বইপড়া আর ছোটদের সাথে আড্ডা দেওয়া হাসিখুশি মানুষটিই মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর ইবনে আনছার আলী মির্জা ইবনে মোকছেদ আলী মির্জা ইবনে হায়দার আলী মির্জা ইবনে একরাম আলী মির্জা ইবনে কানু মির্জা। হাঁফিয়ে গেছেন এতো বড়ো নাম পড়তে! আরে না, না! এতো বড়ো নামে নয়, তাকে ‘মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর’ এ নামে এ সময়ের সাহিত্যজনেরা চিনেন অতি সহজেই। গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলাধীন হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দিঘলকান্দি গ্রামে ১ মার্চ ১৯৮৪ সালে তার জন্ম।

প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় এলাকার গুয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবরর্তীতে টেংরাকান্দি এম এ সবুর দাখিল মাদরাসা থেকে প্রথম বিভাগে দাখিল, চকমানিকপুর ফাজিল মাদরাসা থেকে প্রথম বিভাগে আলিম ও ফাজিল এবং মহিমাগঞ্জ আলিয়া মাদরাসা থেকে প্রথম শ্রেণিতে কামিল পাশ করেন।

মনের খেয়ালেই কাগজের দেয়ালে লেখালেখি শুরু করেন ১৯৯৪ সালে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায়। আর ছাপার দেয়ালে প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৯৯ সালের ‘মাসিক আদর্শ নারী’র সীরাত সংখ্যায়। সেটি ছিল রাসুল সা.-এর শানে ‘ভালোবেসে’ শিরোনামে একটি ছড়া। ছড়া-কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ- সব ধারাতেই লিখে চলছেন এরপর থেকে। এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও লিটল ম্যাগাজিন মিলে ২১০ এর অধিক পত্রিকায় লিখে চলছেন। লেখালেখির সাথে সাথে সাহিত্য পত্রিকাও সম্পাদনা করছেন। ছাত্রজীবনে ‘সোচ্চার’ নামক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। এখন সম্পাদনা করছেন সাহিত্য পত্রিকা ‘তালপাতা’। এরই মধ্যে ৪টি বই প্রকাশ পেয়েছে তার। প্রথমটি ‘ছড়াগ্রন্থ’ হলেও অন্য ৩টি কিশোর গল্পগ্রন্থ । ‘আমরা ফুল আমরা কুঁড়ি’ (ছড়াগ্রন্থ-২০১৫); কিশোর গল্পগ্রন্থ ‘নুপুর’ (২০১৮); ‘ময়ূর নাচে পেখম মেলে’ (২০১৯); ও ‘রাতুলের স্কুলে যাওয়া’ (২০১৯)।

শিশুসাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রংপুর থেকে সম্মাননা পেয়েছেন ‘ফিরে দেখা’ পদক ২০১৬ সালে।

ছড়া-কবিতায় লেখা শুরু হলেও মূলত গল্প লেখায় ঝোঁক বেশি। শিশুসাহিত্য জগতেই তার পদচারণা বেশি। তবে সাধারণ সাহিত্যে তিনি অগ্রসর একজন। তারই প্রমাণ তার ৫ম এই গল্পগ্রন্থ ‘সুলতানা’।

গল্পকারের বাবা মোঃ আনছার আলী মির্জা পেশায় একজন কৃষক। মা আনিছা বেগম গৃহিণী। তিনি দুই ভাই চারবোনোর মধ্যে সবার বড়। তার সহধর্মিনী ডাঃ মোহছেনা খাতুন একজন হোমিও চিকিৎসক। একমাত্র কন্যাসন্তান মাসুদা সুমাইয়া মাসুমা তারই আত্মজ আরেক ‘মা’। বর্তমানে তিনি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের ইসবপুর গ্রামে বসবাস করছেন।

একান্ত সমাজের স্বাভাবিক চিত্রের অসাধারণ চিত্রপট ফুটে উঠেছে ‘সুলতানা’ গল্পগ্রন্থের পাতায় পাতায়। আমাদের দেখা ঘটনাগুলোকেই সাহিত্যের ভাষায় মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর গল্পে রূপ দিয়েছেন অতিশয় মুন্সিয়ানায়। সহজ ভাষায় সবার বোধের মধ্যেই গল্পগুলো পেয়েছে প্রাণ। তাই পড়তে পড়তে আপনাকে নিয়ে যাবে গল্পগুলোর শেষপ্রান্তে।

‘সুলতানা’ আমাদের সমাজের একজন আদর্শ বউমা-র প্রতিনিধিত্ব করে। এমন বৌমা আমাদের সুশীল সমাজের ঐতিহ্য। পারিবারিক বন্ধনের এক অপূর্ব ভালোবাসার চরিত্র ‘সুলতানা’।

নয়টি গল্প দিয়ে সাজানো বইটির গল্পগুলো হলো- করোনা, সারপ্রাইজ, বাবার শিক্ষা, সুলতানা, ভালোবাসার আকুতি, প্রতিদান, যত দোষ করোনার, বৃষ্টিভেজা বিয়ের দিনে ও শশী। সমাজের ইতিবাচকতা নিয়ে গল্পগুলো বাংলার চিরায়ত সামাজিক রূপ। প্রেম-ভালোবাসা আর মানবিকতা নিয়ে গল্পের বৃত্তগুলো ঘুর্ণয়মান। পাঠককে আমাদের গ্রামিণ সামাজিক ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দিবে ‘সুলতানা’র গল্পগুলো।

‘সুলতানা’ গল্পগ্রন্থ গল্পপাঠের তৃপ্তিতে পাঠককে জানিয়ে দিবে মির্জা মুহাম্মদ নূরুন্নবী নূর একজন সফল গল্পকার।