মন পবনের নাও : পাড়ি দিয়ে তুমি এসেছ দরিয়া কত…

আমরা জানলাম আমাদের হরেক রকম নাওয়ের কাহিনী। শুনলাম নাওয়ের সোনালী দিনের কথা। আমাদের নাওয়ের শত হাজার বছরের ইাতহাস। সোনার হরফে লেখা সে ইতিহাসের প্রায় প্রতিটি পাতা। ডোঙ্গা আর ভেলা দিয়ে যাত্রা শুরু। তারপর বিরাট বিরাট পাল তোলা নাও। তৈরি হয়েছে টাইটানিকের মতো বিশাল জাহাজ। আমাদের পাল তোলা জাহাজ পাড়ি দিয়েছে এক সাগর থেকে আরেক সাগরে। এক দেশ থেকে অন্য দেশে, এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে।

হাজার হাজার মণ সওদা নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়েছে আমাদের সপ্তডিঙ্গা মধুকর। ময়ুরপঙ্খী। সমুদ্র ফেন। কাজল রেখা। গুয়ারেখী। ভাড়ার পটুয়া।
পাহাড় সমান ঢেউয়ের তালে নৃত্য করেছে আমাদের পাল তোলা নাও। শক্ত হাতে হাল ধরেছে আমাদের সিন্দাবাদ নাবিক। আমীর সওদাগর। আর নছর মালুম। আমাদের নাওয়ের ইতিহাস দীর্ঘ। সে ইতিহাসের পাতায় পাতায় আছে জীবনের নোনা স্বাদ। আমাদের মাঝি-মাল্লাদের শক্তি আর সাহসের কাহিনী। সেই দুরন্ত মাঝি-মাল্লাদের কথা লিখেছেন কবি ফররুখ আহমদ। তাঁর অমর কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ -তে।

পাড়ি দিয়ে তুমি এসেছ দরিয়া কত,
কিশতীর মুখ বাঁচায়ে এনেছ
বহু টাইফুন যুঝি’,
ছিঁড়ে গেছে শিরা, উড়ে গেছে এক হাত;
আর হাতে তুমি হাল ঘোরায়েছ
তুফানের সাথে যুঝি’!
দরিয়ার মাঝি! তোমার ওজুদে
পাথর গলানো খাঁক!
পাথর পারানো কুঅত তোমারে
দিয়াছে আল্লা পাক!