ক্রিং ক্রিং ক্রিং মোবাইল ফোন বেজে উঠলো শিলা ভুঁইয়ার।এই অসময়ে আবার কে ফোন করলো? খানিকটা বিরক্তি নিয়ে শীলা ভুঁইয়া শোয়া থেকে উঠে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো এক অপরিচিত নাম্বার।
-হ্যালো, কে বলছেন?
-আমি পুলিশ স্টেশন থেকে পুলিশ ইন্সপেক্টর আশরাফ খন্দকার বলছি।
-জ্বি, বলুন।
-আপনি কি শীলা ভুঁইয়া বলছেন?
-জ্বী, বলছি।
-আপনার বাসার কেয়ারটেকার আবদুল আলী সড়ক দূর্ঘটনায় মারাত্মক আহত।আমরা তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হসপিটালে নিয়ে আসছি।মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে।এখন সম্পূর্ণ বেহুঁশ অবস্থায় আছে।
-এটা কোথায় হয়েছে প্লিজ।
-শাহবাগ মোড়ে।
-আচ্ছা, আমি এক্ষুনি আসতেছি বলে ফোন কেটে দিয়ে শীলা ভুঁইয়া হসপিটালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আর ভাবছেন রমজানের এই সময়ে আবদুল আলী চাচা কেনইবা শাহবাগ মোড়ে যাবেন? এই সময়েতো উনি ঘুমে থাকার কথা।হঠাৎ মনে পড়লো কাল রাত যে তাকে ভোরে বাজারে গিয়ে একদম তাজা গরুর গোস্ত আনার দায়িত্ব দিয়েছেন শীলা ভুঁইয়া। ইস, বেচারা আমার কাজে গিয়েইতো বিপদে পড়লো।আবদুল আলী গত দশ বছর এই বাড়ির কেয়ার টেকার হিসেবে আছেন।বাড়ির ছোট বড় সবাই এই আবদুল আলীকে সম্মানের চোখে দেখে।আবদুল আলীর সরলতা আর বিশ্বস্ততার কারণে সবাই তাকে ভালবাসে।পারিবারিক বাজার খরচা সব তাকে দিয়ে করানো হয়।বাজার থেকে এসে ফাই ফাই করে হিসেব বুঝিয়ে দেন।কখনো একটাকার গড়মিলের নজির নেই।শীলা ভুঁইয়া গাড়ি নিয়ে ছুটছেন বঙ্গবন্ধু হসপিটালের দিকে।আর ভাবছেন এত সকাল কেন তাকে বাজারে পাঠেতে গেলেন? আহ, বেচারার এখন কি অবস্থা? পুলিশ ইন্সপেক্টর বলছেন মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছেন।জ্বি ম্যাডাম, আমরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হসপিটালে চলে আসছি বললো গাড়ির ড্রাইভার শরিফ।পুলিশের দেয়া তথ্যমতে শীলা ভুঁইয়া পাঁচতলায় ১২৫ নম্বর কেবিনে গিয়ে দেখেন সেখানে চারজন পুলিশ সদস্য বসে আছেন।ডাক্তার আবদুল আলীকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন?
-আপনি শীলা ভুঁইয়া? বললেন পুলিশ ইন্সপেক্টর আশরাফ খন্দকার।
-জ্বী, আমিই শীলা ভুঁইয়া।
-আচ্ছা, আমরা কয়জন মাদক ব্যবসায়ীদের তাড়া করছিলাম।তারা আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আপনার বাসার কেয়ারটেকার তাদের গাড়ির সাথে প্রচন্ড ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় সিটকে পড়ে।পরে আমরা তাদের দিকে নজর না দিয়ে তাকে উদ্ধার করি। তখন তার হুঁশ ছিলো। আমাদের হাতে আপনার এই ভিজিটিং কার্ড তুলে দিয়ে দু’চারটি অস্পষ্ট কথা বলার পর তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়েন।আমরা থানায় একটি ডায়রী এন্ট্রি করতে হবে।তার পুরো ঠিকানাটা আমাদের দিন।
-আসলে কি, উনার ঠিকানা আমাদের ঠিকানা।উনি দীর্ঘ দশ বছর আমাদের বাসায় আছেন তবে উনি উনার কোন বাড়িঘরের ঠিকানা বলতে পারেননা।
-এটাতো আরেক নতুন ঝামেলা বললেন আরেক পুলিশ সদস্য।
-আচ্ছা, সেদিকে যাওয়ার দরকার নেই।আগে উনাকে চিকিৎসা করে সুস্থ্য করে তুলুন।আর আমরা আপনার ঠিকানায় উনার ডায়রী এন্ট্রি করছি বললেন পুলিশ ইন্সপেক্টর আশরাফ খন্দকার।
-তাই করেন।আরেকটা বিষয় উনি আমার এখানের ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
-তাই নাকি? তাহলে আর কোন সমস্যা নেই।ওকে, আমরা উঠছি বলে পুলিশের বাকি তিনজন সদস্য ইন্সপেক্টর আশরাফ খন্দকারের পিছু পিছু রুম থেকে বের হয়ে লিফটের দিকে আগাচ্ছেন।

দুই.
শীলা ভুঁইয়া হসপিটাল সুপারিনটেনডেন্ট শাহ মিজানুর রহমানের অফিসে বসে আরো উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে পরামর্শ করছেন।আজ দশ দিনেও রোগির হুঁশ না ফেরায় ডাক্তারগণ রীতিমত হতাশ হয়ে পড়ছেন।শাহ মিজানুর রহমান শীলা ভুঁইয়ার কলেজ ক্লাস ফ্রেন্ড হওয়ায় হসপিটাল ডাক্তাদের চেষ্টায় কমতি নেই।তাদের কথার ফাঁকে কক্ষে প্রবেশ করে এক সিনিয়র নার্স।সে এসেই বলে স্যার, ১২৫ নম্বর কক্ষের রুগির হুঁশ ফিরছে।তিনি এখন তার আপন লোকদের খুঁজছেন।
তাই নাকি? বলে ডাক্তার শাহ মিজানুর রহমান শীলা ভুঁইয়াকে নিয়ে ১২৫ নম্বর কেবিনে গেলেন।হ্যাঁ, একটু আগেই তার হুঁশ ফিরছেন।তবে তার সাথে কোন কথা বলা যাবেনা।তাকে প্রচুর বিশ্রামে থাকতে হবে।একে একে করে সব ডিউটি ডাক্তার ১২৫ নম্বর কেবিনে এসে হাজির হলেন। আবদুল আলী ডাক্তারদের সাথে দু চারটি কথা বলছেন কিন্তু শীলা ভুঁইয়ার দিকে ফিরেও তাকাননি। মনে হয় যেন কোন অপরিচিত লোক।ডাক্তার প্রয়োজনীয় ঔষধ নির্দেশনা দিয়ে একজন সিনিয়র নার্সকে রুমে দায়িত্ব দিয়ে যান।শীলা ভুঁইয়া আবদুল আলীর পাশে গিয়ে কপালে হাত দিয়ে বলেন চাচা এখন কেমন লাগছে?
-তুমি কে? আমি এখানে কেন?
-চাচা, আমি শীলা ভুঁইয়া।
-কোন শীলা ভুঁইয়া? আমাকে চিনো কিভাবে? শোন, তুমি আমাকে একটু হেল্প করবে?
-চাচা, আপনি বলেন। আমি আপনাকে সব হেল্প করবো।
-তুমি আমাকে আমার বৌ বাচ্চার কাছে পৌছে দাও।তাদের জন্য আমার খুব মন কাঁদছে।
-চাচা, আপনার বৌ বাচ্চা? আপনি না বলছেন আপনি বিয়ে করেননি?
-ধ্যৎ, পাগল মেয়ে আমি কখন তোমার সাথে এসব কথা বলছি? প্লিজ, তুমি আমাকে আমার বৌ বাচ্চার কাছে পৌঁছে দাও।
-আচ্ছা, তারা এখন কোথায় আছে? আপনার বাড়ি কোথায়?
-আমি ঠিক বলতে পারছিনা।
-আচ্ছা, আপনি মনে করে নিন।আমি আপনাকে সাহায্য করবো ওয়াদা করছি।
-সত্যি বলছ মা? আমি আমার বৌ বাচ্চাদের খুঁজে পাবোতো?
-হ্যাঁ, পাবেন। ডিউটি ডাক্তার এসে স্যালাইনে একটা ইঞ্জেকশন দিতেই আবদুল আলী ঘুমিয়ে পড়ছেন।শীলা ভুঁইয়া বুঝছেন ইঞ্জেকশনটা ছিলো ঘুমের।ডাক্তার নার্সকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন আর যাওয়ার সময় বললেন তুমি এই রুম থেকে কোথাও যাবেনা।রোগি তিনটার দিকে জাগবে তবে তোমাকে সার্বক্ষনিক পাশেই থাকতে হবে।জ্বী স্যার, তাই হবে বলে নার্স মাথা নেড়ে সায় দেন।

তিন.
আজ শীলা ভুঁইয়া খুব ব্যস্ত।লন্ডন থেকে মা ফিরছেন।শীলা ভুঁইয়ার মা রৌশন আরা পনের বছর পর দেশে আসছেন।তিনি শীলা ভুঁইয়ার একমাত্র বড় ভাই কাউসার ভুঁইয়ার সাথেই লন্ডন থাকেন।দেশে আসা হয়না। শীলা ভুঁইয়া প্রত্যেক গ্রীষ্ম মৌসুমে মায়ের কাছে গিয়ে দু মাস থেকে আসেন। এবার মায়ের সাথে যাবেন।শীলা ভুঁইয়া ভাবছেন মাকে নিয়ে বিমান বন্দর থেকে ফেরার পথে আবদুল আলী চাচাকে একবার হসপিটালে দেখে আসবেন। সারাক্ষণ ভাবনায় একটা বিষয় আবদুল আলী চাচা এসব কী বলছেন? তার বৌ বাচ্চা? তিনিতো বিয়েই করেননি, তাহলে? হয়ত অসুখের তাড়নায় তিনি প্রলাপ বকছেন এমন হতে পারে।হয়তো তাই।পুরো হুঁশ ফিরলে সব বুঝা যাবে।যাক, এ নিয়ে ভাবার কি আছে? সামান্য জ্বরে আমরাতো কত প্রলাপ বকি।ঘড়ির কাঁটা ঠিক দশটায় ঠেকছে।বিমান ল্যান্ড করবে এগারটায়। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে সাড়ে এগারটায় বিমান বন্দর থেকে বের হওয়া যাবে।তাই দেরি না করে এক্ষুনিই বিমান বন্দরে যেতে হবে।শীলা ভুঁইয়া ড্রাইভারকে ফোনে গাড়ি রেডি রাখতে বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

চার.
বিমান বন্দর থেকে ফেরার পথে রাস্তায় খুব জ্যামের কারণে শীলা ভুঁইয়া হসপিটাল যেতে পারেননি।তাই ইফতার সেরে বাসার কাজের মেয়েকে হাতে নিয়ে হসপিটালে আসছেন।রুমে ঢুকতে দেখেন আগের সেই সিনিয়র নার্স আবদুল আলী চাচাকে বসিয়েছেন।একটু আগে নাকি এই প্রথম মুখে খাবার দিয়েছেন।শীলা ভুঁইয়া রুমে ঢুকতেই আবদুল আলী বলে উঠলেন এই মেয়ে তুমি না বলছ আমাকে আমার বৌ বাচ্চার কাছে পৌছে দিবে? জানি, তুমিও আমাকে ফাঁকি দিবে।এই অভাগার জন্য জগতে কেউ নেই।
-চাচা, আপনার বৌ বাচ্চারা কোথায় আছে?
-তা যদি আমি জানতাম তাহলে কি তোমাকে বলতাম? আমি কিছুই জানিনা আর কিছুই মনে করতেও পারছিনারে মা বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন আবদুল আলী।
-আমি আপনাকে ওয়াদা দিচ্ছি যেই করে হোক আমি আপনাকে আপনার পরিবারের কাছে পৌছাবো।
-সত্যি বলছ মা?
-হ্যাঁ, সত্যিই বলছি।রুমে ঢুকেন ডাক্তার শাহ মিজানুর রহমান।আবদুল আলীর সাথে কৌশল বিনিময় করেন।দেখো, শীলা তোমার আবদুল আলী চাচা এখন অনেকটা স্বাভাবিক।তাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারো।দীর্ঘ বিশ্রাম প্রয়োজন তার।আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।তুমি বললে আজই আমি রিলিজ করে দিব।
-হ্যাঁ, তাই করো মিজান।
-আমি কই যাবো? কার কাছে থাকবো? অনেকটা আতংক আর উদ্বেগের সাথে জিজ্ঞাসা আবদুল আলীর।
-কেন চাচা, আপনি আমার বাসায় যাবেন?
-আমি কেন তোমার বাসায় যাবো? না, আমি তোমার সাথে যাবোন।আমি এখানেই থাকবো।
-আরে চাচা, আপনি আমার সাথে না গেলে কিভাবে আমি আপনাকে আপনার পরিবারের সদস্যদের পেতে সাহায্য করবো?
-হ্যাঁ, ঠিক আছে এক্ষুনি যাবো।তুমি আমাকে দ্রুত সময়ে আমার পরিবারের কাছে ফেরত পাঠাবে।আমি আবার আমার স্কুলে যোগদান করবো।
-আপনি স্কুলে চাকুরী করতেন?
-হ্যাঁরে, মা আমি আমার হাতে গড়া স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক।
ডাক্তার শাহ মিজানুর রহমান রুম থেকে বের হতে শীলা ভুঁইয়াকে হাতে ইশারা দিয়ে ডেকে চেম্বারে নিয়ে যান।
-আচ্ছা, ডাক্তার মিজান বলতো আসল কাহিনী কী? আবদুল আলী চাচা এসব কী বলছেন? আরেকটা বিষয় খেয়াল করছি হুঁশ ফেরার পর তিনি আমাকে চিনছেননা।
-এটা বলার জন্যই তোমাকে ডাকছি।উনি যা বলছেন তার সবই সত্য।আমার ধারণা উনি বহু আগে বড় ধরণের দূর্ঘটনায় স্মৃতিভ্রম হয়েছেন আবার এবারে দূর্ঘটনায় আগের স্মৃতি ধীরে ধীরে ফিরছে।তবে সম্পূর্ণ স্মৃতি ফিরতে অনেক সময় লাগবে।বাসায় সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।মাঝে মাঝে বিনোদনের জন্য আশ পাশের পার্কে নিয়ে যেতে পারো।আমি ছাড়পত্র প্রস্তুত করে দিচ্ছি আজই বাসায় নিয়ে যাও।উনি তোমাকে না চিনলেও এখন তোমাকে কিছুটা হলেও আপন ভাবছেন।
-হ্যাঁ, আমি যে বলছি যেই করে হোক আমি উনাকে উনার পরিবারের কাছে পৌছাব এই জন্যই উনি আস্থা রাখছেন।
হসপিটাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে শীলা ভুঁইয়া আবদুল আলী চাচাকে নিয়ে বাসায় ফিরছেন।বাসায় ঢুকে সেই পরিচিত বাসায়ও আবদুল আলী চাচা কেমন অপরিচিতের মতোই।
-মা, এটা তোমার বাসা?
-জ্বি চাচা, আপনি এই বাসা আগে কখনো দেখছেন?
-নারে মা, কিভাবে দেখবো? তোমরাতো দেখি অনেক বড় লোক।
আজ আবদুল আলীকে তার নিজের রুমে না রেখে সোজা গেষ্ট রুমে নিয়ে যান।জ্বি, চাচা আপনি এখানে থাকবেন। আপনার অনেক বিশ্রামের প্রয়োজন।আবদুল আলী চতুরদিকে চোখ বুলিয়ে দেখছেন সত্যিই মেয়েটা অনেক বড় ধনী।শোন, মা আমার যতটুকু মনে পড়ছে আমি বোর্ডের কাজে ঢাকা যাওয়ার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় পতিত হই। এরপর কি ঘটছে আমি কিছুই বলতে পারবোনা।
-চাচা, আপনি কোন চিন্তা করবেননা।আমি আপনার পরিবারকে খুঁজে নিতে প্রয়োজনে পত্রিকায় টেলিভিশনে বিজ্ঞপ্তি দিব।
-মা, তুমি অনেক ভালো। আল্লাহ তোমার সহায় হোক।
-আপনি একটু বিশ্রাম নিন। আমি আপনার জন্য খাবার তৈরী করে আনছি বলে শীলা ভুঁইয়া রুমের দরজা টেনে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।

পাঁচ.
অনেকক্ষণ একা একা বসে থাকতে বড্ড কষ্ট লাগছে রৌশন আরা বেগমের। তাই তিনি পাশের ফ্লাটে গিয়ে তাদের সাথে গল্প করছেন।এদিকে শীলা ভুঁইয়া বাসায় আসার কথা তিনি জানেননা।মনে মনে ভাবছেন দশ বছর পরে দেশে আসলাম অথচ মেয়েটা বাসার অসুস্থ কেয়ার টেকারের সেবা নিয়ে ব্যস্ত। তাকে দেখারতো আরো কাজের লোক আছে। তাদের একজনকে দায়িত্ব দিলেই পারতো।এমনিতেই দেশে আসায় মনটাও খুব খারাপ। শীলা ভুঁইয়া রান্নাঘরে কাজ করছেন। রৌশন আরা বেগম বুক সেলফ থেকে একটি ইংলিশ জার্নাল হাতে নিয়ে গেষ্ট রুমে ঢুকতেই চমকে উঠেন।তিনি ভাবছেন তিনি কি সজাগ নাকি ঘুমে স্বপ্ন দেখছেন? খাট থেকে আবদুল আলী নেমে রৌশন আরা বেগমের সামনে অদৃশ্য ছায়া মূর্তির মত দাঁড়ালেন।দুজনেই মুখোমুখি কিন্তু কারো মুখে কোন কথা নেই।নাস্তা নিয়ে শীলা ভুঁইয়াও এসে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছেন। অবশেষে আবদুল আলী স্বজোরে যেন দুনিয়ার সব আবেগ মিশ্রিত কন্ঠে চিৎকার করে বলেন রৌ…শ…ন। রৌশন আরা বেগম শুধু উচ্চারণ করলেন তুমি।হ্যাঁ, আমি তোমার আবদুল আলী ভুঁইয়া।আমার বাচ্চারা কই রৌশন? এই নিন আপনার শীলাকে আর একমাত্র ছেলে কাউসার ভুঁইয়া আছে লন্ডনে ।একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।সবাই আবদুল আলী ভুঁইয়ার দিকে অপলক তাকিয়ে আছেন।কারো মুখে কোন কথা নেই শুধু চোখে বইছে অপ্রতিরোধ্য সুখকর লোনাশ্রু।