দরিয়া

যদি নাও ভাসাও, কত দূর যাবে?
ইন্দ্রের সভা আজ হাতের নাগালে!

নৃত্যের ঢেউ, আন্দোলিত আনন্দধাম,
পূর্ণ হবে মনোস্কামনা
গায়ে জড়াও জমকালো বসন, বাজুবন্দ,
কোমরবিছে, পায়ে ঘুঙুর, সুখের মুদ্রা
মোহময় সংগীত শিরায় শিরায়

কলার ভেলায় ভাসমান কেউ, প্রেমের দরিয়ায়
ঠোঁটে বিষ লয়ে শুয়ে আছে, ওঝার আশায়!
……………………………………………

সম্ভ্রম

তারে ভালোবাসি, বলতে পারিনি

বলতে পারিনি ঐ ওষ্ঠযুগল
কেঁপে ওঠে এক আদিম ভাষায়

ত্রিভঙ্গ দেহখানি যেন প্রমত্তা যমুনা
দু’ কূল ছাপায়ে ওঠে ঢেউ

চলার পথ মোহময় এক সোদাগন্ধ
আকূল করে

না লেখা চিঠিগুলো উড়ে যায়
বেদনার ঠিকানায়

অথচ এই নিদারুন সময়ে
বিকোতে পারি সকল সম্ভ্রম!
……………………………………………

বর্ষায় শব্দেরা

মেঘ হয়ে স্বপ্নের মতো ভেসে বেড়ায়
ছোপ ছোপ নরোম ছোঁয়া কাতরতা বাড়ায়
শেষে দৃষ্টি টলমল চোখের ভাষা
বিরহী আকাশের তলে খোঁজে ফেরে
ঐ দূর মাটির কাব্য!

বৃষ্টির মতো ঝরে গেলে শব্দেরা সুর বাঁধে
গুনগুন চলে বুকের ভেতর

লেগে থাকা ঘামের গন্ধ প্রথম বর্ষায় মাখামাখি
মনের ভেতর উকি দেয় কচি ঘাস
পৃথিবীর মতো সকল সবুজ ধরে থাকা এক নিঃ শব্দ কোরাস

শব্দ এক অপার বিস্ময়, ভালোবেসে নিমগ্ন হলে
মোহগন্ধ ছড়ায় ভেতর বাহির
……………………………………………

বালির বাঁধ

তারা অসীম সাহসী
যুগের পর যুগ নোনাপানির চোখ রাঙানি,
সাগরের ছোবল কাঁখে নিয়ে বাঁচে

ছিলোনা অযাচিত বালির বাঁধ
এখন সামান্য নোনা জলে ভাসে ঘর, খেত, মাছ
ভাসে লক্ষ চোখের দৃষ্টি আকাশে অথবা নোনাজলে
মরণ ঠেকাতে বুকের ভেতর গড়ে ঐক্যের বাঁধ

মেগা প্রকল্পের থোরাই কেয়ার
শুনেছে ঐ কথা- বিশেষ মঞ্চে
তাদের বালির বাঁধ ভাঙা- গড়া খেলা
হৃদয়েও চলে এইসব

তবু বালির বাঁধের মতো
ভেঙোনা মন!
……………………………………………

বৃষ্টির মতোন

রোদের মহড়া চলছে সেই সকাল থেকে
রাস্তায়, টিনের চালে এমনকি কৃষ্ণচূড়ায়

রোদের ঢেউ ডিঙিয়ে যাচ্ছে ট্রাকের সারি
ধোয়ার মতো মিশে যাচ্ছে দূরে আরও দূরে
সময় গড়াচ্ছে নিদারুণ সময়ের ভেতর

দুপুরেও রোদের হলকায় হৃদয় বুদবুদ
মিলিয়ে যাচ্ছে কোথাও
খেতের সবুজ আপাত সবুজ হয়ে যাচ্ছে
চোখের কোটরে রোদের তীব্র কোলাহল

রোদের মহড়া চলছে, দুপুর পেরিয়ে
এখন লম্বা ছায়ায় বিকেল নেমে এলে
মাঠের ধারে আসতে পারে, ভালোবাসতে পারে
এমনইতো ছিলো মনের ভেতর, কথার ভেতর
বৃষ্টির মতোন, আসতে পারে, ঝরতে পারে
……………………………………………

শিমুলের রঙ

ভ্রমণ হীন এই কথাজীবন, শ্যওলা জমা নদীর বুকে যেন পাণ্ডবর্ণ বকের ছায়া, পাখনা বিহীন দেহখান চোরাগলিপথে নীরব নিথর!
অথচ
কোলাহলমুক্ত ঘোষণা করা হয় মোড়ের চা- স্টল!

মেঠোপথ, বালুচর, উজার হয়ে যাওয়া বন, রেল স্টেশন, বস্তিতে পরিকল্পিত ফাঁদে ধরা পড়ে কথারা।
মুখের ভাষায় থাকেনা মনের গোপন, ভাবনায় ফুটেনা শিমুল-পলাশ, অস্তিত্বের গোড়া কেটে নিলে ফিরে আসে ঘন অন্ধকার

বিক্ষিপ্ত কোকিলের ডাক এই ফাগুন দিনে
প্রতিবাদের ভাষা শেখায়, তাই শিমুলের রং লাল,
রক্তের রং লাল, ফাগুনের রং লাল
……………………………………………

অন্ধ

অন্ধ হয়ে যাচ্ছি ক্রমশ
দেখতে পাচ্ছিনা সোনালি ধানের ডগায় ফিঙ্গের আনাগোনা

বিস্তীর্ণ নীল জমিনে তুলো রং মেঘ
বড্ড শান্ত আর নিবিড়
স্রোতহীন ব্রহ্মপুত্র
মোলায়েম কাশফুলে দুলছে শরৎ
আজকাল দেখছিনা কিছুই

মানুষ পরিচয় বিলীন হলে
কে হাঁটবে তবে শিশির ভোরে
কে গাঁথবে বলো শিউলি মালা!

ভালোবাসাহীন এই সময়ে তাই;
অন্ধ হয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত
……………………………………………

চল্লিশ বছর পর

ভাব ভালোবাসার অতটা সময় কী পেয়েছি আমরা!
দুরুদুরু বুকে সামান্য কথার রেশ আগলে রেখে দিন গুনেছি কতো

চোখের ভাষায় আহ্বানের যে মৃদু সুর
সে সুক্ষ্মতর অনুভূতির কাঁপন জাগেনি দেহ কুঞ্জে

জীবনের দায়ে ছিটকে গেছি কে কোথায়!
সংসার – সমাজের বেড়াজালে সঁপেছি দিনমান
তারপর কেটে গেছে কত বিবর্ণ সময়

বেলা শেষে এই যে ঘরে এলে
শোনাতে কী শেষ বিদায়ের গান!
……………………………………………

আকাল

চির সবুজের এই দেশে আকাল আসে বারবার
ক্ষয়ে যাওয়া জীবনের মানে
উলঙ্গ মানচিত্রের মতো ঝুলে থাকে

পতিত হতে হতে শুধু বেঁচে থাকার ছলে নির্মম সত্য গিলে খাই

বিষাক্ত ছোবল মৈথুন শেষে আকণ্ঠ পান করো তুমি

কি এমন স্বাদ আছে প্রেমে!
জনম জনম ধরে এই যে প্রতীক্ষা তোমার
কে বাজাবে সেই মোহন সুর!

আকালের এই দেশে…