মন পবনের নাও : জলদস্যুর মুকাবিলা

দেশে এক সময় জলদস্যুদের উৎপাত বেড়ে যায়। সুযোগ পেলেই হামলা চালাতো পর্তুগীজ আর আরাকানী জলদস্যুরা। তাদরে হামলা ঠেকানোর জন্য প্রয়োজন ছিল শক্তিশালী নৌবাহিনীর।

জনগণকে জলদস্যুদের হামলা থেকে বাঁচাতে হবে। তাই রাজস্বের বিরাট অংশ ব্যয় করা হলো নৌ বহরের পিছনে।

নৌবাহিনীর ব্যয় বহনের আরো ব্যবস্থা ছিল। নাওয়ারা জায়গীর ছাড়াও ছিল বিশেষ ধরনের খাজনা বা কর। সেই করের নাম ‘মীরবাড়ী’।

এই ট্যাক্স থেকে আসতো নৌ বহরের খরচ। আমাদের নৌ ঘাঁটিগুলিতে নোঙর করতো বাইরের অনেক জাহাজ ও নৌকা। তাদের কাছ থেকেও কর আদায় করা হতো। সে করের হার ছিল চার আনা, আট আনা ও এক টাকা। জাহাজের আকার অনুসারে এই হার নির্ধারিত হতো।

তখনকার বাজার দর অনুযায়ী চার আনা, আট আনা কম নয়। ফলে এই করের মাধ্যমে আয় হতো প্রচুর।

আমাদের দেশে নৌ বাহিনীর গুরুত্ব সবচে’ বেশি বাড়ে মোগল আমলে। সম্রাট জাহাঙ্গীর থেকে আওরঙ্গজেবের আমলে নৌ শিল্পের সবচে’ বেশি উন্নত হয়।

মোগল আমলে ঢাকার নৌ বহরে জাহাজের সংখ্যা ছিল তিন হাজার। এ থেকে বোঝা যায় তখনকার নৌ বাহিনীর বিশালত্বের কথা। এই তিন হাজার জাহাজ তো ছিলই। এছাড়া যুদ্ধের সময় জায়গীরদারগণও রণতরী সরবরাহ করতেন।