মন পবনের নাও : আগে চলে জলপলারী পাছে জলহার

নাম না জানা এক লেখকের ‘পাঁচালী’। সে পাঁচালীতে আছে আমাদের পুরনো দিনের জাহাজ চলার রীতি। বিশাল জাহাজ। তার আগে পানি মেপে মেপে চলতো ছোট ছোট নৌকা। তার নাম ‘জল পলারী’ নাও।

বড় জাহাজ যাতে কোন চোরা দ্বীপে আটকে না পড়ে সে জন্য এই ব্যবস্থা। জল পলারীর পরে চলতো আরো একটি ছোট্ট নৌকা। পথ দেখাত সে। নাম তার ‘জল হার’।

পাঁচালীতে সে কথাই বলা হয়েছে :
আগে চলে জলপলারী
পাছে জলহার
সেই অনুসারে নৌকা
বাহে কর্ণধার।

আমাদের পাল তোলা জাহাজ চলতো সাগরের ঢেউ কেটে কেটে। ছন্দের তালে তালে। সে ছন্দ দোলা দিত জাহাজীদের মনে। মাঝি মাল্লা আর সওদাগরের বুকে।

আমাদের জাহাজের ছিল সুন্দর ছন্দময়, কাব্যিক নাম। পুরনো সাহিত্যের ধুসর পাতা থেকে জানা যায় সে সব নাম। মধুকর, ময়ূরপঙ্খী। রাজহংস, রাজবল্লভ, রতœপতি। শঙ্খচূর, সমুদ্রফেন। উদয়তারা, কাজলরেখা। গুয়ারেখী, টিয়াঠুটি। বিজুসিজু, ভাড়ার পটুয়া। মিষ্টি মধুর সব নাম।

কোন কোন নাম থেকে সময় সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। গুয়ারেখী, টিয়াঠুটি, বিজু সিজু, ভাড়ার পটুয়া। এগুলো প্রাকৃত যুগের নাম। আমাদের নৌশিল্পের আরো প্রাচীন ঐতিহ্যের সাক্ষী এসব শব্দ আর নৌকার বাহারী নাম।