২১ মার্চ কী দিবস, জানো? বিশ্ব বন দিবস। সে উপলক্ষে তো তোমাদেরকে গল্প শোনাতে হয়। কিন্তু পৃথিবীর তাবৎ বন নিয়ে গল্প বলা কী আর একদিনে সম্ভব? তারচেয়ে বরং আমরা আমাদের সবচেয়ে প্রিয় বনেরই গল্প শুনে আসি, কেমন? নিশ্চয়ই ধরে ফেলেছো, কোন বনের গল্প বলব? হ্যাঁ, সুন্দরবনের গল্প।

নাম কেন সুন্দরবন?
সুন্দরবনের নাম ‘সুন্দরবন’ হল কেন? তার আগে বলো, সুন্দর বনে সবচেয়ে বেশি কোন গাছ পাওয়া যায়? সুন্দরী গাছ। আর তার থেকেই মনে হয় বনটির নাম হয়েছে সুন্দরবন। তবে ভিন্নমতও আছে। অনেকে বলেন, আগে এই বনের নাম ছিল ‘সমুদ্রবন’। আর সেই নামটিই পরে হয়ে গেছে ‘সুন্দরবন’। আবার অনেকে বলেন, স্থানীয় আদিবাসীরা বনটিকে ডাকত ‘চন্দ্র-বান্ধে’ নামে। আর সেই নামটিই বিকৃত হতে হতে হয়ে গেছে ‘সুন্দরবন’। তোমার কী মনে হয়, কোন গল্পটা সত্যি? বেশিরভাগ মানুষ কিন্তু সুন্দরী গাছের গল্পকেই সত্যি বলে মানে।

সুন্দরবনে মানুষের ইতিহাস
মানুষের ইতিহাস বলতে আমরা যা বুঝি, সুন্দরবনের সেই ইতিহাসের শুরু হয়েছে মুঘল আমলে। সেই সময়েই, সম্ভবত ১২০৩ সালে প্রথম এক রাজা পুরো সুন্দরবনের ইজারা নেন। তখন থেকেই বনটি মুঘল রাজাদের অধীনে ছিল।
১৭৫৭ সালে বাংলার ইতিহাসে এক বড় পালাবদল ঘটে। হ্যাঁ, পলাশীর যুদ্ধে হেরে যান নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা। আর দুর্বল মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার ইজারা নিয়ে নেয় বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। বাংলার সঙ্গে সঙ্গে তারা সুন্দরবনেরও ইজারা নেয়। আর ওরাই প্রথম সুন্দরবনের একটা মানচিত্র তৈরি করে।

বাংলা বৃটিশ সরকারের অধীনে চলে যায় কোন সালে বলো তো? ১৮৫৬ সালে, সিপাহী বিদ্রোহের পরপর। ওদিকে সুন্দরবন কিন্তু আরও আগেই চলে গিয়েছিল বৃটিশ সরকারের অধীনে, ১৮২৮ সালে। আর তার পরের বছরই এল টি হজেস নামের এক বৃটিশ ভদ্রলোক বনটিতে প্রথম জরিপ চালান।
১৮৬০ সালে বাংলায় বন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকেই বনটিকে বন বিভাগের দায়িত্বে দেয়া হয়। কিন্তু সুন্দরবনে বন বিভাগের পুরো কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হতে ১৮৬৯ সাল পর্যন্ত লেগে যায়। তখনও অবশ্য সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। তাই বন বিভাগও ঠিকমতো দেখাশুনা করতে পারছিল না। পরে ১৮৭৮ সালে বনটিকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা দিলে পরের বছর থেকেই সুন্দরবন শুধুই বন বিভাগের অধীনে চলে যায়।
তবে সুন্দরবনে জরিপ করা সবসময়ই ছিল খুবই কঠিন। কেন বলো তো? আরে, এই বনটা যে ভয়ানক সব জীবজন্তুতে পরিপূর্ণ। ওখানে বাঘ আছে, কুমির আছে, অজগর সাপ আছে। তারপরও আগে যে জরিপগুলো হয়েছিল, তাতে এই বনের সীমানা হিসেবে বলা হয়েছিল পশ্চিমে হুগলী নদী থেকে পুবে মেঘনা নদী পর্যন্ত। আর মোট আয়তন হিসেব করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০২ বর্গকিমি।
শুধু আমাদের দেশেরই না; এই ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর ১৯৪৭ সাল। কারণ, সেই বছরে যে উপমহাদেশটিকেই ভাগ করা হলো; তা-ও কিনা ধর্মের ভিত্তিতে! সে যাই হোক, তখন বাংলা প্রদেশের হিন্দুপ্রধান অংশটা গেল ভারতের ভাগে। আর মুসলিমপ্রধান আমাদের অংশটা গেল পাকিস্তানের ভাগে। তাই সুন্দর এই বনটাও কাটা পড়লো। বড় অংশটা অবশ্য আমাদের ভাগেই এল; আমাদের ভাগে পড়লো ৬০%, ভারতের ভাগে পড়লো ৪০%।

সুন্দরবনের আয়তন
এখন সুন্দরবনের মোট আয়তন কত বলতে পারবে? অনেকেই তো চেঁচিয়ে বলবে, ৬ হাজার ১৭ বর্গকিমি। উহু, সে হলো আমাদের দেশের সুন্দরবনের আয়তন। ভারতেও তো সুন্দরবনের একটা বড় অংশ থেকে গেছে। দুটো মিলিয়ে সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গকিমি। তবে ইউনেস্কো আবার সুন্দরবনকে দু’ভাগ করে হিসেব করে; ওদের কথা অনুসারে আমাদেরটার নাম সুন্দরবন, আর ভারতের অংশটুকুর নাম সুন্দরবন ন্যাশনাল পার্ক। সেই হিসেবে অবশ্য তোমার কথায় কোনো ভুলই নেই!
আবার আমাদের দেশের সুন্দরবনের আয়তনের আরো একটা হিসেব আছে। এই ৬ হাজার ১৭ বর্গকিমি তো পুরো বনটা। এরমধ্যে স্থলভাগ মোটামুটি ৪ হাজার ১১০ বর্গকিমি। আর নদী-খাল-খাঁড়ি মিলে জলভাগ মোটামুটি ১ হাজার ৭০০ বর্গকিমি।

সুন্দরবনের গাছপালা
সুন্দরবনের প্রধান গাছ কোনটা, সে তো আগেই বলে দিয়েছি– সুন্দরী গাছ। এছাড়াও গেওয়া, কেওড়া, গরান আর ধুন্দল গাছও ওখানে প্রচুর পাওয়া যায়। এছাড়া শন, নলখাগড়া, গোলপাতার মতো উদ্ভিদও জন্মে প্রচুর। তবে মোটমাট কয় প্রজাতির গাছ যে ঐ বনে আছে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। কারণ, আমাদের প্রিয় এই বনে যে ঠিকমতো জরিপই হয় না। আর এই বনে জরিপ করাও তো মুখের কথা না! শেষ বড়োসড়ো জরিপটি হয়েছিল এখন থেকে প্রায় একশ বারো বছর আগে, ১৯০৩ সালে। তখনো বনটিতে প্রায় ৩৩৪ প্রজাতির গাছ ছিল।

সুন্দরবনের বনবাসীরা
সুন্দরবনের পশুপাখির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত পশুটির নাম তুমি কেন, সম্ভবত পৃথিবীর সবাই জানে– রয়েল বেঙ্গল টাইগার। তবে দিনদিন মানুষের আগ্রাসনে সুন্দরবন যেমন ছোট হয়ে যাচ্ছে, তেমনি কমে যাচ্ছে ওদের সংখ্যাও। ওদের নিয়ে সর্বশেষ জরিপটি করা হয়েছিল ২০০৪ সালে। তাতে দেখা গেছে, এখন সুন্দরবনে মোট বাঘই আছে ৪৪০টি। তারমধ্যে ২৯৮টা মেয়ে বাঘ, ১২১টা ছেলে আর বাকি ২১টা বাঘের বাচ্চা।
এছাড়া সুন্দরবনের অন্যান্য বিখ্যাত আর গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীদের মধ্যে আছে হরিণ, বানর, মহিষ, গণ্ডার, মেছোবাঘ, লোনাপানির কুমির, মিঠাপানির কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, হাঙর, ডলফিন, শুশুক, বন্য শূকর, বনরুই, বনবিড়াল, শেয়াল আর গিরগিটি। এদের মধ্যে আবার হরিণ একটু বেশিই বিখ্যাত। বিশেষ করে কয়েক প্রজাতির হরিণ তো বেশ পরিচিত; ঐ যে মাথায় শুকনো গাছের ডালপালার মতো আঁকাবাঁকা শিংওয়ালা চিত্রা হরিণ, তারপর মায়াভরা চোখের মায়া হরিণ, আর শুধু ম্যানগ্রোভ বনেই দেখা যায় যেই হরিণদের- প্যারা হরিণ।
সুন্দরবনে কিন্তু খুব মজার মজার সব মাছ পাওয়া যায়। ওগুলো খেতেও যেমন মজা, দেখতেও তেমনই সুন্দর আর বৈচিত্র্যময়। আর ওদের নামগুলোও কত্তো সুন্দর! কয়েকটার নাম শুনোই না– পারশে, বাটা ভাঙান, ভাঙান, গুল বাটা, খরুল ভাঙান, খরশুলা বা খল্লা, কাইক্কা বা কাইকশেল, মেদ মাছ, বড় কান মাগুর, দাগি কান মাগুর, গুলশা ট্যাংরা, নোনা ট্যাংরা, শিলং, কাজলী, ভোল, গনগইন্যা, রেখা, গুটি দাতিনা, লাল দাতিনা, লাক্ষা (স্থানীয় নাম তাড়িয়াল), তপসে (স্থানীয় নাম রামশোষ), ঢেউয়া, মেনো (ডাহুক মাছ নামেও পরিচিত), ফ্যাসা, বৈরাগী। এগুলো তো গেল লোনা পানির মাছেদের কথা। সুন্দরবনে কিছু মিঠা পানির বিল আছে, যেগুলোতে মিঠা পানির মাছও পাওয়া যায়। মিঠা পানির মাছগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় জিওল মাছ। এছাড়া কই, শিং, মাগুর, টাকি, শোল, ট্যাংরা, পুঁটি, খলসে, চ্যালা, দাঁড়কিনা, কুঁচো চিংড়ি, আরো কত্তো মাছ যে পাওয়া যায় এই বনের নদী- নালা- খাল- বিলে! তবে দিন দিন এসব মাছও কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ায় মিঠা পানির বিলগুলোতে ঢুকে পড়ছে সাগরের লোনা পানি। ফলে মিঠা পানির মাছেদের বাসাও সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সুন্দরবনের নদী-নালাগুলো যেমন মাছে ভরা, তেমনি ওগুলোতে আছে বিষাক্ত আর বিষহীন নানা জাতের সাপ। আছে অজগরের মতো বিশালদেহী সাপ, আছে চন্দ্রবোড়া, কিং কোবরা, গুঁইসাপ, সামুদ্রিক সাপের মতো বিষধর সাপ। আরো আছে হাঙ্গর, কুমির, ঘড়িয়াল। সুতরাং, সুন্দরবনে গিয়ে আবার মাছের লোভে নদীতে লাফ দিও না যেন!
সুন্দরবনে মোট কয় প্রজাতির পশুপাখি আছে জানো? মাছ আছে প্রায় ১২০ প্রজাতির; পাখি আছে ২৭০ প্রজাতির; স্তন্যপায়ী, মানে যেই পশুদের বাচ্চারা মায়ের বুকের দুধ খায়, এরকম পশু আছে ৪২ প্রজাতির; সরীসৃপ, মানে যারা বুকে ভর দিয়ে চলে, মানে সাপ- কুমির- গিরগিটি, ওরা আছে প্রায় ৩৫ প্রজাতির; আর উভচর প্রাণী আছে প্রায় ৮ প্রজাতির। উভচর প্রাণী মানে যারা জলে-ডাঙায় দু’জায়গাতেই বেশ মজাসে বেঁচে-বর্তে থাকতে পারে। তবে এতোক্ষণ প্রাণীদের যে হিসেব দিলাম, সেখানে শুধু সেসব প্রাণীদেরই হিসেব আছে, যারা মানুষের কাজে লাগে। মানে, এমন আরো অনেক মাছ আছে, যেই মাছ মানুষ খায় না। সুতরাং, তাদের হিসেব রাখা হয়নি। এরকম আরো পাখিও নিশ্চয়ই আছে। তাহলে চিন্তা করো, এক সুন্দরবন কত্তো প্রাণীদের বাসা!
তবে এই প্রাণীরা সবাই যে সুন্দরবনে বেশ সুখে-শান্তিতে আছে, তা কিন্তু নয়। উল্টো সুন্দরবনও দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। একে তো মানুষ তাদের প্রয়োজনে একদিক দিয়ে বন কাটছে। আবার অন্যদিক দিয়ে সাগরও দিন দিন উঁচু হয়ে সুন্দরবনকে গ্রাস করছে। ফলে ওদের সকলের বাসা সুন্দরবনও ছোট হয়ে আসছে। আর সরকারের হিসেবে তো কিছু কিছু প্রাণীর অস্তিত্বই হুমকির মুখে। কিছুদিন পরে হয়তো ওদেরকে আর সুন্দরবনে খুঁজেই পাওয়া যাবে না। ওদের মধ্যে আছে ২ প্রজাতির উভচর, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৫ প্রজাতির পাখি আর ৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী।

সুন্দরবনে অভয়ারণ্য : বনের মধ্যে নিরাপদ বন
অভয়ারণ্য বলতে বোঝানো হয়, এমন বন বা বনের এমন অংশকে, যেখানে গাছপালা ও পশুপাখিদেরকে মানুষের হাত থেকে নিরাপত্তা দেয়া হয়। মানে, ঐ বনে বা বনের ঐ অংশে অনুমতি ছাড়া শিকার করা কিংবা গাছ কাটা নিষেধ। এমনকি ওখানে যাতায়াত করাও নিষেধ। তোমাকে যেতে হলে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে যেতে হবে। এর মাধ্যমে বন থেকে অতিরিক্ত শিকার করা, অতিরিক্ত গাছ কাটা– এগুলো বন্ধ রাখা হয়।
আমাদের সুন্দরবনেও একরম ৩টি অভয়ারণ্য আছে– পূর্বাঞ্চলীয় সুন্দরবন অভয়ারণ্য, পশ্চিমাঞ্চলীয় সুন্দরবন অভয়ারণ্য আর দক্ষিণাঞ্চলীয় সুন্দরবন অভয়ারণ্য। এগুলোর মধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় অভয়ারণ্যে গাছপালার বৈচিত্র্য একটু বেশি। এখানে বেশি আছে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, কেওড়া, সিংড়া, আমুর, গোলপাতা- এইসব গাছ আর ঘাসজাতীয় উদ্ভিদগুলো। আবার পশ্চিমাঞ্চলীয় অভয়ারণ্যে বেশি দেখা যায় গেওয়া, গরান আর হোন্তাল গাছ। আর দক্ষিণাঞ্চলীয় অভয়ারণ্যে বেশি দেখা যায় গেওয়া গাছ। অন্যান্য গাছ তেমন দেখা যায় না। এই অঞ্চলটিতে লবণাক্ততা একটু বেশি-ই তো, তাই। আর এই লবণাক্ততা আবার কম-বেশিও হয়। সব মিলিয়ে গাছেদের জন্য এই অঞ্চলটি তেমন সুবিধের নয় আরকি!

সুন্দরবনে প্রশাসন
আচ্ছা, শেষ করার আগে তোমাদের আরো এক প্রশ্নের মীমাংসা করে দেই; কীভাবে সুন্দরবনের দেখাশোনা করে বন বিভাগ? সুন্দরবনের দেখাশোনা করার জন্য বন বিভাগ সুন্দরবনকে দুটো ভাগে ভাগ করেছে। এই দুটো ভাগে মোটমাট বন বিভাগের রেঞ্জ আছে- চাঁদপাই, শরণখোলা, খুলনা ও বুড়িগোয়ালিনি। এই রেঞ্জগুলোর অধীনে আবার অনেকগুলো স্টেশনও আছে। মোটমাট বন স্টেশনের সংখ্যা ১৬টি। এগুলোকে সুন্দরবনে বন বিভাগের অফিস বলতে পারো। সুন্দরবনের দেখাশোনা যাতে ভালো করে করা যায় সেজন্য ৪টি রেঞ্জকে আবার ৫৫টি কম্পার্টমেন্টে ভাগ করা হয়েছে। শুধু তাই না, পুরো সুন্দরবনকে আবার ৯টি ব্লকেও ভাগ করা হয়েছে। আর পুরো সুন্দরবনটি দেখাশোনা করার দায়িত্ব খুলনা বন সার্কেলের; যিনি দেখাশোনা করেন, তাঁর পদের নামই হল সংরক্ষক।
তাহলে, বিশ্ব বন দিবসকে সামনে রেখে আমাদের প্রিয় সুন্দরবনের অনেক কিছুই তো জানা হয়ে গেল। এখন কেউ যদি সুন্দরবন সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করে, ঝটপট করে সব বলে দিতে পারবে না? ব্যস, তবে তো হয়েই গেল। আরেকদিন না হয় আরেক বনের গল্প শুনবো; আরো কত্তো বন আছে না আমাদের দেশে- পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি বন, ভাওয়াল ও মধুপুরের শালবন, বরেন্দ্র অঞ্চলের বন, এমনি আরো কত্তো বন! আস্তে আস্তে সব বনেরই গল্প শোনাবো তোমাদের; আজ না হয় সুন্দরবনের গল্পতেই মন ভরাও!