বৃষ্টির গানে

জলের তিয়াস খরার বুকে
মেঘ বালিকা ঈশান কোনে,
চৌদিকেতে জ্বলছে ধরা
উঠছে মাতম সবুজ বনে।

বাউরি বাতাস থমকে গেলে
জলের স্রোত হারায় পথ,
বৃষ্টির গানে বাজলে নূপুর
ছুটবে হাওয়ার শীতল রথ।

নদীর ঘাটে ভিরবে নৌকা
মাঝির কন্ঠে মরমী গান,
ঘরে ঘরে আসবে ফিরে
নাইয়রীদের খুশির বান।

এই তো আমার জন্মভূমি
জলহাওয়ায় উজান ভাটি
সোনার ফসল রুপালী মাছ
বীর বাঙালির স্বাধীন মাটি।
……………………………………………

নামুক বৃষ্টি অঝর ধারায়

গগন জুড়ে তীব্র দাহে
পুড়ছে তরু সবুজ মাঠ
মেঘের তরে কাঁদছে প্রাণ
শুকিয়ে যাচ্ছে জলের ঘাট।

আকাশ জুড়ে মেঘের নায়ে
তুলুক বিকট বজ্র শোর
চোখ ধাঁধাঁনো আলোর মালা
ঘুচাক কালো আঁধার ঘোর।

আসুক তেড়ে ঝড় ঝঞ্ঝা
উড়াক অশেষ বাষ্পবায়
জমাট মেঘের শরীর ছিঁড়ে
নামুক বৃষ্টি অঝর ধারায়।
……………………………………………

প্রথম কদম ফুল

জল থৈ থৈ আসছে তেড়ে
আমজনতার স্বস্তি কেড়ে
বাদলা হাওয়ায় ইলশেগুঁড়ি
নিভছে আগুন শূণ্য হাড়ি
হাট বাজারে গিলছে টাকা
সদাই-পাতি পকেট ফাঁকা।

পচলো আনাজ ডুবলো ধান
আম্পান ঝড়ে এলো যে বান
ব্যস্ত সবাই নেই কেউ দেখার
আমি তুমি সে কে কবে কার
স্বার্থের মায়ায় উড়ছে জীবন
ভাবে না কায়া হারাবো কখন!

আষাঢ় শ্রাবণ বাংলার ঘরে
রোগ বালাইয়ে ক্ষুধায় মরে।
প্রথম কদম ফুল বাদল দিনে
হারিয়েছে পথ সে বন্ধু বিনে
কবির কাব্য জাগে না প্রাণে
তোলে না সুর মায়াবী গানে।