সুখ একটি আপেক্ষিক বিষয়। আর সুখের সংজ্ঞাও একেকজনের কাছে একেক রকম। কেউ তাবৎ ধন সম্পদের মাঝেই সুখের পসরা সাজান আর ভাবেন কোন ধরণের বৈষয়িক অভাব অনটনের উর্ধ্বে জৌলুসপূর্ণ জীবন যাপনের নামই সুখ। কেউ ভাবেন অভাব অনটন যাই থাক না কেন মনের মাঝে স্বস্তিদায়ক অবস্থাই সুখ। আবার কেউ কেউ সারাজীবন অন্যের উপকার করার মাঝেই সুখ তালাশ করেন এবং সেখানেই অন্তত সুখ খুঁজে পান। এদিক থেকে সুখ আসলেই একটি আপেক্ষিক অবস্থার নাম আর সুখের রচয়িতা ব্যক্তি নিজেই। ব্যক্তির মন মানসিকতার উপর সুখ নির্ভর করে। কেউ বৈষয়িক ঐশ্বয্যের মাঝে ডুবে থেকেও দীর্ঘশ্বাসে গোটা জীবন কাটান। দুঃশ্চিন্তা আর মানসিক দহণে জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। টেবিল ভরা খাবারের প্রস্তুত থাকলেও কোন অজ্ঞাত কারণে খেতে পারেন না আবার কেউ কেউ চরম অর্থ কষ্টে দিনাতিপাত করলেও সামান্য ডাল ভাত কিংবা এক টুকরো কাঁচা পেয়াজ আর একটা পোড়া মরিচ মেখে কয়টা পান্তা ভাত খেয়েও তৃপ্তির ঢেকুর তোলে। গোটা রাত স্বস্তির ঘুমে বিভোর থাকেন। আবার কেউ কেউ সারাটা জনম পরোপকারে ব্যস্ত। মানুষের উপকারে কাটিয়ে দেন গোটা জিন্দেগী। মানুষের উপকার করতে যেয়ে নিজের আর পরিবারের খোঁজ খবরও রাখার তেমন একটা সুযোগ পায় না অথচ সেই লোকও কতইনা সুখি। তাহলে সুখের সংজ্ঞা কী? সুখ কী ঐশ্বয্যের মাঝে নাকি সম্পূর্ণ নিজের মনের মাঝে? মনোবিজ্ঞানে সুখের ব্যাপারে কী বলে? মনোবিজ্ঞান বলছে ঠিক বিপরীত কথা। ব্যক্তির মনের সুখটা প্রকৃত সুখ আর এই সুখের মানদণ্ড কখনো ব্যক্তির স্বচ্ছলতার উপর নির্ভর করে না। একটা লোক সম্পূর্ণ অস্বচ্ছলবস্থায় থেকেও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সুখি হতে পারে আবার আরেকটা লোক ঐশ্বর্য্যের মাঝে ডুবে থেকেও সম্পূর্ণ অসুখি জীবন যাপন করতে পারে। আমাদের সামনে অস্বচ্ছলতার কারণে যত লোক অসুখি হয় তার চেয়ে হাজারগুণ বেশি স্বচ্ছলতার কারণেই অসুখি। ১৯৯৫ সালের কথা, আমার একটা গল্প বলি। তখন আমি ছাত্রাবাসে থাকতাম। ছাত্রাবাসে থাকলেও রান্নাবান্না কিন্তু নিজেকে করতে হত। বুয়ার রান্না কোনকালেই পছন্দ করতাম না। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা আসন্ন তাই শেষ কয়মাস রান্নাবান্নার ঝামেলা মাথায় নিতাম না। দিনভর রুমের দরজা লাগিয়ে পড়তাম আর খাবারের সময় হলে হোটেলে গিয়ে খেয়ে আসতাম। একতো ছাত্রজীবন অন্যদিকে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। বাড়ি থেকে যে টাকা দিত তা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারতাম না। তাই তিনবেলাই কোন রকম ডাল সবজি দিয়ে খেতাম। মাসের শুরুর দিনগুলোতে গোস্ত মাছও চলত না যে এমন না। শেষের দিকে টাকা কমে আসত বলেই গড়ে ডাল সবজি চলত। এই খাবারেই যথেষ্ট তৃপ্তি পেতাম। আমরা যারা ছাত্রাবাসে থেকে লেখাপড়া করছি এমনিতেই আমাদের অনেকের প্রিয় খাবার ঐতিহাসিক ডাল আর আলু ভর্তা। এতেই আমরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলতাম আর এখনো পছন্দের খাবারের তালিকায় রয়ে গেছে এই প্রিয় খাবারটি। আসল কথায় আসি একদিন দুপুরে হোটেলে সবজি আর ডাল দিয়ে ভাত খাচ্ছিলাম। পাশের আরেক ছাত্র তখন গরুর গোস্ত দিয়ে খাচ্ছিল আমি এতক্ষণ যে তৃপ্তির সাথে খাচ্ছিলাম নিমিষে তা ফানুস হয়ে গেল। আমার সামনে থাকা ডাল সবজির দিক থেকে যে মাত্র নজরটা গরুর গোস্তে চলে গেল ঠিক তখন আমার মানসিকতায় আসলো ওটাই সবচেয়ে মজার খাবার আর আমি যা খাচ্ছি তা এক বিস্বাদ খাবার। অবশ্যই সেদিন থেকে পরীক্ষার আগ মহুর্ত পর্যন্ত আবারো নিজে রাঁধুনি হয়ে ডাল ভর্তা তৈরি করে তৃপ্তিভরে খেতাম আর এটাতেই সুখ খুঁজে পেতাম। বলছি আমার সামনে থাকা সবজি ডাল থেকে যে মাত্রই চোখ গেল গরুর গোস্তে সেই মাত্রই আমার তৃপ্তিটা ফানুস হয়ে গেল। সুখও এমন একটা অবস্থার নাম। নিজের অবস্থানে সন্তুষ্ট থাকাই সুখ। নিজের অবস্থান কিংবা নিজের চেয়ে আরো দূর্বলদের অর্থিক অবস্থার দিকে যতক্ষণ তাকাব ততক্ষণ আমি সুখি আর যখনই চোখ যাবে আমার চেয়ে আর্থিকভাবে ভালোদের দিকে কিংবা তারও উপরে তখনই আমার নিজের সুখ উবে গিয়ে হতাশা আর মনোকষ্ট আমার স্বত্তাকে কুরেকুরে খেয়ে আমাকে করে দেবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আসুখি। বোধহয় এই কারণেই মনীষীরা বলতেন তুমি তোমার চেয়ে নিচের দিকে তাকাও তবে তুমি সুখি আর যদি তোমার চেয়ে উপরে কারো দিকে তাকাও মনে রাখবা তুমিই বড় অসুখি। এটা একটা মানসিক দিক। আসলে সত্যিকার অর্থে সুখ নিজের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভরশীল।আমি যদি মনে করি আমিই সুখি তাহলেই প্রকৃতার্থে সুখি।উচ্চাকাংখাই আমাদের সুখকে অসুখে পরিণত করে আর যেটুকু সুখ বিদ্যমান তাও এক নিমিষেই শেষ করে দেয়। মনোজগতে সৃষ্টি করে চরম হাহাকার আর না পাওয়ার তীব্র শোক। তখনই শুরু হয় অসুখের মাঝে হাবুডুবু খাওয়া। সুখ নিয়ে মনীষীরা কী ভাবেন? তারা সুখকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করেন? দেখা যাক তাদের অবস্থা। উইলিয়াম শেক্সপিয়র বলেন -“আমি সবসময়ই নিজেকে সুখি ভাবি, কারণ আমি কখনো কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করি না।কারো কাছে কিছু প্রত্যাশা করাটা বরাবরই দুখের কারণ হয়ে ওঠে”।
আল ফারাবির মতে- “বৃক্ষের সার্থকতা যেমন ফল ধারণের তেমনি জীবনের স্বার্থকতা সৎ ও নৈতিক অবস্থানে টিকে থেকে সুখ লাভ। চরম ও পরম সুখ লাভের পথ হচ্ছে ক্রমাগত সৎ জীবন যাপন করা।”
কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বলেন-” সুখ কী এমন রোগে অনাহারে পিষ্ট পঁচনশীল সভ্য পশুর হীন শীৎকার, শুধু চিৎকার শুধু প্রতারণা মিথ্যে মুখোশ, শুধু অপচয়ে আত্মবিশ্বাস আর কিছুই নয়।”
আব্রাহাম লিংকন বলেন- “মানুষ যতটা সুখি হতে চায় ঠিক ততটা সুখি হতে পারে।সুখের কোন পরিসীমা নেই।ইচ্ছে করলে সুখকে আমরা আকাশ অভিসারি করে তুলতে পারি।”
কবি বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপধ্যায় বলেন- সুখের উপায় ধর্ম আর মুনুষ্যত্বেই সুখ।”
অলবার্ট শ্যুইজার বলেন-সাফল্য সুখের মূল বিষয় নয়, আপনি যা করছে তা যদি আপনি ভালবাসেন তবেই আপনি সুখি।
উপরের মনীষীদের বক্তব্য অনুযায়ী বুঝা গেল সুখ সম্পদের উপর নির্ভরশীল নয়, এটা নেহায়েত মনের উপর নির্ভরশীল। সম্পদহীন লোক যেমন সুখের ভেলায় ভাসতে পারে তেমনি সম্পদশালী লোক চরম অসুখি হয়ে মানসিক দিক থেকে মানবেতর জীবন যাপন করতে পারে।ব্যক্তিগত জীবনে সুখি হতে হলে মন থেকে কিছু অসৎ গুণাবলী সম্পূর্ণ ঝেড়ে ফেলতে হবে আর কিছু সৎ গুণাবলী লালন করতে হবে। যে সব অসৎ গুণাবলী সম্পূর্ণ ঝেড়ে ফেলতে হবে তা নিন্মরূপ-
১.উচ্চাকাংখাঃ
উচ্চাকাংখা আমাদের মাঝে মানসিক যাতনাবোধের জন্ম দিয়ে বিদ্যমান সুখগুলোকেও দূর করে দেয়। উচ্চাকাংখা বহু সম্ভাবনাময় জীবনকে অকালে ধংশ করে দিয়েছে। উচ্চকাংখার মত মানসিক রোগ যে ব্যক্তির উপর যত বেশি প্রভাব বিস্তার করে সেই ততবেশি অসুখি। তার সুখ ততবেশি দূরে সরে যায়। তাকে মরীচিকার পিছে ঘুরিয়ে জীবনযুদ্ধে সম্পূর্ণ পরাজিত সৈনিকের কাতারে শামিল করে দেয়।

২. হঠাৎ ফল পাওয়ার মানসিকতাঃ
হঠাৎ ফল পাওয়ার মানসিকতা আরেকটি আসৎ গুণাবলী যা আমাদের উদ্যমতা আর কর্মনিষ্ঠতাকে সম্পূর্ণ খেয়ে আমাদের নিঃস্ব করে তোলে। স্বাভাবিক গতিপথকে দূরে সরে দেয়ার পাধাপাশি একজন লোককে বিপথে নেয়ার জন্য এই অসৎ গুণই যথেষ্ঠ। যারা অল্প সময়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হতে গিয়েছে তারা সাময়িক সফল হলেও তাদের এই সফলতা কিন্তু মাকড়সার বোনা জালের মতই। সামান্য বাতাসে তা নিঃশেষ হয়ে যায়। আর যারা তিলে তিলে মেহনত ও সাধনা করে সফলতার দ্বারে পৌঁছতে চায় তারাই সুখি হয় আর তাদের সুখ স্থায়ী হয়।

৩. অসম প্রতিযোগিতাঃ
অসম প্রতিযোগিতাকে মন মনন থেকে ঝেড়ে ফেলতে না পারলে কাংখিত সুখ উবে যাবে আর সুখের জায়গায় বাসা বাঁধবে চির অসুখ। যারাই অসম প্রতিযোগিতায় শামিল হয়েছে তারা কোন না কোনভাবে জীবনযুদ্ধে হেরেছে কিংবা চির অসুখি জীবনকে বরণ করে নিতে হয়েছে।

৪. লোভ লালসাঃ
লোভ লালসা কে যারা না বলতে পারেনি তারা সত্যিকারার্থে চরম অসুখি।লোভ লালসা ব্যক্তিকে অপমানজনক জীবনদান করে এমনকি মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দেয়। তাই ব্যক্তিগত জীবনে লোভ লালসাকে জয় করতে না পারলে সত্যিকার সুখ খুঁজে পাওয়া যাবে না।
৫. ভোগঃ
মনীষীরা বলেছেন ভোগে সুখ নয় ত্যাগেই সুখ। আসলে ভোগের মাঝে সুখ নেই। অন্যের উপকার কিংবা মানবকল্যাণের মাঝেই লুকিয়ে থাকে সত্যিকার সুখ। তাই সুখি হতে হলে ভোগের মত এই অসৎ গুণাবলীকে চিরতরে না বলতে হবে।

সুখের জন্য যে সৎ গুণাবলী অর্জন জরুরিঃ

১. নিজের চেয়ে নিচে অবস্থানকারীদের দিকে তাকানোঃ
কোন ব্যক্তি যখন নিজের চেয়ে উপরে অবস্থানকারী লোকদের দিকে তাকায় তখন সুখ নিয়ে তার আক্ষেপ বেড়ে যায়। কিন্তু যদি সে নিজের চেয়ে নিচে অবস্থানকারী লোকদের দিকে তাকায় তখন তার মাঝে হতাশা আর না পাওয়ার আক্ষেপ জন্মে না। একদিন উত্তপ্ত বালুকণার মধ্য দিয়ে কবি শেখ সাদি রহঃ জুতোবিহীন খালি পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন আর নিজের অভাবের জন্য নিজকে তিরস্কার করছেন। পরে শহরে গিয়ে তিনি দেখলেন এক মিসকিন যার দুটো পা নেই। সে মিসকিন কতইনা কষ্ট করে উপোড় হয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খেয়ে চলছেন তখন কবি শেখ সাদি রহঃ তার পায়ে জুতো না থাকার কষ্ট ক্ষণিকে ভুলে গেলেন এবং নিজকে তিরস্কারের জন্য চরম লজ্জিত হলেন এই ভেবে যে আমারতো জুতো নেই আর এই মিসকিনেরতো দুটো পা’ই নেই। আমিতো তার চেয়ে হাজারগুণ ভালো আছি। এই জন্য আমরা সবসময় আমাদের নিজেদের চেয়ে অভাবিদের দেখব তখন আক্ষেপের মত যাতনায় ভুগতে হবে না। আক্ষেপের মত মানসিক যাতনা আর কী হতে পারে? এই মানসিক যাতনা থেকে বাঁচতে আমাদেরকে নিজেদের চেয়ে নিচে অবস্থানকারীদের দিকে তাকাব তখনই জীবনের সত্যিকার সুখ উপভোগ করতে পারব।

২. অল্পে তুষ্ট থাকার নীতি অবলম্বনঃ
অল্পে তুষ্ট থাকার নীতি অবলম্বনের মাঝে সুখ লুকায়িত থাকে। যারা অল্পে তুষ্টির নীতি অবলম্বন করে তাদের লোভ লালসা ছুঁইতে পারে না। লোভ লালসা মানুষকে অন্যায় পথে পরিচালিত করে। সুতরাং যারা ব্যক্তিগত জীবনে এই সংযমতা অল্পে তুষ্টির নীতি অবলম্বন করবে তাদের সুখের জন্য আহমরি ধন সম্পদ থাকতে হবে না। তারা তাদের সামান্য অবলম্বনেও চরম পরম সুখ খুঁজে পাবে।

৩.সৎ পথে ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টাঃ
অসৎ পথে কোটি টাকা উপার্জনের চেয়ে সৎ পথে কোন রকম বেঁচে থাকার মঝে পরম সুখ নিহিত। যারা অসৎ পথে আলিশান অট্টালিকা গড়ে তারা কী সত্যিকারার্থে সুখে আছে? তাদের বাহ্যিক সুখ থাকলে আভ্যন্তরীন ও মানসিক সুখ একেবারে শূন্যের কোটায়। আমাদের সমাজে এই রকম ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে যে অট্টালিকা আর জৌলুস জীবন যাপন করেও সুখ নামক সোনার হরিণ না পেয়ে সারাজনম আক্ষেপ করেই দুনিয়া ত্যাগ করতে হয়েছে। অন্যদিকে পার্থিব নানা সীমাহীন অভাব অনটন থাকলেও সৎ জীবন যাপন করায় মানসিক আত্মিক সুখের অভাব নেই এই রকম ভুরি ভুরি উদাহরণও আমাদের সামনে আছে। তাই ব্যক্তিগত জীবনে সুখের নাগাল পেতে হলে সৎ পথে ভাগ্য পরিবর্তনের প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এতে ভাগ্য পরিবর্তন হোক আর নাই হোক অন্তত জীবনে মানসিক যন্ত্রণা বাসা বাঁধবে না।
পরিশেষে আরেকটা গল্প দিয়ে শেষ করব। এক রাজ্যের রাজাসহ রাজ্যের সব কয়টি লোকই আর্থিকভাবে স্ববলম্বি। তাদের পার্থিব কোন অভাব অনটন ছিল না। কিন্তু রাজাসহ রাজ্যের বসবাসরত জনগোষ্ঠির মাঝে মানসিক স্বস্তি সুখ কোনটাই ছিল না। সেই রাজ্যে ছিল আরেক অভাবি লোক যার থাকার ঘরটা পর্যন্ত ছিল ভাঙাচোরা। ঠিকমত দুবেলা খাওয়ার জোগাড়ে তাকে অনেক বেগ পেতে হত। কিন্তু তার মানসিক আত্মিক সুখের অভাব ছিল না। যেখানে ধনীরা রাতে ঘুমের ঔষধ খেয়েও শান্তিতে একটু ঘুমুতে পারত না সেখানে এই লোক দিব্যি ঘুমাতো খেত আর নিজের অবস্থানে নিজেই পরম সুখি। রাজা তার সম্পর্কে জানার জন্য প্রধান উজিরকে ডেকে পাঠালেন এবং জানতে চাইলেন এই লোকের তুলনায় রাজার সুখ শূন্যের কোটায় কেন? প্রধান উজির বললেন আমি আপনিতো ‘নাইন্টি নাইন’, তাই আমার আপনার সুখ নেই। রাজা নাইন্টিনাইনের ব্যখ্যা জানতে চাইলে প্রধান উজির বললেন এর উত্তরের জন্য আমাকে তিনদিন সময় দিন। তা দেয়া হল। তিনদিন পর প্রধান উজির রাজাকে নিয়ে সুখি লোকটা কুঠিরে গেল কিন্তু দেখল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। এই লোকের চেহারায় আর আগের মত প্রশান্তিভাব নেই। কী যেন এক পেরেশানি পেরেশানি ভাব। সে কী যেন পেতে চাচ্ছে। প্রধান উজির রাজাকে কিছু না বলেই রাজপ্রাসাদে এনে বললেন আপনি যেদিন আমাকে তার সম্পর্কে জানাতে বলছেন সেদিন রাতেই আমি তার ঘরের দরজায় রেখে আসছি ৯৯টি স্বর্ণ মুদ্রা। এই লোক স্বর্ণমুদ্রাগুলো গুনে দেখে ৯৯টি। ভাবতে থাকে ১০০টি পূর্ণ হল না কেন? সে এখন ১০০টি পূর্ণ করার মহা ধান্ধায় আছে। তার মন মননে আরেকটি স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে একশ পূর্ণের চিন্তাই ভর করছে। আর তার মাঝে থাকা বিদ্যমান সুখ উবে গেছে। আমি আপনিও নাইন্টিনাইন। একশ পূর্ণের ধান্ধায় আর একশ পুরলে একশ একের ধান্ধায় থাকি, এভাবে………..। আমাদের চাহিদা উর্ধ্বগতিতে চলতে থাকে বলে আমাদের সুখ উবে যায়। যার যা আছে সে চায় আরো আরো। চাওয়ার শেষ নেই বলেই আমরা জীবনে চরম অসুখি। সুখ পেতে হলে যার যার অবস্থানকে পারফেক্ট মনে করে তার উপর সন্তুষ্ট থাকার মানসিকতা অর্জন করতে হবে। তার সাথে উচ্চাকাংখা লোভ লালসা হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ হবার অসৎ মানসিকতা দূর করার পাশাপাশি সৎ জীবন যাপনে অভ্যস্থ ও নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে তবেই আমরা নিজেদের বাহিরে ভেতরে সুখের নাগাল পাব।