সাজজাদ হোসাইন খান আমার প্রিয় ব্যক্তিদের একজন। তার ছড়া-কবিতা আমাকে আকৃষ্ট করে। তার প্রতি আমার আগ্রহ এখনো আমি অনুভব করি। ছড়ার ইতিহাস আরম্ভ হয়েছে মধ্যযুগ থেকে। সেই যে
“ছেলে ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দিবো কিসে?”

এসব কথা থেকে বাংলাদেশের অতীতের দুর্ভোগ, দুর্দশার চিত্র জীবন্ত হয়ে ওঠে। ইতিহাসে এমন অনেক কথা লিখিত হয় না যা লোকসাহিত্য ছড়ার আদলে আমরা আস্বাদন করে তন্ময় হয়ে পড়ি। যাহোক, সাজজাদের সাহিত্যকর্ম ও ছড়া আমার একটি প্রিয় বিষয়। আমি তাকে আমার স্মৃতির কোঠায় স্থান দিয়েছি। এবং তার প্রতি আমার সীমাহীন ভালোবাসার অক্ষয় হয়ে থাকবে।

অতীতে আমি তার সাথে পাশাপাশি বসে কাজ করেছি। আমার মনে হয়েছে সে একজন তন্ময় সাহিত্যপ্রেমিক। আমাদের লেখালেখি ও কল্পনার জগতে তার অবদান আমি হৃদয় দিয়ে অনুভব করি। অনেক হাস্যরস করতে করতে কবিতার বিষয়ে আলোচনা করেছি তার সাথে। আজ মনে হচ্ছে সেই সব আলোচনার ভিতরে অনেক বিষয় ছিলো- যা আমার বিস্মৃত অতীতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সাজজাদ তার পাতার জন্য আমার কাছে সব সময় কবিতা ইত্যাদি চাইতো। আমি এ আন্তরিকতা উপলব্ধি করতাম তবে কথা দিয়ে কথা রাখতে পারতাম না। আজ মনে হয় যদি আমি প্রতিশ্র“তি রক্ষা করতে পারতাম তবে কতোই না ভালো হতো!

কাব্যের উদ্যম ক্ষণস্থায়ী বিদ্যুৎচমকের মতো। এই চমকে আমার মুখ উদ্ভাসিত হয়েছে। কিন্তু আমার স্বভাব অলস বলে আমি তা লিপিবদ্ধ করতে পারিনি। কিন্তু এখন আক্ষেপে হৃদয় থরথরিয়ে কাঁপছে। আমার তো ভালোবাসাই সম্বল। আমি তার প্রতি ভালোবাসার টান অনুভব করে থাকি। আর ভাবি দীর্ঘজীবী হোক সাজজাদ হোসাইন খান।

অনুলিখন : রেদওয়ানুল হক