বাসনা

দেখলেই যদি দেখার সাধ মিটে যায়!
তাই তো দেখতে চাই না তোমায়।
একই কারনে অনংগ-অস্পৃশ্য হয়ে থাকি তোমার নয়ন সমুখে।
তুমি আমায় দেখ, আবার দেখও না!!
এমনই আদিম তৃষ্ণার খেলা আমি নিরন্তর খেলে যাই তোমার সাথে।
আমার এ প্রেম না বালুকাবেলা, না সাগরের জল!
তবুও অপার বিস্ময়ে অপলক দেখি;
কি নিশ্চিন্ত বিশ্বাসে তুমি দাঁড়িয়ে আছো আমার নামহীন অবিশ্বস্ত মোহনায়!
কী খোঁজো তুমি উপলে উপলে!!
চাঁদের দিকে চেয়ে দেখ,
কী অনুপম যত্নে ধুপকাঠি জ্বেলে আমি পবিত্র রেখেছি
তোমায় না দেখার দুর্নিবার বাসনা।।
…………………………………………..

বন্ধু

বন্ধু, তুমি আমার হৃদয়ের বেদনার হিমাগার।
বন্ধু, তুমি আমার নিঃস্বার্থ পাশে থাকার জন।
বন্ধু, এই বন্য পৃথিবীতে তুমি আমার নিরাপদ আশ্রয়।
বন্ধু, তুমি আমার স্নেহ, মায়া, মমতা, কিছু উচ্ছ্বলতা।
বন্ধু, সাহারা মরুভূমিতে তুমি আমার এক টুকরো জলের খনি।
বন্ধু, দিকভ্রান্ত সমুদ্রে তুমি বাতিঘর।
বন্ধু, হিমালয়ের তুষারঝড়ে তুমি আমাকে বাঁচাও জীবন বিপন্ন করে।
বন্ধু, অনেক দূরে থেকেও টেলিপ্যাথিতেও তুমি বুঝে নাও আমি কেমন আছি।
বন্ধু, আমি তোমার জন্য সবচেয়ে ভালো টা চাই।
পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ আমার বন্ধু।
…………………………………………..

সবুজ ছায়াময়

ছোট বেলায় ব্যথা পেলে, কদম তলায় বসতাম।
গাছকে বলতাম, পাতারা শুনত,
ঝিরঝিরি কাঁপত।
বলত- একদিন তুমি বড় হবে, সব ঠিক হয়ে যাবে।
পাতারা সবুজ এবং অবুঝ, ওরা জানত না;
বড় হলে নিজেকে নিজের দেয়া ব্যথার পরিমাণ বাড়ে।
অন্যের দেয়া ব্যথা ঢের ভালো, তীব্রতা কম।
ওরা বলত- একদিন তুমি মুক্ত হবে।
নিজের কারাগারে নিজেই বন্দি মানুষ কখনো মুক্তি পায় না। আজ কদম গাছটিও বৃদ্ধ ; সে বোঝে তার মত,
ঠিক তার মতই, মানুষের পায়ের নিচেও অদৃশ্য শেকড়।
আকাশ ছুঁতে না পারলেও, আকাশের সাথেই আজীবন বসবাস। সে বলে আমার মত হও, স্থির সবুজ ছায়াময়।
…………………………………………..

ভালো আছি

পৃথিবীটা সেদিন সুন্দর হত; যেদিন প্রতিটি মানুষ সত্যি করেই বলত “ভালো আছি।”
যেদিন আর সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাবতে হত’না- আজ সারাদিন কি খাবে আমার বাচ্চারা।
এই শীতে কি বাঁচতে পারবে আমার বৃদ্ধ বাবা?
আজ বৃষ্টি হলে কি ভিজে যাবে একমাত্র জীর্ণ কাঁথাটা।
যেদিন আধিপত্যবাদ থেমে যাবে –
বাংকারে শুয়ে ভাবতে হবে না, অনিশ্চিত ভবিষ্যত
আগামিকালের সূর্যোদয় দেখব কি না,
ছোট্ট শিশুটা, আমার মেয়েটা এখনো সুরক্ষিত কিনা,
এই দূর্ভিক্ষে দুধের শিশুটা আরো একদিন বাঁচবে কিনা,
অনাহারে, ছোট ভাইটা ডাস্টবিনে খাবার খুঁজছে কিনা।
পৃথিবীটা সুন্দর হত-
যদি শিশুকে কিশোরীকে, দিতে পারতাম নির্মল আনন্দময় কৈশোর।
কিশোরীকে বসতে হত’না বিয়ের পিড়িতে
কিশোর হত’ না ট্রাকের হেল্পার।
যদি মা- প্রকৃতির সম্পদের হত সুষ্ঠু বন্টন,
যদি সত্যিই মানুষ মানবিক হত,
যদি সবার জন্য কাজ, শ্রমের – ঘামের মূল্য থাকত,
যদি মানুষ সত্যিই ভালোবাসতে জানত!
যদি মানুষ সুখ না খুঁজত কৃত্রিমতায়।
যদি মানুষ এক বিকেলের হাসিতে খুঁজে পেতো রাজ্য জয়ের সুখ,
যদি কোনদিন ভালোবাসায় ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলত,
“ভালো আছি। “
…………………………………………..

ভালোবাসারা একদিন তোমার হবে

নির্জনতারও অনেক ভাষা থাকে,
যতটা বলা-তার চেয়ে অব্যক্ত থাকে ঢের বেশি।
এই ভাল! অব্যক্ত হত্যার মত অব্যক্ত ভালোবাসাতেও কোন অপরাধ নেই।
আমি না বললেই বা কী ; নীল আকাশ তো জানেই।
তুমি না শুনলেই বা কী ; রৌদ্রজ্বল আকাশ আমার উষ্ণতা তোমায় দিয়েই যায়।
এভাবেই আমি থেকে যাই- একটি বিষন্ন মেঘমেদুর বিকেলে, একটি শান্ত হৃদের জলে, একটি শিরীষ গাছের শাখায় ।
যে মেঘেরা উড়ে যায় হিমালয় থেকে থেমসের দিকে সেখানে আমার নিঃশ্বাস বাষ্প, আমার স্পর্শ, আমার বার্তা থাকে। যে ফুলেরা তোমাকে অভ্যর্থনা জানায় প্রতিদিন, তাদের কানে আমি মন্ত্রণা দেই তোমাকে গান শোনানোর। তোমাদের যুগল জীবনে যেদিন জোছনার ফুল ফুটবে, হাজার প্রজাপতির ডানার আবীরে রঙিন হবে প্রিয় সন্ধ্যা। নিঃশব্দ সাগরের তলদেশে অনেক রঙিন কথারা সব একদিন তোমার হবে। ভালোবাসার গভীরের অনেক ভালোবাসারা, সব একদিন তোমার হবে।
…………………………………………..

নিষ্পাপ স্পর্শ

নীল খামে বেল ফুল আর আসে না
এক পলকের দেখার জন্য – ঘণ্টার পর ঘণ্টার
মধুর অপেক্ষারা হারিয়ে গেছে,
প্রাপ্তি ছিল পূর্ণতার, পুলক আকাশসম।
আজকাল সবাই হরিণ শাবক খোঁজে,
কুনালের মুগ্ধ চোখ গেছে হারিয়ে।
ফোর জি নেটওয়ার্ক যত শক্তিশালী হচ্ছে,
মনেদের আন্তঃ নেটওয়ার্ক হচ্ছে দূর্বল।
ফিরে আসুক অপেক্ষারা –
মন দিয়ে মনকে ছুঁয়ে থাকা,
দিনমান স্বপ্ন ঘোরে বাঁচা,
এক পলকের দৃষ্টিবিনিময়,
একটি নীল খামের,
বৃষ্টিভেজা কদমের,
অযত্নের কচুরীপানার,
নিষ্পাপ-নির্ভার কিছু স্পর্শের।
…………………………………………..

কোথাও আছে

প্রেমের ব্যথা গুলো ডেজা-ভূ এর মত,
প্যারালাল পৃথিবীতে একদিন বৃষ্টিতে ভিজছিলাম,
বৃষ্টি আমার প্রেমের ক্ষত সারিয়ে দিচ্ছিল।
এই পৃথিবীর বৃষ্টি দেখে, ঐ পৃথিবী মনে পড়ে।
ঐ পৃথিবীতে, আমাদের মেয়ে তুলতুলের বয়স আট
তুমি বড্ড ভুলোমনো- এলোমেলো চুল
চোখে চশমা, কবিতা লেখার বাতিক এখনো।
মনে আছে? তুলতুলের এবারের জন্মদিনে –
কেকের বদলে মোমবাতি আনো!
বৃষ্টিভেজা মধ্যরাতে, তবু তোমার মায়াবী চোখে
সমুদ্রের বালিতে পূর্ণ জোছনায়
অভিযোগ সব যায় ধুয়ে।
এ পৃথিবীতে, তুমি কোথায় জানি না আমি
হয়ত অনেক দূরে, সাত সমুদ্রের পরে।
আমায় তুমি চেন না, নির্বিকার তোমার চোখ।
একা বৃষ্টিতে ভিজছে চীনের মহাপ্রাচীর, একটি কৃষ্ণচূড়া
আমি ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছি, ভরা পূর্ণিমার সমুদ্র-
তুমি-আমি-আর তুলতুল।
আমি তো জানি তুলতুল আছে,
আমার পাশেই কোথাও আছে।