে চমকায় ভূত
মাঝরাতে মাটি ভিজে হয়ে ওঠে লাল

লোকটার বুকে আপেলের মতো আশা

ঝরাপাতা ওগো মহিশূরে যদি যাও
বলো পলাশীর জমাট নীলের নিচে
পথ চেয়ে চেয়ে লড়েছিলো প্রেমিকেরা

খঞ্জর তার পাঁজরে কি বিঁধেছিলো
কলিজার খুন ঝরেছিলো কতোটুকু
কতোবার ছিলো তৃষ্ণার কাতরানি
গভীরতাগ্রাহী চোখ দুটো তার কাকে চেয়েছিলো কাছে

কারা করেছিলো স্বপ্নকে ছিনতাই
অর্থবিহীন কোটি সবুজের পাশে
একটি সবুজ কার বুকে ছিলো লাল
হেকুবার মতো আমিনার শোক লুৎফার বুকে নদী
আমরা সবুজ মাঠের মধ্যে যাই
সবুজ ফড়িং লাফ দিয়ে ক্ষেপে ওঠে
আমরা আকাশে সূর্য সূর্য চাঁদ
ডালিমকুমার ডালিমকুমর মৌন পঙ্খীরাজ

চৌকাঠ খুলে কাশে উদাসীন ঝিঁ ঝিঁ :
আমি চান মিয়া সূর্য আমার ভাই
তার খুব জ্বর তারে কেন ডাকাডাকি
আমারেই কন মজুর লাগবে ক্ষেতে
কাস্তে কোদাল কী নেব সঙ্গে কন

গরম কবজি নরম রমণী মেখে
গন্ধের ঘোরে ঝিম মেরে চিতাবাঘ
বাঘছাল খোলে তা তা থৈ থৈ ঝাউ
কুয়াশা মলিন নিঃশ্বাস জমে শাদা
শীতে শেষরাত শ্রীরঙ্গপত্তম

অশ্বারোহীর চোখ জুড়ে কাল ঘুম
ঘুমের মধ্যে আশা আশা চিৎকার
আশা বললেই আশালতা দেবী
মুর্শিদাবাদ বকুল খোয়ানো গাছ
কফিনের পাশে অদ্ভুত সব ভূত
মাথা নত করে নখ দিয়ে মাটি খোঁড়া
-তারার আগুনে খুব বড় করে এই কথা লেখা ছিল

খঞ্জর তার পাঁজরে বিদ্ধ ছিলো

কফিনের পাশে অস্থির রাত দিন
কফিনে কফিনে গোরখোদকের লালা
মাথার উপরে লাল নীল দাড়ি কমা
বাঝে পোড়ে গাছ মার্বেল হাতে নেয়া
সেই মার্বেল গড়িয়ে গড়িয়ে পানি
পানি খেতে চাই-
আকাশ ফাটিয়ে মুখ ভ্যাংচায় রোদ :
আমি আনোয়ার হোসেন সিরাজ করি
মঞ্চে মঞ্চে দিন রাত খোঁড়াখুঁড়ি
লোরকার মতো একা পড়েছিলো লাল
লালের হৃদয়ে সবুজ মেশানো ছিলো
মেশানো সবুজ মাটি ফুঁড়ে ফুঁড়ে গাছ
গাছের হৃদয়ে সবুজ কোথাও নাই

লোকটাকে ঘিরে হাজার দুয়ারী ধাঁধা
লোকটার দেহ একা পড়েছিলো মাটিতে